26/03/2026
ডাক্তার আমার রোগ ধরতে পারেন না
৩ মাসে ২ ডজন ডাক্তার এবং শ’খানেক টেস্ট করার পরেও জামাল সাহেবের কোন রোগ ধরা পড়ল না।
কিন্তু তার দৃঢ় বিশ্বাস তার এমন কোন জটিল রোগ হয়েছে যা ডাক্তাররা ধরতেই পারছেন না।
মেডিসিন, সার্জারি, গ্যাস্ট্রো- লিভার সব বিষয়ের ডাক্তার দেখানো শেষ। কিন্তু রোগের উপসর্গও কমছে না কোন ওষুধ খেয়ে।
কমবে কিভাবে? রোগটাই তো ধরা পড়ছে না।
জামাল সাহেব ভাবলেন, না, এভাবে চলবে না।
তিনি তার বস্তা বোঝাই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ও টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে এবার বিদেশ যাবেন বলে ঠিক করলেন। দেশের ডাক্তার রোগ ধরতে না পারলে বিদেশে ডাক্তার দেখাবেন।
বিদেশ যাওয়ার আগে এক মেডিসিনের ডাক্তার শেষ চেষ্টা হিসেবে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দেখাতে বললেন জামাল সাহেবকে।
এই কথা শুনে জামাল সাহেব গেলেন ক্ষেপে! একে তো রোগ ধরতে পারে না, তারউপর তাকে কিনা পাগল বলতে চায় ডাক্তার!
তার শরীরে রোগের লক্ষণ আছে, উপসর্গ আছে,এসব কি মিথ্যা নাকি!
ডাক্তার বললেন সবই তো চেষ্টা করলেন, একমাত্র মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বাকি আছে, তাকেও দেখাতে কি আর সমস্যা!
হতে পারে তার কাছে এমন কিছু জ্ঞান আছে যা দিয়ে রোগ ধরা পড়বে।
অবশেষে জামাল সাহেব গেলেন একজন মনোরোগ চিকিৎসক এর কাছে।
তিনি সব শুনে বললেন, যে কখনও কখনও এমন হয়, মানসিক চাপ বা কোন মানসিক অসুখ শারীরিক লক্ষণ রূপে প্রকাশ পায়
। মানসিক অসুখের চিকিৎসা না করলে শারীরিক লক্ষণ ঠিক হয় না। তিনি কিছু ওষুধ দিলেন এবং কাউন্সিলিং শুরু করতে বলেন।
কিছুদিন পর থেকেই জামাল সাহেব দেখেন যে তার শারীরিক কষ্ট কমতে শুরু করেছে। বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে ছোটাছুটিও বন্ধ হয় অবশেষে।
জামাল সাহেব বুঝতে পারেন মানসিক রোগের ব্যাপকতা সম্পর্কে জানার অভাবে এতদিন কষ্ট পাচ্ছিলেন তিনি।