20/03/2026
ঈদ পরবর্তী করণীয়: আত্মীয়তার বন্ধন ও সচেতনতা
ঈদের আনন্দময় সময়ে আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, খোঁজখবর নেওয়া এবং আপ্যায়ন করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তবে এই সম্পর্কের মাঝেও কখনো কখনো হিংসা, বিদ্বেষ বা বদনজরের মতো বিষয় দেখা দিতে পারে—যা থেকে সতর্ক থাকাও প্রয়োজন।
আমাদের লক্ষ্য হবে সম্পর্ক অটুট রাখা, কিন্তু সেই সাথে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার ব্যাপারেও সচেতন থাকা। সন্দেহ বা অস্বস্তি থাকলে কাউকে কষ্ট না দিয়ে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা উত্তম।
সাধারণ সতর্কতা:
১. কারো দেওয়া খাবার গ্রহণের আগে সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে ফুঁ দেওয়া যেতে পারে।
২. কোনো অতিথি চলে যাওয়ার পর ঘরের আশপাশে অস্বাভাবিক কিছু আছে কি না খেয়াল করুন।
৩. নিজের ভালো খবর বা অর্জন প্রকাশের সময় “মাশাআল্লাহ” বা “বারাকাল্লাহ” বলার অভ্যাস রাখুন।
বদনজর মনে হলে করণীয়:
• দোয়া ও কুরআনের আয়াত (সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক, নাস) পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে তা পান করা বা গোসল করা উপকারী।
• বাইরে থেকে এসে অস্বস্তি অনুভব করলে রুকইয়াহ করে নিজেকে সুরক্ষিত করা যেতে পারে।
• মধুর ওপর কুরআন তিলাওয়াত করে সেবন করাও উপকারী হতে পারে।
জাদুর আশঙ্কা হলে করণীয়:
• প্রথমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করুন সমস্যার ধরন কী।
• সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে তা নষ্ট করে ফেলুন।
• কুরআনের নির্দিষ্ট আয়াত পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান ও গোসল করা যেতে পারে।
• প্রয়োজনে সিদর পাতা ব্যবহার করে রুকইয়াহ করা উপকারী হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা রাখা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে হিংসা, বদনজর ও সকল অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন এবং আমাদের পরিবারগুলোকে শান্তি ও নিরাপত্তায় রাখুন।