25/02/2026
নিত্য প্রয়োজনীয় জরুরী দোয়া সমূহ।
১. রাতে ঘুমাবার দোয়াঃ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা বিসমিকা আমূতু ওয়া আহইয়া।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তোমারই নামে আমি মৃত্যুবরণ করছি এবং তোমারই দয়ায় পুনরায় জীবিত হব’।
∆ মিশকাতঃ ২২৭২।
২. ভাল স্বপ্ন দেখলে করণীয়ঃ
🔹️ ‘আল-হামদু লিল্লাহ’ পড়া।
🔹️ সুসংবাদ গ্রহণ করা।
🔹️ প্রিয় ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করা।
৩. মন্দ স্বপ্ন দেখলে করণীয়ঃ
🔸️ ‘আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম’ তিন বার পড়া।
🔸️ বাম দিকে তিন বার থুথু ফেলা।
🔸️ পার্শ্ব পরিবর্তন করে শোয়া।
🔸️ কারো কাছে প্রকাশ না করা।
∆ মিশকাতঃ ৪৪০৮।
৪. ঘুম থেকে উঠার পর দোয়াঃ
উচ্চারণ: আল-হামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না বা‘দা মা আমা-তানা ওয়া ইলাইহিননুশূর।
অর্থ: ‘সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর জীবিত করলেন এবং ক্বিয়ামতের দিন তাঁরই নিকটে সকলকে ফিরে যেতে হবে।
∆ মিশকাতঃ ২২৭২।
৫. টয়লেটে প্রবেশের দোয়াঃ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল খুবছি ওয়াল খাবা-ইছ।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি মন্দ কাজ ও শয়তান থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’।
∆ মিশকাতঃ ৩১০।
৬. শৌচাগার হতে বের হওয়ার দোয়াঃ
উচ্চারণঃ গুফরা-নাকা।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তোমার নিকট ক্ষমা চাই’।
∆ মিশকাতঃ ৩৩২।
৭. খাবার গ্রহণের সময় দোয়াঃ
‘বিসমিল্লাহ’ বলে ডান হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করতে হবে।
∆ মিশকাতঃ ৩৩২।
নিম্নের দো‘আটিও পড়া যায়ঃ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা বা-রিক্ লানা ফীহি ওয়া আত্ব‘ইম্না খাইরাম্ মিন্হু।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে এতে বরকত দিন, ভবিষ্যতে আরো উত্তম খাদ্য দিন’
∆ মিশকাতঃ ৩৯৮০।
প্রথমে ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে ভুলে গেলে নিম্নের দো‘আটি পড়তে হয়ঃ
উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি আউওয়ালাহূ ওয়া আ-খিরাহূ। অর্থ: ‘আল্লাহর নামে খাওয়ার শুরু ও শেষ’।
∆ মিশকাতঃ ৪০২০।
৮. খাবার শেষে দো‘আঃ
উচ্চারণ: আল-হামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ব‘আমানী হা-যাত্ ত্বা‘আ-মা ওয়া রাযাক্বানীহি মিন্ গাইরি হাওলিম্ মিন্নী ওয়া লা কুউওয়াতিন।
অর্থ: ‘সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা যিনি আমাকে পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা ছাড়াই খাওয়ালেন ও রূযী দান করলেন।
∆ তিরমিযিঃ ৪১৪৯।
৯. দুধপান করার সময় দো‘আঃ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা বা-রিক্ লানা ফীহি ওয়া ঝিদ্না মিনহু।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে এতে বরকত দিন, ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি করে দিন’।
∆ মিশকাতঃ ৪০৯৮।
১০. মেজবানের জন্য মেহমানের দো‘আঃ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা বা-রিকলাহুম ফীমা রাঝাক্বতাহুম ওয়াগফিরলাহুম ওয়ার হামহুম।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছ তাতে তুমি বরকত দান কর, তাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং তাদের উপর রহমত বর্ষণ কর’।
∆ মিশকাতঃ ৪০৯৮।
১১. দরজা-জানালা বন্ধের সময় পঠিত দো‘আঃ
জাবের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ঘরের দরজা সমূহ বন্ধ কর, আর ‘বিসমিল্লাহ’ বলে তোমাদের মশকের (পানির পাত্র) মুখ বন্ধ কর এবং ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাদ্যপাত্র ঢেকে রাখ। অতঃপর শোয়ার সময় বাতিগুলো নিভিয়ে দাও।
∆ মিশকাতঃ ৪১০৯।
১২. বাড়ী থেকে বের হওয়ার দো‘আঃ
উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লা-হি, লা-হাওলা ওয়ালা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হি।
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, আল্লাহর উপর ভরসা করছি। আল্লাহ ছাড়া কোন অভিভাবক ও শক্তি নেই’।
∆ মিশকাতঃ ২৩৩০।
১৩. বাড়ীতে প্রবেশের দো‘আঃ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাল মাওলিজি ওয়া খাইরাল মাখরাজি, বিসমিল্লা-হি ওয়ালাজনা ওয়া আলাল্লা-হি রাবিবনা তাওয়াক্কালনা।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আগমন ও নির্গমনের মঙ্গল চাই। তোমার নামেই আমরা প্রবেশ করি ও বের হই। আমাদের প্রভু আল্লাহর উপর ভরসা করলাম’। অতঃপর পরিবারের লোকদের প্রতি সালাম দিতে হবে।
∆ মিশকাতঃ ২৩৩১।
১৪. আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের বিদায় দানের দো‘আঃ
উচ্চারণ: আসতাওদি‘উল্লা-হা দীনাকা ওয়া আমা-নাতাকা ওয়া খাওয়া-তীমা ‘আমালিকা ওয়া ঝাউওয়াদাকাল্লা-হুত তাক্বওয়া ওয়া গাফারা যামবাকা ওয়া ইয়াসসারা লাকাল খাইরা হাইছু মা-কুন্তা।
অর্থ: তোমার দ্বীন, তোমার আমানত, তোমার কাজের শেষ পরিণতি আল্লাহর উপর সোপর্দ করলাম। আল্লাহ যেন তোমার তাকবওয়া বৃদ্ধি করে দেন। তোমার গোনাহ ক্ষমা করে দেন আর তুমি যেখানেই থাক যে কাজই কর কল্যাণকর দিক যেন আল্লাহ তোমাকে সহজ করে দেন’।
∆ মিশকাতঃ ২৩২২।
১৫. নতুন কাপড় পরিধান কালে দো’আঃ
উচ্চারণ: আল্-হামদু লিল্লা-হিল্লাযী কাসা-নী হাযা ওয়া রাঝাক্বানীহি মিন গাইরি হাওলিম্ মিন্নী ওয়ালা ক্বুউওয়াতিন।
অর্থ: ‘সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা, যিনি আমাকে বিনাশ্রমে ও শক্তি প্রয়োগ ব্যতীতই রূযী দান করেছেন এবং এই পোষাক পরিধান করিয়েছেন।১৩৪ কাপড় খুলে রাখার সময় ‘বিসমিল্লা-হ’ বলতে হয়।
∆ তিরমিযি।
১৬. আয়না দেখার দো‘আঃ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা হাসসান্তা খালক্বী ফাআহসিন খুলূক্বী।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছ, তুমি আমার চরিত্র সুন্দর করে দাও’।
∆ মিশকাতঃ ৫০৯৯।
১৭. বাসর ঘরে পাঠ করার দো‘আঃ
বাসর রাতে স্বামী স্বীয় স্ত্রীর কপালে হাত রেখে বলবে-
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরামা জাবাল্তাহা ‘আলাইহি ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররিমা জাবালতাহা ‘আলাইহ।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তার মঙ্গল ও যে মঙ্গলের উপর তাকে সৃষ্টি করেছ তা প্রার্থনা করছি। আর তার অমঙ্গল ও যে অমঙ্গলের উপর তাকে সৃষ্টি করেছ তা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি’।
∆ মিশকাতঃ ২৩৩।
১৮. স্ত্রী সহবাসের পূর্বে বলতে হবেঃ
উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি আল্লা-হুম্মা জান্নিব্নাশ্ শাইত্বা-না ওয়া জান্নিবিশ্ শাইত্বা-না মা রাঝাক্বতানা।
অর্থ: ‘আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি, হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাদের এ মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখ’।
∆ মিশকাতঃ ২৩০৪।
১৯. শয়তান এবং তার কুমন্ত্রণা হ’তে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য পড়তে হবেঃ
উচ্চারণ: আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম।
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই বিতাড়িত শয়তান হ’তে’।
∆ আবু দাঊদ।
২০. নামাজের মধ্যে শয়তান কুমন্ত্রণা দিলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে 'আঊজুবিল্লাহ' পড়ে বাম দিকে তিন বার থুথু ফেলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম ইরশাদ করেন।
∆ মুসলিম, মিশকাত।
মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাই কে দোয়াগুলোর উপর আমল করার তাওফিক দান করুন, আমীন।
Raqi Kamrul Haider
➖➖➖➖➖➖➖