29/12/2025
“𝐏𝐢𝐯𝐨𝐭𝐚𝐥 𝐑𝐞𝐬𝐩𝐨𝐧𝐬𝐞 𝐓𝐫𝐞𝐚𝐭𝐦𝐞𝐧𝐭 (𝐏𝐑𝐓): শিশুর ভাষা ও সামাজিক যোগাযোগ বিকাশের একটি কার্যকর পদ্ধতি”
Pivotal Response Treatment (PRT) হল অ্যাপ্লাইড বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিস (ABA) পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে একটি প্রাকৃতিক এবং শিশু-কেন্দ্রিক আচরণগত ইন্টারভেনশন মডেল। এটি অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ এবং অন্যান্য দক্ষতা উন্নত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
PRT-এর মূল লক্ষ্য হলো শিশুর বিকাশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বা 'পাইভোটাল' ক্ষেত্রকে লক্ষ্য করা, যা বিভিন্ন দক্ষতা এবং আচরণের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। এই ক্ষেত্রগুলিতে উন্নতি সাধনের মাধ্যমে PRT একটি "রিপল এফেক্ট" তৈরি করে, যা অন্যান্য সামাজিক, যোগাযোগমূলক এবং আচরণগত ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটায়।
PRT-এর চারটি মূল পাইভোটাল ক্ষেত্র হলো:
1. শিশুর অনুপ্রেরণা (Child Motivation)
2. একাধিক সংকেতের প্রতি সাড়া দেওয়া (Responding to Multiple Cues/Stimuli)
3. নিজে থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা (Child Initiations)
4. আত্ম-নিয়ন্ত্রণ (Self-regulation)
অভিভাবকরা কিভাবে তাদের বাচ্চার সাথে Pivotal Response Treatment (PRT) কাজে লাগাবেন?
পর্যায় ১: পরিকল্পনা (Step 1: Planning)
একটি কার্যকর থেরাপি বা শেখার পরিকল্পনা শুরু হয় সুস্পষ্ট ও অর্থবহ লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে। শিশুর প্রয়োজন, শক্তি, আগ্রহ, এবং পরিবারের মূল্যবোধ ও জীবনযাত্রা বিবেচনা করে লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। এজন্য প্রথমে শিশুর দৈনন্দিন পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং প্রাথমিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিশুর প্রকৃত প্রয়োজন ও দক্ষতার ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করতে হবে।
১. যোগাযোগ ও ভাষা সম্পর্কিত লক্ষ্য নির্ধারণ:
শিশুর যোগাযোগ দক্ষতা মূল্যায়নের জন্য তার ভাষা বা যোগাযোগের নমুনা ব্যবহার করুন। এতে বোঝা যাবে শিশুটি কতবার নিজে থেকে উদ্যোগ নিচ্ছে, কত শতাংশ ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে, কতটা অনুকরণ করার চেষ্টা করছে, এবং তার শব্দভাণ্ডার কতটা বৈচিত্র্যময়। এই তথ্যগুলো শিশুর ভাষা ও যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়।
২. খেলা, সামাজিক মেলামেশা ও অনুকরণ সম্পর্কিত লক্ষ্য নির্ধারণ:
PRT (Pivotal Response Treatment) পদ্ধতিতে খেলার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ ও ভাষা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানে শিশুর চ্যালেঞ্জিং আচরণ, যেমন স্টেরিওটাইপিকাল আচরণ বা রাগ দেখানো, সরাসরি পরিবর্তনের চেষ্টা না করে, বরং তার অনুপ্রেরণা এবং কার্যকরী যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়। যখন শিশুর আগ্রহ ও যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়, তখন তার চ্যালেঞ্জিং আচরণও স্বাভাবিকভাবে কমে আসে।
৩. শিশুর Strength, আগ্রহ এবং পরিবারের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা:
প্রত্যেক শিশুর নিজস্ব Strength ও আগ্রহ আছে, এবং পরিবারের জীবনযাপন ও মানসিকতার সাথে লক্ষ্যগুলির সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো শিশু কোনো নির্দিষ্ট টিভি শো-এর সংলাপ বা গান বলতে পছন্দ করে, তাহলে সেই আগ্রহ থেকেই ভাষা শেখানোর সূচনা করা যেতে পারে। এতে শেখার প্রক্রিয়া শিশুর জন্য আনন্দদায়ক ও স্বাভাবিক হয়।
৪. বেসলাইন ডেটা সংগ্রহ করা:
নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবসম্মত কিনা তা যাচাই করতে শুরুতেই শিশুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করুন। এই বেসলাইন ডেটা পরবর্তীতে হস্তক্ষেপের কার্যকারিতা মূল্যায়নে সাহায্য করবে।
৫. পরিকল্পনা ও উপকরণ প্রস্তুতি:
শিক্ষা বা থেরাপির সুযোগ কখন ও কোথায় হবে তা আগেই পরিকল্পনা করুন এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রস্তুত রাখুন। শিশুর পছন্দের খেলনা, কার্যক্রম, খাবার বা সামাজিক মিথস্ক্রিয়া নিয়ে অনুপ্রেরণার একটি তালিকা তৈরি করুন। শিশুর বিদ্যমান দক্ষতা থেকে শেখানো শুরু করুন এবং দৈনন্দিন রুটিন—যেমন খাওয়া, খেলা বা ঘুমের সময়—শেখার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করুন। উপকরণ ও পরিবেশ এমনভাবে সাজান যাতে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক দুজনেই সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে, এতে শিশুর আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা বাড়ে।
পর্যায় ২: PRT বাস্তবায়ন (Step 2: Implementing PRT)
এই ধাপের মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুর শেখাকে আনন্দদায়ক ও প্রাকৃতিক উপায়ে ঘটানো। এখানে প্রতিটি কার্যক্রম এমনভাবে সাজানো হয় যাতে শিশু আগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করে, নতুন দক্ষতা অর্জন করে এবং তা দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করতে পারে।
১. Target Behavior নির্বাচন:
PRT শুরু করার আগে এমন আচরণ বা দক্ষতা নির্বাচন করুন, যা শিশুর দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এবং তার বিকাশে সহায়ক। Target Behavior নির্ধারণের সময় শিশুর বর্তমান সক্ষমতা, আগ্রহ ও প্রয়োজন বিবেচনা করুন। শেখার অনুপ্রেরণা বজায় রাখতে Target Behavior এর অনুশীলনে কাজ, উপকরণ ও কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আনুন। একই ধরণের পুনরাবৃত্তিমূলক “ড্রিলিং” এড়িয়ে সহজ (পূর্বে শেখা) ও তুলনামূলক কঠিন (নতুন) আচরণ একসাথে অন্তর্ভুক্ত করুন, যাতে শিশু সাফল্যের অভিজ্ঞতা পায় এবং নতুন দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী হয়।
২. Learning Activity নির্বাচন:
শিশুর আগ্রহ ও নেতৃত্ব অনুসরণ করুন এবং তাকে পছন্দের খেলনা বা কার্যক্রম বেছে নিতে দিন। এতে শেখার প্রতি তার অংশগ্রহণ ও আগ্রহ বাড়ে। দৈনন্দিন কাজ—যেমন খেলার সময়, খাবারের সময় বা পোশাক পরার সময়—শেখার স্বাভাবিক সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করুন।
৩. অনুপ্রেরণা তৈরি করুন:
শিশুর আগ্রহ জাগিয়ে তুলুন এবং পালাক্রমে খেলুন। প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো “দৃষ্টিগোচর কিন্তু নাগালের বাইরে” রাখুন, যাতে শিশু যোগাযোগ করতে আগ্রহী হয়। কখনও রুটিন সামান্য ব্যাহত করুন—যেমন, শিশুর প্রত্যাশিত কাজ মাঝপথে থামিয়ে দিন, যাতে সে যোগাযোগের মাধ্যমে তা পুনরায় শুরু করতে শেখে।
৪. শিশুর মনোযোগ আকর্ষণ:
শিক্ষণ শুরু করার আগে শিশুর মনোযোগ নিশ্চিত করুন। তার নাম ডাকা, চোখে চোখ রাখা বা কাঁধে আলতো স্পর্শ করা মনোযোগের জন্য কার্যকর পদ্ধতি।
৫. পরিষ্কার ও প্রাকৃতিক নির্দেশ দিন:
শিশুকে শেখানোর সময় সহজ, প্রাকৃতিক ও বৈচিত্র্যময় সংকেত ব্যবহার করুন। যেমন, শিশুর সামনে সঠিক মডেল দেখানো, দুটি বিকল্পের মধ্যে বেছে নিতে দেওয়া, “তুমি কী চাও?”-এর মতো প্রশ্ন করা, বা উত্তর দেওয়ার জন্য কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করা।
৬. শিশুর প্রচেষ্টা প্রশংসা করুন:
শুধু সঠিক উত্তর নয়, প্রচেষ্টাকেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রশংসা করুন। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং শেখার প্রতি আগ্রহ স্থায়ী হয়।
৭. Reinforcement ব্যবহার করুন:
শিশুর আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত পুরস্কার দিন। যেমন, যদি শিশু “বাবল” বলে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে বাবল খেলতে দিন।
পর্যায় ৩: অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ (Step 3: Monitoring Progress)
PRT (Pivotal Response Treatment) কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কিনা তা বুঝতে হলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধাপে শিশুর শেখার অগ্রগতি, যোগাযোগের উন্নতি এবং আচরণগত পরিবর্তন পরিমাপ করা হয়।
১. কার্যকারিতা নির্ধারণ:
প্রথমে বেসলাইন ডেটা (শুরুর অবস্থা) এবং Intervention পর সংগৃহীত ডেটা তুলনা করুন। এতে বোঝা যাবে, শিশুর আচরণ বা দক্ষতায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে কিনা এবং Intervention টি কার্যকর হয়েছে কিনা।
২. PRT পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ বিবেচনা:
PRT-এর অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি। এজন্য শিশুর প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা, সঠিক প্রতিক্রিয়ার হার, কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকার সময় এবং প্রতিক্রিয়া দিতে দেরির মতো বিভিন্ন ধরণের ডেটা বিবেচনায় নিন। পর্যবেক্ষণ কেবল থেরাপি সেশনে সীমাবদ্ধ না রেখে শিশুর স্বাভাবিক পরিবেশ—যেমন বাসা বা খেলার সময়—করুন, যাতে বাস্তব জীবনে দক্ষতার প্রয়োগ বোঝা যায়। একই সঙ্গে শিশুর অনুপ্রেরণা, নিজে থেকে উদ্যোগ নেওয়া ও স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের মাত্রা লক্ষ্য করুন। এছাড়া একটি সহজ চেকলিস্ট ব্যবহার করে নিশ্চিত করুন যে PRT ধাপগুলো উদ্দেশ্য অনুযায়ী সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আপনার শিশুর ভাষা, সামাজিক যোগাযোগ ও অন্যান্য দক্ষতা বিকাশে প্রয়োজনীয় থেরাপি পেতে যোগাযোগ করুন Speech Aid Bangladesh এর সাথে।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে কল করুন:
আজিমপুর শাখাঃ
+8801886-085264
ঠিকানাঃ
১৯, নিউপল্টন, আজিমপুর, ঢাকা-১২০৫।
বাড্ডা শাখাঃ
+8801849-984518, +8801849-974458
ঠিকানাঃ
বাসাঃ ৩৫, রোডঃ ১১, ডি আই টি প্রজেক্ট, মেরুল বাড্ডা, ঢাকা- ১২১২।
ওয়ারী শাখাঃ
+8801804-214421, +8801850-114327
২৮/১ (৪র্থ তলা), শাহ সাহেব লেন, নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা।