03/02/2026
অজির্ণতা (Indigestion / Dyspepsia) খুব সাধারণ একটি সমস্যা। খাবার ঠিকভাবে হজম না হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। নিচে কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সাধারণ চিকিৎসা ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিস্তারিতভাবে সহজ ভাষায় তুলে ধরছি।
🌿 অজির্ণতা কী?
অজির্ণতা হলো এমন অবস্থা যখন পাকস্থলী খাবার সঠিকভাবে হজম করতে পারে না। এতে পেট ভার লাগা, গ্যাস, ঢেঁকুর, জ্বালা ইত্যাদি সমস্যা হয়।
🔎 অজির্ণতার কারণ :-
👉 খাদ্যজনিত কারণ;
অতিরিক্ত খাওয়া
খুব তেল-মসলাযুক্ত খাবার
ফাস্ট ফুড বা ভাজাপোড়া খাবার
অনিয়মিত খাবার সময়
খুব দ্রুত খাবার খাওয়া
👉 জীবনযাপন সংক্রান্ত কারণ;
মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা
পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
ব্যায়াম না করা
ধূমপান বা অতিরিক্ত চা-কফি।
👉 রোগজনিত কারণ;
গ্যাস্ট্রিক বা আলসার
লিভারের সমস্যা
পিত্তথলির রোগ
Helicobacter pylori সংক্রমণ
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
⚠️ অজির্ণতার লক্ষণ ও উপসর্গ
✅ পেট ভার বা অস্বস্তি
✅ গ্যাস ও পেট ফাঁপা
✅ বুক জ্বালা (Acidity)
✅ ঢেঁকুর ওঠা
✅ বমি বমি ভাব
✅ খাবারে অরুচি
✅ পেটে ব্যথা বা চাপ লাগা
✅ অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়া
কখনও কখনও —
মাথা ঘোরা
দুর্বল লাগা
কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাতলা পায়খানা হতে পারে।
🧪 অজির্ণতার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা:-
সাধারণ অজির্ণতায় সবসময় পরীক্ষা লাগে না। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে ডাক্তার নিচের পরীক্ষা দিতে পারেন—
🔬 সাধারণ পরীক্ষা
রক্ত পরীক্ষা।
মল পরীক্ষা।
🔬 বিশেষ পরীক্ষা
Endoscopy (পাকস্থলীর ভিতর দেখা)
Ultrasound abdomen
H. pylori টেস্ট
লিভার ফাংশন টেস্ট।
যদি ওজন কমে যায়, রক্ত বমি হয় বা দীর্ঘদিন ব্যথা থাকে তাহলে অবশ্যই পরীক্ষা জরুরি।
সাধারণ চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপনা (General Management):-
👉 জীবনযাপন পরিবর্তন
✔ সময়মতো খাবার খাওয়া
✔ অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া
✔ তৈলাক্ত ও ঝাল খাবার কম খাওয়া
✔ ধূমপান ও অতিরিক্ত চা-কফি বন্ধ করা
✔ মানসিক চাপ কমানো
✔ নিয়মিত ব্যায়াম
এবার আমরা জানবো অজীর্ণতার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সম্পর্কে :-
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় বা হোমিওপ্যাথিতে রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী ওষুধ নির্বাচন করা হয়।
🍀 Nux Vomica
👉 অতিরিক্ত খাওয়া বা মসলাযুক্ত খাবারের পর অজির্ণতা।
👉 টক ঢেঁকুর
👉 কোষ্ঠকাঠিন্য
👉 বিরক্ত স্বভাব
🍀 Pulsatilla
👉 তৈলাক্ত খাবার খেলে সমস্যা
👉 পিপাসা কম
👉 পেট ভার লাগে
👉 নরম মনের রোগী।
🍀 Carbo Veg
👉 অতিরিক্ত গ্যাস
👉 পেট ফুলে যায়
👉 ঢেঁকুরে আরাম পায়
👉 দুর্বলতা থাকে।
🍀 Lycopodium
👉 বিকেলের দিকে গ্যাস বেশি
👉 অল্প খেলে পেট ভরে যায়
👉 পেট ফাঁপা ডান দিকে বেশি।
🍀 Robinia
👉 তীব্র অম্লতা
👉 বুক জ্বালা
👉 টক বমি।
অজির্ণতার ক্ষেত্রে পথ্য ও নিয়ম:-
✔ হালকা খাবার খাওয়া
✔ বেশি পানি পান করা
✔ সবজি ও ফল খাওয়া
✔ রাতে দেরিতে খাবার না খাওয়া
✔ খাবার ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া।
🚨 কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন:-
দীর্ঘদিন অজির্ণতা থাকলে
হঠাৎ ওজন কমে গেলে
রক্ত বমি হলে
তীব্র পেট ব্যথা হলে
গিলতে সমস্যা হলে।
অজির্ণতার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সম্পর্কে একটু বিস্তারিতভাবে নিচে দেয়া হল:
🛑 নাক্স ভমিকা (Nux Vomica)
হিংসুটে স্বভাব ভীষন রাগী, কলহপ্রিয়, শীত কাতর, মদ্যপায়ী, নেশাখোর, অতিরিক্ত রাত্র জাগরন, অধিক মসলাযুক্ত খাদ্য গুরুপাক দ্রব্যাদি ভোজন বা অধিক ভোজন জনিত অজীর্ণ। খাদ্য দ্রব্য ভালরুপে পরিপাক না হইয়া আহারের দুই এক ঘন্টা পরে পেট ব্যথা মুখে টক জল উঠে। ইত্যাদি লক্ষনে ইহা উপকারী ।
🛑কার্বোভেজ (Corbo Veg)
কোন প্রকার কঠিন অসুখে রোগী পাখার বাতাস চায়। মুক্ত হাওয়ার জন্য আকাঙ্খা। অন্ধকারে ভুতের ভয়, স্মৃতি শক্তি হ্রাস, শীত কাতর, এই ঋতুর রোগীদের কার্বোভেজ একটি মহৎ উপকারি ঔষুধ। খাদ্য দ্রব্য ভালরুপ পরিপাক না হইয়া পেট ফাপে বিশেষ করে নীচের পেট দুর্গন্ধ বাতকর্ম বা টেকুর উঠিলে আরামবোধ ইত্যাদি লক্ষনে রোগ আরোগ্য হয় ।নাক্স প্রয়োগের পর অজীর্ণ পীড়া সম্পূর্ণ আরোগ্য না হইলে কার্বোভেজ ।
🛑লাইকোপোডিয়াম (Lycopodium):
রোগী অতিশয় কৃপন, ভিরু, একা থাকিতে ভয়, মেজাজ রাগী, নতুন লোকের আগমনে ভয়, মনের আলন্দে ক্রন্দন, গরম খাবার পছন্দ, গরমে কাতর, অজীর্ণ পীড়ায় বেশ ক্ষুধা হয়। সামান্য আহারে মনে হয় পেট ভরিয়া গিয়োছে। কোষ্ঠ বদ্ধ মাঝে মাঝে তরল মলের সঙ্গে কঠিন (শক্ত) মল দেখা যায়। পেট ফাঁপে, টক ঢেকুর উঠে, ভুট-ভাট করে পেট ডাকে। বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮ টার মধ্যে রোগের বৃদ্ধি ইত্যাদি
🛑নেট্রাম কার্ব (Natrum Carb) :
গোলমাল পছন্দ করে না, গান বাজনা নিতান্ত অপছন্দনীয়। শীত কাতর দুধ খাইলে অজীর্ণ বা উদরাময় সর্বদা পেট ভার বোধ বায়ূ সঞ্চয় হইয়া পেট ফোলিয়া উঠে। কখনো কোষ্ঠবদ্ধ কখনো টক গন্ধযুক্ত তরল মল শাক সবজি পানাহারে রোগ বৃদ্ধি ।
🛑ইপিকাক (Ipecac) :
ঘূত পক্ক পোলাও, মাংস, অধিক মিষ্টি বা মিষ্টান্ন, গুরুপাক দ্রব্যাদি আহার করিয়া পেট বেদনা, পাতলা পায়খানা, বমি ও বমি বমি ভাব হইলে ইপিকাক উপকারী ।
🛑পালসেটিলা (Prlsatilla) :
শান্ত স্বভাব কোমল মন অভিমানী অল্প কথায় মনে ব্যথা গরম কাতর মুক্ত বাতাস পছন্দ করে। এই ধাতু রোগীদের উহা অধিক উপকারী। চর্বি যুক্ত মাংস, ঘৃত পক্ক পোলাও অধিক মিষ্টি বা মিষ্টান্ন ভোজন জনিত অজীর্ন বা উদরামর পেট বেদনায় পালসেটিলা অমোঘ ।
🛑ম্যাগনেসিয়া কার্ব (Magnesia Carb) :
খিটখিটে স্বভাব, বদ মেজাজী, শীত কাতর, মাংস খাবার অত্যন্ত পছন্দনীয়। এই ধাতুর রোগীতে ইহা অধিক কার্যকরী। দুগ্ধ পান অসহ্য, পেট ফাঁপে বুক জ্বলে টক ঢেকুর উঠে, মুখে টক আস্বাদ রুটি, আলু, দুধ খাইলে পেটে বায়ু জমে, শূল ব্যাথা হয়। প্রভৃতি লক্ষনে ইহা উপকারী ।
🛑চায়না (China)
সমস্ত পেট ফাঁপা, পাতলা পায়খানার সাথে অজীর্ণ খাদ্য নির্গত হয় । ফল খাইলে পেটের অসুখ বাড়ে। অথবা ফল খাইয়া অজীর্ণ বা উদরাময়। রোগী দিন দিন দুর্বল হইতে থাকে। খাদ্য দ্রব্য হজম না হইয়া আস্ত বা অর্ধ ভাঙ্গা নির্গত হয়। ইহাতে চায়না অব্যর্থ ।
🛑ক্যারিকা পেঁপেয়া (Carreca Papaya) :
যাহাদের হজম শক্তি দুর্বল মাংস, ডিম, গুরুপাক দ্রব্যাদি এমন কি সামান্য দুধও হজম করিতে পরে না। অল্প অল্প করিয়া দিনে রাত্রে কয়েকবার পায়খানায় যায়। অজীর্ণ তরল মল। চক্ষু হলদে জিহ্বায় হলদে ময়লা রক্ত স্বল্প দুর্বল পেট ফোলা, দুগ্ধ খাইলে অজীর্ণ বা উদরাময় দেখা দেয় ।
🛑সালফার (Sulphur)
খিট খিটে স্বভাব অল্পতে উত্তেজিত হইয়া উঠে। অত্যন্ত স্বার্থপর, গরমে কাতর, অপরিস্কার অপরিচ্ছন্ন রোগী যাহারা প্রায়ই নানাবিধ চর্ম পীড়ায় ভোগে। পায়ের তলায় জ্বালা শরীরে দুর্গন্ধ ঘাম। রুটি, আলু, ঘৃত প্রভৃতি দ্রব্য আহার করিলেই পেট ফাঁপে টক ঢেকুর উঠে। গন্ধকের বর্ণ পায়খানা বাতকর্মে ভীষন দুর্গন্ধ এই প্রকৃতির রোগীদের নতুন বা পুরাতন অজীর্ণ পীড়ায় ইহা অব্যর্থ ।
বাইওকেমিক চিকিৎসাঃ
🛑নেট্রাম ফস (Natrum Phos) : টক ঢেকুর উঠে, বুক জ্বলে, মুখে টক জল উঠে। হরিদ্রা বর্ণের জিহ্বা আহারের পার পেট বেদনা। অম্ল গন্ধযুক্ত বাহ্যে মাঝে মাঝে অম্ল বমন ইত্যাদি লক্ষনে ইহা উপকারী। লক্ষন অনুযায়ী হোমিওপ্যাথিক ঔষুধের সঙ্গে বাইওকেমিক ঔষধ পর্যায়ক্রমে সেবনে আরো অধিক উপকার হয়।
🛑নেট্রাম মিউর (Natrum Mur) : অত্যাধিক লবন প্রিয়, তিক্ত ঝাল খাইবার প্রবল ইচ্ছা। রুটি খাইতে অনিচ্ছা, রুটি খাইলে অজীর্ন পীড়া দেখা দেয়। মুখে জল উঠে, মাথা ধরে, অতিশয় জল পিপাসা ইত্যাদি লক্ষনে ইহা মহৎ কার্যকারী ঔষুধ ।
🛑 ক্যালকেরিয়া ফস (Calearea Phos) : রক্ত হীন দুর্বল জীর্ণ শীর্ণ রোগীদের হজম শক্তির দুর্বলতা, আহারে অনিচ্ছা, উদরে বায়ু জমে ইত্যাদি লক্ষনে বা অন্য ঔষুধের সহিত পর্যায়ক্রমে ইহা সেবন অজীর্ণ পীড়া আরোগ্য হয়।
🛑ক্যালি মিউর (Kali Mur) : ঘৃত পক্ক বা অধিক তৈলাক্ত খাদ্য দ্রব্য আহার জনিত অজীর্ণ পীড়া তৈলাক্ত উদগার উঠে, জিহ্বা সাদা বর্ণের প্রলেপ যুক্ত রোগীদের ইহা অধিক উপযোগী ।
কেন্ট রেপার্টরির পাকস্থলী অধ্যায় এ ৫০৩ নম্বর পৃষ্ঠায় বামপাশে নিচের দিকে অজির্নতা সম্পর্কে বেশ কিছু ঔষধ রয়েছে তার মধ্যে ২০ টি ঔষধ রয়েছে প্রথম গ্রেডে।
নিয়মিত আহার করা বিধেয়। ভাল ভাবে চর্বন করিয়া আহার করা উচিত। সকাল সন্ধ্যায় সাধ্যমত ব্যায়াম করা ভাল। পুরাতন সরু চাউলের অন্ন, জীবিত শিং বা মাগুর মাছের ঝোল কাঁচা কলা, কাঁচা পেঁপে সুপথ্য। গুরুপাক দ্রব্যাদি ভোজন নিষিদ্ধ ।
ইকোহোমিও। Ecohomeo
হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র।
০৭ শিকদার মার্কেট (কোটবাড়ি রেলগেট)
আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা ঢাকা।
01575-717252
⭐⭐⭐⭐🤠🤠🤠💡💡💡