25/11/2025
🔴এটা একজন রোগীর culture and sensitivity রিপোর্ট
কি ভংকর অবস্থা হয়েছে দেখুন ।
১৭ টা এন্টিবায়োটিক ঔষুধের ভেতরে মাত্র ১ টা ইন্টারমিডিয়েট ( মানে Microbial Agent এর সারফেসে কাজ করলেও সেটা ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যেতে পারে নি)। এক কথায় সেটাও কাজ করতেও পারে আবার না ও করতে পারে ।
তার মানে এখন আমরা,” ঢাল তলোয়ার ছাড়া নিধিরাম সর্দার হয়ে বসে থাকবো “।
সুপারিশ অনুযায়ী VITEK ( Life Technology) মেথড ব্যবহার করে পরের বার যদি কোনোটা sensitive আসে তাহলে সেটা ব্যবহার করতে পারবো । সেই রিপোর্ট আসতেও সময় লাগবে ১-২ দিন । তাও যদি আল্লাহ পাক আমাদের উপর রহমত বর্ষণ করেন তবে । তার মানে এই কয়দিন বসে বসে দেখা লাগবে আর পরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে
এখন প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা কিভাবে হলো? এমনকি যে Meropenem injection ছাড়া মুখের ট্যাবলেট হয় না, সেটাও রেসিস্টেন্ট 😱। যদিও সে এই ইনজেকশন এখানে আসার আগে পায় নি ।
এটা নিয়ে পরিচিত কয়েকজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট এর সাথে কথা বললাম । সেখানে যে পয়েন্ট বেশি সামনে আসলো:
🚨 যত্রতত্র এন্টিবায়োটিক এর ব্যবহার 🚨
এই ব্যবহার কিভাবে হয় জানেন? ফার্মেসি থেকে । এই আপনি ২/৩ দিনের জ্বর নিয়ে আসছেন? নো প্রবলেম , ফার্মেসি আপনাকে azithromycin দিয়ে দিবে । গলা ব্যথা নিয়ে যাবেন? একটা এন্টিবায়োটিক দিয়ে দিবে ।
আরেকটা ভয়ংকর কথা কি জানেন? এই যে পাতলা পায়খানা শুরু হলে, মুড়ি মুড়কির মতো Metronidazole খাওয়া শুরু করেন না? এটাও একটা এন্টিবায়োটিক ।
⚠️ এখন প্রশ্ন করতে পারেন, আরে ভাই আমি তো জীবাণু মেরে ফেলতেই খাচ্ছি । তাহলে সমস্যা কোথায়??
সমস্যা হলো, আপনারা মন মত খান । প্রতিটি এন্টিবায়োটিক এর নির্দিষ্ট ডোজ এবং সময় আছে । মনে করেন আপনার দেহে জার্ম / মাইক্রো অর্গানিজম আছে, সেটার জন্য আপনার একটা এন্টিবায়োটিকস দরকার । আপনাকে ডাক্তার দিলেন ৭ দিনের ( দিনে ৩ বেলা)। কিন্তু আপনি ৩-৪ দিন খেয়ে দেখলেন আগের চেয়ে ভালো আছেন তাই শুধু শুধু টাকা নষ্ট হবে এই ভেবে বাকি ২/৩ দিন আর খাইলেন না ।
এই সময় আপনার শরীরে কি হয় জানেন?
মনে করেন আপনার দেহে ছিলো ১০০ টা মাইক্রোঅরগানিজম । আপনি ঔষুধ খাওয়া শুরু করলেন, এরাও কমতে শুরু করলো । ৩-৪ দিনে সেটা কমে হলো ৩৫-৪০ এ। এখন আপনি ভালো আছেন দেখে আর কোনো ঔষুধ খাইলেন না । ফলে ওই ৩৫/৪০ টা দুর্বল হয়ে থেকে গেল । একবারে ধ্বংস হইলো না । এখন এই ৩৫-৪০ টা কি করবে? তারা নিজেরা নিজেদের মতো করে জিন পরিবর্তন করতে শুরু করবে । কারণ তারা নিজেরা সারভাইভ করতে চায় । এবং এই জিন পরিবর্তন করবে এমন ভাবে যেন, তাদের পরের প্রজন্ম এই মেডিসিন কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে পারে ।
ব্যাস, হয়ে গেল। পরের বার থেকে আর এই ঔষুধ আগের মত কাজ করবে না । ধীরে ধীরে এর ক্ষমতা কমে আসবে । একসময় ওষুধ খাবেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না ।
শুধু যে ফার্মেসি থেকে এটা হয় সেটা না । আমাদের খাবারের মধ্যে ও এখন এন্টিবায়োটিক পাওয়া যাচ্ছে । যেটা খুব ই এলার্মিং । বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগি, ডিম, মাংস । খুব দ্রুত লাভ এর আশায় এন্টিবায়োটিকস, গ্রোথ হরমোন খাওয়ানো হয় । এই জন্য একটা ব্রয়লার মুরগি জন্মের ১৭/১৮ দিনের ভেতরে ২ কেজি + হয়ে যায় ।( আগে বাসার পাশে একটা ফার্ম থেকে নিজের চোখে দেখা) । এই মুরগি গুলোই পরে আমরা রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে হাড় পর্যন্ত চাবিয়ে খেয়ে থাকি । ফলাফল, হাড়ে ডিপোজিট হওয়া এই গুলো আমাদের শরীরে চলে যাচ্ছে কিন্তু আমরা বুঝছি না ।
লং টার্ম এ দেখা যাচ্ছে আমরা নিজেদের কে একেকটা Super Bug বানিয়ে ফেলছি । কালকেই রিপোর্ট দেখলাম অলরেডি আইসিউ এর ৪১% রোগী রেসিস্টেন্স হয়ে গিয়েছে । তার মানে এটার প্যাসিভ ট্রান্সমিশন এ আমি আপনি সবাই আক্রান্ত হতে পারি । না চাইলেও হয়ে যাবো, রেসিস্টেন্স ।
এভাবে চলতে থাকলে সেদিন হয়তো খুব দূরে না , যেদিন সামান্য জ্বর, সর্দি , কাশি হবে আর কোন মেডিসিনে কাজ হবে না। এখানে থেকে কেউ হয়তো থাকবে আর কেউ হয়তো হারিয়ে যাবে
আল্লাহ সকলকে সুস্থ রাখুন । আমিন
“Act Now: Protect Our Present, Secure Our Future”