06/06/2025
কোন চিকিৎসক, রাকি বা কবিরাজের মধ্যে এ সমস্ত লক্ষণ বা আলামতের কোন একটিও পাওয়া গেলে নিঃসন্দেহে বুঝা যাবে যে সে একজন জাদুকর। আলামতগুলি নিম্নরূপঃ
১। রোগীর নাম ও মা (মাঝেমধ্যে বাবার) নাম জিজ্ঞেস করা।
২। রোগীর কোন ব্যবহৃত জিনিস বা চিহ্ন গ্রহণ করা। যেমনঃ কাপড়, টুপী, রুমাল,চিরুনি ইত্যাদি।
৩। জবাই করার জন্য কোন নির্দিষ্ট জীব-জন্তু চাওয়া, কখনও তার রক্ত ব্যথার স্থানে মাখান বা বিরান ঘর বা জায়গায় তা নিক্ষেপ করা।
৪। রহস্যময় মায়াজাল বা মন্ত্র লিখা।
৫ । অস্পষ্ট তন্ত্ৰ-মন্ত্র ও মায়াজাল পাঠ করা। কোন পীর আউলিয়ার নাম নেওয়া, অথবা অপরিচিত কোন নাম নিবে আর বলবে এটা আল্লাহর একটি বিশেষ নাম। অথচ আল্লাহর সেরকম নাম আপনি কোথাও পাবেন না।
৬।মাটিতে বা বিভিন্ন জায়গায় দাগকাটা।
৭।হাজিরা দেখা, "ইস্তিখারা" করা।
৮। রোগীকে নানারকম/ চতুর্ভূজ নক্সা বানিয়ে দেয়া, যাতে থাকে অক্ষর বা নম্বর।
৯।জিনের সাহায্য নেওয়া। অনেক সময় বলবে- এরা মুমিন জিন, ভাল পরহেজগার জিন, এসব ঢাহা মিথ্যা কথা। এসব সব শয়তান।ভাল জিনেরা এসব করেনা।
১০। রোগীকে এক নির্ধারিত সময় এক কক্ষে (যাতে আলো প্রবেশ করে না।) লোকদের অন্তরালে থাকার নির্দেশ দেয়া।
১১। রোগীকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত যা সাধারণত ৪০ দিন হয়ে থাকে পানি স্পর্শ করতে নিষেধ করা। এ লক্ষণ দ্বারা বুঝা যাবে যে,জাদুকর যে জিন ব্যবহার করে সে খ্রিস্টান।
১২। রোগীকে কোন জিনিস মাটিতে পুতে রাখতে দেয়া। কোন উঁচু স্থান যেমন গাছে কোন কিছু বেঁধে রাখতে বলা। বা কোন কিছু পুড়িয়ে ফেলতে বলা কিংবা পানিতে ফেলে দিতে বলা বিশেষ করে বোতলে বা মাছের সাথে বেঁধে।
১৩ । রোগীকে কিছু পাতা,মরিচ,আগরবাতি, লেখা কাগজদিয়ে তা জ্বালিয়ে তা থেকে ধোয়া গ্রহণ করতে বলা।
১৪ । অস্পষ্ট কালাম, নকশা বা কথা দ্বারা তাবীজ,আংটি বানিয়ে দেয়া ।
১৫। রোগী কিছু বলার আগেই নিজেই নাম, ঠিকানা ও সেই সমস্যা বলে দেয়া।
১৬। ছিন্ন-ছিন্ন অক্ষর লিখে রোগীকে নক্সা বা তাবিজ বানিয়ে দেয়া বা কোন সাদা পাথরে লিখে দেয়া ও তা ধুয়ে পানি পান করতে বলা ।
১৭।ঘরের বিভিন্ন কোনায় কোনায় নকশা, হাড় ঝুলিয়ে রাখতে বলা
১৮।কোন বিশেষ জায়গার মাটি,পানি নিয়ে আসতে বলা বা ব্যবহার করতে বলা।
১৯।কোন হালাল খাবারের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া। যেমনঃ মাছ খাওয়া যাবেনা, গরুর মাংস খাওয়া যাবেনা এরকম।
২০। সমুদ্রে, নদী, পুকুর/ঘাটে নিয়ে বিশেষ সময়ে গোসল করানো। অথবা সমুদ্রে,নদীতে,পুকুরে,খালেবিলে কিছু ফেলে দিতে বলা।
২১। কোন বিশেষ সময়ে নোংরা খাবার খায় এমন কোন প্রাণীকে খুজে বের করে সেটিকে খাবার খাওয়াতে বলা। যেমন রাত ২টার সময় কালো কুকুর খুঁজে বের করে রুটি খাওয়াতে বলা।
২২। চিকিৎসা/তিলাওয়াত/ তন্ত্রমন্ত্র পাঠ করার সময় হাত বা আংগুল নাড়ানো, আংগুল দ্বারা ইশারা করতে থাকা। এটা ইম্পর্টেন্ট একটা ইস্যু।
২৩। আংগুলের ইশারায় শত/হাজারো/লাখো জিন মেরে ফেলার ঘোষণা দেওয়া।
ইত্যাদি
আপনি যদি এসব লক্ষণ জেনে বুঝতে পারেন যে, সে জাদুকর তবে আপনি অবশ্যই তার নিকট যাওয়া থেকে সতর্ক হয়ে যাবেন নচেৎ আপনার প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী প্রযোজ্য হয়ে যাবেঃ
(من أتى كا هنا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد)
অর্থাৎ “যে ব্যক্তি গণকের নিকট এসে সে যা বলল তা বিশ্বাস করল, সে অবশ্যই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা অস্বীকার করল।” (হাসান সনদে বাজ্জার বর্ণনা করেন এবং আহমদ ও হাকেম বর্ণনা করেন )
এছাড়া কুরআন হাদিস অনুযায়ী জাদুতে লিপ্ত হওয়া কুফরি এবং শিরক। আখিরাতে এসব ব্যক্তিদের কোন স্থান নেই, জান্নাত তাদের জন্য হারাম।
সুতরাং এসব বিধ্বংসী কাজ থেকে বিরত থেকে নিজের দুনিয়া ও আখিরাত দুইটাকেই হেফাজত করুন।কোন সমস্যা হলে রুকইয়াহ আশ শারইয়াহ করুন, যেটা ইসলামে অনুমোদিত। কিন্তু কখনোই কুফরি নয়!
আল্লাহ তৌফিক দিন, আমিন!