19/02/2024
#সাদাস্রাব এ ব্যবহৃত কিছু মেডিসিন এর লক্ষণভিত্তিক বিশ্লেষণ ও সাদা স্রাব রোধে পরামর্শঃ
#পালসেটিলা :
গলা শুকিয়ে থাকে কিন্তু কোন পানি পিপাসা থাকে না, ঠান্ডা বাতাস-ঠান্ডা খাবার-ঠান্ডা পানি পছন্দ করে, গরম-আলো-বাতাসহীন বদ্ধ ঘরে রোগীনী বিরক্ত বোধ করে, আবেগ প্রবন, অল্পতেই কেঁদে ফেলে এবং যত দিন যায় ততই মোটা হতে থাকে ইত্যাদি লক্ষণ সমষ্টিসহ সাদা স্রাবের রোগিনীর জন্য পালসেটিলা ভালো কাজ করে।
#সিপিয়া:
যে রমনীর নিজ পেশা পরিবারের লোকজনদের প্রতি উদাসীনতা, রোগের গতি শরীরের নীচে থেকে উপরের দিকে, রোগী সবর্দা শীতে কাঁপতে থাকে, পেটের ভিতরে চাকার মতো কিছু একটা নড়াচড়া করছে মনে হওয়া, পাইলস, পায়খানার রাস্তা বা জরায়ু ঝুলে পড়া (prolapse), খাওয়া-দাওয়া ভালো লাগে না, পায়খানার রাস্তা ভারী মনে হয়, মুখের মেছতা , ঘনঘন গর্ভপাত (abortion), যৌনাঙ্গে এবং পায়খানার রাস্তায় ভীষণ চুলকানি, দীর্ঘদিনের পুরনো সর্দি, অল্পতেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে, দুধ হজম করতে পারে না, স্বভাবে কৃপন-লোভী, একলা থাকতে ভয় পায়, এই লক্ষণ সমষ্টি রমনীদের জন্য সাদা স্রাবের সমাধান সহ সকল রোগ দুর হবে।
#আর্সেনিক_এলবাম:
অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত প্রদর স্রাব। স্রাবের পরিমান অধিক।যোনিদ্বার হাজিয়া যায়। জ্বালা করে । সেই জ্বালা গরম পানিতে আরাম বোধ। রোগী অস্হির দুর্বল ও আত্মহত্যার ইচ্ছা ইত্যাদি লক্ষণ বিদ্যমান তাদের জন্য আর্সেনিক এলবম উপকারী।
#অশ্বগন্ধা:
শরীর ও মানসিক দুর্বলতা,কোন কাজে মন বসেনা, উদাসীন ভাব। বসা হইতে দাঁড়াইলে মাথা ঘুরে, দর্বলতার জন্য চোখে অন্ধকার দেখে। স্মৃতি শক্তির অভাব। কোন কথা মনে বাখতে পারে না। এই ধাতুর রমনীদের সাদা স্রাবের ইহা উৎকৃষ্ট ঔষধ।
#আর্সেনিক_আইয়োড:
যে রমনীদের প্রদর স্রাব সাদা বা হলুদ যে কোন বর্ণের হোক যেখানে লাগে সেখানেই হাজিয়া যায়, জ্বলে সেই ক্ষেত্রে ঔ রমনীর জন্য আর্সেনিক আইয়োড প্রয়োজন।
#ক্যালকেরিয়া_কার্ব :
মোটা থলথলে শারীরিক গঠন, পা সব সময় ঠান্ডা থাকে, শিশুকালে দাঁত উঠতে বা হাঁটা শিখতে দেরী হয় থাকে, শরীরের চাইতে পেট বেশী মোটা,খুব সহজে মোটা হয়ে যায়, প্রস্রাব পায়খানা ঘাম সব কিছু থেকে টক গন্ধ আসে,হাতের তালু মেয়েদের হাতের মতো নরম (মনে হবে হাতে কোন হাড়ই নেই), মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যায়, মুখমন্ডল ফোলাফোলা, সিদ্ধ ডিম খেতে খুব পছন্দ করে ইত্যাদি লক্ষণ যে সাদা স্রাবের রোগীর থাকলে ক্যালকেরিয়া কার্ব হবে তার সবচেয়ে উত্তম ঔষধ।
#আইয়োডিয়াম :
প্রচুর খায় কিন্তু তারপরও দিনদিন শুকিয়ে যেতে থাকে, গরম সহ্য করতে পারে না,ক্ষুধা খুব বেশী, দ্রুত হাঁটার অভ্যাস, দৌড়াতে ইচ্ছা হয়, লালাগ্রন্থি ও প্যানক্রিয়াসের রোগ, যে-সব রোগ অমাবশ্যা পূর্ণমায় বৃদ্ধি পায় ইত্যাদি লক্ষণ যে সাদা স্রাবের রোগীর থাকলে আয়োডিয়াম উপযোগী।
#সালফার:
গোসল করা অপছন্দ করে,গরম লাগে বেশী, শরীরে চুলকানী বেশী, সকাল ১১টার দিকে ভীষণ খিদে পাওয়া, পায়ের তালু-মাথার তালুতে জ্বালাপোড়া, মাথা গরম কিন্তু পা ঠান্ডা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে কোন খেয়াল নাই, ইত্যাদি লক্ষণ যে সাদা স্রাবের রোগীর থাকলে রোগীকে সালফার প্রয়োগ করলে সাদা স্রাব ভালো হবে।
#মার্ক_সল:
মার্ক সল ঔষধটির প্রধান প্রধান লক্ষণ হলো প্রচুর ঘাম হয় কিন্তু রোগী আরাম পায় না, ঘামে দুর্গন্ধ বা মিষ্টি গন্ধ থাকে,কথার বিরোধীতা সহ্য করতে পারে না, ঘুমের মধ্যে মুখ থেকে লালা ঝরে, পায়খানা করার সময় কোথানি, পায়খানা করেও মনে হয় আরো রয়ে গেছে, অধিকাংশ রোগ রাতের বেলা বেড়ে যায়, রোগী ঠান্ডা পানির জন্য পাগল, ঘামের কারণে কাপড়ে হলুদ দাগ পড়ে যায় ইত্যাদি। উপরের লক্ষণ গুলো থাকলে সাদাস্রাবেও মার্ক সল প্রয়োগ করতে পারেন।
#চায়না :
অত্যধিক সাদাস্রাবের কারণে দুর্বলতা দেখা দিলে চায়না খাওয়াতে হবে। চায়নার প্রধান প্রধান লক্ষণ হলো মাথা ভারী ভারী লাগে, চোখের পাওয়ার কমে যায়, অল্পতেই বেহুঁশ হয়ে পড়া, কানের ভেতরে ভো ভো শব্দ হওয়া, মেজাজভীষণ খিটখিটে, আলো-গোলমাল-গন্ধ সহ্য করতে পারে না,হজমশক্তি কমে যাওয়া, পেটে প্রচুর গ্যাস হওয়া ইত্যাদি লক্ষন যে সাদা স্রাবের রোগীর পাওয়া যাবে তার জন্য চায়না উপযোগী।
#এলুমিনা:
গোসল করে আসার সময় স্রাব ভাঙ্গে ডিমের সাদা অংসের মত স্রাব তৎসহ পায়খানা কঠিন এমন রোগীর সাদা স্রাব পীড়ার হোমিওপ্যাথিক ঔষধ এলুমিনা।
#এগনাসটাস_ক্যাকটাস:
যে সকল নারীদের স্বামী সহবাসে ইচ্ছা হয় না বা ভাল লাগে না তাদের যাদুকরি ঔষধ এগনাসটাস ক্যাকটাস।সাদা স্রাব যদি হলুদ হয় এবং অত্যন্ত দুর্বল হয় তবে এই ঔষধ উপযোগী।
#বোরাক্স:
যদি সাদা স্রাব ভাঙ্গার সহিত যোনীতে খুব চুলকানি থাকে তাহলে বোরাক্স উপযোগী তবে যে সকল নারীরা সহজে কাঁদে, মনটা নরম তাদের তলপেটের যাবতীয় পীড়ার মহৌষধ হল পালসেটিলা। যে রমনীর মাথার চুলে জটা বাধে সাদা স্রাবের পরিমান অনেক পা বেয়ে পড়ে, গরম সহ্য হয়না ,সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে অক্ষম সেই রমনীর সাদা স্রাবের চিকিৎসায় অব্যার্থ মহা ঔষধ।
#নেট্রাম_মিউর:
আর যে সব নারীরা সান্তনা দিলে আরো রেগে যায়,এবং কাচা লবন ভাতের সহিত সেবন করে তাদের জন্য নেট্রাম মিউর, যে রমনী স্বামীসহবাসে অনিচ্ছা, গরমকাতর, মাসিক কম সেই রমনীর জন্য নেট্রাম মিউর উপযোগী।
❇️সাদা স্রাব রোধে পরামর্শঃ
১। সহবাসের পর যেসব মহিলাদের লালচে বা গোলাপি স্রাব হয়, তাহাদের খুব শীগ্রি ডাক্তারের নিকট যাওয়া উচিৎ। এমনকি যদি দু’টি পিরিয়ডের মাঝখনে পিংক ডিসচার্জ হয় তাহলেও ডাক্তার দেখাতে হবে। যদি পিরিয়ডের মাঝামাঝি সময়ে পানির মত পাতলা স্রাব হয়, তাহলে ভয়ের কিছু নাই।
২। এই রোগের চিকিৎসা (বিবাহিত হলে) স্বামী স্ত্রী দু’জনকে একসাথে করতে হবে। কেননা স্বামীর নিকট থেকে প্রবত্তীতে আবার স্ত্রী ইনফেকশন হতে পারে।
৩। সংক্রমণ এড়াইতে হইলে একটাই উপায়- তা হল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
৪। মাসিক বা ঋতুচক্রে পরিষ্কার জীবানুমুক্ত (ডেটল বা সেবলন) দিয়ে কিংবা ভালভাবে সাবান দিয়ে পেন্টি বা কাপড় জীবানুমুক্ত করে তা ব্যবহার করতে হবে।
৬। প্রদর বা সাদাস্রাব যাওয়া অবস্থায় কোন প্রকার মিলন বা সহবাস করা যাবেনা।
৭। পুষ্টিকর বা বল বৃদ্ধিকারক খাবার খাইতে হইবে।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিশেষ করে নিরাপদ পানি ব্যবহার, মাসিকের সময় পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত কাপড় বা প্যাড ব্যবহার করা, প্রতি ৬ ঘণ্টা পর পর অবশ্যই তা পরিবর্তন ও জীবাণুমক্ত করা। মাসিকের পর ব্যবহার্য কাপড় পুনরায় ব্যবহার না করা ভালো তবে করতে হলে তা গরম পানিতে জীবাণুমুক্ত করে ভালো করে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
[বিঃদ্রঃচিকিৎসা ও পরামর্শ পেতে যোগাযোগ করুন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন]। ধন্যবাদ।
=====================================
#আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে জানতে এস এম এস করুন আমাদের পেইজে এবং নতুন নতুন পোস্ট পেতে লাইক দিয়ে পেইজে একটিভ থাকুন।
#পোস্ট টি নিজের কাছে রাখতে ও অন্যদের জানাতে শেয়ার করেন।