15/03/2026
ফেসবুকে ছবি দিলে কি অসুস্থতা বাড়তে পারে? শত্রু ফ্রেন্ড লিস্টে থাকলে সাবধান
আপনার সাথে কি কখনও এমন হয়েছে—
ফেসবুকে ছবি (প্রোফাইল পিকচার, কভার ফটো, সেলফি বা পরিবারের ছবি) পোস্ট করার পর হঠাৎ অসুস্থতা, মাথাব্যথা বা দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে?
ছবি আপলোড করার পর স্বপ্নে অদ্ভুত দৃশ্য, ভয় বা কালো ছায়া দেখেছেন?
ফ্রেন্ড লিস্টে এমন কেউ আছে যাকে আপনি শত্রু মনে করেন বা যে আপনার সাফল্য বা সৌন্দর্য দেখে হিংসা করে?
ছবি পোস্ট করার পর শরীরে জ্বালাপোড়া, অকারণ ক্লান্তি বা খারাপ চিন্তা বেড়ে গেছে?
কুরআন পড়লে বা রুকইয়াহ করলে সমস্যা কিছুটা কমে যায়?
ছবি ডিলিট বা লুকিয়ে রাখার পর একটু স্বস্তি লাগে?
অনেকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এসব বিষয় বদনজর বা হিংসার প্রভাবের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার মতো পাবলিক প্ল্যাটফর্মে ছবি দিলে অনেক মানুষের চোখে পড়ে, যার মধ্যে হিংসুক বা বিদ্বেষী কেউ থাকলেও থাকতে পারে।
কুরআন ও হাদীসে বদনজর
আল্লাহ তা’আলা বলেন:
﴿وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ﴾
“হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, যখন সে হিংসা করে।”
— সূরা ফালাক: ৫
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“বদনজর সত্য। যদি কোনো কিছু তাকদীরকে অতিক্রম করতে পারত, তাহলে বদনজর তা অতিক্রম করত।”
— সহীহ মুসলিম
ইসলামি আলেমদের মতে, হিংসা ও বদনজরের কারণে মানুষের জীবনে কষ্ট, অসুস্থতা বা অশান্তি দেখা দিতে পারে। তাই ইসলামে এর থেকে বাঁচার জন্য কিছু আমল শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য লক্ষণ
কিছু মানুষ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুভব করেন—
ছবি পোস্ট করার পর হঠাৎ মাথাব্যথা বা অসুস্থতা
অকারণ দুশ্চিন্তা বা অস্থিরতা
স্বপ্নে ভয়ের দৃশ্য দেখা
শরীরে অস্বস্তি বা অকারণ ক্লান্তি
কুরআন তিলাওয়াত বা রুকইয়াহ করলে স্বস্তি পাওয়া
তবে মনে রাখা জরুরি, এগুলো সব সময়ই বদনজরের কারণে হয় এমন নয়। অনেক সময় মানসিক চাপ বা শারীরিক কারণেও এমন হতে পারে।
ইসলামে সুরক্ষার কিছু আমল
১. সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়া।
২. প্রতিদিন আয়াতুল কুরসি পড়া।
৩. নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা।
৪. সম্ভব হলে ঘরে সূরা বাকারা পড়া বা শোনা।
৫. ছবি পোস্ট করার আগে “বিসমিল্লাহ, মাশাআল্লাহ” বলা।
৬. অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যক্তিগত ছবি সবার সামনে প্রকাশ না করা।
৭. নিয়মিত দোয়া, তওবা এবং সাদাকা করা।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
যদি শারীরিক বা মানসিক কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ইসলামের আমল করার পাশাপাশি চিকিৎসা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
আর কখনও তাবিজ-কবজ বা জাদুকরের কাছে যাওয়া উচিত নয়। ইসলামে এর অনুমতি নেই।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বদনজর, হিংসা এবং সব ধরনের অকল্যাণ থেকে হেফাজত করুন। আমীন। 🤲
যোগাযোগ
অভিজ্ঞ রাক্বির মাধ্যমে রুকইয়াহ করাতে সরাসরি যোগাযোগ করুন
📞 01336-202151