28/03/2026
বাংলাদেশে হাম (Measles) এর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাব (২০২৬ সালে)-
২০২৬ সালের শুরু থেকে (বিশেষ করে জানুয়ারি থেকে) ঢাকার Infectious Diseases Hospital (IDH, মহাখালী)-এ হামের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
• এ বছর (মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত) IDH-এ ২৫৫ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে।
• গত বছর (২০২৫ সালে) পুরো বছরে ছিল মাত্র ৬৯ জন।
• অনেক দিন ৬০-৮০ জন রোগী ভর্তি থাকছে। বেশিরভাগ রোগী ১ বছরের নিচের শিশু।
👉কেন এই বৃদ্ধি?
🚩🚩 করোনাকালীন সপ্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়া।
• হামের প্রাদুর্ভাব সাধারণত প্রতি ৫ বছর পরপর হয়। সর্বশেষ বড় প্রাদুর্ভাব ছিল ২০১৯ সালে।
• টিকাদানের কভারেজ এখনো ৯৫% এর নিচে (হার্ড ইমিউনিটির জন্য দরকার)। ২০২৩ সালের Coverage Evaluation Survey অনুসারে পূর্ণ টিকাদানের হার ৮১.৬%। শহরাঞ্চলে এটি আরও কম (৭৯%)।
• শূন্য-ডোজ (zero-dose) শিশু আছে প্রায় ৭০,০০০, আংশিক টিকা না পাওয়া আরও বেশি (প্রায় ৪ লাখ)।
• শহুরে দরিদ্র এলাকা, স্লাম, সীমান্ত এলাকা এবং চা বাগান এলাকায় টিকাদানের গ্যাপ বেশি।
বাংলাদেশের EPI (Expanded Programme on Immunization) প্রোগ্রামের মাধ্যমে MR (Measles-Rubella) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় — প্রথম ডোজ ৯ মাসে, দ্বিতীয় ডোজ ১৫-১৮ মাসে। কিন্তু সময়মতো ও পূর্ণ ডোজ না নেওয়ার কারণে অনেক শিশু ঝুঁকিতে থাকে।
👉জাতীয় প্রেক্ষাপট-
• সারাদেশে বড় আকারের জাতীয় প্রাদুর্ভাবের (large-scale national outbreak) খবর এখনো নেই, তবে ঢাকাসহ কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
• ২০২৩ সালে সন্দেহজনক হামের কেস ছিল ৭,০০০+ , কিন্তু ল্যাব-কনফার্মড ছিল কম।
• রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২০২৬ সালের শুরুতে সন্দেহজনক মেজলস/রুবেলা কেস কম, কিন্তু সতর্কতা আছে।
👉প্রতিরোধের উপায়-
• MR ভ্যাকসিন দুই ডোজ নিন — ৯৭% কার্যকর।
• শিশুর টিকাদান কার্ড চেক করুন। যদি মিস হয়ে থাকে, স্থানীয় ইপিআই কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
• হাম খুব ছোঁয়াচে (একজন ১২-১৮ জনকে ছড়াতে পারে)। আক্রান্তের সংস্পর্শ এড়ান, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতীদের।
🚩🚩হামের লক্ষণ (সাধারণত সংস্পর্শের ১০-১৪ দিন পর দেখা যায়)
হামের লক্ষণ দুই ধাপে দেখা যায়:
প্রথম ধাপ (প্রোড্রোমাল স্টেজ — ৪-৭ দিন):
• উচ্চ জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট বা তার বেশি)
• তীব্র কাশি (Cough)
• নাক দিয়ে পানি পড়া (Coryza/Runny nose)
• চোখ লাল হয়ে জ্বালা-পোড়া করা ও পানি পড়া (Conjunctivitis)
দ্বিতীয় ধাপ:
• মুখের ভিতরে (গালের ভিতর) ছোট সাদা দাগ — কপলিক স্পট (Koplik spots) (র্যাশ ১-২ দিন আগে দেখা যায়)
• মুখ, ঘাড় থেকে শুরু হয়ে শরীরে ছড়িয়ে পড়া লাল দানা বা র্যাশ (maculopapular rash) — এটি জ্বরের ৩-৫ দিন পর বের হয়
র্যাশ সাধারণত মাথা থেকে নিচের দিকে ছড়ায় এবং ৭-১০ দিন পর ধীরে ধীরে কমে যায়।
🚩🚩জটিলতা (বিশেষ করে ছোট শিশু ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মধ্যে)-
• নিউমোনিয়া (ফুসফুসের প্রদাহ)
• ডায়রিয়া
• কানের সংক্রমণ
• মস্তিষ্কের প্রদাহ (Encephalitis)
• অন্ধত্ব (ভিটামিন এ-এর অভাবে)
• মৃত্যু (বিশেষ করে দুর্বল শিশুদের ক্ষেত্রে)
হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে অন্যান্য সংক্রমণ।
💢কারণ-
রুবেওলা ভাইরাস। এটি শ্বাসনালী দিয়ে শরীরে ঢোকে এবং রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
👨⚕️👨⚕️চিকিৎসা-
হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। চিকিৎসা সহায়ক (supportive):
• জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল
• পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার
• ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট (ডাক্তারের পরামর্শে) — জটিলতা কমায়
• জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করে অক্সিজেন, অ্যান্টিবায়োটিক (সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের জন্য) ইত্যাদি
👨⚕️👨⚕️পরামর্শ: আপনার শিশুর টিকা আপডেট আছে কিনা চেক করুন। সন্দেহ হলে (জ্বর + লাল দানা + কাশি + চোখ লাল) দ্রুত ডাক্তার দেখান।
ডা. রিয়াজুল জান্নাত সুমন
এমবিবিএস, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ।
বিসিএস (স্বাস্থ্য)
সিএমইউ,ডিএমইউ (সিমুড)
মেডিকেল অফিসার,
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর।
চেম্বারের ঠিকানা:
মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
হাসপাতাল রোড, বোয়ালমারী, ফরিদপুর।