30/12/2019
আজকাল অনেকেই রাসায়নিক প্রসাধনী বাদ দিয়ে ঝুঁকছেন ভেষজ রূপচর্চার দিকে। এর মূলে আছে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে সৌন্দর্য ধরে রাখার বিষয়টি। ভেষজ উপাদানে যে ফল পাওয়া যায়, তা হয় দীর্ঘস্থায়ী। এই সুফল পেতে জানতে হবে সঠিক পদ্ধতি। পাশাপাশি বেছে নিতে হবে খাঁটি উপাদান। নইলে হতে পারে হিতে বিপরীত।
১. লেবু বা লেবু দিয়ে তৈরি কোনো উপাদান ব্যবহারে রূপচর্চা করার পর রোদে যাবেন না অন্তত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। কারণ লেবু ব্যবহারের পর ত্বক খুব স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে, রোদে গেলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
২. ব্রণ দূর করার জন্য মুলতানি মাটি, মধু ও নিমের গুঁড়ো মিশিয়ে ফেস প্যাক তৈরি করে মুখে ব্যবহার করুন রোজ। ব্রণ একেবারেই ভালো হয়ে যাবে।
উপাদানগুলে হতে হবে পিউর।
৩. রূপচর্চা করতে সবসময় কাঁচা দুধ ব্যবহার করুন। ফ্রিজে রাখা বা প্যাকেটজাত দুধ নয়, তাজা দুধ কিনে নিন।
৪. গোলাপ পপড়ি পানিতে জ্বাল করে রোজ সিরাপ বানিয়ে রাখুন। এটা ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করা যায়। রোজ এটা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন, ফেস প্যাকেও ব্যবহার করুন।
৫. শসার রস ও সজনের পাতা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এটি দাগ, ছোপ ও বলিরেখা দূর করার পাশাপাশি খুব ভালো স্কিন সতেজ রাখে।
৬. উকুন দূর করতে নিম পাতার গুড়া সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করুন, উপকার পাবেন।
৭. ত্বক ফর্সা করতে টমেটোর পাল্প, মুলতানি মাটি, সামান্য কাঁচা দুধ মিশিয়ে ও গোলাপ গুড়া দুয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখসহ সারা দেহে ব্যবহার করুন। খুব দ্রুত ফল পাবেন।
৮. প্রতিদিন জাফরান মেশানো দুধ পান করলে ভেতর থেকে রঙ ফর্সা হবে। এক গ্লাস দুধে জাফরান মিশিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট ফুটিয়ে নিন। কুসুম কুসুম গরম থাকতে পান করুন। এক গ্রাম জাফরান চার থেকে পাঁচ গ্লাস দুধে দেওয়া যাবে
৯. ত্বকের যেকোনো সমস্যা সমাধানে খাঁটি আলোভেরা জেল খুব কার্যকর। এখন খাঁটি জেল কিনতেও পাওয়া যায়। নিয়মিত মুখে লাগান, ফেসপ্যাকের সাথে মিশিয়ে বা হেয়ার প্যাকের সাথেও ব্যবহার করতে পারেন।
১০. চুলে মেহেদি বা কোনো হেয়ার প্যাক ব্যবহারের সময় লক্ষ্য রাখবেন মাথায় যেন তেল না থাকে। সম্ভব হলে প্যাকের সাথে একটি ডিম ব্যবহার করুন। চুল হবে উজ্জ্বল।
আসলে ভেষজ উপাদানের গুণাগুণ অপরিসীম। সঠিক উপাদানের ব্যবহারে বহু গুণে বেড়ে যাবে আপনার সৌন্দর্য। এমন আরও অনেক ব্যবহার আছে যা আমাদের সকলের জন্য খুবই উওকারি।