27/12/2025
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী বিপাকজনিত রোগ, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রভাব ফেলে। এটি টাইপ ১, টাইপ ২ এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিস—এই তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যার পেছনে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং জিনগত কারণ। তবে সঠিক জীবনধারা, খাদ্যনিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এই ফিচারে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো কীভাবে একজন ব্যক্তি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
১. সুষম খাদ্য নির্বাচন: প্রোটিন, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন।
২. শর্করা নিয়ন্ত্রণ: চিনি, মিষ্টি, সফট ড্রিংকস, হোয়াইট ব্রেড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৩. ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার: শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, ওটস, ব্রাউন রাইস, চিয়া বীজ ইত্যাদি রক্তে গ্লুকোজের শোষণ ধীর করে।
৪. ছোট ছোট খাবার: দিনে ৫-৬ বার অল্প পরিমাণে খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কম হয়।
৫. পানি পান: পর্যাপ্ত পানি পান করলে ডিহাইড্রেশন কমে এবং কিডনি সুস্থ থাকে।
শারীরিক কার্যকলাপ
১. নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার বা হালকা জগিং করুন।
২. যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন: মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমায়।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। BMI ১৮.৫–২৪.৯ এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
১. HbA1c পরীক্ষা: তিন মাসের গড় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বোঝায়। বছরে অন্তত দুইবার করানো উচিত।
২. ব্লাড প্রেসার: উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিসের জটিলতা বাড়ায়। নিয়মিত মাপা জরুরি।
৩. লিপিড প্রোফাইল: কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে বছরে একবার ফাস্টিং লিপিড টেস্ট করুন।
৪. কিডনি পরীক্ষা: ইউরিন অ্যালবুমিন এবং ক্রিয়েটিনিন টেস্ট করুন।
৫. চোখের পরীক্ষা: রেটিনোপ্যাথি প্রতিরোধে বছরে একবার চোখের ফান্ডাস পরীক্ষা করুন।
মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহায়তা
১. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: স্ট্রেস হরমোন (কর্টিসল) রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়। তাই মানসিক প্রশান্তি জরুরি।
২. পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তা: রোগীকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে।
৩. কাউন্সেলিং: হতাশা, উদ্বেগ বা মানসিক ক্লান্তি থাকলে পেশাদার কাউন্সেলিং গ্রহণ করুন।
ওষুধ ও চিকিৎসা
১. ইনসুলিন ও ওষুধ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত গ্রহণ করুন।
২. পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ: ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
৩. বিকল্প চিকিৎসা: ইউনানি, আয়ুর্বেদিক বা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণের আগে চিকিৎসকের অনুমতি নিন।
দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন
১. ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার: এগুলো রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং ডায়াবেটিসের জটিলতা বাড়ায়।
২. পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম সুস্থ বিপাকক্রিয়া বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. সময়মতো খাবার: নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ করলে ইনসুলিন কার্যকরভাবে কাজ করে।
প্রযুক্তির ব্যবহার
১. গ্লুকোমিটার: ঘরে বসেই রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা যায়।
২. মোবাইল অ্যাপ: খাদ্য, ব্যায়াম ও ওষুধের রেকর্ড রাখতে সাহায্য করে।
৩. টেলিমেডিসিন: দূরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণের জন্য কার্যকর মাধ্যম।
সচেতনতা ও শিক্ষা
১. ডায়াবেটিস বিষয়ক সেমিনার, কর্মশালা ও অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহণ করুন।
২. রোগ সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ালে আত্মনিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
৩. স্কুল, কলেজ ও কর্মস্থলে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
ডায়াবেটিস থেকে সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, নিয়মিত জীবনযাপন, খাদ্যনিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম এবং মানসিক প্রশান্তি। এটি কোনো অভিশাপ নয়, বরং একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য অবস্থা। সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে একজন ডায়াবেটিস রোগীও সুস্থ, কর্মক্ষম এবং আনন্দময় জীবনযাপন করতে পারেন।
*চেম্বার ও যোগাযোগ*
হাকীম মো. মিজানুর রহমান
(ডিইউএমএস, বিএসএস)
গভ. রেজি. নং : 3546/A
ড্রাগ লাইসেন্স নাম্বার : CHA-3435 A/B.
চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা
📍 সততা প্লাজা,
🏢 ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার
📌 প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন
🛣️ রামপুর বাজার (বলাখাল থেকে উত্তর দিকে),
হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর
📞 প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন
ইমো-হোয়াটসঅ্যাপ : 01762-240650
হোয়াটসঅ্যাপ: 01742057854
***চেম্বারের সময় : প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে ১২টা। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে চারটা। সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
***চেম্বারে আসার আগে উপরোক্ত নাম্বারে কল করে সিরিয়াল নিয়ে আসবেন।
*ঔষধ অর্ডার করে আপনার বয়স, কতদিন যাবত এই রোগ, অন্য কোনো রোগ- যেমন থাইরয়েড, এলার্জি, পলিপাস, টনসিল, হার্টের ব্লকেজ, উচ্চরক্তচাপ আছে কিনা তা জানাবেন।*
আমাদের সেবাসমূহ : শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, ডায়াবেটিস, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।
@ফলোয়ার
@সেরা ফ্যান