30/10/2025
ADHD/ASD শিশুদের আত্মীয়স্বজনের ভূমিকা
আত্মীয় এমন একটা টার্ম -- যার সাথে আত্মার সংযোগ রয়েছে, তাকেই বলে আত্মীয়।
কতটা মধুরতা দিয়ে তৈরি এই শব্দটা। আত্মীয় শব্দটা শুনলেই মনের মধ্যে একটা ভালো লাগা কাজ করে। কিন্তু ASD/ADHD সন্তানের বাবা মায়েরা যেন আত্মীয়তা সম্পর্কটা চেনে একটু ভিন্ন ভাবে।
আমার পরিচিত এক ডাক্তার আপুর বাচ্চার ADHD. উনি কারও কোন হেল্প না পেয়ে নিজেই জব ছেড়ে দেন। মাঝে মাঝে খুব মন খারাপ করতেন।
উনার বাচ্চা একদিন বাসায় কাগজ ওয়ালাদের মতো করে মাথায় ঝুড়ি নিয়ে খেলছিল৷ ঠিক ওই সময় তার খুব নিকট আত্মীয় ফোন দেয়, বাবু কি করছে জানতে চাইলে আপু বলেন কাগজ ওয়ালাদের মতো মাথায় ঝুড়ি নিয়ে কাগজ কিনছে, বিক্রি করছে, এই খেলা খেলছে।
তার সেই নিকট আত্মীয় তখন বলেন- যাক তাও তো কাগজ বিক্রি করে খেতে পারবে। মানে দেখেন, যার বাবা মা দুইজনেই ডাক্তার, সেই বাচ্চাটা নাকি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে কাগজ বিক্রি করে খাবে সেই সান্ত্বনা দিচ্ছে আত্মীয়। কতটা কষ্টদায়ক এই রকম আত্মীয় স্বজনের কথা গুলো।
আপু বললেন আমি সাথে সাথে ঠাস করে ফোন রেখে দিয়েছি, আমার এতো খারাপ লেগেছে!!
আমার বিল্ডিং এর এক ভাবির বাচ্চার ADHD. ওই বাচ্চার ফুপি সবসময় নানান ভাবে ভাবীকে কষ্ট দিত। বাচ্চা কোন কিছু হাত দিয়ে ধরলে এমনকি একটা পানি খাওয়ার মগ হাতে নিলেও..... ফুপি চিল্লায়ে উঠতো, ও ভেঙে ফেলবে, ও ভেঙে ফেলবে.....এইভাবে কোন কিছুই ধরতে দিতনা, এতে বাচ্চা আরও হাইপার হয়ে যেত।
কিন্তু কষ্টটা কার হতো?? একমাত্র মা। বাবারাও অনেক সময় এই বিষয়গুলো বোঝে না, বা বুঝলেও তাদের করার কিছু থাকেনা।
আবার দেখবেন, আত্মীয়স্বজন এই বাচ্চাদের কাছ থেকে তাদের বাচ্চাদের দূরে রাখেন। মিশতে দেন না তাদের বাচ্চাদের। তাদের ভাবখানা এমন থাকে যে ASD/ADHD একটা ছোঁয়াচে রোগ, এই বাচ্চারা তাদের বাচ্চাদের ধরলেই তাদের বাচ্চাদেরও ASD/ADHD হয়ে যাবে।
কিন্তু বাস্তবতা কি এমন হওয়ার কথা?? এই বাচ্চাদের জন্য দরকার একটু আদর, একটু ভালোবাসা, একটু সহানুভূতি। বাবা মায়ের প্রতি ২ টা সান্ত্বনার বানী। তাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু সহযোগী হাত।
তবেই কিন্তু বাচ্চাগুলো অনেক ভালো করতে পারে। তাদেরও প্রতিভা রয়েছে, মেধা রয়েছে, কিন্তু প্রতি পদে পদে তাদেরকে সমাজ এমন হেয়ভাবে দেখে যে বাবা মা তাদের নিয়ে আর আগানোর সাহস পাননা।
কিন্তু আমি বলবো হাল ছাড়বেন না কোন ভাবেই। যে রাস্তায় আজ পিছলে পড়েছেন, কালকেই চলার জন্য একটা বিকল্প রাস্তা খুঁজে বের করুন। কোনভাবেই থেমে থাকার সময় নেই। মানুষের কথায় কান্নাকাটি করলেন, মন খারাপ করে ঘরে বসে থাকলেন, এতে ওই মানুষটাকেই আপনি প্রায়োরিটি দিলেন। আর ক্ষতি করলেন নিজের।
তাই ডানে বামে তাকানোর সময় নেই। আত্মীয়স্বজনরা বিপদে পড়লে ঠিকই হেল্প এর জন্য আসবে, কিন্তু আপনার বিপদ পাশ কেটে চলে যাবে। এমন আত্মীয় থেকে কিছুদিন দূরে থাকুন। নিজের সন্তানটিকে একটা যোগ্যতার জায়গায় নিয়ে আসুন। সব কিছুর উত্তর দিতে নেই, কিছু উত্তর সময়ের উপর ছেড়ে দেন। দেখবেন সময় ঠিকই উত্তরটা দিয়ে দেবে আপনার হয়ে।