Dr. SM Fuad's Homeopathy

Dr. SM Fuad's Homeopathy Dr. SM Fuad, D.H.M.S (1st Class), Chief consultant of Bangladesh Homeopathy Clinic (BHC)

20/01/2026
‘গ্যাস্ট্রিক’- লিভারের নীরব ঘাতকপেটে ভার লাগে, খেতে ইচ্ছে করে না,পায়ে হালকা পানি আসে। হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখলেন, প্রচণ্ড রক্ত...
07/01/2026

‘গ্যাস্ট্রিক’- লিভারের নীরব ঘাতক

পেটে ভার লাগে, খেতে ইচ্ছে করে না,পায়ে হালকা পানি আসে। হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখলেন, প্রচণ্ড রক্তবমি। মুহূর্তেই আতঙ্ক, ছোটাছুটি, হাসপাতাল।

পরীক্ষা নিরীক্ষা থেকে জানা গেল, তিনি ভুগছেন Chronic Liver Disease (CLD)-এ।

লিভার ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে গেছে। ফলে রক্ত ঢুকতে না পেরে ভেতরে তৈরি হয়েছে ভয়ংকর চাপ—যাকে বলে Portal Hypertension। খাদ্যনালীর শিরাগুলো বেলুনের মতো ফুলে একসময় ফেটে গেছে। আর সেখান থেকেই রক্তবমি।

ভয়ংকর সত্য হলো—
এই রোগটা অনেক সময় চুপচাপ বাড়ে।
না ব্যথা, না জোরালো লক্ষণ। শুধু একটু দুর্বলতা, পেট ফোলা, পায়ে পানি—যেগুলো আমরা অবহেলা করি। কিন্তু এতে লিভার আরও দ্রুত নষ্ট হয়।

মনে রাখবেন, CLD মানেই শেষ নয়।

সময়মতো রোগ ধরা পড়লে, নিয়মিত ফলোআপ ও এন্ডোস্কপি করলে ভয়ংকর রক্তক্ষরণ ঠেকানো সম্ভব।তাই

⚠️ সতর্ক হোন

• হেপাটাইটিস বি ও সি স্ক্রিনিং করুন

• অকারণে ভুঁড়ি বাড়তে দেবেন না

• পেটে পানি, পা ফোলা, রক্তশূন্যতা হলে অবহেলা নয়, গ্যাস্ট্রিক ভেবে সময় নষ্ট করবেন না।

হোমিওপ্যাথিতে আমরা সাধারণত রোগীর শারীরিক অবস্থাকে যাচাই করে Hiper Sulphur, Conium Mac, Lycopodium, Chelidonium প্রভৃতি ঔষধ প্রয়োগ করে থাকি। যার ফলে রোগাক্রান্ত ব্যক্তি সহজেই নিরাময় লাভ করেন।

সচেতন হোন। সুস্থ থাকুন।

মানব মস্তিষ্ক MRI এ এলো এক যুগান্তকারী সফলতা।পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী MRI = ১১.৭ টেসলা। এটা এমন এক স্ক্যান মেশিনযেখানে ম...
03/01/2026

মানব মস্তিষ্ক MRI এ এলো এক যুগান্তকারী সফলতা।

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী MRI = ১১.৭ টেসলা। এটা এমন এক স্ক্যান মেশিন
যেখানে মস্তিষ্কের ভেতরের অংশ
আগে যা ছিল কল্পনার বাইরে, এখন সেগুলোও দেখা যাবে।

আশা করা যায় এই MRI আমাদের সাহায্য করবে -
– আমরা কীভাবে চিন্তা করি
– চেতনা আসলে কী
– স্মৃতি কীভাবে নষ্ট হয়
– আলঝেইমার, পারকিনসনের মতো রোগের শুরুর মুহূর্ত সবকিছু! আমাদের নতুন প্রজন্মের গবেষণার পথকে আরো সহজ ও সাবলীল করবে।

এই MRI এতটাই শক্তিশালী যে
মস্তিষ্কের ভেতরের দুর্বল কেমিক্যাল সিগনাল
যেমন গ্লুকোজ, লিথিয়াম, ফিনাইল ইথাইল আম্মিন ইত্যাদি যেগুলো আগে কখনো দেখা যায়নি এখন সেগুলোও ধরা পড়বে।

এই মেশিনটি বানিয়েছে ফ্রেঞ্চ এটোমিক এনার্জি কমিশন , চওড়া প্রায় ৫ মিটার,
ওজন ১৩২ টন! সুপারসোনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এটা মানুষের মস্তিষ্ক বোঝার পথে একটা নতুন যুগের সূচনা।

মানুষের মাথার ভেতর কী হচ্ছে তা
আর আন্দাজ করতে হবে না…
স্ক্রিনেই সব দেখা যাবে।

🔸 যোনির ফাঙ্গাল ইনফেকশন (Vaginal Yeast Infection / Vulvovaginal Candidiasis)→ যোনির ফাঙ্গাল ইনফেকশন নারীদের মধ্যে একটি খ...
01/01/2026

🔸 যোনির ফাঙ্গাল ইনফেকশন (Vaginal Yeast Infection / Vulvovaginal Candidiasis)
→ যোনির ফাঙ্গাল ইনফেকশন নারীদের মধ্যে একটি খুব সাধারণ ছত্রাকজনিত সংক্রমণ। এটি সাধারণত Candida albicans নামক ছত্রাকের কারণে হয়
→ এই ছত্রাক স্বাভাবিক অবস্থায় অল্প পরিমাণে যোনিতে থাকে এবং সমস্যা সৃষ্টি করে না
→ কিন্তু যখন এটি অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন সংক্রমণ হয় এবং যোনির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়

🔸 ফাঙ্গাল ইনফেকশন কেন হয়?
→ যখন যোনির উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে যায়
→ সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
→ সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার
→ গর্ভাবস্থা (হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে)
→ ডায়াবেটিস, বিশেষ করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে
→ দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অসুস্থতা, স্টেরয়েড ওষুধ)
→ খুব টাইট বা বাতাস চলাচল করে না এমন পোশাক পরা
→ যোনির আশপাশে অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকা
→ মাসিকের সময় বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির কারণে হরমোনের পরিবর্তন

🔸 সাধারণ লক্ষণসমূহ
→ যোনি ও বাইরের অংশে তীব্র চুলকানি
→ সাদা, ঘন স্রাব যা দই বা চিজের মতো
→ সাধারণত এতে কোনো দুর্গন্ধ থাকে না
→ যোনির মুখে লালচে ভাব ও ফোলা
→ প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া
→ সহবাসের সময় ব্যথা বা অস্বস্তি
→ মাসিকের আগে লক্ষণগুলো বেশি বেড়ে যেতে পারে

🔸 যে লক্ষণগুলো সাধারণত ফাঙ্গাল ইনফেকশনে থাকে না (গুরুত্বপূর্ণ)
→ তীব্র মাছের মতো বা দুর্গন্ধযুক্ত গন্ধ
→ সবুজ বা হলুদ রঙের স্রাব
→ জ্বর
→ এসব লক্ষণ থাকলে সম্ভবত সংক্রমণটি ফাঙ্গাল নয়, অন্য কোনো কারণে হতে পারে

🔸 চিকিৎসা ও যত্ন
→ চিকিৎসা নির্ভর করে সংক্রমণের তীব্রতা ও বারবার হওয়ার ওপর। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা সাধারণত Borax, Calcaria phos, Cantharis, Sepia, Caladium, Aluminuma প্রভৃতি ঔষধ সেবন করার পরামর্শ প্রদান করি।

🔸 প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (Do’s & Don’ts)
→ যোনির স্থান পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন
→ ঢিলেঢালা ও সুতির অন্তর্বাস পরুন
→ ঘাম হলে বা গোসলের পর ভেজা কাপড় দ্রুত পরিবর্তন করুন
→ অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
→ সুগন্ধযুক্ত সাবান, স্প্রে বা ডুচিং ব্যবহার করবেন না
→ ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
→ সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং মানসিক চাপ কমান

🔸 যে অবস্থায় দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন
→ প্রথমবার এমন সংক্রমণ হলে
→ লক্ষণ খুব তীব্র বা কষ্টদায়ক হলে
→ সংক্রমণ বারবার হলে
→ আপনি গর্ভবতী হলে
→ স্রাবে দুর্গন্ধ, সবুজ/হলুদ রং বা জ্বর থাকলে।।

পাপের জৈবিক প্রক্রিয়া এবং ভাইসম্যান ব্যারিয়ারের পতন:আমাদের কর্ম কি আমাদের জিনের ‘সোর্স কোড’ লিখে দিচ্ছে?(একটি বিশদ, গব...
26/12/2025

পাপের জৈবিক প্রক্রিয়া এবং ভাইসম্যান ব্যারিয়ারের পতন:

আমাদের কর্ম কি আমাদের জিনের ‘সোর্স কোড’ লিখে দিচ্ছে?

(একটি বিশদ, গবেষণাধর্মী ও বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ: ট্রান্সজেনারেশনাল এপিজেনেটিক উত্তরাধিকার এবং মানব অস্তিত্ব রক্ষার যুক্তি; পাঠকদের দুইটি প্রশ্নের প্রমাণসহ বিস্তারিত উত্তর)

দশকের পর দশক ধরে জীববিজ্ঞানের ক্লাসে আমাদের একটি নিয়ম মুখস্থ করানো হয়েছে, যার নাম “ভাইসম্যান ব্যারিয়ার” (Weismann Barrier)।

উনিশ শতকের জার্মান জীববিজ্ঞানী আগুস্ট ভাইসম্যান (August Weismann) এই তত্ত্বটি পেশ করেছিলেন। তার মতে—

> “দেহকোষে (Somatic Cells) সংঘটিত কোনো পরিবর্তন প্রজনন কোষে (Germline Cells—শুক্রাণু/ডিম্বাণু) স্থানান্তরিত হতে পারে না।”

সহজ ভাষায়, আপনি যদি জিমে গিয়ে বডিবিল্ডার হন, আপনার সন্তান পেশিবহুল হয়ে জন্মাবে না। আপনি যদি কোনো দক্ষতা অর্জন করেন, সেটিও সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হবে না।

এই তত্ত্ব আমাদের এক ধরনের মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়েছিল—
যেন আমরা ব্যক্তিগত জীবনে যা খুশি করতে পারি (মদ্যপান, ব্যভিচার, অতিরিক্ত মানসিক চাপ), তার কোনো প্রভাব আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের উপর পড়বে না, কারণ আমাদের “শুক্রাণু” নাকি একটি সুরক্ষিত ভল্টে বন্দি।

কিন্তু প্রিয় বন্ধুগণ!

“বিজ্ঞান স্থির নয়।”

একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে, বিশেষ করে গত ২০ বছরে এপিজেনেটিক্স (Epigenetics)-এর গবেষণা ভাইসম্যানের এই দেয়াল ভেঙে দিয়েছে।

আজ বিজ্ঞান জোরে জোরে ঘোষণা করছে—
আপনার জীবনযাপন পদ্ধতি, আপনার পাপ, আপনার খাদ্যাভ্যাস এবং আপনার ভয় আপনার শুক্রাণুর RNA এবং মিথাইলেশন প্যাটার্ন বদলে দেয়, এবং এই পরিবর্তন পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়।

আজ আমরা দুটি প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেব—

১. দেহগত পরিবর্তন কি সত্যিই প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়?
(ভাইসম্যান ব্যারিয়ারের খণ্ডন)

২. যদি ব্যভিচার বা পাপ থেকে সন্তান জন্ম না নেয়, তবুও কি তার প্রভাব ভবিষ্যতের বৈধ সন্তানের উপর পড়ে?

যারা বলেন—

> “এগুলো জীববিজ্ঞানের মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে,”

তাদের উদ্দেশে বলা যায়— আধুনিক বিজ্ঞান এখন Transgenerational Epigenetic Inheritance (TEI) স্বীকার করে নিয়েছে।

এই প্রক্রিয়া DNA মিউটেশন (জিনের ক্রম পরিবর্তন) দ্বারা নয়, বরং Gene Expression (জিন অন/অফ হওয়া)-এর মাধ্যমে ঘটে।

চলুন, এর তিনটি সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া ও প্রমাণিত গবেষণা (কেস স্টাডি) দেখি।

---

১. প্রক্রিয়া: ভয়ের উত্তরাধিকার

(The Inheritance of Fear)

এটি জীববিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত পরীক্ষা, যা প্রমাণ করেছে যে মানসিক স্মৃতি (Somatic Memory) পরবর্তী প্রজন্মে যেতে পারে।

গবেষণার বছর: ২০১৪

গবেষক: ড. ব্রায়ান ডায়াস ও ড. কেরি রেসলার

প্রতিষ্ঠান: এমোরি ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র

জার্নাল: Nature Neuroscience

পরীক্ষা কী ছিল?

পুরুষ ইঁদুরদের “চেরি ব্লসম” ফুলের গন্ধ শোনানো হতো এবং একই সঙ্গে তাদের পায়ে হালকা বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো।

কিছুদিন পর দেখা গেল, ইঁদুরগুলো কেবল গন্ধ পেলেই ভয়ে কাঁপতে শুরু করছে। এই ভয় তাদের মস্তিষ্কে (Somatic Cells) সঞ্চিত ছিল।

পরে ওই ইঁদুরদের শুক্রাণু নিয়ে স্ত্রী ইঁদুরদের সাথে মিলন করানো হয়। জন্ম নেওয়া বাচ্চারা কখনো সেই গন্ধ পায়নি, কখনো শকও খায়নি।

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে—
প্রথমবার চেরি ব্লসমের গন্ধ শোনামাত্রই তারাও ভয়ে কাঁপতে শুরু করে। এমনকি তৃতীয় প্রজন্মেও (নাতি-নাতনি) একই প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:

বাবার অনুভূত ভয় তার রক্তের মাধ্যমে শুক্রাণুর ভেতরে থাকা Olfactory Receptor Gene (M71)-এর মিথাইলেশন কমিয়ে দেয়, ফলে জিনটি অতিসক্রিয় হয়ে ওঠে। এই পরিবর্তন সন্তানের মধ্যে চলে যায়।

প্রমাণিত হলো:
বাবার মানসিক ট্রমা (Somatic) সন্তানের জিনে (Germline) স্থানান্তরিত হয়েছে। ভাইসম্যান ব্যারিয়ার ভেঙে গেছে।

---

২. প্রক্রিয়া: শুক্রাণুর ছোট RNA—বার্তাবাহক

পুরনো জীববিজ্ঞান বলত, শুক্রাণু শুধু DNA বহন করে।
নতুন গবেষণা বলছে, শুক্রাণু Non-coding RNA (miRNA ও tRNA)-এর একটি “প্যাকেট”ও বহন করে, যা বাবার বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অবস্থার রিপোর্ট সন্তানের কাছে পৌঁছে দেয়।

যখন পুরুষ ইঁদুরদের তীব্র মানসিক চাপ দেওয়া হয়, তখন তাদের শুক্রাণুর RNA পরিবর্তিত হয়। ফলাফল— তাদের সন্তানরা জন্মগতভাবেই অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়।

প্রমাণিত হলো:
বাবার মানসিক চাপ শুক্রাণুর RNA বদলে দেয় এবং সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

---

“যদি ব্যভিচার করে সন্তান না হয়, তবে জিন কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে?” — এই প্রশ্নের উত্তর

এই প্রশ্নটি বাহ্যিকভাবে যুক্তিসংগত মনে হলেও জৈবিকভাবে ভুল।

এপিজেনেটিক্স বলে— পরিবর্তন শুধু সন্তান ধারণের সময় নয়, পরিবর্তন ঘটে আপনার ফ্যাক্টরি (মস্তিষ্ক ও অণ্ডকোষ)-তেই।

১. স্পার্মাটোজেনেসিস ও স্টেম সেলের ক্ষতি

শুক্রাণু তৈরি হতে প্রায় ৭৪ দিন লাগে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

ব্যভিচার, অশ্লীলতা বা হারাম কাজে লিপ্ত হলে শরীরে—

অতিরিক্ত ডোপামিন

অতিরিক্ত কর্টিসল (ভয় ও চাপ)

এই রাসায়নিকগুলো রক্তের মাধ্যমে স্টেম সেল পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
স্টেম সেলে যদি এপিজেনেটিক দাগ পড়ে যায়, তাহলে বছরখানেক পরে বৈধ বিয়েতে হলেও সেই দাগযুক্ত শুক্রাণুই সন্তানের জন্ম দেবে।

অর্থাৎ—
আপনি “ফ্যাক্টরি” নষ্ট করে ফেলেছেন, পণ্য আর খাঁটি হবে না।

---

২. খাদ্য ও মেটাবলিক সংকেত—মাত্র এক সপ্তাহের প্রভাব

ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দেখিয়েছে—
মাত্র এক সপ্তাহ চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার খেলে শুক্রাণুর জিনগত নিয়ন্ত্রণ বদলে যায়।

তাহলে চিন্তা করুন—
বছরের পর বছর ব্যভিচার, অশ্লীলতা ও মানসিক নোংরামি আপনার জার্মলাইনকে কী করছে?

---

ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান

“ব্যভিচারের কাছেও যেও না” (সূরা ইসরা: ৩২)

কারণ বিজ্ঞান বলছে—
শুধু দৃষ্টি ও চিন্তাও জিনে জৈবিক প্রভাব ফেলে।

তাওবা = নিউরোপ্লাস্টিসিটি

বিজ্ঞান বলে—
কিছু এপিজেনেটিক পরিবর্তন উল্টানো যায়।

ইসলাম যাকে বলে সত্য তাওবা, তা আসলে এক ধরনের
Spiritual Epigenetic Reset।
কিছু হাদিসের বর্ণনা এরকম যে, যে ব্যক্তি ব্যভিচার করে তার কবরে একটি করে কাল সাপ নিযুক্ত থাকে, যা তাকে কবরে এবং কেয়ামতের মাঠে পর্যন্ত দংশন করতে থাকবে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।

#গুরুত্বপূর্ণ_

সুতরাং জীবন কোনো ভিডিও গেম নয় যে রিস্টার্ট দিলেই সব মুছে যাবে।
আপনার প্রতিটি কাজ আপনার DNA-তে খোদাই হচ্ছে।

আপনি শুধু নিজের জীবন বাঁচাচ্ছেন না—
আপনি আগামীর প্রজন্মের ইতিহাস লিখছেন।

নিজের সন্তানদের উপর দয়া করুন।
নিজের যৌবন নর্দমায় ফেলবেন না— একে নূরের মধ্যে সংরক্ষণ করুন।

اردو تحریر بلال شوکت ازاد

শীতে বাচ্চাকে গোসল করানো মানে শুধু পরিষ্কার রাখা না—তার সাথে ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, স্কিন শুকিয়ে যাওয়া—এসব থেকেও তাকে ...
16/12/2025

শীতে বাচ্চাকে গোসল করানো মানে শুধু পরিষ্কার রাখা না—তার সাথে ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, স্কিন শুকিয়ে যাওয়া—এসব থেকেও তাকে সুরক্ষিত রাখা। তাই গোসলের রুটিনটা একটু বদলানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

✔️ কখন গোসল করানো উচিত?

▪️ সকালে খুব ঠান্ডা থাকে—শীতের দিনে এটি বেবির জন্য রিস্কি।
▪️ বিকেলেও বাতাস ঠান্ডা হতে শুরু করে।
👉 দুপুরে, যখন ঘরটা একটু গরম থাকে, তখন গোসলই সবচেয়ে নিরাপদ।

✔️ পানির তাপমাত্রা কেমন হবে?

▪️ খুব গরম পানি স্কিন ড্রাই করে ফেলে।
▪️ খুব ঠান্ডা পানি হঠাৎ শরীর ঠান্ডা করে দেয়।
👉 ব্যবহার করুন হালকা উষ্ণ পানি – যেটা হাতে নিলে আরামদায়ক মনে হয়।

✔️ গোসলের সময় / পরে ঠান্ডা না লাগাতে যা করবেন

▪️ গোসলের সময় দরজা–জানালা বন্ধ রাখুন।
▪️ গোসল বেশি সময় ধরে করাবেন না।
▪️ গোসল শেষে সাথে সাথে—তোয়ালে দিয়ে দ্রুত শুকানো + পোশাক বদলানো (এটাই গোল্ডেন রুল)।
▪️ চুল, কানপাশ, ঘাড়, আঙুলের ফাঁক—একটুকুও ভেজা রাখা যাবে না।

✔️ পোশাক পরানোর নিয়ম

▪️ একদম শুকনো, নরম, হালকা উষ্ণ পোশাক পরান।
▪️ প্রয়োজন হলে মোজা-টুপি দিন।
▪️ কিন্তু অতিরিক্ত কাপড় পরে ঘামানো যাবে না—ঘামই ঠান্ডার সবচেয়ে বড় শত্রু।

✔️ স্কিন কেয়ার খুবই গুরুত্বপূর্ণ

শীতে বেবির স্কিন দ্রুত শুকিয়ে যায়।
▪️ গোসল শেষে সাথে সাথে মাইল্ড বেবি লোশন/অয়েল লাগান।
▪️ খুব ফ্র্যাগরেন্সি বা হার্শ প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলুন।

✔️ প্রতিদিন ফুল গোসল? নাকি না?

শীতে প্রতিদিন ফুল গোসল বেবির জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে।
▪️ সপ্তাহে ২–৩ দিন ফুল গোসল
▪️ বাকি দিন হালকা গরম পানি দিয়ে ওয়াইপ/মুছে পরিষ্কারই যথেষ্ট।

✔️ গোসলের পর বাড়তি যত্ন

▪️ গোসল শেষে হঠাৎ করে ঠান্ডা রুমে বা খোলা বাতাসে নিয়ে যাবেন না।
▪️ অন্তত ১৫–২০ মিনিট একই রুম টেম্পারেচারে রাখুন—শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে নরমালে আসবে।

🔹 বাড়তি কিছু দারুণ টিপস:

▪️ শীতে গোসল করানোর সময় হিটার বা ব্লোয়ার বেশি কাছে ব্যবহার করবেন না—স্কিন ড্রাই করে।
▪️ গোসলের দিন গোসলের ১৫–২০ মিনিট আগে বেবির শরীরে হালকা অয়েল ম্যাসাজ করলে স্কিন ড্রাই হবে না।
▪️ বাথরুমের মেঝে খুব ঠান্ডা হলে মাদুর/বেবি বাথ ম্যাট ব্যবহার করুন।
▪️ গোসলের সময় কথা বলা/গান গাওয়া—বেবিকে ক্যাল্ম রাখে, শীতের ধাক্কা কম লাগে।

শীতে বাচ্চার সেফ গোসল মানে—দ্রুত গোসল + দ্রুত শুকানো + উষ্ণ রাখানো।

শীতকালকে ভয় না পেয়ে সঠিক নিয়ম মেনে গোসল করালেই বেবি থাকবে সুস্থ, আরামদায়ক আর হাসিখুশি 💛

" মানুষের দেহে এক লক্ষ কিমির নীরব মহাবিশ্ব এবং সেখানে লুকানো আল্লাহর নিদর্শনকখনো কি আমরা নিজের বুকে হাত রেখে ভেবেছি ' আম...
04/12/2025

" মানুষের দেহে এক লক্ষ কিমির নীরব মহাবিশ্ব এবং সেখানে লুকানো আল্লাহর নিদর্শন

কখনো কি আমরা নিজের বুকে হাত রেখে ভেবেছি '
আমাদের ভেতর الآن, এই মুহূর্তে, কী চলছে?
আমাদের অজান্তে, ইচ্ছার বাইরে, শরীরের গভীরে বয়ে যাচ্ছে এক বিস্ময়কর নদী—
রক্তের নদী।
আর সেই নদী ছুটছে এমন এক নালীপথ ধরে,
যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১,০০,০০০ কিলোমিটার।

হ্যাঁ আপনি ঠিক শুনছেন, এক লক্ষ কিলোমিটার!
এতটাই লম্বা যে— চাইলেই পৃথিবীকে আড়াই বার পেঁচিয়ে আসতে পারে।

আমাদের দেহের প্রতিটি কোষ—প্রায় ৩৭ ট্রিলিয়ন কোষ— সকলেই জীবিত শুধু একটি কারণে:
রক্তনালী নামের সেই নীরব সড়কগুলো সবসময়
আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে আল্লাহর ইচ্ছায়।

এই রক্তনালীর তিনটি স্তর:
ধমনী (Arteries) — হৃদয় থেকে রক্ত ছুটে বের হয়
শিরা (Veins) — রক্ত ফিরে আসে হৃদয়ে
কেশিকা (Capillaries) — সবচেয়ে সূক্ষ্ম নালী

প্রতিটি কোষের দরজায় গিয়ে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয়। এর সংখ্যা কয়েক বিলিয়ন,
পুরো নেটওয়ার্কের বড় অংশ কেশিকানালী দিয়ে তৈরি

এ কেশিকাগুলোর ব্যাস মানব চুলের থেকেও ৩০ গুণ পাতলা।
কিন্তু সব মিলিয়ে নেটওয়ার্ক এত বিশাল যে তার দৈর্ঘ্য, একজন মানুষ কখনো চোখে দেখতে পারবে না।
এই নেটওয়ার্ক কে চালায়? আমি তুমিই কি?

আমার তোমার ইচ্ছা কি রক্তনালীর দিক নির্ধারণ করে?
আমি, তুমি ঘুমালে নালী বন্ধ হয়ে যায়?
আমি তুমি তুমি চাইলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়?
আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে এক ফোঁটাতেও?

না।
ভাবুন কুরআনের এই বাণীর তাৎপর্য
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“وَفِي أَنفُسِكُمْ ۚ أَفَلَا تُبْصِرُونَ”
“আর তোমাদের নিজের মধ্যেই (আমার নিদর্শন রয়েছে); তবুও কি তোমরা দেখ না?”

এত সূক্ষ্ম ব্যবস্থা, এত নিখুঁত সমন্বয়—এটা কি কাকতালীয়?

প্রতিদিন আমাদের হৃদয় প্রায় ১,০০,০০০ বার ধুক্‌ ধুক্‌ করে, আর প্রতি মিনিটে প্রায় ৫ লিটার রক্ত পাম্প করে, এই এক লক্ষ কিমির পথচলায়।

এ রক্ত প্রতিদিন আমাদের দেহে প্রায় ৭২,০০০ বার ভ্রমণ করে ,যেন একটি অবিরাম সার্কিট।
আমারা ঘুমায়, হতাশ হয়, কাঁদি, আনন্দ করি—
সবই চলে, কিন্তু রক্তের স্রোত থেমে থাকে না।

বিজ্ঞানীরা বলেন—
যদি রক্তনালীর ব্যাস ৫% হলেও কম-বেশি হয়ে যেত, মানবজাতি বেঁচে থাকতে পারত না।

একটি ছোট কেশিকা যদি বন্ধ হয়ে যায় চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। একটি ক্ষুদ্র আর্টারি ফেটে গেলে মানুষ মুহূর্তে মৃত্যুর মুখে চলে যায়। এতোই নাজুক আমরা।

আর এই নাজুকতাকেই রক্ষা করে
আল্লাহর অসীম রহমত।

“فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ؟”
তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?

চিনির পরিবর্তে আমরা খাচ্ছি মেগনেসিয়াম সালফেট???"এমন কোনো রোগ নাই যা আমাদের হবে না"শুনুন তাহলে বিষ+বিষ এর ভয়াবহ কাহিনী যা...
30/11/2025

চিনির পরিবর্তে আমরা খাচ্ছি মেগনেসিয়াম সালফেট???
"এমন কোনো রোগ নাই যা আমাদের হবে না"

শুনুন তাহলে বিষ+বিষ এর ভয়াবহ কাহিনী যা আমদের খাওয়ানো হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘন চিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) হাজার হাজার টন আমদানি হয়ে দেশে ঢুকছে কিভাবে? অনেক দিনের চেষ্টায় ক্লু পেয়ে গেলাম বণিক বার্তা পত্রিকার এক সংবাদে। সাইট্রিক এসিড নামে আমদানি হচ্ছে এই বিষ। দেয়া হচ্ছে, মিষ্টি, বেকারি আইটেম, আইসক্রিম, বেভারেজ, জুস, চকোলেট, কন্ডেন্সড মিল্ক প্রভৃতি মিষ্টি
জাতীয় খাদ্য দ্রব্যে।

চিনির চেয়ে প্রায় পঞ্চাশ গুণ বেশি মিষ্টি এই ঘন চিনি পৃথিবীর অনেক দেশেই নিষিদ্ধ। ক্যান্সার, কিডনি বিকল, হজম শক্তি হ্রাস সহ নানাবিধ জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে এই চিনি।
সাইট্রিক এসিড এর মত দেখতে হুবহু এক রকম বলে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি সহজেই সাইট্রিক এসিড নামে ও কোডে ঘন চিনি আমদানি করছে।

সোডিয়াম সাইট্রেট দেখতেও ঘন চিনির মত দেখতে। সাইট্রিক এসিড এবং সোডিয়াম সাইট্রেট নামে আসছে নিষিদ্ধ বিষ ঘন চিনি। বণিক বার্তার সাংবাদিক ভাই খবর দিলেন মিটফোর্ডে দুই রকম
ঘন চিনি বিক্রি হয়। একটা পিউর অন্যটা ভেজাল মিশ্রিত। পিউর ঘন চিনি কেজি ২২০ টাকা হলে ভেজাল ঘন চিনি ১৪০ টাকা কেজি। মাথাটা ঘুরে গেল!! বিষের সাথে বিষ! সেখানে সংবাদ নিলাম কম দাম বিধায় এই ভেজাল ঘন চিনির বিক্রি সর্বাধিক। সবাই গাড়ি ভর্তি করে এই ভেজাল ঘন চিনি নিয়ে যায় বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে দেয়ার জন্য।
ভেজাল মিশাতে হলে তো ঘন চিনির মতই অন্য কোন একটি দ্রব্য মেশাতে হবে, যার দাম হবে খুব কম এবং মিষ্টি অথবা টেস্টলেস হতে হবে। কি হতে পারে তা?? দুই দিন ঘুমাতে পারিনি। সমানে পারমুটেশন কম্বিনেশন করতে লাগলাম। কি সেই আইটেম? কেউ বলে না। গুগলে ঘন চিনির ছবি
বের করে তার সাথে মিল রেখে খুঁজতে লাগলাম আইটেম।
হটাত মাথার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকে উঠল। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না, কি করে সম্ভব!! আমার এক ভাই সার (ফার্টিলাইজার) বিক্রি করে। তাকে বললাম, “চিনির মত দানাদার সার কি আছে
রে?” ইউরিয়া? না ইউরিয়া গোলাকার এবং খুব খারাপ স্বাদ। আর কি আছে? আচ্ছা ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার? ভাই আমার
লাফ দিয়ে উঠল!! হ্যাঁ ভাই, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার দেখতে চিনির মত দানাদার, দাম কম ১৫/২০ টাকা কেজি এবং স্বাদহীন।
এবার আমি লাফ দিয়ে উঠে গুগলে ছবি দেখলাম। ঘন চিনি এবং ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার দেখতে একই রকম। বিশ্বাস হচ্ছিল
না, যে আমাদের সার খাওয়াচ্ছে আর একটি বিষের সাথে। সেই সাংবাদিক ভাইয়ের দ্বারা মিটফোর্ড থেকে ভেজাল এক কেজি সার কিনে আমি সরকারীভাবে চিঠি দিয়ে ১০০ গ্রাম নমুনা
পরীক্ষার জন্য পাঠালাম সরকারী ল্যাব (সারের জন্য) খামার বাড়ির মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউটে। ঘুম হারাম হয়ে গেল আমার টেনশনে। রিপোর্ট পেলাম সেই ঘন চিনির নমুনায়
ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার পাওয়া গেছে।
যা সন্দেহ করেছি তাই। সেই সার মিশ্রিত ঘন চিনির প্যাকেট বা নমুনা না দেখেই এত হাজার লাখ আইটেমের মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার কিভাবে নির্বাচিত করলাম, তা সত্যিই হবাক হবার বিষয়!!

কয়েকজন বিজ্ঞানী রসায়নবীদকে জিজ্ঞাস করলাম, সার খেলে কি হয়? তাঁরা হতবাক হয়ে গেলেন। কেন সার খাবেন কেন? আমি
বললাম, যদি খাই। ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার সাথে ঘন চিনি!! হেসে তাঁরা উত্তর দিলেন, "ভাই আপনার শখ লাগলে আপনি খান। তবে দুনিয়ার কোন অসুখ থেকে বাদ যাবেন না এবং প্রথম
শেষ হবে বাচ্চারা"।
নানা ধরণের মিষ্টি জাতীয় খাদ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক বিষ ঘন চিনির সাথে আর এক বিষ রাসায়নিক সার ম্যাগনেসিয়াম সালফেট খেয়ে আমাদের পরিণতি কি হচ্ছে?? পৃথিবীর কোথাও আছে মানুষকে সার খাওয়ানোর উদাহরণ??
কোথায় আছি আমরা? কোথায় আমাদের গন্তব্য?

Ref Dr Ashim Datta

[ সবার জন্য লেখাটা পড়া ফরজ। ইয়ং ছেলে মেয়েরা টুপটাপ মরে যাচ্ছে - তার কারণ ] চর্বি  ভাল না খারাপ.....আমরা যারা চল্লিশ  বা ...
21/11/2025

[ সবার জন্য লেখাটা পড়া ফরজ। ইয়ং ছেলে মেয়েরা টুপটাপ মরে যাচ্ছে - তার কারণ ]

চর্বি ভাল না খারাপ.....আমরা যারা চল্লিশ বা চল্লিশ ছুই..ছুই....

ছবিটা TG র মলিকিউলার বন্ডিং

ডায়েট সিরিজ: Transfat/ট্রান্সফ্যাট
গোরুর মাংস/চর্বি? সয়াবিন তেল? কতটুকু খারাপ ? নাকি ভালো? নাকিদুটোই ভালো?
=================
চর্বির কারণে বুকে কি ব্লক হয়? নাকি হয় না? কতটুকু পর্যন্ত এলাউড? আসুন ডিটেইলস এ যাই।
=================
চর্বির অনেক প্রকারভেদ আছে। চর্বি মানেই খারাপ না। চর্বি বা তেল একটা ন্যাচারাল খাদ্য। মানুষ হাজার বছর ধরে খেয়ে আসছে, এটা সাদা চিনির মত না। তখন কিন্তু কারো বুকে ব্লক হয়নি কিন্তু গত ১০০ বছর ধরে হচ্ছে। কারণ কী?
=============

১. প্রথমে আসি কোলেস্টেরল প্রসঙ্গে। কোলেস্টেরল হলো চর্বি/তেলের সেই অংশ, যা বুকের আর্টারিতে জমে ব্লক হয় কিন্তু কোলেস্টেরলের প্রকারভেদ আছে। শুধুমাত্র এলডিএল কোলেস্টেরলটা খারাপ যেটা যেটা বুকে জমে কিন্তু অন্য কোলেস্টেরল (যেমন: এইচডিএল) কিন্তু খারাপ না, ওগুলো বুকে জমে না। এইচডিএল কোলেস্টেরল তো ভালো কোলেস্টেরল, যেটা খারাপটাকে ধ্বংস করে।

তাহলে, আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, যে আপনি যেন খারাপ কোলেস্টেরলটা (এলডিএল) লিমিট করতে পারেন, মানে কম খান। আর কিছু না।

২. তেল বা চর্বির দুই নাম্বার কনসার্নড জিনিস হলো স্যাচুরেটেড ফ্যাট। মানে ফ্যাট পরমানুটার কার্বন লিংকে হাইড্রোজেন বসে এটা স্যাচুরেটেড হয়ে গেছে, কোনো জায়গা খালি নাই তার। এই স্যাচুরেটেড ফ্যাটের একটা ছোট অংশ 'খারাপ কোলেস্টেরল' এ পরিণত হয়, হজমের পর। তাই এটা কম খেতে হবে। লিমিটটা পরে বলছি।

৩. এবার আসে সবচেয়ে বিষাক্ত ফ্যাট এ। যেটা ন্যাচারাল না। যেটা সমগ্র পৃথিবীতে বুকে ব্লকের অন্যতম প্রধান কারণ। সেটা হলো ট্রান্সফ্যাট।
দুটো স্যাচুরেটেড ফ্যাট অনু যুক্ত হয়ে এই ট্রান্সফ্যাট হয়। মানে এটা ডাবল স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এটা ন্যাচারালি কোনো তেলেই সেভাবে থাকে না। ট্রেস এমাউন্ট থাকে, যেটুকু মানুষের ক্ষতি করে না।

কিন্তু এই ফ্যাট ডাইরেক্ট বুকের ভিতরে গিয়ে জমে ব্লক হয়। সামান্য একটু খেলেই ব্লক। এটা একই সাথে 'খারাপ কোলেস্টেরল'কে বৃদ্ধি করে, আবার ভালো কোলেস্টেরলকে কমিয়ে দেয়। একই সাথে এই ট্রান্সফ্যাট ইনফ্ল্যামেটরি। মানে যেখানে জমে , সেই জায়গাটা ফুলে যায়।

মানে সামান্য একটু ট্রান্সফ্যাট মনে করেন বুকের আর্টারিতে গিয়ে জমলো। মনে করেন ১০% ব্লক হবার কথা কিন্তু এটা ফুলে গিয়ে (ভলিউম এক্সপ্যানশন) ৩০% হয়ে যাবে আরকি।

তার মানে নরমালি ৬০% কে সে ফুলিয়ে ১০০% ব্লক করে আপনাকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে দিবে।

তার মানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যাট , হলো ট্রান্সফ্যাট। অন্যগুলো কম ঝুঁকিপূর্ণ। ওকে?

আগে সাদা চিনিকে বিষ বলছিলাম। হ্যাঁ, তা বিষ, কিন্তু যখন বেশি হয়, ২ - ৩ চামচ ওকে, WHO বলছে ৬ চামচ পর্যন্ত ওকে। সাদা চিনি হলো স্বল্প মাত্রার বিষ: বিষ এ ধুতুরা।

সেই তুলনায় ট্রান্স ফ্যাট হলো: বিষ এ সায়ানাইড। জাগাত খাইবেন, জাগাত বুকে ব্লক।
=============

তো, USDA/FDA এর লিমিট অনুযায়ী ট্রান্সফ্যাট এর দৈনিক লিমিট হলো মাত্র ২.০ গ্রাম। মানে এর বেশি খেলেই বুকে ব্লক হবার সম্ভাবনা তৈরী হবে।

=============
কিন্তু আমরা কতটুকু খাচ্ছি? আর কতটুকু গোরু থেকে খাচ্ছি? কতটুকু সয়াবিন থেকে খাচ্ছি? আর এই ট্রান্সফ্যাট কেন আমাদের ফুড সাইকেল এ আসলো? এটা তো সায়ানাইড। উচ্চ মাত্রার বিষ। এমনটা তো হবার কথা না, তাই না?
=============
ঘটনা হলো এই: গত শতাব্দীতে সয়াবিনসহ সকল ভোজ্য তেল ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড প্রডাকশনে যায়। তো ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু তেল তৈরী করে মেশিনে, ঘানি ভাঙ্গা তেলের মত না ওইটা।

ইন্ডাস্ট্রি তেলকে সুন্দর, ঘন এবং বহুদিন স্বাদ গন্ধ অপরিবর্তীত রাখার জন্য এর সাথে হাইড্রোজেন গ্যাস মিশায়।

'যেকোনো তেল + ক্যাটালিস্ট + বায়বীয় হাইড্রোজেন' = ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড ভোজ্য সয়াবিন/ক্যানোলা/ সানফ্লাওয়ার তেল, যেটা আমরা খাই এখন।

তা সয়াবিন হোক বা ক্যানোলাই হোক বা সানফ্লাওয়ারই হোক। তারা কিন্তু হাইড্রোজেন মিশিয়ে এটাকে বিষাক্ত করে। কারণ প্রসেসটায় গেলে ব্যাপক লাভ হয়, মাস প্রডাকশনে যাওয়া যায়, মানুষ কিনেও। ঘানিভাঙ্গা তেল মাত্রাতিরিক্ত তরল (সান্দ্রতা কম) হয়, বেশি দিন থাকে না, তাই ইন্ডাস্ট্রি সেটা পছন্দ করে না। ইন্ডাস্ট্রি বাহির থেকে এক্সট্রা হাইড্রোজেন মিশায়। মনে করেন, ওই হাইড্রোজেন হলো বায়বীয় ফরমেটের ফরমালিন আরকি।

ইন্ডাস্ট্রির উদ্দেশ্য, হয়তো খারাপ না, একটু বেশি টাকা কামানো। কিন্তু .....

কিন্তু যখন নরমাল আনস্যাচুরেটেড তেলের সাথে আপনি হাইড্রোজেন মিশাবেন, তখন ওই তেলের একটা বড় অংশ ট্রান্সফ্যাট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট হয়ে যায়। ওই হাইড্রোজেন পরমানু, কার্বন লিংকের ফাঁকা জায়গায় বসে গিয়ে।

স্যাচুরেটেড ফ্যাট একটু খারাপ কিন্তু ট্রান্সফ্যাট তো পুরা সায়ানাইড, রাইট?

প্রতি দশ গ্রাম তেলে ৪ - ৫ - ৬ গ্রামই ট্রান্সফ্যাট হয়ে যেতে পারে, ডিপেন্ড করে, আপনি কী পরিমাণ হাইড্রোজেন গ্যাস মিশালেন, তার উপর।

ট্রান্সফ্যাট আরও এক ভাবে হয়, সেটা হলো বাহিরে দোকানে যখন একই তেলে দিনের পর দিন সিঙ্গারা -সামুচাসহ সব কিছু ভাজা হয়। যেটাকে আমরা পোড়া তেল বলি। তেল বেশি পুড়লে, বাতাসের হাইড্রোজেন এর সাথে বিক্রিয়া করে তা ট্রান্সফ্যাট হয়ে যায়। কাজেই বাহিরের ভাজা - পোড়া খাবার যাবে না। না পারলে, বাসায় বানিয়ে খান।

============

২০০৬ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় লক্ষ লক্ষ লোক বিনা কারণে হার্ট এটাক হয়ে মারা যাবার মূল কারণ হিসেবে ভোজ্য তেলে এই ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতিকে দায়ী করা হয়। বিজ্ঞানীরা এটাকে বের করেন এবং আমেরিকান সরকারকে ব্যাপক চাপ দেন।

পরে আমেরিকান সরকার চাপে পড়ে ২০০৬ সালে নতুন আইন করে, সেটা হলো, ভোজ্য তেলকে হাইড্রেজেনেটেড করতে গেলে খুব কম করতে হবে, বা করা যাবে না। প্রতি তেলের ডিব্বায় ট্রান্সফ্যাটের এমাউন্ট উল্লেখ করে দিতে হবে। না হলে একশন। তেল ব্যবসা লাটে উঠেনো হবে, এফডিএ একশনে যাবে।

সরকারি চাপে পড়ে তেল কোম্পানিগুলো ডিল করে, যে তারা প্রতি সার্ভিং তেলে ০.৫ গ্রামের কম ট্রান্সফ্যাট দিবে এবং ০.৫ গ্রামকে রাউন্ডিং করে তারা লিখবে ০.০ গ্রাম। হোয়াট আ ফান? প্রতি সার্ভিং তেল মানে মাত্র ১৫ গ্রাম তেল। মানে আমেরিকায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত তেলগুলোতে প্রতি ১৫ গ্রামে ০.৫ গ্রাম ট্রান্সফ্যাট থাকে। মানে ১০০ গ্রামে ৩.৫ গ্রাম । চিন্তা করেন, শতকরা ৩.৫ % ট্রান্সফ্যাট আছে, তেলে কিন্তু লেখে ০ গ্রাম। কত বড় বাটপারি? হায় আমেরিকান লবি।

আমেরিকা তাও ভালো , আগে হয়তো ২০-৩০% ট্রান্সফ্যাট ছিল, ওইটা কমিয়ে ৩.৫% করছে।

কিন্তু বাংলাদেশ কী করছে? বাংলাদেশে তো কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই সরকারের, কোনো আইন বা তার প্রয়োগও নাই।

তার মানে বাংলাদেশে যখন আমরা বাহিরের খোলা তেল খাচ্ছি, সামান্য একটু তেল থেকেই দিনে হয় ৮ - ১০ - ১২ গ্রাম ট্রান্সফ্যাট খাচ্ছি, যেখানে দৈনিক লিমিট হলো ২ গ্রাম। তার মানে কোনো গোরু না খেয়েই , জাস্ট তেলতেলা সবজি - তেল - পরোটা - সিঙ্গারা - সামুচা খেয়েই আমাদের অল্পবয়সে বুকে ব্লক হচ্ছে, সয়াবিন তেলে থাকা এই ট্রান্সফ্যাট এর জন্য। বাই দ্যা ওয়ে, আমেরিকানদের ডেটা অনুযায়ী একজন এভারেজ আমেরিকান, ১৯৯৬ - ২০০৬ সালে দিনে ৬ গ্রাম ট্রান্সফ্যাট খেয়েছেন এবং লাখে লাখে লোক হার্ট এটাক হয়ে মারা গেছেন। এখন অবশ্য সবাই ব্যাপারটা জানে, সরকারও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশে আমরা কিন্তু সব দোষ ওই নিরীহ গোরু - খাসিকেই দিচ্ছে। নিরীহ অবলা এই প্রাণীটির একটু চর্বি আছে, তাতে কিছুটা কোলেস্টেরল, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ট্রান্সফ্যাটও আছে কিন্তু এত বেশি না কিন্তু, একটু কম।

আর মানুষ কিন্তু গোরু - খাসি প্রতিদিন খায় না কিন্তু ভোজ্য তেল কিন্তু প্রতিদিন খায়। USDA এর রেকমেন্ডেশন হলো সপ্তাহে ৩৫০ গ্রাম গোরু/খাসও খেলে কোনো সমস্যা নাই। শর্ত হলো, এই গরুতে অতিরিক্ত ফ্যাট (যেটা সিনার মাংস, ৩০% ফ্যাট) হতে পারবে না। নরমাল লিন মাংস (যেমন রানের মাংস, ১০% ফ্যাট) হতে হবে।

মানে গোরু যদি সপ্তাহে একদিন, ২ বেলা মিলে ৩৫০ গ্রাম খান, চর্বির দলাগুলো না খান, তাহলে তাতে হার্টে ব্লক হবার সম্ভাবনা নেই। মানে প্রায় ১০ টুকরা, মাঝারি পিছ, প্রতি বেলা ৫ পিছ। এর বেশি খেলে ব্লক হবার ঝুঁকিতে পড়বেন। এভাবে আজীবন খেলেও কোনো ব্লক হবার কথা নয় (ইউ এস হার্ট এসোসিয়েশন)। যদি চর্বি বেশি ওয়ালা মাংস খান, তাহলে পরিমাণ ১৫০ গ্রাম খাবেন, সপ্তাহে একবার।(৪ - ৫ পিছ)

আমি দেখি না, এভারেজে সবাই এত গোরু/খাসি খায়। খেয়াল করলে দেখবেন, বুকে ব্লক এখন লোকজনের খুব বেশি হচ্ছে। সেসব মানুষেরও হচ্ছে, যাঁরা তেমন গোরু কিন্তু খায় না কিন্তু ওই ভোজ্য তেল, ওই ভাজা পোড়া, ওই সিঙ্গারা - সামুচা, তেল সমৃদ্ধ তরকারী তারা খায়। খুব সম্ভবত: তেলে থাকা ট্রান্সফ্যাট থেকেই, যারা গোরু খায় না, তাদেরও বুকে ব্লক হচ্ছে।

এনিওয়ে, ব্রান্ডের কোম্পানির সয়াবিন তেলে ট্রান্সফ্যাট কতটুকু থাকে, বাংলাদেশে? আমি জানি না। একটু কম হওয়ার কথা। যদি লেখা থাকে, প্রতি সার্ভিং এ ট্রান্সফ্যাট ০ গ্রাম, তাহলে সর্বনিম্ন পরিমাণ আছে, মানে ০.৫ গ্রাম আছে। কিছুটা সেইফ কিন্তু তাও বেশি খেতে পারবেন না। দিনে ৪০ গ্রামের বেশি ওই তেল পেটে গেলে প্রবলেম। তবে বাহিরের ভাজা পোড়া থেকে অনেক ভালো হবে আশা করি।

=======

এবার ডাইরেক্ট ভ্যালু দিচ্ছি। USDA/Canada রিকমেন্ডেশন অনুযায়ী, দিনে ৩০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল খেলে তা সেইফ, মানে সপ্তাহে ২১০০ মিলিগ্রাম। দিনে ১২ গ্রাম (সপ্তাহে ৮০ গ্রাম) স্যাচুরেটেড ফ্যাট খেলে তা সেইফ। আর ট্রান্সফ্যাট? দিনে মাত্র ২ গ্রাম (মানে সপ্তাহে ১৪ গ্রাম) এর বেশি খেলেই বুকে ব্লক। যদি দীর্ঘকাল খেতে থাকেন। তবে কোনো কোনো এজেন্সি বলেছে, ট্রান্সফ্যাট সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দিতে কিন্তু এটা সম্ভব না। কারণ বাণিজ্যিক ভোজ্য তেলে একটু থাকেই, ট্রেস এমাউন্ট।

=========

এখন গোরু - খাসি যদি সপ্তাহে ৩৫০ গ্রাম খান, তাহলে এই লিমিট ক্রস করবে না। আপনি ইন শা আল্লাহ সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবেন কিন্তু সপ্তাহে এর বেশি খান, তাহলে ঝুঁকিতে পড়বেন। এখন আপনি একদিনেই ৩৫০ গ্রাম খাবেন, নাকি ২ - ৩ দিন মিলে ৩৫০ গ্রাম খাবেন , তা আপনার ব্যাপার, ওকে?

গোরু-খাসির মাংস আসলে রেড মিট, খুব পুষ্টিকর খাদ্য। এতে প্রচুর পরিমাণ আয়রণ, জিংক, ফসফরাস, লিপয়িক থাকে। শরীর খুব সুস্থ থাকবে, ব্রেনে - মাসলে শক্তি পাবেন, যদি এই লিমিটে খেতে পারেন। সুন্নাহ তো। খালি বেশি খেলে প্রবলেম হবে। বেশি খাবেন না কিন্তু বাদ দিবেন না, দুর্বল হয়ে যাবেন কিন্তু।

গরুর দুধ: যদিও এটাতে যথেষ্ট ফ্যাট থাকে কিন্তু ট্রান্সফ্যাট নেই, স্যাচুরেটেড ফ্যাটও কম। দিনে এক কাপ পর্যন্ত অসুবিধা নেই। দুধে আছে ক্যালসিয়াম, অনেক পুষ্টি এবং ভিটামিন ডি। মাঝে মধ্যে হলে নো প্রবলেম। দুধ থেকে আসা চিজ খেতে চান? দিনে একটা স্লাইস (৩০ গ্রাম) হলে, নো প্রবলেম।

ঘি: খুব ঝুঁকিপূর্ণ। প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। ইন্ডাস্ট্রি থেকে আসলে ট্রান্সফ্যাট থাকবে। তেল যত ঘন বা সলিড হবে, তত খারাপ হবার সম্ভাবনা।

=========
তার মানে বাংলাদেশের হার্ট এটাকের অন্যতম প্রধান কারণ হলো আসলে ভোজ্য তেল, সয়াবিন/অন্যান্য তেল এ থাকা মাত্রাতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট। যেটা সামান্য খাবার কারণেই দৈনিক লিমিট ক্রস করে যাচ্ছে এবং মানুষ হার্ট এটাকের শিকার হচ্ছে মাত্র ৩০ - ৪০ - ৫০ বছর বয়সেই।

আর দোষ হচ্ছে, সব ওই নিরীহ অবলা গোরুর উপর। যদিও গোরু কিছুটা দায়ী। কারণ অনেকে বেশি গোরু খায়, আর খালি চর্বি খায়, ঝোল খায়। গোরুর সাথে যে ঝোল থাকে সেটা কিন্তু আবার সয়াবিন তেলে ভরা, গোরুর চর্বি থেকে ওইটা বেশি খারাপ।

কাচ্চি কেমন খারাপ? কাচ্চিতে তো মাংস কম থাকে কিন্তু যেই তেলটা পোলাউয়ের সাথে থাকে ওইটা খারাপ। ওইটার মধ্যে খালি ট্রান্সফ্যাট আর ট্রান্সফ্যাট, যদি বাহিরে হয়। একবার বাহিরে কাচ্চি খাইছেন মানে আগামী ১ মাস: নো মাংস।
=========

তাহলে এখন কীভাবে চলতে হবে?

এক. গোরু - খাসি'র রানের মাংস বা অন্য অঞ্চলের চর্বি ছাড়া মাংস খাওয়া যাবে কিন্তু লিমিট হলো সপ্তাহে ৩৫০ গ্রাম পার পার্সন। একটু আধটু চর্বি আসলে সমস্যা নাই। খালি চর্বির দলাগুলো বা মাংস - চর্বির ৫০ - ৫০ মিক্স পিসগুলো ফেলে দিবেন।

দুই. আমরা প্রচুর ঝোল খাই। সমস্যা হলো ঝোলে তো ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ তেল থাকে। ওই তেলের ট্রান্সফ্যাট হল বিশাল প্রবলেম। কাজেই ঝোল খাবার হবে খুব কম, জাস্ট কোনোরকম ভাতকে ভিজানো। পানি বেশি দিয়ে ঝোল বেশি করতে পারেন কিন্তু তেলের পরিমাণ হবে, প্রতি লিটারে ৫০ - ৬০ মিলি লিটার। তেল কমিয়ে, মসলা একটু বেশি দিয়ে হলেও তরকারী রাঁধতে হবে।

তিন. যিনি রাঁধবেন, তাকে বলে দিবেন যেন গোরু - খাসি'র মাংসে খুব কম তেল দেয়। প্রতি কেজিতে মাত্র ৫০ - ৬০ এম এল এনাফ। এরপর যখন রান্না হয়ে যাবে, তখন তেলটা উপরে ভেসে উঠে কিন্তু, ভেসে উঠলে ফেলে দিবেন। ডালে, তরকারীতেও তেল কম দিতে হবে, প্রতি লিটারে ৫০ - ৬০ এম এল

চার. বাহিরের ভাজা পোড়া খাবেন না। সিঙ্গারা - সমুচা - পরোটা এসব যদি খেতেই হয়, প্রয়োজনে বাসায় করে খাবেন, মাসে ১ - ২ বার কিন্তু বাহিরে না। বাহিরে খোলা তেল দেয়, ওতে ট্রান্সফ্যাট মাত্রাতিরিক্ত বেশি। আর তেলকে পোড়ালে সেটা বাতাসের সাথে বিক্রিয়া করে নিজে নিজে ট্রান্সফ্যাট হয়ে যায়। কাজেই যখন বাহিরে পোড়া তেল খাচ্ছেন, ডাইরেক্ট সায়ানাইড খাচ্ছেন।

পাঁচ. ফাস্ট ফুডে কিন্তু খারাপ ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ তেল দিয়েই ভাজে সব কিছু। কাজেই ফাস্ট ফুড থেকে চিকেন ও খাবেন না, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও খাবেন না। বাসায় করে খান, দরকার পড়লে। কারণ, বাসায় তো আপনি ব্র্যান্ডের তেল খাচ্ছেন, যেটাতে ট্রান্সফ্যাট লিমিটেড।

ছয়. বাহিরে যদি খেতেই হয়, তাহলে রুটি - ভাত - রান্না করা মাছ মাংস এইসব খাবেন কিন্তু ভুলেও তেলে ভাজা কিছু খাবেন না। সাধারণভাবে ঘরে খাবেন। কাচ্চি - পোলাউ - গোরু - মুরগি খেতে ইচ্ছে করছে? বাসায় নিজে রান্না করে খান।

সাত. চিংড়ি মাছে, গোরু - খাসি'র ডাবল কোলেস্টেরল থাকে। কাজেই চিংড়ি মাছ খেতে পারবেন 200 গ্রাম, প্রতি সপ্তাহে। এর বেশি নয়। তেলাপিয়া মাছে মার্কারি - লেড - ক্রোমিয়াম জমে, বিষাক্ত, বাদ। সামুদ্রিক মাছ খেলে খুব ভালো। সামুদ্রিক মাছের তেল ব্লক খুলে দিবে, তাই বেশি বেশি সামুদ্রিক মাছ খান, চিটাগাং এ থাকার সুবিধা। নদী - পুকুরের মাছও ভালো। মাছের তেল হলো ভালো তেল, এইচডিএল থাকে।

=========

যদি এমন কোনো উৎস থেকে সয়াবিন তেল সংগ্রহ করতে পারেন, যিনি হাইড্রোজেনেটেড করেন না, জাস্ট নরমাল ঘানিভাঙ্গা, তাহলে সেই তেল বেশি একটু খেলেও প্রবলেম নেই, বড়জোর ভুঁড়ি হবে কিন্তু বুকে ব্লক হবে না। ওতে ট্রান্সফ্যাট থাকে না। তবে ওই তেল একটু পাতলা, সংরক্ষণ অসুবিধা। মানুষ কিনতে চায় না।

সরিষা? সরিষা যদি হাইড্রোজেনেটেড না করে, নরমাল ঘান ভাঙ্গা না হয়, কিছুটা সেইফ। প্রমাণ: বাপ - দাদারা সব সরিষাই খেতো। তবে সমস্যা হলো, সরিষায় আবার মাটিতে থাকা মার্কারি - লেড এইসব শোষণ করে। বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ায় এখন যেখানে সেখানে অনেক ইন্ডাস্ট্রি হয়েছে, যেখান থেকে মার্কারি - লেড মাটিতে চলে যাচ্ছে। যদি সরিষা এমন মাটিতে হয়, তাহলে সেটা সেইফ না; এটা বের করা সম্ভব না, যে সরিষা কোন মাটিতে হচ্ছে। । কাজেই আমি রিকমেন্ড করি না। আর ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরিষা আসলে ওইটাও হাইড্রোজেনেটেড হবে।

হাইড্রোজেনেটেড না হলে, সরিষা বা সয়াবিন, দুইটাই এক।
আমেরিকান তেল, যেখানে ৩.৫% ট্রান্সফ্যাট থাকে, সেখানে দিনে মাত্র ৩০ গ্রাম সয়াবিন বা ভোজ্য তেল সেইফ । বাংলাদেশে এর থেকে কম হবে, কারণ ট্রান্সফ্যাট বেশি, কত বেশি জানি না, তাই লিমিট দিতে পারছি না। কাজেই জাস্ট তরকারীর তেল বেশ কম খেতে হবে।

=======

প্রসঙ্গত, মেজবানী খাবার: চট্টগ্রামের ভাইরা:

মেজবানীতে অনেক জায়গায় (হোটেলের) গোরুর কোনো কিছু ফেলা হয় না, পুরো গোরু সব চর্বি সহ পাক করে ফেলে, খেতে চরম স্বাদ হয়। তার উপর আছে, গোরুর কলিজা, যেটাতে লেড - মার্কারিসহ সব বিষ জমা হয়। এতে আরও আছে, বাজারের ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ সয়াবিন তেল, কাজেই একটা ব্যাপক বিষাক্ত। কাজেই হোটেলের মেজবানী কিন্তু পিউর সায়ানাইড, বাদ দিবেন। খাবেন না, খাওয়াবেন না।

গ্রামীণ মেজবানী, তেল পরিমিত হলে, ঝুঁকি কম।

=========
শেষকথা: যদি ভাজাপোড়া বেশি খান, বেশ তেল সমৃদ্ধ খাবার খান, তাহলে কিন্তু সিক্সপ্যাক নিয়েও আপনার ব্লক হতে পারে। ট্রান্সফ্যাটের কারণে, স্যাচুরেটেড ফ্যাটের কারণে। কারণ আপনি ক্যালরি মেইন্টেইন করেই খাচ্ছেন কিন্তু ট্রান্সফ্যাট গিয়ে সব জমছে হার্টের আর্টারির মধ্যে।

তার মানে বাংলাদেশের জন্য কিটো ডায়েট কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ, চিকন হবেন, বাট বুকে ব্লক হবে। যদিও বাংলাদেশে ট্রান্সফ্যাট মেন্টেন করে না সরকার। শুধু দুধ দিয়ে করলে ঝুঁকি কম।

=========
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুকে ব্লক হওয়া থেকে বাঁচাক। আমিন।

জাযাকাল্লাহু খায়রান

[ সংগৃহীত ]

Address

Ahmednagar, Moddho Paikpara, Paikpara Science Lab, Kakoli Road, Mirpur 1
Dhaka
1216

Opening Hours

09:00 - 12:00

Telephone

+8801519221155

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. SM Fuad's Homeopathy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram