30/01/2026
POST Acute Withdrawal Syndrome
আমি যে অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট সেন্টারে কাজ করছি, কিছুদিন আগে আমার এক রুগী যিনি আমার সাথে দেখা করার জন্য এসেছিলেন তিনি তার আগের সপ্তাহে ট্রিটমেন্ট সেন্টার থেকে রিলিজ নিয়ে বাসায় চলে যান। বাসায় যাবার দুইদিন পর থেকেই ব্যক্তিটি আমাকে সেশনে জানালেন, উনার হঠাৎ করেই নিজেকে মূল্যহীন মনে হচ্ছে, কোন কারণ ছাড়াই মন খারাপ হচ্ছে, কেমন যেন মনের ভেতর এক ধরনের রাগ ও বিরক্তি তৈরি হচ্ছে। মাথাটা ঝিমুনি বা ঝিমঝিম করে। বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না কোন কিছুতে। মাথাটা অনেক বেশি ব্যথা করে, কেমন যেন শরীর ভারি মনে হয়, ঘুম আসে না, শরীরে খুব ক্লান্তি লাগে।
ভদ্রলোকের মেডিসিনের ব্যবসা আছে। সেন্টারে থাকাকালীন ট্রিটমেন্ট প্ল্যানে ছিল তিনি আবার আগের মত নিয়মিত মেডিসিনের দোকানে বসবে। প্রথম দুইদিন সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার পর নিয়মিত দোকানে যেতেন কিন্তু এখন আবার কাজের আগ্রহ কমে গেছে।
পরিবারে ওনার স্ত্রী তিন ছেলে মেয়ে এবং উনার শ্বশুর-শাশুড়ি আছেন। ওনার wife স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
ট্রিটমেন্ট সেন্টার থেকে বাড়িতে ফেরার পর প্রথমদিকে সবার সাথে বিকেলের নাস্তা করতেন এবং দোকান বন্ধ করে একসাথে রাতের খাবার খেতেন।
এখন আর কারো সাথে কিছু করতে ভালো লাগেনা। আমার এই রোগী সিগারেট গাজা, ইয়াবা, এবং অ্যালকোহলে আসক্ত ছিলেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন ওনার এই মানসিক কষ্টে ওনার মনে হয়েছে সামান্য একটু ইয়াবা খেলে কিছু হবে না। তাছাড়া আমিতো ভাল হয়ে গেছি।
এই ব্যক্তির মত অনেকেই আছেন যারা নেশাজাত দ্রব্য ব্যবহার বন্ধ করে ট্রিটমেন্ট সেন্টার থেকে চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের মাঝে ফিরে যান তারপর তাদের মধ্যে আবার এই ধরনের সমস্যাগুলো দেখা দেয় এবং এই সমস্যাগুলো যদি অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শেয়ার করা না হয় তখন আবার relapse এর একটি বড় সম্ভাবনা থেকে যায়।
এখন জেনে নেই এই সমস্যাগুলো কে কি বলে?
নেশাজাত দ্রব্য যেমন ইয়াবা হেরোইন গাজা অ্যালকোহল সিগারেট সেডেটিভ ইত্যাদি বন্ধ করার পর ব্যক্তির মধ্যে যে দীর্ঘ মেয়াদী মানসিক ও আচরণগত উপসর্গ গুলো দেখা দেয় তাকে post acute withdrawal syndrome বা সংক্ষেপে PAW বলে।
সাধারণত ব্যক্তির নেশা জাতীয় দ্রব্য ছাড়ার দুই থেকে চার সপ্তাহ পরে এই ধরনের সমস্যাগুলো শুরু হয়। এর স্থায়িত্ব ছয় মাসও থাকে।
এখন জেনে নেই PAW কেন হয়?
মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারএর ডোপামিন, সেরোটনিন এর ভারসাম্য নেশা জাতীয় দ্রব্য নেয়ার কারণে নষ্ট হয়। নেশা ছাড়ার পর মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় নেয়।
কিভাবে PAW কে মোকাবেলা করতে হয়?
ব্যক্তিকে নিয়মিত কাউন্সিলিং বা সাইকো থেরাপি নিতে হবে।
সাইকিয়াট্রিস্টের তত্ত্বাবধানে ওষুধ সেবন করতে হবে।
সাপোর্ট গ্রুপ যেমন NA (Narcotic Anonymous) এবং AA ( Alcoholic Anonymous) গ্রুপের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রাখা। এটি রিকভারিদের গ্রুপ।
প্রতিদিন একটি দৈনন্দিন জীবন যাপনের রুটিনের মধ্যে নিজেকে রাখা যেমন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, পর্যাপ্ত পানি পান করা, খাবারে ক্যাফিন ও চিনি জাতীয় খাবার কমিয়ে প্রোটিন ও শাকসবজি জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া, প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম বা হাটার অভ্যাস তৈরি করা, প্রয়োজনে প্রতিদিন শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা।
মনে রাখতে হবে PAWমানে কিন্তু ব্যক্তিটি দুর্বল নন এর মানে হলো আপনার মস্তিষ্ক সুস্থ হওয়ার পথে আছে এখন প্রয়োজন সময় ধৈর্য এবং সঠিক সহায়তা।
শারমিন রহমান
প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট
দর্পণ কাউন্সিলিং এন্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সেন্টার
বনানী ডিওএইচএস
ঢাকা।