15/09/2021
*জানুন হার্ট এটাক কি ও কেন হয়
*হার্ট এটাক কি
হৃৎপিন্ড সম্পূর্ণ শরীরে রক্ত সরবরাহের কাজ করে থাকে। প্রতি মিনিটে প্রায় ৭২ বার স্পন্দনের মাধ্যমে হৃৎপিন্ড সারাদেহে পাম্পের মত রক্ত সরবরাহ করে। করোনারি আর্টারি নামে হৃৎপিন্ডের গায়ে দুটি ছোট ধমনী আছে। এই করোনারি আর্টারিতে কোলস্টেরল জমে ধমনীর রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টির ফলে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়; আর তখনি হার্ট এটাক হয়। ডাক্তারি ভাষায় এর নাম মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন। হার্ট এটাকে বুকে প্রচন্ড ব্যাথার অনুভূতি হয় এবং এই ব্যাথা মোটামুটিভাবে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী হাসপাতালে পৌছার পূর্বেই মৃত্যুবরন করেন। আবার অনেক সময় রোগী বুকে ব্যাথা অনুভব করেন এবং কিছু সময় পরে সেটা সেরে যায়।
*হার্ট এটাকের কারন
• তেল-চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহন।
• রক্তে কোলেস্ট্রলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া।
• তামাক(বিড়ি,সিগারেট,গুল,জর্দা) খাওয়া।
• খাদ্যে এন্টি অক্সিডেন্টের অভাব।
• উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং মদ খাওয়া।
• শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও ওজন বৃদ্ধি।
• মানসিক চাপের মধ্যে থাকা। (এগুলোর মধ্যে মনসিক চাপ এমন একটি ক্ষতিকর প্রক্রিয়া যা একাই হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে।)
*হার্ট এটাক কাদের হতে পারে
সাধারনত মধ্যবয়সে কিংবা বৃদ্ধ বয়সে এ রোগটি বেশি হতে পারে। সাধারনত মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অনেক বেশি হয়। বংশে কারও হার্ট এটাক হয়ে থাকলে হার্ট এটাকের ঝুকি অনেক বেশি থাকে।
*হার্ট এটাক কখন হয়
হার্ট এটাক যেকোন সময়ই হতে পারে। এর কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। যেমন- রাতে ঘুমের মধ্যে, বিশ্রামের সময়, ভারী শারীরিক পরিশ্রমের সময় আবার মানসিক দুশ্চিন্তা থেকেও হতে পারে ইত্যাদি।
*হার্ট এটাকের লক্ষণ সমূহ
• নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা অথবা শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
• বমি বমি ভাব অথবা বমি হতে পারে।
• বুকে মারাত্মক তীব্র ব্যথা হতে পারে।
• বুকে চাপ অনুভুত হওয়া, যন্ত্রণা হওয়া কিংবা ভারী ভারী লাগা।
• বিষম খাওয়া।
• শরীরে প্রচুর পরিমানে ঘাম হতে পারে।
• খাবার হজমে সমস্যা হবে এবং পেটের উপরের অংশে জ্বালাপোড়া করতে পারে।
• চোখে ঝাপসা দেখা, অন্ধকার দেখা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।
• হার্ট এটাকে আক্রান্ত হলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।
*হার্ট এটাক হলে করনীয়
• আক্রান্ত ব্যক্তিকে এক মুহুর্ত দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
• কোনভাবেই রোগী পায়ে হেঁটে কিংবা নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাবেন না।
• হার্ট এটাক হয়েছে নিশ্চিত হলে, রক্ত জমাট বাঁধা বন্ধ করতে রোগীকে তাৎক্ষণিক এসপিরিন বা ওয়ারফেরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে।
• রোগীর জিহবার নিচে একটি নাইট্রেট ট্যাবলেট দিতে হবে।
• রোগীকে মানসিকভাবে আশ্বস্ত করতে হবে।
*হার্ট এটাক প্রতিরোধে করনীয়
• ধুমপান, মদ্যপান ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে।
• নিয়মিত ব্লাড প্রেসার পরিমাপের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
• মানসিক অবসাদ বা দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।
• নিয়মিতভাবে ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
• কলেস্টেরল নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
• চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া কমাতে হবে।
• শাকসবজি – ফলমুল বেশি খাওয়া।
• দেহের অতিরিক্ত ওজন ঝেড়ে ফেলা।
• প্রতিদিন শারীরিক ব্যায়াম করা বা কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা।
*হার্ট এটাকের পরীক্ষা ও চিকিৎসা
• ECG, এনজিওগ্রাম, সিটি এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্ট বা রিং লাগানো। ওপেন হার্ট সার্জারি বা বাইপাস সার্জারি। বাইপাস সার্জারি হল পা থেকে একটি শিরা কেটে নিয়ে সেটি দিয়ে ধমনীর সমস্যাযুক্ত অংশে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহের একটি বাইপাস রাস্তা তৈরি করে দেয়া।
একা থাকা অবস্থায় হার্ট এটাক হলে করনীয়
সাধারণত ব্যথা শুরু হবার পরে অজ্ঞান হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত তাদের হাতে ১০ সেকেণ্ড সময় থাকে। এমতাবস্থায় বুকে ব্যথার শিকার ব্যক্তি নিজেকে সাহায্য করতে পারেন বারংবার জোরে জোরে উচ্চস্বরে কাশি দিয়ে। ‘শ্বাস – কাশি, শ্বাস – কাশি...’ এই প্রক্রিয়া প্রতি দুই সেকেণ্ডে একবার করে করতে থাকুন, যতক্ষণ না কেউ আপনার সাহায্যে এগিয়ে না আসে।
পরামর্শ
নিয়মিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা এবং নিয়ন্ত্রন করা, প্রতিদিন ব্যায়াম করা, ধূমপান কিংবা মদ্যপানের মত বাজে অভ্যাস পরিত্যাগ করা, বাড়তি লবণ না খাওয়া, তেল বা চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়া, মিষ্টি কম খাওয়া, শাক সবজি ও ফলমূল বেশি করে খাওয়া এবং মানসিক দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হার্ট এটাকের ঝুঁকি থেকে অনেকটা নিরাপদে থাকা যায়।