23/07/2022
মেডিকেলে ডিউটি করতে গিয়ে অনেক রোগী পাওয়া যায় পয়জনিংয়ের। আত্মহত্যা করার জন্য বিষ খায় তারা। তাছাড়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা, ট্রেনের নিচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন উপায়ে আত্মহত্যার অনেক খবর পাওয়া যাচ্ছে ইদানিং। এসব আত্মহত্যার পিছনে কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় হয়তো হতাশা, নয়তো কারো সাথে অভিমান, বা সম্মানহানির ভয়, অথবা কোনো কিছু না পাওয়ার বেদনা ইত্যাদি।
আমার কাছে মনে হয়েছে জীবনের মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণে ভুল করার কারণেই মানুষ এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আমি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পাব আর মানুষ আমাকে বাহবা দিবে-এটার নামই কি জীবন? আমাকে আমার প্রিয় কোনো মানুষ কখনো কষ্ট দিবে না বা কখনো ভুল বুঝবে না-এটাই কি জীবন? আমি যেসব কাজে হাত দিব তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সফল হওয়ার নামই কি জীবন? কোনো একটা বড় ভুল আমি করে ফেলেছি বলেই কি আমার জীবনের মূল্য শেষ হয়ে গেলো? মানুষ আমাকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কিছু বললেই কি আমার জীবনের মূল্য শেষ হয়ে গেলো? না।
আত্মহত্যা বা হতাশা থেকে বাঁচতে চাইলে আমাকে সবার আগে যে কাজটি করতে হবে সেটি হচ্ছে জীবনের মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ। কী হবে সেটা? সেটি হচ্ছে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জন এবং এর পুরস্কার হিসেবে জান্নাত লাভ। এটা শুধু মুখে মুখে নয়, খুব শক্তভাবে হৃদয়-মনে লালন করতে হবে এটি। আমি একটা পরীক্ষায় ফেল করেছি, এতো তো আমার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় নি, অতএব নো টেনশন। আমাকে মা-বাবা, ভাই-বোন বা প্রিয় কোনো মানুষ ভুল বুঝছে, কিন্তু এর দ্বারা তো আমার পরকাল নষ্ট হচ্ছে না, অতএব নো টেনশন। আমি একটা হারাম রিলেশনশিপে জড়িত ছিলাম, কিন্তু ব্রেক আপ হয়ে গেছে হঠাৎ, এতে তো আমার পরকালীন জীবনের কোনো ক্ষতি হয় নি, বরং উপকারই হয়েছে, অতএব নো টেনশন।
এখন কথা হচ্ছে, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার রাস্তায় কি কখনো হতাশা আসতে পারে না? জি, আসতে পারে। যেমন-আমি অনেক বড় একটা গুনাহ বারবার করে ফেললাম অথবা নামাজ ঠিকভাবে পড়তে পারছি না অথবা এত নিয়ত করেও তাহাজ্জুদের নামাজের জন্য উঠতে পারি না অথবা আল্লাহর কাছে অনেক দুআ করার পরও কবুল হচ্ছে না। এসব কারণেও হতাশা আসতে পারে এই ভেবে যে আমি মনে হয় আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারব না, আমি মনে হয় জান্নাতে যেতে পারব না। কিন্তু এ জাতীয় হতাশার সমাধানটা অত্যন্ত সহজ। কারণ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হলে সেখান থেকে কামব্যাক করা অর্থাৎ ফিরে আসা অত্যন্ত সহজ, যেটা অন্য ক্ষেত্রে সহজ না। ধরুন, আমি একটা পরীক্ষায় ফেল করলাম। এখন এ পরীক্ষা আবার দিয়ে সফলতা অর্জনের মাধ্যমে যদি আমার হতাশা দূর করতে চাই তাহলে মোটামুটি বড় একটা সময়ের প্রয়োজন আছে। কারণ এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হোক বা এডমিশন টেস্ট হোক বা এমবিবিএস ফাইনাল প্রফ হোক-এসব পরীক্ষা তো ছয় মাস বা এক বছর পরপর হয়। আবার আমার প্রিয় মানুষ আমাকে কোনো কষ্ট দিলো। আমি চাইলেই তো আর তার দেয়া কষ্ট দূর করতে পারব না। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে যদি কখনো কোনো সমস্যা দেখা দেয় বা হতাশাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হই তবে সেখান থেকে ফিরে আসা এক মুহুর্তের ব্যাপার। আমি হয়তো খুব বড় কোনো পাপ করে ফেললাম, এর মাধ্যমে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়ে গেলেন, আর এটার চিন্তায় আমি হতাশ হয়ে গেলাম। সমাধান খুব সোজা। কারণ যে আল্লাহ গুনাহ করলে রাগ করেন, অসন্তষ্ট হন, সে আল্লাহই তওবা করলে অনেক খুশি হন এবং তওবাকারীকে ভালোবাসেন। যে গুনাহ ছিল আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ, তওবা করলে সেটিই যেন হয়ে গেলো আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার উছিলা। (তবে ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ করতেই থাকব আর নামেমাত্র তওবা করব বিষয়টি এমন না। ভালোভাবে চলতে চলতে কখনো গুনাহ হয়ে গেলে খাঁটি তওবা করব, এরপর আবার কখনো গুনাহ করে ফেললে আবার তওবা করব, এভাবেই চলতে থাকবে আমরণ)।
আমি যে বিষয়টি বুঝাতে চাচ্ছি, জীবনের মূল লক্ষ্য যদি নির্ধারণ করি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, তখন বাকি বিষয়গুলোকে ঠুনকো মনে হবে। বাকি বিষয়গুলোতে কখনো ব্যর্থতা দেখা দিলেও সেটার জন্য আত্মহত্যা করতে মন সায় দিবে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে মূল হিসেবে রেখে দুনিয়াবী বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার জন্য আমি চেষ্টা করব, কিন্তু সফল না হলেও আমি চিন্তিত হব না। সুযোগ থাকলে ঐ বিষয়ে সফলতার জন্য আবার চেষ্টা করব, সুযোগ না থাকলে এ পর্যন্তই শেষ, ওটা নিয়ে আর ভাবব না। বরং সামনে আমার কী দায়িত্ব সেটা নিয়ে ভাবব। এভাবে চিন্তাভাবনা করলে আশা করি হতাশা কমানো সম্ভব।
Copied Fb ID :Nuruddin Khandokar