18/06/2023
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং চলাকালীন সময়ে ডায়েটে কি কি থাকবে??
এটা পুরোপুরি নির্ভর করে আপনি কি উদ্দেশ্যে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করতে চান তার ওপরে।
ধরা যাক, আপনি ডায়বেটিস কন্ট্রোল করার জন্য ফাস্টিং করছেন। সেক্ষেত্রে আপনার কাজ হচ্ছে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানো।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে আপনাকে প্রচুর শাক ও মাটির ওপরে জন্মানো সবজি খেতে হবে। পক্ষান্তরে সাদা রিফাইন্ড কার্ব এভয়েড করতে হবে, আই মিন চিনি, আর্টিফিসিয়াল সুইটেনার, আটা, ময়দা ইত্যাদি।
লাল আটার রুটি অনেকেই পছন্দ করেন, এটা সুস্থ মানুষ খেলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হতে স্বাভাবিকের চেয়ে সময় বেশি লাগবে বা ব্যক্তিভেদে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হবে না। কিন্তু যারা অলরেডি ডায়বেটিক, তাদের জন্য লাল আটার রুটি কোন বাড়তি বেনিফিট দেবে না।
কার্ব হিসাবে আপনারা সরাসরি ভেজিটেবলকেই ব্যবহার করতে পারেন।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করার সময়ে যেকোন ডায়েট প্ল্যানের সবচেয়ে জরুরী অংশ হচ্ছে প্রোটিন। এটা অনেকে বুঝতে ভুল করেন। কেননা প্রোটিন কম পড়ে গেলে আপনার শরীরে যে প্রোটিন রিপেয়ার করার কাজটা অটোফ্যাজির মাধ্যমে শুরু হওয়ার কথা, তা ধীর গতিতে আগায় বা সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না।
তাই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করার সময় ডায়বেটিক প্যাশেন্টরা ২০-২৫% প্রোটিন ডায়েটে রাখবেন।।
প্রোটিনের সোর্স হচ্ছেঃ
১)ডিম
২)গরু/মহিষের গোশত
৩)মাছ
৪)খাসী/ভেড়ার গোশত
৫)হাস/কবুতর/কোয়েল/ঘুঘুর গোশত
৬)ফিড না খাওয়া দেশী/অর্গানিক ব্রয়লার মুরগীর গোশত
৭)ব্রয়লা/লেয়ার মুরগী/টার্কির গোশত
৮)বাদাম/ডাল/শিমজাতীয় খাবার
ফ্যাটের জন্য প্রথমত সরিষার তেল ব্যবহার করুন। লো কার্ব ডায়েট যদি হাই ফ্যাট করেন তাহলে বাটার-ঘি ব্যবহার করতে পারবেব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী। আর যদি হাই ফ্যাট ডায়েট না করেন তাহলে সরিষা/অলিভ এবং বাদামেই সীমাবদ্ধ থাকাটা ভাল, সর্বোচ্চ ১৫-২০% স্যাচুরেটেড ফ্যাট রান্নার মাধ্যমে ইনটেক করতে পারেন।
এর কারন হচ্ছে পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্যাচুরেটেড ফ্যাটের সাথে একসাথে উত্তপ্ত করলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের কোলেস্টেরল অক্সিডাইজড হয়ে যায় যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
হাই ফ্যাটে থাকলে এটা ম্যানেজ করা সহজ, মডারেট ফ্যাটে একটু কঠিন।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করার সময় এই ব্যাপারগুলির দিকে লক্ষ্য রাখুন, ফাস্টিং সহজ হবে ইনশা আল্লাহ।