24/11/2025
তাসনীম জুমা কে নিয়ে ছাপড়িরা নোংরামি বন্ধ কর।
বিস্তারিত :
আমি আজীবন সহজ-সুন্দর-এস্থেটিক একটা জীবন চেয়েছি। আমি জুলাইয়ের আগে কখনোই পলিটিক্যাল ছিলাম না। আমি পলিটিক্যালি কনশাস হয়ে উঠি আবরার ফাহাদের মৃত্যুর ঘটনায়। সেই তাগিদে আমি পলিটিক্যাল ইভেন্টে সরব থাকতাম। কিন্তু কখনোই মেইন্সট্রিম পলিটিক্স এর প্রতি আগ্রহ আমার ছিল না। হাসিব-রিফাতরা যখন জুলাইয়ের আগে ক্যাম্পাসে অনেক এক্টিভিজম করতো, হাসিব ভাই আমারে কল দিয়ে এপ্রোচ করেছিলেন, আমি পলিটিক্যাল হইতে চাইনাই দেখে রাজী হইনি।
এই কারণে আমার পলিটিক্যাল পরিচয়, পলিটিক্যাল শেল্টার ছিলোনা।এমনিকি জুলাইতে আমার কেউ না থাকায় সবটুকু সংগ্রাম একান্ত নিজস্ব জায়গা থেকে হওয়ায় আমাকে ৩ দিন রাস্তায় রাস্তায় এর ওর বাসায় কাটাতে হয়েছে,কারণ আমার যাওয়ার জায়গাও ছিল না, আবার আন্দোলন ছেড়ে যেতেও মন সায় দিচ্ছিলো না। এই তথ্য আমার পরিবার ও জানতো না। ১৫ তারিখ ছাত্রলীগের মাইর খাওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মেইন্সট্রিম রাজনীতিতে যাবো, অন্তত ছাত্রলীগের সাথে সম্মুখ বিদ্রোহের স্বার্থে। Now I feel ashamed যে আমার ছাত্রদল করার চিন্তা ছিলো। ক্ষমতার পালা বদলের পর ছাত্রদলে যাওয়ার আহ্বান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ও আমি এখন মোটামুটি প্রাউড।
আমি শুধু অবাক হয়ে দেখলাম মজলুম থেকে একটা দল কীভাবে জালিম হয়ে উঠলো। এদের কাছে এখন নাকি আমাকে আমার সংগ্রামের ফিরিস্তি দেওয়া লাগবে। এদের কাছেই আমাকে আমার হিজাব লেবাস না সত্য জাস্টিফিকেশন দেওয়া লাগবে। এদের কাছে আমার সৌন্দর্যের জাস্টিফিকেশন নিতে হবে। কি অদ্ভুত!
বিগত দুইদিন যাবত লীগের বদমাশেরা আমাকে একটা গণধর্ষণের ভিডিওতে ম্যানশন করে করে নেক্সট আমি লিখছে। প্রথমে কীসের ভিডিও বুঝে উঠতে না পেরে আমি কয়েক সেকেন্ড প্লে করে ফেলেছি। যতবার ওই দৃশ্য চোখে ভাসছে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। এর মধ্যেই সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ছাত্রদল আমাকে নিয়ে চরম নোংরামি শুরু করেছে।
এদের পর্ণাসক্তি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে এরা দুনিয়ার কোনো কিছুকে সেএক্সের বাইরে ভাবতে পারেনা। এরা যে কোনো মেয়ের সাথেই হয় সেক্স করতে চায়, নাহয় অন্য কারো সাথে করাইতে চেয়ে সুখ পায়। যেই আমি একটু আমার জায়গায় নিজের দলের মেয়ের কথা ভাবতে বললাম অম্নি তাদের পিত্তি জ্বলে গেলো। ছাত্রদলের একটারে দেখলাম কে জানি তার মা বোন তুলে কিছু একটা বলায় যে সবার মা বোনরে নিয়ে উল্টাপাল্টা কামনা করসে, সেখানে আমি তো জাস্ট আমার জায়গায় জাইমারে ভাবতে বলসি।
নিজেদের দলের মধ্যে ধর্ষণ খুন করে করে এরা এত বাড় বেড়ে গেছে যে ক্ষমতায় আসার আগেই জালিম হয়ে গেছে।
তোদের সামনে নির্বাচন, হেডম নাই মেধা আর যোগ্যতার জোরে জেতার সেটা কি ভাই আমার দোষ? আমারে ভিক্টিম বানাস কেনো? তোদের যদি কাউকে প্রতিপক্ষ মনেই হয়, তারে ইন্ডিভিজুয়ালি রাজনীতি দিয়ে কাউন্টার দে না ভাই। মেয়েদের জড়িয়ে কেন দিতে হবে? রাজনৈতিক কালচার নোংরা হইলেও পারিবারিক শিক্ষা বলে তো কিছু এক্সিস্ট করে দুনিয়ায়।
আর আমাদের ভাইদের কথা আর কী বলবো। এদের জীবন নিয়ে টানাটানি লাগলেও এরা টু শব্দ করে না আমরা মেয়েরা কী ফেইস করি সেইটা তারা বুঝবে ক্যামনে। বরং শোনা লাগবে 'রাজনীতি করলে এসব সহ্য করা লাগে'। এসব বলে বলে নরমালাইজ এনাই করতেছেন আসলে।
আমি কী করছি, কেন করছি এই জাস্টিফিকেশান আমি কাউরেই দিই না। দিবো না। দিতে জানলে আমার অনেক কিছু হারানো লাগতো না।
আমার সংগ্রাম, আমার যা কিছু সবটাই আল্লাহর জন্য, দেশের জন্য। আল্লাহ আমার জীবনে অনেকগুলো শিফট ঘটাইসেন। আমি যখন শিবির কী, এই পলিটিক্যাল নোংরামি কিচ্ছু চিনতাম না তখন থেকে এই বাসনা করতাম, যখন নাচতাম গাইতাম তখনো আল্লাহ ও দেশের পথে সংগ্রামের জন্য আল্লাহর কাছে চাইতাম। আমার একান্ত বাসনার জাস্টিফিকেশান কাউকে দিয়ে রাজনীতি করব না।
আমি আগের মতো প্রগতিশীল থাকলে আমি বাহবা পাইতাম বিশিষ্ট নাগরিকদের। এরা যখন আইসা আমারে বলে আমি পপুলিস্ট কথা বলি 'মোল্লাদের' বাহবা পাইতে, আমি বুঝিনা কোন সেন্সে বলে! বড়ো বড়ো জায়গায় বসে থাকা বিশিষ্ট জনের সুনাম ছাইড়া দুই লাইন ঠিকঠাক বানান লিখতে না পারা লোকেদের বাহবায় আমার কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধার হয়??
আমার মাঝেমধ্যে প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগে। মনে হয় এভাবে থেকে না গেলেও পারতাম, বাকিদের মতো সরে যাইতাম! আমি আসলে শহিদ পরিবারগুলোর সাথে ডিল করতে গিয়ে, বাটপারদের বাটপারি নিজ চোখে দেখে এই ময়দান ছাড়ি নাই। এর মাশুল আমি দিচ্ছি। আমারে দিয়ে আল্লাহ এমন অনেক কিছু করাইসে যা অন্য কেউ করলে সফল হইতো না কোনোদিন।
ক্লান্ত হয়ে সরে যাইনা কারণ এই দুইকলম লিখতে না পারা প্রচুর মজলুমের আমি কণ্ঠস্বর হইতে পারসি। তাদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা পাইসি। আল্লাহর অনেক অনুগ্রহ পাইসি।
আমারে যারা ভালোবাসেন তাদের কাছে অনুরোধ, আমার পক্ষ নিতে গিয়ে অন্য কোনো মেয়ের সাথে জুলুম করবেন না। আমি আমার সাথে কারো কম্পেয়ার পছন্দ করিনা। সৌন্দর্যের কম্পারিজন তো আরো না।
আরেকটা অনুরোধ, আমি ওমরাহ করার পর থেকে হিজাব ছাড়া ছবি শেয়ার করিনা। আমার যে কোনো পোস্টের সাথে আগের ছবি ইউজ হবে বলে কয়েকটা হিজাব পরা ছবি আপলোড করে রাখসি, দরকারে সেসব নিয়েন। আমি জানি আমার আগের অনেক ছবি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় এভেইলেবল, সেসবের উপর আমার কন্ট্রোল নাই, যারা নোংরামি করে তাদের প্রতিরোধ করার সামর্থ্য ও আমার নাই। কিন্তু আমার শুভাকাঙ্ক্ষী কেউ আর ওসব ইউজ কইরেন না।
পুনশ্চঃ বেগম জিয়ার জন্য খাস দিলে দোয়া। বাংলাদেশের স্বার্থে বিএনপিরে ফেইল হইতে দিতে চাইনাই কোনোদিন। বেগম জিয়ার থাকাটা ইম্পর্ট্যান্ট আমাদের জন্য এই মূহুর্তে।
হাসবুনাল্লাহ।
(ফাতিমা তাসনীম জুমা)