Dr.Rajib Ghosh FCPS, MCPS, MD

Dr.Rajib Ghosh FCPS, MCPS, MD Specialist of Medicine, Rheumatolgy and Cardiology. Associate Professor
Alma mater: DMC & NICVD

01/01/2026

বয়স বাড়া মানেই কি শুধু সময়ের খেলা?
আধুনিক বিজ্ঞানের চোখে Aging একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া।
একসময় মনে করা হতো, বয়স বাড়া মানেই শরীর ধীরে ধীরে “ক্ষয়ে যাওয়া”—যেন সময়ই একমাত্র অপরাধী। কিন্তু আধুনিক জীববিজ্ঞান বলছে, aging কোনো একক কারণে হয় না। এটি একটি multifactorial process, যেখানে কোষ, জিন, প্রদাহ, শক্তি উৎপাদন—সবকিছু একসাথে জড়িত।
আজকের বিজ্ঞানীরা ageing-কে ব্যাখ্যা করেন কয়েকটি মৌলিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে। এগুলোকে অনেকেই বলেন “Hallmarks of Aging”।
১. Mitochondrial DNA (mtDNA) Damage
মাইটোকন্ড্রিয়াকে বলা হয় কোষের “পাওয়ারহাউস”। এখানেই শক্তি (ATP) তৈরি হয়। কিন্তু এই শক্তি উৎপাদনের সময় তৈরি হয় free radical বা Reactive oxygen species, ROS, যা মাইটোকন্ড্রিয়ার নিজের DNA-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ফলাফল:
শক্তি উৎপাদন কমে যায়
কোষ দ্রুত ক্লান্ত হয়
হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, পেশির কার্যক্ষমতা কমে
এভাবে mtDNA damage ageing-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে।
২. Telomere Shortening
Telomere হলো ক্রোমোজোমের শেষ প্রান্তের “সুরক্ষা-ক্যাপ”। প্রতিবার কোষ বিভাজনের সাথে সাথে এই টেলোমিয়ার ছোট হতে থাকে।
একসময় টেলোমিয়ার এতটাই ছোট হয় যে—
কোষ আর বিভাজন করতে পারে না
কোষ senescent বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়
Telomere shortening তাই কোষের “জীবনকাল” নির্ধারণ করে দেয়।
৩. Epigenetic Drift
DNA অপরিবর্তিত থাকলেও, তার উপর বসে থাকা epigenetic marks (যেমন methylation, histone modification) সময়ের সাথে বদলে যায়।
এর ফলে:
কোন জিন চালু হবে, কোনটা বন্ধ থাকবে—এই নিয়ন্ত্রণ এলোমেলো হয়
কোষ তার “পরিচয়” হারাতে শুরু করে
এটাকেই বলা হয় epigenetic drift, যা বয়সজনিত রোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৪. Proteostasis Failure
শরীরের প্রতিটি কোষে প্রতিনিয়ত প্রোটিন তৈরি ও ভাঙার একটি ভারসাম্য থাকে—একে বলে proteostasis।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে:
ভুলভাবে ভাঁজ হওয়া প্রোটিন জমতে থাকে
Autophagy ও proteasome system দুর্বল হয়
ফলাফল:
Alzheimer’s, Parkinson’s-এর মতো neurodegenerative রোগ
কোষের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়
৫. Stem Cell Exhaustion
Stem cell হলো শরীরের “repair system”। ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু ঠিক করার দায়িত্ব এদের।
কিন্তু বয়সের সাথে সাথে:
Stem cell সংখ্যা কমে
তাদের বিভাজন ও পার্থক্যকরণের ক্ষমতা নষ্ট হয়
তাই ক্ষত সারতে দেরি হয়, অঙ্গ পুনর্গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে।
৬. Inflammaging
বয়স বাড়ার সাথে শরীরে এক ধরনের low-grade chronic inflammation তৈরি হয়—যাকে বলা হয় inflammaging।
এটি:
কোনো সংক্রমণ ছাড়াই থাকে
ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়
Aging আর inflammation যেন হাত ধরাধরি করে চলে।

সব মিলিয়ে আধুনিক ধারণা
আজকের বিজ্ঞান বলছে—
Aging কোনো একক তত্ত্ব নয়; এটি বহু জৈবিক প্রক্রিয়ার সমন্বিত ফল।
mtDNA damage শক্তি কমায়,
telomere shortening কোষ থামিয়ে দেয়,
epigenetic drift পরিচয় নষ্ট করে,
proteostasis failure বর্জ্য জমায়,
stem cell exhaustion মেরামত থামায়,
আর inflammaging পুরো ব্যবস্থায় আগুন জ্বালায়।

ভবিষ্যতের দিগন্ত
এই বহুমাত্রিক ধারণার কারণেই এখন গবেষণা চলছে—
mitochondrial health
senolytics
epigenetic reprogramming
anti-inflammatory lifestyle ও drugs
লক্ষ্য একটাই:
“Longer life” নয়, “healthier life”

❤️এবার আসুন দেখি এইসব প্রক্রিয়া থামানোর উপায় কি?

সংক্ষেপে বললে—aging পুরোপুরি থামানো যায় না, কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে এর গতি ধীর করা এবং ক্ষতি কমানো অনেকটাই সম্ভব।
আমি আগে যে ৬টি মেকানিজম বলেছি সেগুলো ধীর করার জন্য প্রমাণভিত্তিক (evidence-based) করণীয় নীচে একসাথে দিলাম।
❤️‍🔥 Aging ধীর করার বাস্তবসম্মত উপায় (Mechanism-wise)

১. mtDNA Damage কমানোর উপায়
(Free radical → mitochondrial injury)
কী কাজ করতে হবে?
✔️ নিয়মিত aerobic exercise (walking, cycling, swimming)
✔️ Calorie moderation / intermittent fasting
✔️ পর্যাপ্ত ঘুম
✔️ ধূমপান বর্জন
সম্ভাব্য সহায়ক
Coenzyme Q10
Alpha-lipoic acid
Mediterranean diet
খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত antioxidant supplement বয়স কমায়, এমনটা প্রমাণিত নয়—food source ভালো।

২. Telomere Shortening ধীর করা
(Cellular aging clock)
এই বিষয়ে প্রমাণ আছে যে—
✔️ নিয়মিত ব্যায়াম
✔️ Stress reduction (meditation, mindfulness)
✔️ Smoking বন্ধ
✔️ Adequate sleep
Telomerase ওষুধ এখনো experimental — routine practice নয়।
৩. Epigenetic Drift কমানো
(Gene regulation এলোমেলো হওয়া)
কী করলে উপকার পাওয়া যায়?
✔️ Physical activity
✔️ Balanced protein intake
✔️ Vitamin B12, folate deficiency এড়ানো
✔️ Circadian rhythm ঠিক রাখা (late night habit কমানো)
গবেষণাধীন
Metformin
Calorie restriction mimetics

৪. Proteostasis Failure প্রতিরোধ
(ভুল প্রোটিন জমে যাওয়া)
এর জন্য সবচেয়ে কার্যকর হলো
✔️ Exercise → autophagy বাড়ায়
✔️ Intermittent fasting (12–16 hrs)
✔️ Adequate protein, but not excess
গবেষণাধীন
Rapamycin (NOT routine)

৫. Stem Cell Exhaustion ধীর করা বিষয়ে
যা জানা গেছে
✔️ Chronic inflammation কমানো
✔️ Obesity control
✔️ Good sleep

“Stem cell injection” → anti-aging হিসেবে এখনো প্রমাণহীন

৬. Inflammaging কমানো
(Low-grade chronic inflammation)
শক্ত প্রমাণ আছে
✔️ Mediterranean / DASH diet
✔️ Weight control
✔️ Exercise
✔️ Good glycemic & BP control

ঔষধ যেগুলোতে pleiotropic benefit দেখা গেছে
Statins
Metformin
ACE inhibitors / ARBs
(সবাইকে দেওয়ার কথা না—risk অনুযায়ী)

❤️‍🔥 সবচেয়ে শক্তিশালী ৫টি anti-aging strategy (সংক্ষেপে)
1️⃣ Regular exercise (সবচেয়ে শক্তিশালী “drug”)
2️⃣ Calorie moderation + healthy diet
3️⃣ Good sleep (7–8 hrs)
4️⃣ Stress control
5️⃣ Metabolic health ঠিক রাখা (DM, HTN, obesity)

👎 যেগুলো এখনো প্রমাণিত নয়
Megadose antioxidants
Hormone therapy for anti-aging
Stem cell tourism
“Anti-aging miracle pills”

সত্যিটা হলো
Aging থামানো যায় না,
কিন্তু aging-related disease অনেকটাই প্রতিরোধযোগ্য।
Modern medicine এখন longevity নয়, healthspan বাড়াতে কাজ করছে।
শেষ কথা
বয়স বাড়া অনিবার্য, কিন্তু কীভাবে বয়স বাড়বে—সেটা আংশিকভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আধুনিক বিজ্ঞান সেই পথটাই ধীরে ধীরে খুলে দিচ্ছে।

ডা. রাজীব ঘোষ
সহযোগী অধ্যাপক
রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ

01/01/2026
26/12/2025

ভয়ংকর অবস্থা
একজন তিন সন্তানের বাবা ৪৪ বছর বয়সী ব্যক্তি তীব্র বুকে ব্যথা নিয়ে এডমন্টনের একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় আট ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর হঠাৎ লুটিয়ে পড়ে মারা যান।
তার পরিবার প্রশ্ন তুলেছে—চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়া এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবই তার মৃত্যুর কারণ।
এই ঘটনার পর আবারও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

পেরিমেনোপজাল নারীর ফ্রোজেন শোল্ডারঃ অবহেলিত এক বাস্তব যন্ত্রণাহঠাৎ করে হাত তুলতে কষ্ট হচ্ছে। চুল আঁচড়ানো, ব্লাউজ পরা, এম...
25/12/2025

পেরিমেনোপজাল নারীর ফ্রোজেন শোল্ডারঃ অবহেলিত এক বাস্তব যন্ত্রণা
হঠাৎ করে হাত তুলতে কষ্ট হচ্ছে। চুল আঁচড়ানো, ব্লাউজ পরা, এমনকি পিঠে হাত নেওয়াও অসহনীয় হয়ে উঠছে। শুরুতে মনে হয় সাধারণ ব্যথা—কিন্তু ধীরে ধীরে কাঁধ যেন “বরফে জমে” যাচ্ছে।
এই অবস্থাটির নাম Frozen Shoulder, চিকিৎসাবিজ্ঞানে পরিচিত Adhesive Capsulitis নামে।
এটি কি সত্যিই একটি রোগ?
দীর্ঘদিন ধরে অনেক চিকিৎসকই ফ্রোজেন শোল্ডারকে “মনস্তাত্ত্বিক” বা “অতিরঞ্জিত ব্যথা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
কিন্তু আধুনিক গবেষণা এখন স্পষ্টভাবে বলছে—
Frozen shoulder একটি বাস্তব, জৈবিক (biological) রোগ, যেখানে কাঁধের জয়েন্ট ক্যাপসুলে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস ও সংকোচন ঘটে।
কারা বেশি আক্রান্ত?
গবেষণায় দেখা গেছে—
সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন peri-menopausal ও post-menopausal নারীরা।
বয়স সাধারণত ৪০–৬০ বছর।
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড রোগ, দীর্ঘদিন কাঁধ না নাড়ানো (immobilization) এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
নারীদের মধ্যে এটি পুরুষদের তুলনায় প্রায় ২–৪ গুণ বেশি
এখানেই প্রশ্ন ওঠে—
হরমোনাল পরিবর্তন কি এর পেছনে ভূমিকা রাখে?
নতুন গবেষণা বলছে, ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি কোলাজেন জমাট বাঁধা ও প্রদাহ বাড়াতে পারে।
কেন এত দীর্ঘস্থায়ী?
ফ্রোজেন শোল্ডার সাধারণত তিনটি ধাপে চলে—
১. Freezing phase – ব্যথা বাড়ে, নড়াচড়া কমে
২. Frozen phase – ব্যথা কমলেও কাঁধ প্রায় শক্ত হয়ে যায়
৩. Thawing phase – ধীরে ধীরে নড়াচড়া ফিরে আসে
পুরো প্রক্রিয়াটি ১–৩ বছর, কখনো ৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
কেন এতদিন অবহেলিত ছিল?
জীবননাশী নয় বলে গুরুত্ব কম পেয়েছে।
বেশিরভাগ রোগী নারী—নারীদের ব্যথা ঐতিহাসিকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে।
নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকায় “নিজে নিজে সেরে যাবে” বলা হতো।
এই অবহেলাই হাজার হাজার মানুষকে বছরের পর বছর ভোগান্তিতে রেখেছে।
নতুন গবেষণা, নতুন আশা
সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে—
এটি কেবল প্রদাহ নয়, বরং একটি fibrotic disorder
কিছু ক্ষেত্রে এটি Dupuytren’s contracture-এর মতো ফাইব্রোসিসজনিত রোগের সঙ্গে মিল রাখে।
নতুন চিকিৎসা সম্ভাবনা:
Targeted anti-fibrotic therapy
Ultrasound-guided hydrodilatation
Early-stage intra-articular steroid + physiotherapy
নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে minimally invasive surgical release

সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে দীর্ঘস্থায়ী অক্ষমতা এড়ানো সম্ভব।
রোগীর জন্য বার্তাঃ
এটি “মনের রোগ” নয়
ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া বাস্তব ও চিকিৎসাযোগ্য
দেরি না করে মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি
ব্যায়াম হলো চিকিৎসার মূল স্তম্ভ
শেষ কথা
ফ্রোজেন শোল্ডার শুধু একটি কাঁধের সমস্যা নয়—
এটি নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের অবহেলার প্রতিচ্ছবি।
ভাল খবর হলো,
অবশেষে চিকিৎসাবিজ্ঞান এটিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে।
আর এই গুরুত্বই হয়তো হাজারো মানুষের জমে থাকা কষ্টকে কমিয়ে দেবে।

এখন পর্যন্ত ফ্রোজেন শোল্ডারে সঠিক সময়ে সঠিক ধরনের ব্যায়াম হলো মূল চিকিৎসা। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত, ধাপে ধাপে করা ফিজিওথেরাপি এক্সারসাইজ। কারণ
ফ্রোজেন শোল্ডারে সমস্যা হয়—
জয়েন্ট ক্যাপসুল শক্ত ও সঙ্কুচিত হয়ে যায়
কোলাজেন জমে গিয়ে নড়াচড়া আটকে দেয়
ব্যায়ামই একমাত্র উপায় যা:
ক্যাপসুল ধীরে ধীরে স্ট্রেচ করে
জয়েন্টের মুভমেন্ট ফিরিয়ে আনে
দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা প্রতিরোধ করে
কোনো ওষুধই একা এই কাজটা করতে পারে না।
কোন পর্যায়ে কোন ব্যায়াম?

1. Freezing phase (ব্যথা বেশি)
প্রায় ২–৯ মাস থাকে
বৈশিষ্ট্যঃ
ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়ে
রাতে ব্যথা বেশি হয়
হাত নাড়ালে ব্যথা
মুভমেন্ট কমতে শুরু করে
চিকিৎসার লক্ষ্য: ব্যথা না বাড়িয়ে নড়াচড়া বজায় রাখা
✔️ Gentle ROM exercises
✔️ Pendulum exercise (Codman)
✔️ Heat therapy + হালকা স্ট্রেচ
❌ জোর করে স্ট্রেচ নয়
❌ Pain threshold ছাড়ানো যাবে না

2. Frozen phase (কঠিনতা বেশি)
প্রায় ৪–১২ মাস থাকে
বৈশিষ্ট্যঃ
ব্যথা কিছুটা কমে
কিন্তু কঠিনতা (stiffness) সবচেয়ে বেশি
হাত তুলতে, পেছনে নিতে কষ্ট
দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত
লক্ষ্য: ধীরে ধীরে ক্যাপসুল স্ট্রেচ
✔️ Passive + Active-assisted exercise
✔️ Wall climbing
✔️ Stick / Towel exercise
নিয়মিত, দিনে ২–৩ band

3. Thawing phase (সেরে ওঠার ধাপ)
প্রায় ৬–২৪ মাস থাকে
বৈশিষ্ট্যঃ
ব্যথা খুব কম
ধীরে ধীরে নড়াচড়া ফেরে
শক্তি ও ফাংশন উন্নত হয়
লক্ষ্য: পুরো শক্তি ও মুভমেন্ট ফেরানো
✔️ Active ROM
✔️ Strengthening exercise (rotator cuff, scapular stabilizer)
✔️ Resistance band

ব্যায়াম নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুলগুলো
❌ “ব্যথা হলে থামাবো”—একেবারে না
❌ আবার “ব্যথা সহ্য করে জোর করবো”—এটাও না
Mild discomfort acceptable, sharp pain not acceptable

ওষুধের ভূমিকা কী?
NSAIDs → ব্যথা কমাতে সাহায্য করে
Steroid (selective cases) → ব্যথা কমিয়ে ব্যায়াম সম্ভব করে
কিন্তু ওষুধ কখনোই ব্যায়ামের বিকল্প নয়
কতদিন ব্যায়াম করতে হবে?
সাধারণত ৬–১২ মাস
অনেক সময় রোগী ভালো লাগলে বন্ধ করে দেয় → এটাই সবচেয়ে বড় কারণ chronic stiffness-এর
শেষ কথা
১. ফ্রোজেন শোল্ডারের মূল চিকিৎসা = সঠিক ব্যায়াম + সময় + ধৈর্য।
২. ব্যথা কমানোর ওষুধ সহায়ক, কিন্তু নিরাময় করে না।

21/12/2025

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে আলোচনা

একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর চিকিৎসা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ২৩,৭০০–এর বেশি কানাডিয়ান মারা গেছেন।থিংক ট্যাঙ্ক S...
20/12/2025

একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর চিকিৎসা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ২৩,৭০০–এর বেশি কানাডিয়ান মারা গেছেন।
থিংক ট্যাঙ্ক SecondStreet.org–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত অন্তত ২৩,৭৪৬ জন রোগী নির্ধারিত অস্ত্রোপচার বা ডায়াগনস্টিক স্ক্যান করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্টারিও, যেখানে ১০,৬০০–এর বেশি মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯,১০০–এরও বেশি মানুষ ডায়াগনস্টিক স্ক্যান করানোর আগেই মারা গেছেন।
রেকর্ড পরিমাণ স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় সত্ত্বেও এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হৃদরোগের অস্ত্রোপচার, ক্যানসার চিকিৎসা এমনকি নিয়মিত প্রক্রিয়াতেও বিলম্ব প্রাণঘাতী পরিণতি ডেকে আনছে।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, রিপোর্টিং এখনো অসম্পূর্ণ ও অসংগত হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

সারভাইভারশিপ বায়াসঃ১৯৪২ সালে আমেরিকার যে বম্বার গুলো জার্মানিতে বোমা ফেলতে যেতো সেগুলোর মধ্যে যারা ফিরে আসতো তাদের গায়ে ...
19/12/2025

সারভাইভারশিপ বায়াসঃ
১৯৪২ সালে আমেরিকার যে বম্বার গুলো জার্মানিতে বোমা ফেলতে যেতো সেগুলোর মধ্যে যারা ফিরে আসতো তাদের গায়ে গুলির আঘাত গুলোকে একটা প্লেনের ছবিতে এঁকে এই ছবি বানিয়েছিল ইঞ্জিনিয়াররা।
ওরা দেখলো সব আঘাত পাখায় ও লেজে।
ইঞ্জিন ও ফিউজিলাজে কোন গুলির দাগ নাই। ১ম ছবি।
এই ছবির ভিত্তিতে আমেরিকার প্লেনগুলোর পাখায় ও লেজে বাড়তি স্টিলের আর্মার লাগানো দরকার ছিল বললো ইঞ্জিনিয়াররা।
কিন্তু উনারা একটা দ্বিতীয় মতামত নেওয়ার জন্য হাঙ্গেরির গণিতবিদ আব্রাহাম ভল্ড এর কাছে পুরো তথ্য গুলো পাঠালো।
উনি সব বিবেচনা করে বললেন এয়ারফোর্সের ইঞ্জিনিয়াররা সারভাইভারশিপ বায়াসের কারণে একটা বড় ভুল করেছেন।

সার্ভাইভারশিপ বায়াস (Survivorship Bias) হলো এক ধরনের চিন্তাগত ভুল (cognitive bias)—যেখানে আমরা শুধু যারা টিকে গেছে/সফল হয়েছে তাদের দিকেই তাকাই, আর যারা ব্যর্থ হয়েছে বা বাদ পড়ে গেছে তাদের হিসাবেই আনি না। ফলে সিদ্ধান্ত বা উপসংহার হয় ভুল বা অসম্পূর্ণ।

সহজ করে বললে

“যারা বেঁচে আছে, শুধু তাদের গল্প শুনে পুরো সত্য ধরে নেওয়া।”

ক্লাসিক উদাহরণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমারু বিমানের এই গল্প
যুদ্ধ থেকে ফিরে আসা বিমানে দেখা গেল কিছু জায়গায় বেশি গুলি লেগেছে। প্রথমে মনে হলো—
ওই জায়গাগুলো শক্ত করা দরকার।

কিন্তু বাস্তব সত্য ছিল উল্টো।
যেসব বিমানে ইঞ্জিন বা ককপিটে গুলি লেগেছিল, সেগুলো ফিরেই আসেনি—তাই সেগুলোর ক্ষত চোখে পড়েনি।
তাই আসলে শক্ত করা দরকার ছিল সেই জায়গাগুলোই, যেগুলোতে গুলি লাগলে বিমান আর ফেরে না। ২য় ছবি।

বাস্তব জীবনের উদাহরণ

সফল উদ্যোক্তা দেখে বলা: “কঠোর পরিশ্রম করলেই সবাই সফল হয়”
ভুল, কারণ হাজারো পরিশ্রমী মানুষ ব্যর্থ হয়েছে—তাদের আমরা দেখি না।

পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা ছাত্রদের স্টাডি রুটিন দেখে বলা: “এইভাবে পড়লেই ভালো করা যায়”
যারা একইভাবে পড়ে ভালো করেনি, তারা হিসাবের বাইরে।

দীর্ঘজীবী ধূমপায়ী দেখিয়ে বলা: “সিগারেট ক্ষতিকর না”
যারা মারা গেছে, তারা কথা বলছে না।

কেন এটা বিপজ্জনক

১. ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়

২. অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়

৩. বাস্তব ঝুঁকি অবমূল্যায়ন হয়

কীভাবে এড়াবেন

১. সব ডেটা দেখুন—ব্যর্থতা সহ
২. প্রশ্ন করুন: “কারা এখানে নেই?”
৩. শুধু সাফল্যের গল্প নয়, ব্যর্থতার ইতিহাসও পড়ুন

সংক্ষেপে

Survivorship bias মানে—যারা টিকে আছে তাদের দেখে পুরো সত্য ধরে নেওয়া, আর যারা বাদ পড়েছে তাদের ভুলে যাওয়া।

12/12/2025

শিক্ষাকে অর্থবহ করার জন্য শিক্ষার সরলরৈখিক ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে আসা জরুরী। সরল রৈখিক চিন্তা কেমন?
যেমন আমি স্কুলে ভালো পড়াশোনা করবো, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো এবং ভালো বেতনের চাকরি করবো।
Sir Ken Robinson বলছেন "Life is not linear, it is organic"
শেখা ও বেড়ে ওঠা একটি সরল পথ ধরে হয় না, বরং এটি জটিল, বহুমুখী এবং অপ্রত্যাশিত শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়, অনেকটা গাছের মতো, যেখানে প্রতিটি অভিজ্ঞতা একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে; এই ধারণাটি প্রচলিত রৈখিক শিক্ষা পদ্ধতির (Linear Education System) বিপরীতে গিয়ে সৃজনশীলতা, ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং জীবনের স্বাভাবিক বিকাশের ওপর জোর দেয়, যেখানে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেয়ে শেখার প্রক্রিয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উনি একটা সুন্দর উদাহরণ দিয়েছেন।
একজন ছোটবেলা থেকে ফায়ারম্যান হতে চাইতো, স্কুলের ছোট ক্লাসের সব শিশুই অমন ফ্যান্টাসিতে থাকে। সব বাচ্চা ফায়ারম্যান বা পাইলট হতে চায়।
কিন্তু বিশেষ ঐ ব্যক্তি বড় ক্লাসে গিয়েও ফায়ারম্যান হবার জন্য তার অনুরাগ পাল্টায়নি। উঁচু ক্লাসের শিক্ষকরা এটা পছন্দ করতেন না। বিশেষ করে একজন শিক্ষক এটা নিয়ে তাঁর ভিন্ন মত জোরালো ভাবে দিতেন।
কিন্তু পরবর্তী সময় দেখা গেল ঐ ছাত্র ফায়ারম্যান হিসেবে ঐ শিক্ষক এবং তার স্ত্রীর জীবন রক্ষা করে।

একজন ফায়ারম্যান (দমকলকর্মী) হয়তো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত পথে না গিয়ে, ঝুঁকি নিয়ে, সাহসিকতার সাথে কাজ করে জীবনে নিজের পথ খুঁজে নিতে পারেন, যা একটি "জৈবিক" এবং "অ-রৈখিক" পথ।
তার জীবন কোনো পূর্বনির্ধারিত রেখা অনুসরণ করে না, বরং তার ব্যক্তিগত আগ্রহ, প্রতিভা এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে গড়ে ওঠে।

আমাদের সমাজও শিক্ষার সরলরৈখিক ধারণায় অবসেসড। সন্তানকে ডাক্তার বানাতে হবে, ইঞ্জিনিয়ার বানাতে হবে, ক্যাডার বানাতে হবে, পুলিশ বানাতে হবে।
ফলে দেখা যায় ডাক্তারী পড়ে, সরকারি চিকিৎসক হয়ে আবার বিসিএস দেয় পুলিশ বা এডমিন ক্যাডার হবার জন্য।
সমাজের চোখে পেশার মর্যাদার ধারণা না পাল্টালে, পেশা গুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিলোপ না করলে এবং সর্বোপরি শিক্ষা ও জীবনকে নিয়ে এই সরল রৈখিক অবসেশন থেকে বের হতে না পারলে কখনোই সঠিক মানুষটাকে সঠিক জায়গায় পাওয়া যাবে না।
ইথিক্যালি সাউন্ড, নিজের কাজে ডেডিকেটেড, নিজের পেশাকে ভালোবাসে এমন প্রজন্ম স্বপ্নই থেকে যাবে।

HbA1c কোন কোন অবস্থায় ভুল (inaccurate) বা বিভ্রান্তিকর হতে পারে: ডায়াবেটিস রোগীদের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা দেখতে...
04/12/2025

HbA1c কোন কোন অবস্থায় ভুল (inaccurate) বা বিভ্রান্তিকর হতে পারে:
ডায়াবেটিস রোগীদের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা দেখতে এবং অন্যদের ডায়াবেটিস আছে কিনা দেখতে HbA1c টেস্ট এখন বহুল করা হয়। কিন্তু কিছু অবস্থায় এই টেস্ট সঠিক রেজাল্ট দেয়না।
HbA1c যেসব অবস্থায় সঠিকভাবে ফল দেয় না

১) রেড ব্লাড সেলের আয়ু কমে গেলে (False Low A1c)

হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া

অ্যাকিউট বা ক্রনিক ব্লাড লস

স্ফেরোসাইটোসিস / সিকেল সেল ডিজিজ

থ্যালাসেমিয়া

G6PD deficiency

স্প্লেনোমেগালি

কারণ: RBC–এর জীবনকাল কম → গ্লুকোজ যুক্ত হওয়ার সময় কম → HbA1c কম দেখায়।

২) রেড ব্লাড সেলের আয়ু বাড়লে (False High A1c)

আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া

ভিটামিন B12 বা ফলেট ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া

অ্যাসপ্লেনিয়া

কারণ: RBC দীর্ঘদিন থাকে → বেশি গ্লাইকেরেশন → A1c বেশি দেখায়।

৩) হিমোগ্লোবিনের গঠনগত রোগ

সিকেল সেল ট্রেইট / ডিজিজ

থ্যালাসেমিয়া (α/β)

Hemoglobin variants (HbC, HbE, HbD)

কারণ: বিভিন্ন ল্যাব পদ্ধতিতে ভিন্ন ভিন্ন কৃত্রিম রেজাল্ট দেখা যায়।

৪) কিডনি রোগ

ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD)
কারণ: Carbamylated hemoglobin ও anemia → HbA1c ভুল দেখাতে পারে (সাধারণত false low)।

৫) লিভার ডিজিজ

Cirrhosis → altered RBC turnover → inaccurate A1c।

৬) ওষুধ/অবস্থা যেখানে RBC turnover বদলে যায়

Erythropoietin therapy (EPO)

HIV ও কিছু antiretroviral

Dapsone

Ribavirin

৭) অন্যান্য বিশেষ অবস্থা

গর্ভাবস্থা
(RBC lifespan কমে; তাই A1c কম দেখায়)

High alcohol intake

Chronic op**te use

Severe hypertriglyceridemia বা hyperbilirubinemia
(ল্যাব ইন্টারফেরেন্স)

সংক্ষেপে মনে রাখার সহজ নিয়ম

যে অবস্থা RBC lifespan কমায় → HbA1c কম দেখায়
যে অবস্থা RBC lifespan বাড়ায় → HbA1c বেশি দেখায়।L
HbA1C এর লেভেল কত হলে তার ইন্টারপ্রিটেশন কি হবে তা ১ নং ছবিতে দেখানো হলো।
২ নং ছবিতে HbA1c এর ফলাফল অনুসারে আপনার এভারেজ ব্লাড সুগার কত তা দেওয়া হলো।
আবার গড় ব্লাড সুগার জানলে HbA1c কত হবে সেইটা ও অংক করে বের করা যায়।
সূত্র হলো:
ADAG equation অনুযায়ী

HbA1c (%) = (eAG + 2.59) / 1.59

এখন ধরি eAG = 6.4 mmol/L
HbA1c = (6.4 + 2.59) / 1.59
HbA1c = 8.99 / 1.59
HbA1c ≈ 5.7%

ফলাফল:

Average glucose 6.4 mmol/L ≈ HbA1c 5.7%

মানে: একদম Normal এবং Prediabetes-এর ঠিক সীমানায়।

ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের যত্নঃ1. রোজ পায়ের পরীক্ষা করুন – কাটা, ফোসকা, রঙ বদল, ফাটল বা ক্ষত আছে কি না দেখুন।2. কুসুম গরম ...
03/12/2025

ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের যত্নঃ

1. রোজ পায়ের পরীক্ষা করুন – কাটা, ফোসকা, রঙ বদল, ফাটল বা ক্ষত আছে কি না দেখুন।

2. কুসুম গরম পানিতে প্রতিদিন পা ধুতে হবে – খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না।

3. ধোয়ার পর ভালোভাবে পা শুকিয়ে নিন – বিশেষত পায়ের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে।

4. ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন – পায়ের উপরে ও তলায় লাগান, তবে আঙুলের ফাঁকে নয়।

5. ভালোভাবে মানানসই জুতো ও মোজা পরুন – শক্ত বা টাইট জুতো এড়িয়ে চলুন।

6. নখ সোজা করে কাটুন – গোল করে কাটলে ইনগ্রোন নখ তার পাশের চামড়ায় ঢুকে ফলে ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে।

7. কর্ন বা ক্যালাস থাকলে নিজে কাটবেন না – ডাক্তারের সাহায্য নিন।

8. নিয়মিত ডাক্তার দিয়ে পা পরীক্ষা করান – ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য অপরিহার্য।

9. ক্ষত, ঘা, বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নিন – দেরি করলে জটিলতা বাড়তে পারে।

হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাক এর গল্প : ২০০ বছরের এক অভূতপূর্ব যাত্রামানব ইতিহাসে হৃদরোগ, বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD)...
29/11/2025

হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাক এর গল্প : ২০০ বছরের এক অভূতপূর্ব যাত্রা

মানব ইতিহাসে হৃদরোগ, বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD) এবং মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (MI), মৃত্যু–ঝুঁকির প্রধান কারণ। গত দুই শতাব্দীতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি এই রোগকে প্রায় রহস্যঘেরা অবস্থা থেকে আধুনিক জিনগত বিজ্ঞান পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। এই যাত্রা শুধু জ্ঞান-বিস্তার নয়, বরং মানবতার বাঁচার লড়াইয়ের গল্প।

❤️ প্রাথমিক যুগ (১৭০০–১৯০০): রোগ শনাক্তকরণের শুরু

১৭৭২ সালে উইলিয়াম হেবারডেন প্রথমবারের মতো বুকে ব্যথার (অ্যাঞ্জাইনা) ক্লিনিকাল বর্ণনা দেন। পরে প্যাথোলজিস্টরা বুঝতে পারেন—এই ব্যথার মূল কারণ করোনারি ধমনীতে ক্যালসিফিকেশন ও থ্রম্বোসিস।
১৯১২ সালে জেমস হারিক প্রথম “মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন” ধারণা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং বিশ্রাম-ভিত্তিক চিকিৎসা প্রচলন করেন। ১৯১৯ সালে ECG-এর আবির্ভাব MI নির্ণয়ে বিপ্লব আনে।

❤️ রোগতত্ববিদ্যা ও ঝুঁকি উপাদান (১৯৪০–১৯৬০) সনাক্ত

১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া ফ্রেমিংহাম হার্ট স্টাডি প্রথম দেখায়
উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান—এগুলোই CAD-এর মূল ঝুঁকি।
এসময় থেকেই বিশ্ব বুঝে যায়, CAD কোনো নিয়তি নয়, বরং প্রতিরোধযোগ্য।

❤️ করোনারি কেয়ার ইউনিটের বিপ্লব (১৯৬০ এর দশক)

১৯৬০-এর আগে হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে মৃত্যুহার ছিল ৩০% পর্যন্ত।
১৯৬১ সালে ডেসমন্ড জুলিয়ান “Coronary Care Unit (CCU)” চালু করেন—যেখানে ECG মনিটরিং, CPR, এবং তাত্ক্ষণিক ডিফিব্রিলেশন একত্রে করা সম্ভব হয়।
এর ফলে মৃত্যুহার অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়।

❤️ ইনভেসিভ কার্ডিওলজি ও ইন্টারভেনশন (১৯৫০–১৯৮০)

১৯২৯: ফোরসম্যান নিজের শরীরে প্রথম হৃদযন্ত্রে ক্যাথেটার ঢোকান।

১৯৫৮: সোনেস করোনারি আর্টেরিওগ্রাফি আবিষ্কার করেন।

১৯৬৯: ফাভালোরো CABG সার্জারি চালু করেন।

১৯৭৭: গ্রুনৎজিগ প্রথম অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করেন — যার উপর দাঁড়িয়ে PCI আজকের রূপ পেয়েছে।

কার্ডিওলজি তখন থেকে আর শুধু চিকিৎসা নয়—একটি বহুবিভাগীয় প্রযুক্তিগত বিজ্ঞান।

❤️ আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যা (১৯৭০–২০০০)

GISSI ও ISIS-2 ট্রায়াল: ফাইব্রিনোলাইসিস + অ্যাসপিরিন মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য কমায়।

PCI ও স্টেন্ট চিকিৎসাকে নতুন যুগে নেয়।

ACE inhibitor, β-blocker, statin, aldosterone blocker—রোগীর আয়ু বাড়িয়ে দেয়।

ICD, CRT, LVAD হৃৎপিণ্ডের ব্যর্থতা চিকিৎসায় বিপ্লব ঘটায়।

SERCA2a জিন থেরাপি ভবিষ্যৎ চিকিৎসার আভাস দেয়।

❤️ অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের জৈবিক ভিত্তি

অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস আর কেবল “চর্বি জমা” নয়—এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ।
প্ল্যাক রাপচার → থ্রম্বাস → MI: এটাই মূল যন্ত্রণা।

নাইট্রিক অক্সাইড আবিষ্কার (ফারচট, ইগ্নারো, মুরাদ) → রক্তনালী প্রসারিত করার ঔষধ এর সূচনা।

LDL রিসেপ্টর আবিষ্কার (ব্রাউন ও গোল্ডস্টেইন) → স্ট্যাটিন যুগের সূচনা।

এই গবেষণা মেডিসিনে নোবেল পর্যন্ত নিয়ে যায়।

❤️ জিনগত ও মলিকিউলার যুগ (২০০০–বর্তমান)

জিনোমিক্স ও ফার্মাকোজেনোমিক্স চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে সাজানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

CYP2C19 সম্পর্কিত ক্লোপিডোগ্রেল রেজিস্ট্যান্স, ওয়ারফারিন জিন-ভিত্তিক ডোজিং এখন বাস্তব।

CAD সংশ্লিষ্ট নতুন জিন প্রতিদিন আবিষ্কৃত হচ্ছে।

স্টেম সেল থেরাপি ও হৃদযন্ত্র পুনর্জন্ম এখনো প্রাথমিক স্তরে, কিন্তু আশাব্যঞ্জক।

❤️ বৈশ্বিক হৃদরোগের চিত্র

করোনারি রোগ এখনো বিশ্বের ১ নম্বর ঘাতক।
মূল কারণ—বার্ধক্য, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য, কম চলাফেরা।
সমাধান—প্রতিরোধ, শিক্ষা, সাশ্রয়ী চিকিৎসা ও বিশ্বব্যাপী সমন্বয়।

❤️ উপসংহার

গত ২০০ বছর আগে হার্ট অ্যাটাক চিকিৎসা হতো রক্তপাত থেরাপি দিয়ে যা এখন জিন থেরাপি পর্যন্ত পৌঁছেছে।
তবুও লড়াই শেষ হয়নি।
হৃদরোগ প্রতিরোধ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামাজিক সমতা—এগুলোই ভবিষ্যতের মূল যুদ্ধক্ষেত্র।

মানবতার হৃদয়কে সুস্থ রাখতে এই যাত্রা চলবে আরও বহু দূর।

লিংক: https://www.nejm.org/doi/full/10.1056/NEJMra1112570

Address

Katalganj Road
Chittagong
4000

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.Rajib Ghosh FCPS, MCPS, MD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr.Rajib Ghosh FCPS, MCPS, MD:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category