24/01/2021
বয়ঃসন্ধিকালীন মানসিক চাপকে অবহেলা নয়
এরফলে অনেক সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত কিছু। বিষয়টি নিয়ে তাই খুব সচেতন থাকা উচিৎ অভিভাবকদের
টিনএজ বা বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক চাপ পরবর্তীকালে খুব বড় সমস্যায় ফেলতে পারে। এই বয়সে স্ট্রেসের অনেক কারণ থাকতে পারে, যাকে “ট্রিগার ফ্যাক্টর” বলা হয়। মূলত মানসিক চাপ থেকেই স্ট্রেসের জন্ম। তাই সন্তানের মনে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, এমন যেকোনও ঘটনাই তার স্ট্রেসের কারণ হতে পারে। এরফলে অনেক সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত কিছু। বিষয়টি নিয়ে তাই খুব সচেতন থাকা উচিৎ অভিভাবকদের। মাথায় রাখুন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়।
১. এই বয়সে স্ট্রেসের অন্যতম প্রধান কারণ পড়াশোনার চাপ। একদিকে সিলেবাসের বোঝা সামলাতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা, অন্যদিকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভাবনা। তার ওপর পড়াশোনা নিয়ে বাবা-মায়েদের ক্রমাগত শাষণও এই বয়সে স্ট্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সাফল্যের দৌড়ে সকলকে টেক্কা দেওয়ার প্রচেষ্টায় ধীরেধীরে তারা হাঁপিয়ে উঠতে শুরু করে। দীর্ঘস্থায়ী এই মানসিক চাপ একসময়ে আকার নেয় ক্রনিক স্ট্রেসের।
২. আবেগ, অনুভূতিও এই বয়সের অন্যতম বিশেষত্ব। প্রেম, ভালবাসার অনুভূতিগুলো আরও স্পষ্ট হতে শুরু করে। বন্ধুত্বের সীমা পেরিয়ে কাউকে ভাললাগা, কারও প্রতি দুর্বলতা তৈরি হওয়াও খুবই স্বাভাবিক। তবে সম্পর্ক থেকে অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং সেই সংক্রান্ত কোনও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হলে, তা সামলে ওঠার মতো মানসিক দৃঢ়তা এই বয়সে বেশিরভাগেরই থাকে না। পাশাপাশি মনের কথা বলার মতো কোনও মানুষও তারা পায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তা স্ট্রেসের জন্ম দেয়।
৩. বাবা-মা তথা পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেও দেখা দিতে পারে স্ট্রেস। বাড়িতে বাবা-মায়ের মধ্যে অহরহ ঝগড়া, চিৎকার কিংবা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স বাচ্চাদের মনে চাপ সৃষ্টি করে। আজকাল যেহেতু বেশিরভাগ অভিভাবকই বাইরে কর্মরত, তাই বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটানো বা তাদের সময় দেওয়াও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। ফলে সন্তানদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে। “আমাকে কেউ ভালবাসে না”, বা “আমার জন্য কারও হাতে সময় নেই” এই ধরনের ভাবনা খুব সহজেই তাদের মনে আসতে শুরু করে। সন্তান ভুগতে শুরু করে একাকিত্বে। তবে শুধু বাবা-মাই নয়, বাড়ির বাকি সদস্যদের মধ্যে জটিলতা বা কথা কাটাকাটিও সন্তানদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে।
৪. বাবা-মায়েদের অতিরিক্ত শাসন বা গায়ে হাত তোলার প্রবণতাও এই বয়সে উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে। সবসময় ওর সব গতিবিধির ওপর নজরদারি করলে, তা এই বয়সে ওর ভাল না লাগারই কথা। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে নিজের মতো করে সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া, সর্বোপরি বয়সোচিত অভ্যেসগুলো থেকে বাচ্চাদের আটকালে, প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক হওয়াও কিন্তু খুব স্বাভাবিক।
৫. “সিবলিং রাইভালরি”ও হতে পারে এই বয়সে স্ট্রেসের কারণ। কোনও এক সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের পক্ষপাতিত্ব অপর সন্তানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ছোটভাই বা বোন বলে তারজন্য নিয়মিত উপহার কিনে আনা কিংবা তার ছোটখাটো অপরাধ অবলীলায় ক্ষমা করে দেওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাও হিংসা, ও রাগের জন্ম দিতে পারে। এক্ষেত্রে ভাই বা বোনের প্রতি ক্ষোভের পাশাপাশি মানসিক চাপও সৃষ্টি হয়, যা ধীরেধীরে ডেকে আনে স্ট্রেস।
৬. সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ থেকেও এই বয়সী সন্তানের মনে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। অপরিচিত ব্যক্তিদের তুলনায় নিকটাত্মীয় বা বাবা-মায়ের ঘনিষ্ঠ কোনও বন্ধুর থেকেই এই ধরনের অভব্য আচরণের ঘটনা বেশি শোনা যায়। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বাড়ির কেউ সে কথা জানেন না। বা হয়তো বাচ্চা তার বাবা-মাকে এই ধরনের কথা জানাতেই ভয় পাচ্ছে। বয়স একটু কম হলে, সেক্ষেত্রে অনেক বাচ্চার কাছে “সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ” সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণাই থাকে না। সবমিলিয়ে দীর্ঘদিন এই ধরনের মানসিক চাপ জমে থাকার ফলেও স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি বা ডিপ্রেশন ডেকে আনতে পারে।
৭. বাড়িতে কারও অসুখ বা শারীরিক সমস্যা কিংবা চলমান আর্থিক সমস্যা ইত্যাদিও বয়ঃসন্ধিকালীন সন্তানদের মনে স্ট্রেস তৈরি করতে পারে। বাড়িতে এই সংক্রান্ত আলোচনা, বাবা-মায়ের উদ্বেগ ভীষণভাবে তাদের মনে সংক্রামিত হয়ে মানসিক চাপের জন্ম হতে পারে