07/08/2022
তুরস্ক ভ্রমণের আগে যা জেনে নিতে পারেন
পার্ট -১
বিশ্বে পর্যটনে বরাবরই সবার পছন্দের শীর্ষে তুরস্ক। যেখানে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি একসঙ্গে মিশে আছে। প্রকৃতি যেন পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র, হ্রদ, জলপ্রপাত, নদীতে তার সবটুকু সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে। ফলে দেশটিতে বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় চমৎকার এবং বহুমাত্রিকও বটে। উভয় দেশই পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করছে। দুই দেশে খুব সহজেই মিলছে ভ্রমণ ভিসা। সীমিত বাজেটে তুরস্ক ঘুরে আসতে পারেন আপনিও। এজন্য দরকার একটি ট্যুর পরিকল্পনা।
অনেকেই তুরস্ক ভ্রমণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। বিশেষ করে তুরস্কের ভিসার আবেদন, ভ্রমণের উপযুক্ত সময়, বিমান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট বা বাঙালি খাবার (ভাত-মাছ) এবং দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে সবার জানার আগ্রহ বেশি।
ভিসা
তুরস্ক মূলত একটি পর্বতবেষ্টিত উচ্চ মালভূমি। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার আনাতোলিয়া উপদ্বীপের সম্পূর্ণ অংশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত দেশটি। ফলে ভৌগোলিকভাবে দেশটি একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
দেশটিতে ভ্রমণে প্রথম কাজ ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করা। রাজধানীর বনানী ১১, নম্বর রোডে তুরস্ক ভিসা সেন্টারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে। এজন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ আবেদন ফি দিতে হবে। ভিসা পেতে গড়ে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। তবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক এবং অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের তুরস্কে ভ্রমণের জন্য কোনো ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা ৯০ দিনের অন অ্যারাইভাল ভিসা বিমানবন্দর থেকেই পাবেন।
ভ্রমণের সময় নির্ধারণ
সাধারণত ভ্রমণ ভিসায় তিন মাস পর্যন্ত সময় থাকে। এ সময়ের মধ্যে ঘোরাঘুরির জন্য উত্তম সময়টি বের করতে হবে। যেমন- ২৪ ফেব্রুয়ারি তুরস্কে প্রচণ্ড তুষারপাত হয়েছে। ওই সময় তাপমাত্রা মাইনাস ৬ ডিগ্রি পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। এতে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালের ছাদ ধসে পড়ে। তখন দুদিন বিমান ওঠানামা বন্ধ ছিল। এভাবে পুরো তুরস্ক বরফে ঢেকে গিয়েছিল। এ কয়েকদিন লোকজন ছিল ঘরবন্দি।
আবার ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় যখন ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে নামি তখন তাপমাত্রা ছিল ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই তাপমাত্রা ২ ডিগ্রিতে চলে যায়। পরদিন সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল শূন্য ডিগ্রিতে। বাইরে কনকনে ঠান্ডা বাতাস। ফলে সকাল ৮টা পর্যন্ত বাইরে লোকজন তেমন দেখা যায়নি।
১৯ ডিসেম্বর তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় তাপমাত্রা ছিল আরও ভয়াবহ। ওই দিন সকালে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৪ ডিগ্রি। সন্ধ্যা ৬টায় পাহাড়ি উঁচুনিচু সড়কে শুরু হয় তুষারপাত। টানা তিন ঘণ্টার তুষারপাতে পাহাড়ের গাছপালা সাদা আবরণে ঢেকে যায়। সড়কে যান চলাচলেও সমস্যা হয়।
আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা আবুল বাসার জাগো নিউজকে বলেন, বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তুরস্ক ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময়। এই সময় তুরস্কে শীত কম থাকে। ঘোরাঘুরি করে আনন্দ বেশি হয়। কিন্তু অন্যান্য মাসে শীত অনেক বেশি থাকে। মোটা জামাকাপড় পরেও শীত নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। তবে পর্যটকদের অনেকেই তুষারপাতে ঘুরতে পছন্দ করেন। তাদের জন্য জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি উত্তম।
বিমান ভাড়া ও যাতায়াত
বর্তমানে ঢাকা থেকে সপ্তাহে ১২টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে টার্কিশ এয়ার। এর বাইরে কাতার, এমিরেটস, কুয়েত এয়ারে (কাতার ও কুয়েত ট্রানজিট) ইস্তাম্বুল ভ্রমণ করা যায়। সবক্ষেত্রে বিমান ভাড়া প্রায় সমান। তবে যাদের সঙ্গে শিশু থাকবে তারা শিশুদের টিকিটের বিষয়টি যাচাই করে নিলে ভালো। সাধারণভাবে যেকোনো এয়ারলাইন্স দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নামমাত্র টিকিট চার্জ করে, যার পরিমাণ এডাল্ট টিকিটের ১০ ভাগের একভাগ। শিশুর বয়স দুই বছরের বেশি এবং ১২ বছরের কম হলে তাদের জন্য শতকরা ৭৫ ভাগ।
এখন ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে ইস্তাম্বুল যাওয়া যাচ্ছে। যারা জরুরি যেতে চান তাদের ভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে।
হোটেল
ভ্রমণে বের হওয়ার আগেই অর্থাৎ ভিসা আবেদন করার আগে হোটেল বুকিং দিতে হয়। অনেকে আবার সেই বুকিং বাতিল করে তুরস্কে গিয়ে হোটেল ভাড়া করেন। হোটেলের ধরন এবং অবস্থান অনুযায়ী ভাড়া কম বেশি হয়। তবে যে পর্যটন কেন্দ্রে যাবেন, তার আশপাশে হোটেল নিলে ভালো হয়।
বিশেষ করে আয়া সোফিয়ার আশপাশে হোটেল নিলে হেঁটেই ইস্তাম্বুলের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন। আয়া সোফিয়া ও ব্লু মস্কে নামাজ পড়তে পারবেন। হেঁটেই গ্র্যান্ড বাজারে কেনাকাটা করা সহজ হবে।
তুরস্কের মুদ্রার নাম টার্কিশ লিরা। এখন আমেরিকান ডলারের সঙ্গে লিরার এক্সচেঞ্জ রেট প্রায় ১৪ লিরা। সাধারণত টু স্টার বা এর চেয়ে ভালোমানের হোটেলগুলোতে রুম ভাড়ার সঙ্গে সকালের নাস্তা থাকে। রুমে চা-কফি এবং মিনারেল ওয়াটারও থাকে।
Collected...