29/01/2026
স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির মাধ্যমে শিশুর ভাষা শেখার যাত্রাঃ
শিশু হঠাৎ করে একদিনে ভাষা ব্যবহার করা শুরু করে না। ভাষা জন্ম নেয় ধীরে ধীরে, শিশুর ভেতরের ছোট্ট জগতে—চোখের দৃষ্টি, অঙ্গভঙ্গি, শব্দ, আর ভাগ করা মুহূর্তগুলোর ভিতরে। স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিতে আমরা ভাষা শেখাকে এক ধরনের যাত্রা হিসেবে দেখি, যেখানে প্রতিটি ধাপ পরের ধাপকে প্রস্তুত করে। কোনো একটি ধাপ যত শক্তভাবে গড়ে ওঠে, পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থাই তত সুন্দরভাবে বিকশিত হয়।
চলুন দেখি—একটি শিশু কীভাবে ধাপে ধাপে ভাষা শিখে, বিশেষ করে থেরাপির সহায়তায়।
যাত্রার শুরু: মনোযোগ দিতে শেখা
শিশু শব্দ বুঝবে, কথা বলবে—তার আগে প্রয়োজন একটাই জিনিস: মনোযোগ। এটি শুধু চোখে চোখ রাখা নয়, এটি সংযোগ তৈরি করার দক্ষতা। থেরাপিতে প্রথমে খুব সাধারণ কিন্তু আনন্দভরা খেলাগুলো দিয়ে শুরু হয় যেমনঃ বল পাসিং, বাবলস নিয়ে বা কোনো মিউজিক্যাল টয় নিয়ে খেলা। এই মুহূর্তগুলোতে শিশু এক অনন্য বিষয় শেখে—যোগাযোগ মানে একসঙ্গে থাকা, অপেক্ষা করা, প্রতিক্রিয়া দেওয়া।
অনেক অভিভাবকই অবাক হন—মনোযোগ কি শেখানো যায়!
কিন্তু সত্য হলো, মনোযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় না; এটি বারবার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গড়ে তোলতে হয়। আর মনোযোগ ছাড়া ভাষার কোনো ধাপই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
পরের ধাপ: ভাষা ও নির্দেশ বুঝতে শেখা
মনোযোগের দক্ষতা তৈরি হওয়ার পর প্রতিটি অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে শিশুরা ধীরে ধীরে ভাষা ও শব্দের অর্থ বোঝতে শেখে। থেরাপিস্টরা সহজ নির্দেশ দিয়ে শুরু করেন যেমনঃ
“আসো”
“দাও”
“নাও”
“বসো”
শিশু হয়তো প্রথমদিকে শুধুই ইশারা দেখে বোঝে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শুধু শব্দ শুনেই প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করে। এই ধাপটিই ভাষার জগতে শিশুর প্রথম বড় জাগরণ—“ওরা আমাকে কিছু বলছে… আর আমি বুঝতে পারছি!”
শব্দ সঞ্চয়: Receptive Vocabulary গড়ে ওঠা
কিছু সহজ নির্দেশ বুঝতে শেখার পর শিশুর মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে আরও অনেক শব্দ চিনতে শুরু করে। এটাকেই আমরা বলি শব্দভাণ্ডার ধারণ—শুনে শব্দ জমা করে রাখা।
এই সময়ে থেরাপিতে সাধারণত শিশুর পরিচিত জগৎকে যুক্ত করা হয়—
• পরিবারের সদস্যদের নাম
• যে খাবার সে পছন্দ করে
• দৈনন্দিন ব্যবহারের খেলনা
• রং, পশুপাখি, পরিচিত জিনিস
শিশুটি হয়তো এসব শব্দ বলতে পারে না, কিন্তু সে শুনছে, বুঝছে, মনে রাখছে। এটি বীজ বপনের মতো—উপর থেকে দেখা যায় না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে শিকড় খুব দ্রুত বাড়ছে।
শব্দ ব্যবহার: নিজের কণ্ঠ খুঁজে পাওয়া
যখন শিশুর শব্দ ভান্ডার বাড়তে থাকে তারা ধীরে ধীরে তার ব্যবহার শিখতে শুরু করে এবং তখনই শুরু হয় ভাষার প্রকাশ। ভাষা প্রকাশের শুরুর দিকে শিশুরা অনুকরণ (Copy) করতে শেখে।যেমনঃ
শব্দের শেষ অংশ বলা
সহজ নাম ডাকা
ছোট বাক্য রিপিট করা
তারপর আসে নিজে নিজে বলা, যেমনঃ
“বল!”
“দাও।”
“আম্মা আসো।”
“আর চাই।”
এই ছোট্ট শব্দগুলোর মধ্যেই একটা বড় পরিবর্তন লুকিয়ে থাকে। শিশু আর শুধু শব্দ বা নির্দেশ গ্রহণ করছে না, সে যোগাযোগে অংশ নিচ্ছে। সে শব্দ দিয়ে নিজের ইচ্ছা, প্রয়োজন, অনুভূতি প্রকাশ করতে শুরু করেছে।
থেরাপিতে এই ধাপটিকে মজবুত করা হয় খেলাধুলা, মডেলিং, বাক্য প্রসারণ এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে। ধীরে ধীরে শব্দ → ছোট বাক্য → দীর্ঘ বাক্যে পরিণত হয়।
ভাষার যাত্রা সরল নয়—এটাই স্বাভাবিক। প্রতিটি শিশুর ভাষা শেখার যাত্রা আলাদা।
কেউ দ্রুত এগোয়, কেউ ধীরে; কেউ একটি ধাপে বেশি সময় নেয়, কেউ আরেক ধাপে। থেরাপির লক্ষ্য কখনোই দ্রুত ফল নয় বরং শিশুর নিজের গতিতে প্রতিটি স্তরকে শক্ত করে গড়ে তুলতে সাহায্য করা।
আপনার শিশুর জন্য অভিজ্ঞ Speech and Language Therapist খোঁজে পেতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে কল করুন:
আজিমপুর শাখাঃ
+8801886-085264
ঠিকানাঃ
১৯, নিউপল্টন, আজিমপুর, ঢাকা-১২০৫।
বাড্ডা শাখাঃ
+8801849-984518, +8801849-974458
ঠিকানাঃ
বাসাঃ ৩৫, রোডঃ ১১, ডি আই টি প্রজেক্ট, মেরুল বাড্ডা, ঢাকা- ১২১২।
ওয়ারী শাখাঃ
+8801804-214421, +8801850-114327
২৮/১ (৪র্থ তলা), শাহ সাহেব লেন, নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা।