01/08/2025
ব্রয়লার মুরগি: পুষ্টিকর নাকি ক্ষতিকর? ভুল ধারণা ভেঙে জানুন আসল সত্য 🔍
বাংলাদেশে এখনো অনেকেই ব্রয়লার মুরগিকে ভয় পান — কেউ বলেন এতে হরমোন আছে, কেউ বলেন ক্যানসার হয়।
আসলেই কি তাই?🤔
⏺️ ব্রয়লার মুরগির পুষ্টিগুণ
- ১০০ গ্রাম রান্না করা ব্রয়লারে থাকে প্রায় ৩১ গ্রাম প্রোটিন যা একজন প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক চাহিদার অর্ধেক বা তার বেশি পূরণ করে।
-এটি কম ক্যালরি ও কম স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত — ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
-এতে থাকে: ভিটামিন B6, B12, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, নায়াসিন (Niacin)। এই উপাদানগুলো রক্তস্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ এবং হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
🚫 হরমোন নিয়ে ভয় কি সত্যি?
❌ না, হরমোন দেওয়া হয় না, কারণ:
১. হরমোন ইনজেকশন প্রতিটি পাখিকে আলাদাভাবে দিতে হয় — যা খুবই ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
২. একটি ব্রয়লারের দাম যেখানে প্রায় ২০০ টাকা বা কিছু বেশি, সেখানে হরমোন ব্যবহার করলে খরচ বেড়ে যাবে ৩০–৫০ টাকা বা তারও বেশি — যা খামারির ক্ষতিই করবে।
তাই এটি অর্থনৈতিকভাবে অবাস্তব।
✅ আসলে ব্রয়লারের দ্রুত বড় হওয়া সম্ভব হয়:
- বিশেষ জাতের (genetically selected) মুরগি
- ব্যালেন্সড ফিড
- নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে খামার ব্যবস্থাপনা এর কারণে।
➡️ তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় কেন?
- ছোট বয়সে মুরগির রোগ প্রতিরোধে ও চিকিৎসার জন্য সীমিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
⚠️ সমস্যা তখন হয়, যখন খামারিরা ওষুধ দেওয়ার পর "withdrawal period" (যতদিন অপেক্ষা করতে হয়) না মেনে বাজারে বিক্রি করে দেন। এতে মাংসে অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ থেকে যায় — যা মানুষের শরীরে গেলে হতে পারে:
১. অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স
২. হজমের সমস্যা
৩. ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হওয়া
➡️ বাংলাদেশে গুজবের পেছনের কারণ কী?
- ফিডে অ্যান্টিবায়োটিক বা সাপ্লিমেন্টকে অনেকে হরমোন ভাবে
- দ্রুত বড় হওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়
- কিছু খামারের অনিয়ম নিয়ে মিডিয়ার অতিরঞ্জন
- অতীতে খাদ্যভেজালের ইতিহাস থেকে তৈরি হওয়া ভয়
✅ তাহলে করণীয় কী?
১. ভালো উৎস থেকে মুরগি কিনুন:
👉 সুপারশপ, রেজিস্টার্ড বা বিশ্বস্ত ফার্মের মুরগি নিন।
২️. ভালোভাবে ধুয়ে ও রান্না করুন:
🔥 উচ্চ তাপে (৭০°C+) রান্না করলে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য অনেক ক্ষতিকর উপাদান ধ্বংস হয়।
৩️. প্রতিদিন না খেয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রোটিন খান:
সপ্তাহে ২–৩ দিন ব্রয়লার, অন্যদিন মাছ, ডিম, ডাল কিংবা অন্যান্য প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া।
৪️. দেশি মুরগি বা অর্গানিক ফার্ম থেকে মুরগী কিনুন (যদি সম্ভব হয়)।
✅ ব্রয়লার মুরগি নিজে খারাপ নয়।
⚠️ সমস্যা হয় যখন খামারিরা নিয়ম না মানে, আর আমরা না জেনে ভয়ে থাকি।
✅ সঠিকভাবে নির্বাচন, রান্না ও খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করলে — ব্রয়লার হতে পারে একটি সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পুষ্টিকর প্রোটিন উৎস।
👉 ভুল ধারণা ভাঙুন, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে সাহসী হোন!