13/05/2017
এই গরমে ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন।
আমাদের দেশে বছরের বেশির ভাগ সময় জুড়ে
থাকে গরমকাল। কড়া রোদ, তপ্ত আবহাওয়া,
অনবরত ঘামে পানিশূন্যতা ইত্যাদি থাকে
গরমকালে নিত্যসঙ্গী। তাই বলে কি গরমকালের
ইতিবাচক দিক নেই? আছে তো! এ সময় পাওয়া
যায় মজার মজার সব রসালো ফল। এছাড়া শিশুদের
থাকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি।
তাই আনন্দের হুল্লোড়ও থাকে কম না! এসব
কারণে গরমকে উপভোগও করেন অনেকে।
অনবরত
তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে নিজেকে এ সময়
সুস্থ রাখাটাও জরুরি। নিজেকে সুস্থ ও ভালো
রাখার কিছু উপায় রইলো এখানে।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন :
গরমে প্রচন্ড তাপের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা
দেখা দেয়। তাই বেশি করে পানি পান করুন। পানি
স্বল্পতা এড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের স্যুপ,
গরম দুধ, ফলের রস খেতে পারেন। মাঝে মাঝে
ডাবের পানি খান। দুধ ছাড়া চা তিন চার ফোঁটা
লেবুর রস দিয়ে খেতে পারেন। এতে পানির কাজ
করার পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও কাজ
করবে।
নিয়ম মেনে খাবার খান :
শর্করা জাতীয় খাবার শরীরের শক্তি বজায়
রেখে
শরীর কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। খাবারে
প্রোটিনের পরিমাণ এ সময় কম রাখাই ভালো।
মৌসুমি শাকসবজি ও ফল যেমন তরমুজ, বাঙ্গি,
সফেদা, ক্ষিরা, আনারস ইত্যাদি যথেষ্ট পরিমাণে
খান। এসব খাবারের মধ্যে উপস্থিত আঁশ ও
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের সজীবতা বজায়
রাখে
ও হজমে সহায়তা করে।
টাটকা ফল ও সবজিতে উপস্থিত বায়োটিন ত্বক
ও চুল ভালো রাখে। ফলমূল ও শাকসবজির
পাশাপাশি গোটাদানাশস্য, সয়াবিনজাতীয় প্রোটিন
সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। অ্যালার্জির
ধাত থাকলে, ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হলে রিফাইনড
কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন চিনি, ময়দা,
গমজাতীয় খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন।
ত্বক ও চুলের যত্ন নিন :
গরমে বাতাসের আর্দ্রতা যেমন বেড়ে যায়,
তেমনি
ত্বকের আর্দ্রতাও বাড়তে থাকে। ঘরের ভিতর
এবং বাইরের তাপমাত্রায় যেহেতু পার্থক্য থাকে,
তাই ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্যও নষ্ট হয়ে
যায়। স্বাভাবিকভাবেই তখন ত্বকে নানান সমস্যা
দেখা দেয়। তাই দিনে তিন চারবার ভালো
ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া দরকার।
পানি দিয়ে মুখ ধোয়ার পর ভেজা ভাব থাকতে
থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান। গরমে শরীরের
অয়েল গ্ল্যান্ড থেকে তেল বেশি নিঃসৃত হয়
বলে
হাত-পায়ের ত্বক তেলতেলে হয়ে যায়। এতে
শরীরে ময়লা আটকায় বেশি। গোসলে ভালো
মানের
সাবান বা শাওয়ার জেল ব্যবহার করুন। মাঝে মাঝে
পার্লারে বা বাড়িতেই ম্যানিকিওর, পেডিকিওর
করুন।
গরমকালের তপ্ত আবহাওয়া ও সূর্যের অতিবেগুনী
রশ্মির কারণে চুলের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়।
চুলের আগা ফাটে, নিষ্প্রাণ হয়ে যায়, এমনকি
চুলের গ্রোথ পর্যন্ত কমে যায়। খুশকির সমস্যা
দেখা দেয় এবং চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা দ্বিগুণ
বেড়ে যায়। তাই চুলে নিয়মিত তেল লাগানো
উচিত।
সপ্তাহে দুই বারের বেশি শ্যাম্পু না করাই ভালো।
চুলের ময়েশ্চার বজায় রাখার জন্য শ্যাম্পু করার
পর ভালো মানের কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
সঠিক পোশাক বাছুন :
গরমকালে সুতি, লিনেনের মতো তাপ সুপরিবাহী
পোশাক পরুন। এতে গরম ভাব কম লাগবে।
পোশাকে হালকা রং বেছে নিন। অতিরিক্ত ফিটিং
জামাকাপড় এড়িয়ে চলুন। অনেকেই বাচ্চাদের
ঠাণ্ডা লাগা থেকে বাঁচানোর জন্য অতিরিক্ত
কাপড় পরিয়ে দেন। এটা করবেন না।
বাচ্চারা যেহেতু এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকে না,
ছুটোছুটি করতে থাকে, ফলে শরীর সহজেই
ঘেমে
যায়, যার থেকে শরীর খারাপ হতে পারে।
ভেবেচিন্তে পোশাক বাছুন যা তাদের জন্য
আরামদায়ক হয়।
খেলাধুলা করুন :
কায়িক শ্রম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বৃদ্ধি
করে। তবে একঘেয়ে ব্যায়াম করতে ভালো না
লাগলে খেলাধুলা করতে পারেন। রোলার স্কেটিং,
সাইকেলিং, সাঁতার গরমকালের জন্য আদর্শ খেলা।
বন্ধুবান্ধবদের খেলায় সামিল করে নিন। এতে
আপনি আরো বেশি উপভোগ করতে পারবেন।