16/02/2026
আরবের এক লোক বলেন, "একবার আমি আমার দাদার বাড়িতে গেলাম। গিয়ে দেখি দাদী চাল ও দুধ দিয়ে পায়েস (ফিরনি) রান্না করছেন। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি এক হাতে নাড়ছেন আর অন্য হাতে তাসবিহ পাঠ করছেন।
সারা রান্নাঘরে মিশকের মতো এক স্বর্গীয় সুঘ্রাণ ছড়িয়ে আছে। সেটি কোনো কৃত্রিম পারফিউম ছিল না, বরং দাদীর পবিত্র নিঃশ্বাস আর জিকিরের বরকতে তৈরি হওয়া এক অদ্ভুত সুবাস।
আমি দাদীকে জিজ্ঞেস করলাম,'দাদী, এই রান্না শেষ হতে আর কতক্ষণ লাগবে?'
তিনি এক চিলতে হাসি দিয়ে বললেন, 'বাবা, আর মাত্র এক হাজার বার "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" অথবা দুই হাজার বার "আলহামদুলিল্লাহ" পড়তে যতটুকু সময় লাগে, ততটুকু সময় লাগবে।'"
কী চমৎকার এক জীবনবোধ! যে খাবার তৈরি হতে হাজার বার আল্লাহর জিকির করা হয়েছে, সেই খাবারের স্বাদ আর প্রভাব কতটা রুহানি ও বরকতময় হবে, তা একবার ভাবুন!
আজ আমাদের জীবন থেকে বরকত উঠে যাওয়ার কারণ হয়তো এটাই, আমরা সময়কে ঘড়ি বা মিনিটের হিসেবে মাপি, কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা সময়কে মাপতেন আল্লাহর স্মরণে।
আরেকজন লোকের কথা বলি, যিনি দূর থেকে অফিস করতেন। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, 'অফিসে পৌঁছাতে আপনার কতক্ষণ লাগে?'
তিনি উত্তর দিলেন, '৫০০ বার দরুদ শরীফ আর ৫০০ বার সুবহানাল্লাহ-আলহামদুলিল্লাহ পড়তে যতটুকু সময় লাগে।'
মা-বোনেরা যখন রান্না করবেন, তখন যদি মুখে জিকির থাকে, তবে সেই খাবার শুধু পেটের ক্ষুধা মেটাবে না, বরং পরিবারের সদস্যদের মনে প্রশান্তি আর তাকওয়া বাড়িয়ে দেবে।
যাতায়াতের পথে, সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বা গাড়িতে বসে থাকার সময়গুলোকে আমরা জিকিরের মাধ্যমে ইবাদতে পরিণত করতে পারি।
আমাদের দাদী-নানীরা চলে গেছেন সত্য, কিন্তু তাঁদের সেই আমলগুলো তো আমরা ধরে রাখতে পারি।
আসুন আমরা আমাদের সময়কে মিনিট বা সেকেন্ডে নয়, বরং 'সুবহানাল্লাহ' আর 'আলহামদুলিল্লাহ'-র হিসেবে গুণতে শুরু করি।
রান্না থেকে শুরু করে যাতায়াত সবকিছুতে আল্লাহর স্মরণ যোগ করি। দেখবেন, হারানো বরকত আবারও আমাদের ঘরে ফিরে আসবে। ইনশাআল্লাহ ❤️❤️❤️
© Salman Farsi
আরবি আর্টিকেল থেকে অনুদিত