02/02/2026
ডায়াবেটিস রোগীর জীবনে হঠাৎ জরুরি অবস্থা আসতে পারে। যখন রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যায় বা খুব বেশি বেড়ে যায়। অনেক সময় রোগী নিজেও বুঝে উঠতে পারেন না কী হচ্ছে, আশেপাশের মানুষও দ্বিধায় পড়ে যায়। এই অবস্থায় সঠিক সিদ্ধান্তটাই জীবন বাঁচাতে পারে।
🔹 হাইপোগ্লাইসেমিয়া
এ অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। এর পেছনে দায়ী থাকতে পারে খাবার না খেয়ে ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ নেওয়া, বেশি ডোজ ইনসুলিন নেওয়া, অতিরিক্ত ব্যায়াম করা, বমি বা ডায়রিয়া, অ্যালকোহল গ্রহণ। এ পরিস্থিতিতে রোগীর বুক ধড়ফড় করা, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হঠাৎ ঘাম, কাঁপুনির
মতো লক্ষন দেখা দিতে পারে।
🔹 হাইপারগ্লাইসেমিয়া
এ অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়। এর পেছনে দায়ী থাকতে পারে ইনসুলিন বা ওষুধ মিস করা, জ্বর, ইনফেকশন, অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট খাবার, মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস। এ পরিস্থিতিতে রোগী অতিরিক্ত তৃষ্ণা
অনুভব করেন, ঘন ঘন প্রস্রাব হয়, মুখ শুকিয়ে যায়, চোখে ঝাপসা দেখে, ক্লান্তি লাগে, মাথাব্যথা থাকে।
🔹 ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস
এটি ডায়াবেটিসের সবচেয়ে জরুরি অবস্থা। শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি হলে শরীর শক্তির জন্য চর্বি ভাঙে এতে তৈরি হয় কিটোন। এ সময়ে রক্ত অ্যাসিডিক হয়ে যায়। এ অবস্থায় রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, রক্তে খুব বেশি শর্করা বেড়ে যায়, নিঃশ্বাসে গন্ধ আসে, বমি-পেটব্যথা থাকে, শরীর খুব দুর্বল হয়ে পরে, এমন কি রোগী অচেতন হয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ঘরে বসে কোনো চিকিৎসা করবেন না, যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যান।
ডাঃ মোঃ আবদুল্লাহ ইউসুফ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইউএসএ