28/06/2022
#স্বাদ_হোম_মেইড_গুড়া_মশলা"
আমরা বাঙালিরা মশলা প্রিয় জাতি।। রান্নার একটা গুরুত্বপূর্ন দিক হচ্ছে মশলাপাতি। মশলাপাতির কারণেই একএক রান্না একএক রকমের স্বাদ ও ঘ্রাণের হয়ে থাকে। একটা সময় ছিল শিল পাটার ব্যবহার,ব্যস্ত জীবনে শিল-পাটার ব্যবহার ক্রমে কমে আসছে।। গৃহিনীরা তাই গুঁড়ো মশলার উপরই বেশি নির্ভর হয়ে পড়ছেন।আর এজন্য খাঁটি এবং বিশুদ্ধ গুঁড়ো মশলার চাহিদা দিনদিন বেড়েই চলেছে।
মশলা তো কম বেশি আমরা সবাই রান্নায় ব্যবহার করি।
কিন্তু এক এক এলাকার মশলার ব্যবহার,প্যরান্নার স্বাদ এক এক রকম।কেউ আছেন সব তরকারিতেই গোল মরিচ খেতে পছন্দ করেন,কেউ আবার শুধু মাংস ছাড়া অন্য কোন তরকারিতেই গোলমরিচ খান না।
কেউ কেউ আবার রান্নায় রাধুনি ব্যবহার করেন ধনিয়ার মতো,আবার কেউ রাধুনি কি,তাও চিনতে পারেন না।
কেউ ঝাল বেশি পছন্দ করেন তো ,কেউ আবার ঝাল একেবারেই খেতে পারেন না,কিন্তু তরকারিতে কালার সুন্দর চান।
এভাবেই এক এক জনের মশলার স্বাদ ,রুচি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।কিন্তু একটা জায়গায় এসে সারা পৃথিবীর মানুষ একমত হয়ে যান আর তা হলো বিশুদ্ধ মশলা।
পরিস্কার পরিছন্ন মশলার কদরই আলাদা হয়।কারন সবাই সুস্থ্য থাকতে চান।তাই দাম বেশি হলেও মশলাটা খাটি চান সবাই।
আর আমরা আছি আপনাদে সাথে সেই খাটি মানের মশলা নিয়েই ।
“” ”
হোম মেইড গুরা মসলা।বাজারের সব ভেজাল মসলা বাদ দিয়ে আমরা দিচ্ছি ভেজাল মুক্ত মসল।
মসলা কি?
মসলা এমন একটি উপাদান যা বিভিন্ন বীজ, শিকড়, ফল, বাকল, সবজি এবং অন্যান্য উদ্ভিদ থেকে তৈরি হয়। যা প্রধানত রং, স্বাদ এবং খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
বিভিন্ন ধরনের মসলা বিশ্বের সর্বত্র পাওয়া যায় এবং এটি রন্ধনশিল্পের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। খাবারের স্বাদ এবং রং বাড়িয়ে তুলতে মসলার বিকল্প নেই। মসলা ছাড়া যেকোনো খাবার পানশে মনে হয়। মসলার একটি ভাল গুণ হচ্ছে এটি একটি শুকনা পদার্থ যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে এটি নষ্ট হয়না, পচে না এবং এটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।
মসলাতে ক্যালরি খুবই কম থাকে তাই এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। মসলায় প্রোটিন এবং জৈব যৌগ থাকে যা একজন মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয়।
জেনে নিন প্রতিদিনের ব্যবহৃত কিছু মসলার স্বাস্থ্য গুনাগুণ এবং উপকারিতা-
রান্নায় আমরা বিভিন্ন ধরনের মসলা ব্যবহার করলেও এর বিভিন্ন স্বাস্থ্য গুনাগুণ আমাদের অনেকের অজানা। খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মসলা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ব্যাপক অবদান রাখে।
🍀মৌরি বীজ
মৌরি এমন একটি মসলা উপাদান যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এটি পেটিক, এন্টি-স্পমোডিক্যাল, এন্ডিজাইটিভ, এন্টিসেপটিক, হজমজনিত যেকোন সমস্যা সমাধান করে। এতে রয়েছে ভিটামিন এবং খনিজ লোহা, পটাসিয়াম, তামা এবং ম্যাগনেসিস। মৌরি বীজ শরীরের অঙ্গগুলির সঞ্চালন এবং অক্সিজেনেশন বাড়ায় পাশাপাশি ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে। এবং আপনার ত্বকের গুণমান উন্নত করে।
🍀তেজপাতা
সারা বিশ্বে একটি খুব জনপ্রিয় মশলা। এতে ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা, স্নায়ুর নল ত্রুটিগুলো কমাতে, স্বাস্থ্য, ত্বকের যত্ন এবং চুলের যত্নের জন্য প্রশংসিত। এটা স্নায়ুতন্ত্রের উন্নত করতে সাহায্য করে, শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তের সাথে সম্পর্কিত অবস্থার উন্নতি করে।
🍀গোল মরিচ
গোল মরিচ সবচেয়ে সাধারণ মশলা কিন্তু অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা এতে বিদ্যমান। এতে প্রদাহ এবং অতিরিক্ত গ্যাস কমাতে, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল কর্ম নিখুত এবং এনজাইম্যাটিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রয়েছে। গোল মরিচ হার্ট রেট এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এবং এটির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দ্বারা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
🍀মরিচ
মরিচ দেহের সাইনোসিস পরিষ্কার করতে, প্রস্রাব বৃদ্ধি, বিষক্রিয়াগত মাথাব্যথা দূর করে। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং রক্তচাপ কমায়। এর শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে, বিষন্নতা, এবং বিষক্রিয়াগত মাথাব্যথা এবং সম্ভাব্য সংক্রমণের সঙ্গে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে।
🍀কেওড়া বীজ
কেওরা বীজ হজম করতে সাহায্য করে। কলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে, অতিরিক্ত গ্যাস কমাতে, এবং বিভিন্ন রোগ যেমন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এই বীজ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং এথেরোস্ক্লেরোসিস নিষ্কাশন করে। এই বীজ থিয়ামিন, পাইরিডক্সিন, রাইবোফ্লাভিন, এবং নিয়াসিনের মত ভিটামিন সরবরাহ করে। শুধু তাই নয়, এটি লৌহ, তামা, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম, জিংক এবং ম্যাগনেসিয়ামের মত খনিজ পদার্থ সরবরাহ করে।
🍀এলাচ
এলাচের স্বাস্থ্য সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে হজমকরণ, রক্তচাপ কমানো, বিপাক বৃদ্ধি, সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এবং প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এটি রাইবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ভিটামিন সি এবং লোহা, ম্যাঙ্গানিজ এবং পটাসিয়ামের মত খনিজ ও ভিটামিন প্রদান করে।
🍀দারুচিনি
প্রদাহ কমাতে, ব্যথা দূর করা, ডায়াবেটিস পরিচালনা, সংক্রমণ দূর করা, অতিরিক্ত গ্যাস কমাতে এবং হৃদরোগের উন্নতির জন্য দারুচিনি খুবই কার্যকর। এটি বুদ্ধি বিকাশে, শক্তিশালী হাড় গঠন, ক্যান্সার প্রতিরোধ, এবং চোখের ও ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে!
🍀লবঙ্গ
এই মসলাটি আমরা বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করে থাকি। এই মসলাতে রয়েছে নানা গুনাগুন। লবঙ্গ ক্যান্সার প্রতিরোধ, এবং হাড়ের স্বাস্থ্য সংরক্ষণের জন্য ভাল।
🍀জিরা
জিরা একটি অত্যন্ত উপকারী মসলা উপাদান। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি প্রদাহ যা হজম উন্নতি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও শুক্রানু বৃদ্ধি, হাড় শক্তিশালী দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ডিজিজ প্রতিরোধ করে। জিরার একটি অন্যতম উপকারিতা হলো এটি নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও জিরা রক্তের কোষ বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার।