05/12/2025
স্বপ্নের প্রকারভেদ ও ধরণ.......প্রাথমিক আলোচনা
শক্তির নিত্যতার সূত্রের সাথে স্বপ্নের কিছু মিল আছে। শক্তির শুরু নেই কিন্তু স্বপ্নের শুরু আছে। সাধারণত, কেউ একজন, তারপর হয়তো কয়েকজনের একটি দল, কখনো একটি জাতি, খুব বিরল কিন্তু এটাও সম্ভব যে পুরো পৃথিবী একটি স্বপ্নে একাত্ম হতে পারে। পুরো পৃথিবী মানে পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষ এমনটা নয়। এটা রূপক অর্থে। রেডক্রশ/ রেড-ক্রিসেন্ট, ওলিম্পিক, ফুটবল বিশ্বকাপ, রক্তদান আন্দোলন, বর্ণবাদ এর বিরুদ্ধতা-এগুলো কি বিশাল-সারা পৃথিবীকে একাত্ম করা স্বপ্ন নয়?
তবে শক্তির মতো স্বপ্ন কখনো শেষ হয়ে না। তবে রূপান্তর ঘটে। পরিবর্তন ঘটে। কখনও স্বপ্নের শুরুর রূপের সাথে অনেক পরের রূপ হয়তো এক হয় না। এবং না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, পরবর্তী রূপ যা-ই হোক না কেন-শুরু কিন্তু একজনকে করতে হয়েছিল। মাইক্রোসফট? এ্যাপল? ব্র্যাক?
কখনো কখনো স্বপ্ন হাতছাড়া হয়ে যায়। কেউ ছিনিয়ে নেয় স্বপ্ন। ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করে। Bangladesh? আবার কখনো কখনো ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার মধ্য দিয়ে অনাকাঙ্খিত রূপান্তর ঘটে বা মূল চেতনার সাথে আপোষ করতে হয় টিকে থাকার স্বার্থে । সিআরপি? কখনো একটি স্বপ্ন হাতছাড়া হয়ে জন্ম দেয় অনেকগুলো নতুন স্বপ্নের-পিক্সার, নেক্সট (স্টিভ জবস)?
তবে, সব স্বপ্ন যে, চিরকাল টিকে থাকে এমনটাও নয়। ধ্বংস হয় না ঠিক ই। কিন্তু, এমন একটা অবস্থা দাঁড়ায় যে, সেটা আর ঠিক গঠনমূলক থাকে না বা আদি রূপে প্রয়োগযোগ্য থাকে না। সাম্যবাদ, সমাজতন্ত্র, কমিউনিজম-এগুলো কি সেই ধরণের স্বপ্নে উদাহরণ?
কখনো কখনো স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনেক অনেক মূল্য দিতে হয়। জীবন দিতে হয় ৩০লক্ষ মানুষ কে (৩০ লক্ষ সংখ্যা নিয়ে তেনা পেচালে নিজেকে অতি অবশ্যই একটি নিকৃষ্ট প্রজাতির বেজন্মা হিসেবে প্রমাণিত করবেন)। বাংলাদেশ?
কখনো কখনো স্বার্থপর, ভ্রান্ত স্বপ্ন ঠেলে দেয় মানুষকে উগ্র মৌলবাদ এবং ধর্মান্ধতায় যা সমস্ত পৃথিবীকে এক অকল্পনীয় ভয়ঙ্কর পরিণামের দিকে। হিটলার? আই এস? আল-কায়েদা?
স্বপ্ন বাস্তবায়নে-অন্ততঃ দৃশ্যমান হওয়ার জন্য, কতটুকু সময় প্রয়োজন? কখনো কখনো হয়তো তুলনামূলক কম সময়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা সময়, কখনো কখনো অনেক অনেক দিন। ফিলিস্তিন?
তবে, স্বপ্নের জন্ম প্রক্রিয়াবা বা ষ্ট্রাগল পিরিয়ডটা খুব কষ্টকর। খুব যন্ত্রণার। খুব ভয়াবহ। অনেক মানুষ আছেন, যারা একটা সময় পর হাল ছেড়ে দেন-সত্যিকারের হতভাগা তারা। হয়তো খুব কাছাকাছি এসে। আমাদের চারপাশে অসংখ্য উদাহরণ।
তেলাপোকা আর কচ্ছব্ মানুষের বা স্বপ্নের সাথে তুলনীয় নয়। কিন্তু যদি স্বপ্নকে স্থায়ীত্ব দিতে চাই-আমরা তেলাপোকার টিকে থাকার কৌশল থেকে কিছু শিখতে পারি। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যায় ছড়িয়ে দেয়া? বিরূপ পরিস্থিতিতে অনেক কষ্ট করে টিকে থাকা? নীতিবান ধর্মপ্রচারকারী (অবশ্যই ধর্ম ব্যবসায়ীরা না) এবং মানবতাবাদীরা?
যদি কোন কিছু আকঁড়ে ধরা শিখতে চাই-কচ্ছবের মতো স্বপ্ন কে আকঁড়ে ধরতে পারি-যাতে মৃত্যু ছাড়া আর কিছু স্বপ্ন থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন না করতে পারে। হুমায়ূন আহমেদ- ক্যান্সার হসপিটাল?
সত্যি কথা বলতে কি, স্বপ্নের শুরু আছে; শেষ নেই! আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে স্বপ্নের শেষ থাকতে নেই।
যখন কেউ কখনো কোন স্বপ্নের শেষ দেখে ফেলে, সে স্বাপ্নিক হিসেবে মৃত্যু বরণ করে।
স্বীকারোক্তি- এই লেখাটা যেভাবে লিখেছি ঠিক সেভাবে লিখতে চাইনি, কিন্তু এমনটা হয়ে গেছে। আমার ধারণা খুব খারাপ কিছু হয় নি। তাই পোস্ট করলাম। আপনাদের সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করছি।
পরবর্তীতে এই বিষয়ে আরেকটু গুছিয়ে, আরেকটু অনুপ্রেরণা দায়ক কিছু লেখার আশা রাখি। ইনশা-আল্লাহ।