21/10/2025
আমি আসলে বামদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে চাইছিলাম। এরা কারা? মুসলমানের সন্তানরাও কিভাবে নাস্তিক হয়? কিভাবে আল্লাহকে অস্বীকার করে?
আমার হলের এক বড়ভাই আমারে ভ্যানগার্ড পত্রিকা দিত। মানে বিক্রি করত। শিবিরের মত এরাও টার্গেট বেইজড কাজ করত। যেহেতু আমি এর আগেই মোটামুটি তিনটা রাজনৈতিক দলরে কাছ থিকা দেখছি, বড়ভাইর মোটিভ আমি বুইঝা গেলাম। কিন্তু সে যে এইভাবে আমারে শিকার করব সেইটা বুঝি নাই।
যেহেতু কালচার করি। আবৃত্তি, অভিনয়ে নাম কামাইছি। তাদের সহজ টার্গেটে পইড়া গেলাম। এক বান্ধবী একদিন হল গেটে আইসা আমার জন্য চিরকুট পাঠাইল। গেলাম দেখা করতে। বান্ধবী দেখতে যেমন তেমন সাথে কইরা যেইটারে নিয়া আসছে সে মাশাল্লাহ রকমের সুন্দ্রি।
প্রথম দুইদিন শুধু তিনজনই আড্ডা দিছি। আড্ডা বলতে দুইজন আমার আবৃত্তি হুনত। আর নিজেরা একটু গান গাইত। আর কোন কোন ছেড়া ওদের পিছে ঘোরে সেই গল্প। তৃতীয় দিন সুন্দ্রি মেয়েটা বলল, চল টিএসসি যাই। কেন টিএসসি কি? মেয়েটা বলল, গেলেই দেখতে পাবি। সেইখানে গিয়া দশ বারোজনের একটা গ্রুপের লগে পরিচয় হইল। এরা পুরা প্রফেশনাল গায়ক গাইকা। দারুণ গান করে। বাজনা বাজায়। আবৃত্তিও করে। কয়েকটা আবার সাহিত্য এবং দর্শন এক্সপার্ট।
প্রায় মাসখানেক এদের সাথে মেশার পর একদিন নাইট স্টে নিমন্ত্রণ। ধানমণ্ডিতে এক বড় ভাইয়ের বাসায়। কোনও একটা উদ্দেশ্যে ভাইয়ের বাসার ছাদে খানাপিনা আর গানের আয়োজন। সেখানে বাইরের গায়করাই গাইল। এরা গাইল আয়োজন শেষে ঘরোয়া পরিবেশে। কয়েকজনের গান গাওয়ার পর সেই সুন্দ্রি বান্ধবী হঠাৎ আমার আবৃত্তি শুনতে চাইল। যেই ভাইয়ের বাসা সেও খুব আগ্রহ দেখাইল। কিন্তু আমি বুঝতেছিলাম, এত দুর্দান্ত গানের পর এই আসরে আমার আবৃত্তি ম্রিয়মাণ লাগবে। তবু সবার জোরাজুরিতে আবৃত্তি শুরু করলাম।
বাইশ মিনিটের একটা আবৃত্তি। যখন পারফরম্যান্স শেষ হইল, প্রফেশনাল গায়ক এবং আবৃত্তিশীল্পিরা হা কইরা আমার দিকে তাকায়া থাকল। এইটা কি ছিল ভাই? তুমি এই মাপের আবৃত্তিকার সেইটা তো আগে বুঝি নাই। হেরা নিজেদের মইদ্যে কানাঘুসা করতে থাকল।
গান আবৃত্তি নাচ কৌতুক ইত্যাদির মইদ্যেই চানাচুর ডাল চাটনি ইত্যাদি পরিবেশিত হইল। সাথে বোতলে করে পানি। সবাই একটু একটু কইরা পানি নিতেছে গ্লাসে। গ্লাসগুলাও ছোটো ছোটো। আমার কাছে বোতল আসল। আমি গ্লাস ভইরা পানি নিলাম। গলা আগে থেকেই শুকাইয়া ছিল। ঘ্যাট কইরা মুখের মইদ্যে পানি চালান কইরা....
পুরাই জইমা গেলাম। এইটা আবার কিরাম পানি। এমন বিস্বাদ কেন। তড়াক কইরা খাড়ায়া গেলাম। পানি এখনও মুখে। দ্রুত ওয়াশরুমে গিয়া বেসিনে মুখের পানি ঢাইলা দিলাম। বার কয়েক কুলি কইরা বাইরে আসলাম। সবার হাতে হাতে বোতল আর গ্লাস। একটু কইরা গলায় ঢালতেছে আর চানাচুর, ডাল, চাটনির স্বাদ নিতাছে।
কিছুক্ষণ পর আসলো আসল চাটনি। ফার্মের মুরগি ফ্রাই কইরা মাংস আলাদা করছে প্রথমে। তারপর কাচা মরিচ, ধনে পাতা, লেবুর রস সহযোগে অন্যন্য মশলা দিয়া বানানো চাটনি। আমি পানি ছাড়া আর সবগুলারই স্বাদ নিতে থাকলাম। এক পর্যায়ে সেই সুন্দ্রি বান্ধবী আমারে পাশের রুমে ডাইকা নিল।
রুমে কেউ নাই। সবাই পাশের রুমে আড্ডা দিতাছে। বান্ধবী প্রথমে আমার হাত ধরল। তারপর হুট কইরাই জড়াই ধরল। সাথে সাথে আমার শরীরে যেন এক হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হই গেল।
রুমের ফ্যান ঘুরতাছে। আমার কপাল বেয়ে ঘামের একটা স্রোতধারা নেমে আসছে। বান্ধবী আমারে এখনও ধইরা রাখছে। আমার হাত দুইটা শরীরের দুইপাশে এতিমের মত পইড়া আছে। একবার মনে হইতাছে আমিও ওর মত জড়াই ধরি। আবার মনে হইতাছে, কেউ দেইক্কালাইবো। আবার মনে হইতাছে, এইটা কোনও ফাঁদ না তো!
মেয়ে এইবার আমার হাত ধইরা বারান্দায় নিয়া গেল। বারান্দায় একটা বেড পাতা। বাইরের দিকে পর্দা টানানো। মেয়েটা বারান্দার দরজার ছিটকিনি আটকে দিল। বলল, সবাই এখন খেয়ে টাল হয়ে থাকবে। কেউ এদিকে আসবে না। তাড়াতাড়ি কর।
আমি বেকুবের মত জিজ্ঞেস করলাম, কি করব? মেয়েটা আবারও আমাকে জড়িয়ে ধরল। তারপর কানের কাছে মুখ এনে জিজ্ঞেস করল, এখন তোমার কি করতে ইচ্ছে করছে? বললাম, তোমাকে জড়িয়ে ধরতে। ও বলল, ব্যস এইতো। ধর এবার। কেউ দেখবে না। বললাম, কিন্তু আল্লাহ তো দেখবে।
মেয়েটা একলাফে দুই হাত সরে গেল। বলল, এতকিছুর পরও এই সময়ে একটা লোক কতটা আহাম্মক হইলে আল্লাহর নাম মুখে আনতে পারে! তারপরই জিজ্ঞেস করল, তুমি মদ খাওনি? বললাম, ওই বাল মাইনসে খায়? একটুও মিস্টি না। কেমন সালসার মত ঘ্রাণ। মেয়েটা জিজ্ঞেস করল, সালসা আবার কি? বললাম, টনিক। আমাদের গ্রামে এক কবিরাজ ষাণ্ডার তেল আর কেঁচো দিয়া একটা টনিক বানাইত। তার বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেই টনিকের ঘ্রাণ নাকে বাড়ি মারত। এসব টনিকরে আমরা সালসা বলতাম। লোকটা কৃপন ছিল বলে আমরা তাকে বকখিল সালসা বলে ক্ষেপাতাম। মেয়েটা বলল, থাকো তোমার বকখিলারে নিয়া। আমি গেলাম। তারপর দ্রুত হাতে ছিটকিনি খুলে বারান্দা থেকে চলে গেল। আমি স্থানুর মত সেইখানেই দাঁড়ায়া থাকলাম।
মেয়েটা কিন্তু আবার এলো। এসে বলল, এইখানেই দাঁড়ায়া থাকবা? জিজ্ঞেস করলাম, সবাই কি করতেছে? মেয়েটা অসভ্যের মত বলে উঠল, কি আর করবে? লাগালাগি করতেছে। সবাই তো আর তোমার মত বেকুব না। এমন সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে?
মেয়েটাকে পাশ কাটিয়ে আড্ডার রুমে এসে দেখি কেউ নাই। কই গেছে সবাই? ছাদে নাতো? মেয়েটাও ততক্ষণে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ফিসফিস করে বলল, ভাইয়ের রুমে সবাই মুভি দেখতেছে। গেলেই বুঝবি। মুভি দেখার ফাঁকে অন্য কাজ চলছে। আবারও বেকুবের মত জিজ্ঞেস করলাম, কি কাজ? মেয়েটা মুখে ঝামটা মেরে বলল, সবাই তোর মত মিস্টার টি নাকি?
সেই রাতের পর সুন্দ্রি মেয়েটার সাথে আর কখনও আমার দেখা হয়নি। তবে অন্য বান্ধবীটাকে কয়েকবার সেই ভ্যানগার্ড ভাইয়ের সাথে দেখেছি। তারপর একদিন হুট করেই দুইয়ে দুইয়ে বামপন্থা মিলে গেল।
আরিশশালা। হ্লায় তো আমারে টার্গেট কইরা সুন্দ্রি ছেড়ি লেলাই দিছিল। আরেট্টু হইলেই তো আমি আল্লা খোদা সব ভুইলা নাস্তিক হই গেছিলাম! আমরা যতই বলি ওদের ছেড়িগুলা ক্লা। ওরা কিন্তু কখনোই ওদের আসল ছেড়িদের সামনে আনে না। এইটাই ওদের পলিসি। বাট এইখানে শিবির হইলে এতদিনে মাইনসের ট্রলে ক্ষিপ্ত হইয়া ওরা নিজেরাই নিজেদের কৌশল ফাঁস কইরা দিতো।
যেভাবে জুলাইয়ের আসল ঘটনা ফাঁস কইরা নিজেরাই নিজেদের রাজনীতির বারোটা বাজাই দিছে!
গল্প: দুইয়ে দুইয়ে বামপন্থা।
গল্পকার: দিপ্র হাসান।
প্রথম প্রকাশ: ৩০ মে, ২০২৫।