Nutritionist Zohora Setara

Nutritionist Zohora Setara Balanced Nutrition for Better Living

Helping you make healthier choices through expert guidance, practical tips, and evidence-based nutrition.

14/11/2025

খাওয়ার পর ঘুম ঘুম ভাব? হঠাৎ করেই চোখ জড়িয়ে আসছে?
এক মিনিট আগেও ঠিক ছিলেন, অথচ এখন মনে হচ্ছে — একটু ঘুমিয়ে নিতে পারলে ভালো হয় !

কারণটা হলো—

খাওয়ার পর খাবার হজম করার জন্য শরীর বেশিরভাগ রক্ত পাঠায় পরিপাকতন্ত্রে্র দিকে।
অন্যদিকে, কার্বোহাইড্রেট থেকে উৎপন্ন গ্লুকোজ গুলো সামলানোর জন্য ইনসুলিনের পরিমাণও বেড়ে যায়।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন নামক দু'টি হরমোন বেড়ে যায়—যেগুলো মূলত আপনাকে শান্ত ও ঘুমঘুম অনুভব করায়।

যদি আপনার খাবার বেশি কার্ব বা চিনি সমৃদ্ধ হয় → ইনসুলিন বেশি বাড়বে → মেলাটোনিনও বাড়বে → ঘুম ঘুম ভাব বৃদ্ধি পাবে।

কিন্তু
সুষম আহার (প্রোটিন + ফাইবার + স্বাস্থ্যকর ফ্যাট) খেলে এনার্জি থাকবে স্থির।

তাই-

১. আপনার প্লেটে প্রোটিন ও ফাইবার যুক্ত খাবার রাখুন, এবং রিফাইন্ড কার্ব কমান।
২. একবারে অনেক না খেয়ে কিছু সময় পর পর খান। এতে করে হজমে চাপ পড়বে না।
৩. খাওয়ার পর ৫–১০ মিনিট হাঁটুন—রক্তচলাচল বাড়বে, এনার্জি ফিরে পাবেন।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন —ডিহাইড্রেশন ঘুমঘুম ভাব আরও বাড়ায়।
৫. কাজের সময় ভাজা-পোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন।
৬. খাওয়ার পর দারুচিনির পানি খেতে পারেন— এটি ব্লাড সুগার স্টেবল রাখে, ঘুম কমায়।

আপনার শরীরের প্রতিক্রিয়া নির্ভর করছে আপনি কিভাবে আর কি পরিমাণে খাচ্ছেন তাঁর উপর।
একটু কৌশলী আর বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ, ব্যাস! সারাদিন থাকুন ফুরফুরে...।





10/11/2025

Our organs work 24/7 for us…
So why not give them the exercise they love? 💚✨

From heart health to brain power—here’s a quick look at which exercise supports which organ.
Small habits, big impact! Stay active, stay healthy

(Video collected. Re-shared for educational and awareness purposes.)





স্থূলতা কি সংক্রামক হতে পারে?শুনতে অদ্ভুত লাগছে, তাই না?কিন্তু কি মনে হয় ? সত্যিই কি আপনার বন্ধুর ওজন বেড়ে গেলে আপনারও ও...
31/10/2025

স্থূলতা কি সংক্রামক হতে পারে?

শুনতে অদ্ভুত লাগছে, তাই না?

কিন্তু কি মনে হয় ? সত্যিই কি আপনার বন্ধুর ওজন বেড়ে গেলে আপনারও ওজন বাড়তে পারে? অথবা, কোনো মেয়ের ওজন কি বেড়ে যেতে পারে শুধু তার বোনের ওজন বেড়েছে বলে?

আশ্চর্যজনক হলেও, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এবং UC সান ডিয়েগো-এর দুই গবেষক নিকোলাস ক্রিস্টাকিস ও জেমস ফাউলার ২০০৭ সালে এমনই এক গবেষণায় দেখান যে, স্থূলতা সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে—একটি আচরণের মতোই।

তাদের গবেষণাটি "The Spread of Obesity in a Large Social Network" শিরোনামে, দেখায় যে মানুষের আনন্দ, শোক, এমনকি স্থূলতার মতো বৈশিষ্ট্যগুলোও সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্যদের কাছে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাদের ৩২ বছরের গবেষণায় ১২,০০০ জন মানুষকে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়—

১। বন্ধুর ওজন বেড়ে গেলে, আপনার স্থূল হওয়ার ঝুঁকি ৫৭% বেড়ে যায়।
২। বোনের ওজন বাড়লে, ঝুঁকি বেড়ে যায় ৬৭% পর্যন্ত।
৩। ভাইয়ের ক্ষেত্রে, প্রায় ৪৫% পর্যন্ত ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

অর্থাৎ, স্থূলতা আসলেই “সামাজিকভাবে সংক্রামক” হতে পারে।
এটা ভাইরাসের মাধ্যমে নয়, বরং আচরণ ও আবেগের প্রভাবে ছড়ায়।

এবং এখানেই শেষ নয়…
NCBI-তে প্রকাশিত ২০১৬ সালের একটি ফলো-আপ গবেষণাতেও দেখা গেছে, একই প্রভাব দেখা যায় ধূমপান, মদ্যপান, অলসতা, এমনকি অনুপ্রেরণাহীনতার ক্ষেত্রেও।

সামাজিক সংক্রমণ (Social Contagion) আসলে বেশ কিছু বিষয়ের সংমিশ্রণ। যেমন-

▪️ আবেগীয় সংক্রমণ (Emotional contagion): আপনি যদি নিয়মিত কোনো দুঃখী মানুষের সাথে সময় কাটান, আপনিও হতাশ বোধ করতে পারেন।

▪️ শরীরভাষা সংক্রমণ (Body language contagion): আমরা অজান্তে অন্যদের বসার ভঙ্গি, কথা বলার ধরণ ও চলাফেরার স্টাইল নকল করার চেষ্টা করি।

▪️ লক্ষ্য সংক্রমণ (Goal contagion): আপনার কোনো বন্ধু যদি নতুন ডায়েট বা কোর্স শুরু করে, সেক্ষেত্রে আপনারও হঠাৎ করে ইচ্ছে জাগবে একই কাজটি করার।

কিন্তু সমস্যা হয় যখন আমরা ব্যর্থতার সংক্রমণ-এ আক্রান্ত হই—
যেখানে আমরা এমন মানুষের অভ্যাস অনুকরণ করি যারা হাল ছেড়ে দিয়েছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বা চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছে।

তখন আমরা নিজের আচরণকে এই যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে ফেলি যে —
“সবাই তো এমনই।”

🌿 তাই,
আপনি যখন নতুন কোনো ডায়েট শুরু করবেন বা জিমে যোগ দেবেন,
একবার চারপাশটা দেখুন। আপনার সঙ্গীরা কি আপনাকে অনুপ্রাণিত করছে, নাকি পিছিয়ে দিচ্ছে?

কারণ ইচ্ছাশক্তি শক্তিশালী হলেও,
সামাজিক প্রভাব (social influence) তার চেয়েও অনেক বেশি প্রভাবশালী।

বি.দ্র.

গবেষণার এই ফলাফলগুলো পর্যবেক্ষণমূলক ছিল, পরীক্ষামূলক নয়।
অর্থাৎ, এগুলো সম্পর্ক বা correlation দেখায়, কারণ নয়।

অন্যভাবে বললে —
যে দুজন মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে, তাদের ওজন একই সময়ে বেড়ে যেতে পারে,
কিন্তু সেটা এই কারণে নয় যে একজন অন্যজনকে “সংক্রমিত” করছে,
বরং তারা হয়তো একই ধরনের জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করে।

যেমন — একসাথে বাইরে খাওয়া, একসাথে টিভি দেখা, বা অনিয়মিত ঘুম—
এসব অভ্যাসই ধীরে ধীরে দুজনের শরীরে একই প্রভাব ফেলে।






#স্বাস্থ্যসচেতনতা

31/10/2025

অরণ্য অফিস থেকে ফেরার পথে প্রায় প্রতিদিনই একটা বার্গার কিনে খায়। কাজের চাপ, সময়ের অভাব—সব মিলিয়ে ওর কাছে এটা যেন সবচেয়ে সহজ সমাধান। “একটা বার্গার খেলে আর কী এমন হয়!”—ভাবত সে।

ধীরে ধীরে এই অভ্যাসটা নিয়মে পরিণত হলো।
ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, কোল্ড ড্রিংক—এসবই ওর প্রতিদিনের খাবার তালিকায় জায়গা করে নিল। একদিন অফিসে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেল অরণ্য। চেকআপে দেখা গেল—উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বেড়ে গেছে, আর রক্তে সুগারের মাত্রাও বেশি!

জীবন-যাপনের ধরন শুনে ডাক্তার মৃদু হেসে বললেন, “আপনার শরীর এখন প্রাকৃতিক খাবার চায়, কেমিক্যালে ভরা খাবার নয়। প্রাকৃতিকভাবে দেহের আভ্যন্তরিন ক্রিয়াকলাপ একটি নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা। নির্দিষ্ট এনজাইম, হরমোন খাবারের হজম প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কেমিক্যাল রিয়েকশন করে থাকে। যার জন্য প্রাকৃতিক খাবার, কম প্রকৃয়াজাতকৃত খাবার হজমে সমস্যা হয় না। কিন্তু যখনই শরীরে অনেকবেশি হারে প্রকৃয়াজাতকৃত খাবার খাওয়া হয় তখন কোনো না কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।”

সেই দিন থেকেই অরণ্য সিদ্ধান্ত নিল— সে নিজের জীবনে ছোট একটা পরিবর্তন আনবে। ঘরে রান্না করা খাবার, ফ্রেশ ফল, সবজি, —গুলোই হবে তার নিত্যদিনের সঙ্গী।

আজ সে আগের চেয়ে অনেক হালকা, অনেক প্রাণবন্ত।

অরণ্যের গল্পটা হয়তো অনেকের জীবনেরই গল্প।
ব্যস্ততার অজুহাতে আমরা ভুলে যাই—
“স্বাস্থ্যই আসল সম্পদ।”

চলুন, আজ থেকে আমরা সবাই একটু সচেতন হই।
প্রাকৃতিক খাবারকে ফিরিয়ে আনি আমাদের প্রতিদিনের জীবনে। 🌿






#স্বাস্থ্যসচেতনতা

29/10/2025

চা সমাচার-৩

এ পর্যায়ে আমরা জানবো কখন, কিভাবে আর কি পরিমাণে গ্রিন টি খেলে আমরা এর যথাযথ উপকার পাবো।

* সারাদিনে ২-৩ কাপের বেশি খাওয়া উচিৎ নয়। এক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার ৩০–৪০ মিনিট পরে গ্রিন টি পান করুন।তাহলে তা খাবার হতে আয়রণ শোষণে বাধার কারণ হবে না।

* খালি পেটে বা রাতে শোওয়ার আগে পান না করাই ভাল। গ্রিন টি খাওয়ার উপযুক্ত সময় সকালের খাবার খাওয়ার ৪৫-৬০ মিনিট পর এবং ব্যায়াম করার ৩০-৪৫ মিনিট আগে বা পরে। স্ন্যাক্স খাওয়ার ইচ্ছা দমন করতে হলেও এক কাপ গ্রিন টি যথেষ্ট।

* গ্রিন টিতে আছে ক্যাফেইন ও এল-থিয়ানিন নামক অ্যামিনো অ্যাসিড। যা একত্রে মিলে সকালের ঘুম তাড়াতে ও মানসিকভাবে সজাগ থাকতে সাহায্য করে। তবে সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে গ্রিন টি-তে চুমুক না দেওয়াই ভাল। খালি পেটে চা খেলে হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হালকা কিছু খেয়ে তার পরেই চা খাওয়া ভাল।

* খাওয়ার পর খেলে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমে।

* যেহেতু গ্রিন টিতে ক্যাফেইন আছে, তাই রাতে ঘুমের আগে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো, বিশেষ করে যাঁদের ঘুমে সমস্যা আছে।

* ব্যায়ামের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে গ্রিন টি খেলে শরীরের সহনশীলতা বাড়ে।

চা সমাচার-৩

* অনেকে গ্রিন টির সাথে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত বিস্কুট কিংবা নোনতা খাবার খান। যার ফলে ওজন অনেকখানি বেড়ে যায়। এর পরিবর্তে সকালে স্বাস্থ্যকর নাস্তার সঙ্গে গ্রিন টি খাওয়া যেতে পারে।

* রাতে ঘুমোনোর বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে চা খাওয়া বন্ধ করা উচিৎ। চেষ্টা করতে হবে সন্ধ্যার পর আর চা না খেতে। রাতের দিকে চা খেলে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর ঘুম কম হলেই হজমের সমস্যা সহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।

* গ্রিন টি-তে দুধ কিংবা চিনি মেশানো ঠিক নয়।

সঠিকভাবে গ্রিন টি বানানোর পদ্ধতি-
৫ গ্রাম বা এক চা চামচ গ্রিন টি নিতে হবে। পানি গরম করে ফুটে উঠলে তা নামিয়ে তারপর তা সামান্য ঠান্ডা হলে এতে চা পাতা যোগ করে ৩ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে। চা পাতা পুরোপুরি ভিজে গেলে পছন্দের কাপে চা ছেঁকে চুমুক দিয়ে উপভোগ করতে থাকুন।




চা সমাচার-২গ্রিন টি-এর নানা উপকারি ভুমিকার কথা আমরা গত পর্বে জেনেছি। কিন্তু কথায় আছে- Excess of anything is bad. ভালো হল...
28/10/2025

চা সমাচার-২

গ্রিন টি-এর নানা উপকারি ভুমিকার কথা আমরা গত পর্বে জেনেছি। কিন্তু কথায় আছে- Excess of anything is bad. ভালো হলেই তা বেশি পরিমাণে নেওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে কিছু কুফল ভোগ করতে হতে পারে...।

১। গ্রিন টিতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যেমন থাকে, তেমনই কিন্তু ক্যাফিনও থাকে। বেশি গ্রিন টি খেলে অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি, শরীরের অতি প্রয়োজনীয় পদার্থগুলিও বেরিয়ে যেতে পারে।

২। গ্রিন টির কিছু উপাদান (বিশেষ করে ট্যানিন ও ক্যাটেচিন) অন্ত্রে থাকা খনিজ, বিশেষ করে আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। তাই যাঁদের আয়রনের ঘাটতি আছে, তাঁদের খাবার ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের মাঝখানে বিরতি দিয়ে গ্রিন টি খাওয়া উচিত।

৩। বেশি পরিমাণ গ্রিন টি খেলেই আপনার অনিদ্রা, হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা আরও বেড়ে যাবে যদি রাতে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস থাকে ।

৪। অতিরিক্ত ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে তোলে এবং অনেক সময় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৫। যদিও সকাল বেলা ১ কাপ গ্রিন টি আপনার ঘুম ভাব কাটিয়ে আপনাকে চাঙ্গা করে তুলতে অবদান রাখে তবে অতিরিক্ত গ্রিন টি হঠাৎ মনোযোগ হারানো বা অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

৬। ট্যানিনের কারণে পেটে জ্বালা, গ্যাস বা বমি ভাব তৈরি হতে পারে।

৭। বুক জ্বলা ও অ্যাসিড রিফ্লাক্স তথা অ্যাসিডিটি বাড়ায়, বিশেষ করে খালি পেটে খাওয়া হলে।

৮। অতিরিক্ত খাওয়া হলে গ্রিন টি তে থাকা ক্যাফেইন রক্তচাপে পরিবর্তন আনে, পানিশূন্যতা বাড়ায় ফলশ্রুতিতে দেখা দেয় মাথা ঘোরা।

কাদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন আবশ্যক?

১. পেটের সমস্যা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স- পাকস্থলীতে অস্বস্তি বা আলসার থাকলে গ্রিন টি এড়িয়ে চলা উচিত।

২. আয়রনের অভাব বা রক্তস্বল্পতা- উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রন শোষণে গ্রিন টি বাধা দিতে পারে। তাই আয়রনের অভাব থাকলে সতর্ক থাকা উচিত।

৩. অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী মা- দিনে দুই কাপের বেশি গ্রিন টি খাওয়া নিরাপদ নয়। ক্যাফেইন শিশুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. ক্যাফেইনে সংবেদনশীল ব্যক্তি- সামান্য ক্যাফেইনেও অস্থিরতা, হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি, হাত-পা কাঁপা বা বিরক্তি হতে পারে।

৫. শিশু- শিশুদের স্নায়ুতন্ত্র সংবেদনশীল, তাই গ্রিন টি তাদের জন্য ঠিক নয়।

(চলবে...।)






28/10/2025

চা সমাচার-১

প্রতিদিন সকালে ধোয়া ওঠা এক কাপ চা না হলে আমাদের চলেই না। রোজকার ব্যস্ততার মাঝে এই এক কাপ চা যেন অনেকটুকু প্রশান্তি এনে দেয়। এই চা এর মাঝেও আবার ধরন আছে- দুধ চা, রং চা, মশলা চা, গ্রিন টি ইত্যাদি। আজকে আলোচনা করবো গ্রিন টি নিয়ে...।

গ্রিন টি ক্যামেলিয়া সিনেনসিস পাতা এবং কুঁড়ি অর্থাৎ চা গাছের পাতা এবং কুঁড়ি থেকে তৈরি করা হয়। এর স্বাস্থ্য উপকারিতা অন্যান্য চা অপেক্ষা অনেক বেশি। যারা স্বাস্থ্য সচেতন তারা ডিটক্স পানীয় হিসেবে নিয়মিত এটি পান করে থাকেন। এই চা এর মূল উৎপত্তিস্থল চীন হলেও বর্তমানে এর উৎপাদন এশিয়ার অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্যালোরি: ২.৪৫ কিলোজুল
• ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট: 0 গ্রাম
• প্রোটিন: ০.৫ গ্রাম

উপরের তালিকা থেকেই বোঝা যাচ্ছে গ্রিন টি অনেক অনেক পুষ্টি উপাদানের উৎস না। এটি গ্রহণে আমাদের শরীর অনেক ক্যালোরি লাভ করে এমনটাও না। যার কারণে এটি সহজেই যে কোনো ধরণের ডায়েটের অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে এবং স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিবর্গ কিংবা যারা ওজন কমাতে চান তারা এটিকে বেশ সাদরে গ্রহণ করছেন।সাথে এর উপকারি উপাদান তো আছেই।

Pubmed এর Chinese Medicine নামের জার্নাল এর পর্যালোচনা অনুসারে গ্রিন টিতে বিভিন্ন এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রায় ২৭ ধরনের মিনারেল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
• পটাসিয়াম- আমাদের দেহকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
• ম্যাগনেসিয়াম-রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ।
• সেলেনিয়াম- ইমিউন সিস্টেমকে সহায়তা প্রদান করে ।

এগুলোর পরিমাণ কম মনে হলেও, প্রতিদিন Green Tea গ্রহণ আমাদের শরীরে এই সকল মিনারেলস এর অভাববোধ হতে দেয় না। একই সাথে এতে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট সমূহেরও রয়েছে বিপুল উপকারিতা।

১। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস:
গ্রিন টি পলিফেনল সমৃদ্ধ, বিশেষ করে ক্যাটেচিন, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এর মধ্যে এপিগ্যালোক্যাটেচিন গ্যালেট (EGCG) এর শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব রয়েছে। এই যৌগগুলি মুক্ত র‍্যাডিকেলগুলিকে নিরপেক্ষ করে শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে, যার ফলে কোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ হ্রাস পায়।

2। হার্টের স্বাস্থ্য বৃদ্ধিকারী:
গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে হৃদরোগের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটেচিন LDL কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দিয়ে হৃদরোগের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

৩। ওজন ব্যবস্থাপনাত:
গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন এবং ক্যাটেচিনের সংমিশ্রণ বিপাক বৃদ্ধি করে এবং ফ্যাট জারণ বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই যৌগগুলো শক্তি ব্যয় এবং ফ্যাট পোড়ানোর প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এটি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে।

তবে শুধু গ্রিন টি খেয়ে ওজন কমানো সম্ভব না। যারা ওজন কমানোর জন্য নির্দিষ্ট ডায়েট অনুসরণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম করছেন তারা তাদের খাদ্যতালিকায় গ্রিন টি রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

৪। ক্যান্সার প্রতিরোধ:
ল্যাবরেটরি গবেষণায় দেখা গেছে যে গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে EGCG, ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে এবং টিউমার গঠন কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে স্তন, প্রোস্টেট এবং কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের মতো ক্যান্সারের ক্ষেত্রে।

৫। মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি:
গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন একটি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে, সতর্কতা এবং ঘনত্ব উন্নত করে, অন্যদিকে এল-থিয়ানিন শিথিলতা বৃদ্ধি করে এবং উদ্বেগ কমায়। একসাথে, এই যৌগগুলি স্মৃতিশক্তি, মনোযোগের সময়কাল এবং সামগ্রিক মানসিক স্বচ্ছতা সহ জ্ঞানীয় কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে।

৬। ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা :
গ্রিন টি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণের উন্নতির সাথে সম্পর্কিত। গবেষণায় দেখা গেছে যে গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটেচিনগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় গ্রিন টি অন্তর্ভুক্ত করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং জটিলতার ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

৭। সৌন্দর্য বর্ধক:
গ্রিন টি-এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য প্রযোজ্য। এর পলিফেনল ত্বককে অতিবেগুনী বিকিরণ এবং পরিবেশগত দূষণকারী পদার্থ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, যার ফলে অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্ষতির ঝুঁকি হ্রাস পায়।
এছাড়াও, গ্রিন টি-এর নির্যাসের সাময়িক প্রয়োগ ব্রণ এবং সোরিয়াসিসের মতো বিভিন্ন ত্বকের অবস্থার চিকিৎসায় প্রতিশ্রুতিশীল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

৮। প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য:
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ অনেক দীর্ঘস্থায়ী রোগের জন্য দায়ী, যার মধ্যে আর্থ্রাইটিস এবং হৃদরোগের ব্যাধিও রয়েছে। গ্রিন টি-এর শক্তিশালী প্রদাহ-বিরোধী প্রভাব প্রদাহজনক সাইটোকাইন এবং এনজাইম দমন করে সারা শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই নিয়মিত গ্রিন টি সেবন সামগ্রিক প্রদাহ হ্রাসে অবদান রাখতে পারে।

৯। দাঁতের স্বাস্থ্য উপকারিতা:
গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটেচিন মুখের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে, দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ এবং মুখের দুর্গন্ধের ঝুঁকি হ্রাস করে। নিয়মিত গ্রিন টি পান করা বা গ্রিন টি-ভিত্তিক মাউথওয়াশ ব্যবহার দাঁতের স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে এবং সামগ্রিক দাঁতের সুস্থতায় অবদান রাখতে পারে।

১০। চাপ কমানো এবং শিথিলকরণ:
গ্রিন টি-তে প্রচুর পরিমাণে অ্যামিনো অ্যাসিড এল-থিয়ানিন মস্তিষ্কে আলফা তরঙ্গ উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে, যা তন্দ্রা না এনে দেহে প্রশান্তি এবং শিথিলতা তৈরি করে। তাই প্রতিদিনের রুটিনে গ্রিন টি অন্তর্ভুক্ত করলে চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং সামগ্রিক মেজাজ এবং মানসিক স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করা যায়।

১১। হরমোন বৃদ্ধিঃ
গ্রিন টি-তে ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ক্যাটেচিনের উপস্থিতি স্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রোজেস্টেরন হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে।




শুভ সকাল !দিনের শুরুটি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে করুন। আরও একবার সোনালী সুর্য দেখার সৌভাগ্য হলো আপন...
01/10/2025

শুভ সকাল !

দিনের শুরুটি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে করুন। আরও একবার সোনালী সুর্য দেখার সৌভাগ্য হলো আপনার...

নীল আকাশ,
মৃদু মৃদু বাতাস
প্রকৃতির অনাবিল হাতছানি
ভেবে দেখুন-
কতটা ভাগ্যবান আপনি!

আর হ্যা, সকালে ঘুম থেকে জেগে খালি পেটে পানি পান করার কথা ভুলে যাবেন না কিন্তু! সকালে খালি পেটে ১-২ গ্লাস পানি পান করলে-

১। শরীর থেকে বিভিন্ত বিষাক্ত উপাদান প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যাবে।

২। মেটাবলিজম বৃদ্ধি পাবে (প্রায় ২০-৩০%) যা অতিরিক্ত ওজন ঝরানোর ক্ষেত্রে সহায়ক।

৩। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর হবে।

৪। ত্বকের আদ্রতা বজায় থাকবে।

৫। রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে।

৬। ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করলে তা মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। যেমন—স্মরণশক্তি বাড়ে।

৭। শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

তবে এক্ষেত্রে উত্তম হলো ব্রাশ করার আগে পানি পান করা। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর মুখে লালার সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া থাকে। এ ব্যাকটেরিয়া আমাদের পাকস্থলীর জন্য উপকারী। ব্রাশের করার আগে পানি পান করলে মুখের লালায় থাকা ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীতে চলে যায় এবং পাকস্থলীর উচ্চ অ্যাসিডিক পরিবেশে ধ্বংস হয়ে যায়।

যাদের খালি পেটে পানি পানের অভ্যাস নেই তাড়া প্রতিদিন অল্প অল্প করে পানি পানের মাধ্যমে অভ্যাস করতে পারেন।




#

29/09/2025

উচ্চ রক্তচাপ পর্ব-০৩

আগের পর্বে আমরা উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ ও কিভাবে পরিমাপ করতে হবে সে বিষয়ে জেনেছি। পরীক্ষা করার পর যদি উচ্চ রক্তচাপ চিহ্নিত হয় এবং চিকিৎসক যদি মনে করেন আপনার মেডিসিন নেওয়া উচিৎ, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্দেশনা মোতাবেক নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে। অন্যদিকে, যদি মেডিসিন নিতে না হয় তাহলে জীবনযাত্রার ধরন পরিবর্তন করে শুধুমাত্র খাবারের মাধ্যমেই এই উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে কিছু সাধারণ নির্দেশনা-

১। লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ- অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রেখে রক্তের ভলিউম বাড়ায় যার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। WHO এর সুপারিশ অনুযায়ী সারাদিনে ৫ গ্রাম (≈১ চা চামচ) এর কম লবণ গ্রহণ করা উচিত।

২। Potassium সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ- পটাশিয়াম sodium-এর প্রভাব কমিয়ে রক্তনালী শিথিল করে এবং রক্তচাপ কমায়। কিছু পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার হলোঃ কলা, কমলা, পালং শাক, আলু, মিষ্টি আলু, ডাবের পানি, ডাল, কমলা, টমেটো, অ্যাভোকাডো।

৩।ওজন নিয়ন্ত্রণ- ওজন কমানো উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি।প্রতি ১ কেজি ওজন কমলে systolic BP প্রায় ১ mmHg কমে।

৪। অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন সীমিতকরণ- অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন রক্তচাপ বাড়ায়।

৫। ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ- Whole grains, ডাল, বাদাম, ওমেগা-৩ (মাছ, ফ্ল্যাক্সসিড, আখরোট) রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

৬। প্রসেসড ফুড ও ট্রান্স-ফ্যাট এড়িয়ে চলা- প্রসেসড খাবারে সোডিয়াম ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেশি থাকে, যা BP ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে বিশেষভাবে কার্যকর এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত ডায়েট হলো-DASH Diet (Dietary Approaches to Stop Hypertension)। এ ব্যাপারে একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, সুস্থ থাকুন।





#স্বাস্থ্যসচেতনতা

28/09/2025

উচ্চ রক্তচাপ পর্ব-০২

অনেক সময় দেখা যায় প্রেসার মাপার জন্য কেউ দৌড়ে এসে সিরিয়াল দিচ্ছেন, কেউ সিড়ি দিয়ে নেমে আসছে্ন, কেউ শুয়ে শুয়ে প্রেসার মাপাচ্ছেন তো কেউ আবার যুক্তি-তর্ক করতে করতে প্রেসার মাপছেন। এতে করে কারো প্রেসার স্বাভাবিক আসে তো কারো প্রেসারে আবার বেশ-কম দেখা যায়। তখন নিজেরাই হাই-প্রেসার বা লো -প্রেসার হিসেবে চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী নির্দেশনা মানতে থাকেন। আর এতেই বাধে বিপত্তি! দেখা যায় যিনি সত্যিকার অর্থে উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন তিনি হয়তো অগোচরেই থেকে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, যিনি ছিলেন স্বাভাবিক প্রেসারের, শুধুমাত্র ভুল ভাবে মাপার কারণে তিনি হয়ে গেলেন হাই-প্রেসারের রুগী!

আগের পর্বেই বলা হয়েছে উচ্চরক্তচাপ আপনাকে তার উপস্থিতির জানান দিবেই! হয়তো আপনিই লক্ষণ গুলো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

লক্ষণঃ
১। অতিরিক্ত মাথাব্যথা
২। কোন কারণ ছাড়াই মাথায় চাপ ধরে থাকা
৩। চোখ ঝাপসা হয়ে আসা
৪। বুক ধরফর করা
৫। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
৬। বুকে চাপ বা ব্যথা
৭। নাক থেকে রক্ত পড়া

এসকল লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ব্লাড-প্রেসার মেপে দেখা উচিৎ। এখন কথা হলো আপনি প্রেসার কখন আর কিভাবে মাপবেন? দৌড়ে দৌড়ে? উত্তেজিত অবস্থায়? উহু...। এ দু'টি ক্ষেত্রেই নিঃসন্দেহে আপনার প্রেসার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আসবে ।

প্রেসার মাপার নিয়ম-

১। মেশিনঃ
সঠিকভাবে প্রেসার মাপার জন্য সবসময় এনালগ মেশিন ব্যবহার করুন। ডিজিটাল মেশিন ব্যবহার করবেন না। একই এনালগ মেশিনে পর পর ৩ দিন একই সময়ে একই অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে ব্লাড প্রেসার মাপুন। যদি প্রতিবারই প্রেসার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আসে তাহলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন (বিশেষ করে Medicine specialist)।

২।প্রস্তুতিঃ
প্রেসার মাপার অন্তত ৩০ মিনিট আগে চা, কফি, ধূমপান বা ব্যায়াম করা যাবে না।মাপার আগে ৫ মিনিট শান্ত হয়ে বসতে হবে এবং এনালগ ব্লাড প্রেশার মেশিন ব্যবহার করলে হাতের কাফ সঠিকভাবে বসাতে হবে (কনুইয়ের ১–২ সেমি উপরে)।

৩।শরীরের ভঙ্গিঃ

প্রেসার মাপার ক্ষেত্রে শরীরের ভঙ্গীর দিকেই বিশেষ নজর দিতে হবে।

ক) সোজা হয়ে চেয়ারে বসতে হবে।

ক) পা দুটি মেঝেতে থাকবে, একটার উপর আরেকটা না তুলে।

গ) হাত টেবিলে রাখতে হবে, যেন কাফ হৃদপিণ্ডের সমান উচ্চতায় থাকে।

নিয়মিত প্রেসার মাপা ও রেকর্ড রাখা খুব জরুরি, কারণ এটি ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীকে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অবস্থা বুঝতে সাহায্য করে।





27/09/2025

উচ্চ রক্তচাপ পর্ব - ০১

আমরা অনেক সময়ই বলে থাকি উচ্চ রক্তচাপ হলো "নীরব ঘাতক" বা "Silent Killer". কিন্তু, কখনো কি ভেবে দেখেছি কেন একে নীরব ঘাতক বলা হয়? উচ্চ রক্তচাপ কি তার উপস্থিতির জানান দেয় না?

চলুন, একে নীরব ঘাতক বলার কিছু কারণ জেনে নেই।

১। অস্পষ্ট লক্ষণ
বেশিরভাগ মানুষের হাই ব্লাড প্রেসার থাকলেও শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি মাঝে মাঝে হতে পারে, কিন্তু এগুলো অন্য অসুখের সঙ্গে মিশে যায়। তাই মানুষ বুঝতেই পারে না যে তার উচ্চ রক্তচাপ আছে।

২। ধীরে ধীরে ক্ষতি করে
দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এটি শরীরের ভেতরে রক্তনালী, হৃদপিণ্ড, কিডনি ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে থাকে।

৩। হঠাৎ মারাত্মক জটিলতা ঘটায়
হাই ব্লাড প্রেসার স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, কিডনি ফেইলিউর ইত্যাদির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু আগাম সতর্ক সংকেত প্রায় থাকে না, তাই হঠাৎ গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়।

৪। অনেকেই টের পায় দেরিতে
অনেক মানুষ কেবল তখনই জানতে পারে যে তাদের হাই ব্লাড প্রেসার আছে, যখন তারা বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগে।

মনে রাখবেন, উচ্চরক্তচাপ তার উপস্থিতির জানান দিবেই। আপনিই হয়তো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে আরও বিস্তারিত জানবো আমরা পরবর্তী পর্বগুলোতে...





#স্বাস্থ্যসচেতনতা

25/09/2025

প্রতিদিনের ব্যস্ততায় শরীর আর মনের যতটা ক্লান্তি জমে, তার সহজ সমাধান লুকিয়ে আছে কয়েক কদম হাঁটার মধ্যেই। জিমের সময় বা যন্ত্রপাতি না থাকলেও স্বাস্থ্যকর জীবনের পথ খুলে দিতে পারে এই একটুখানি হাঁটা।

হাটা শুধু সহজ ব্যায়াম নয়, এটি আমাদের শরীর ও মনের জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত একটি ওষুধের মতো কাজ করে।

হাঁটার বৈজ্ঞানিক উপকারিতা-

১। হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায় – নিয়মিত brisk walking (দ্রুত হাঁটা) রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি প্রায় ২০–৩০% কমে।
(Harvard Health Publishing, 2017)

২। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক – হাঁটার ফলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ে, ফলে রক্তে শর্করা কমে। বিশেষ করে খাবারের পর ১০–১৫ মিনিট হাঁটা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
(Diabetes Care, 2013)

৩। ওজন কমাতে সহায়ক – প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা প্রায় ১৫০ ক্যালরি বার্ন করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
(Mayo Clinic, 2021)

৪। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো করে – হাঁটার সময় এন্ডোরফিন নামক "হ্যাপি হরমোন" নিঃসৃত হয়, যা স্ট্রেস ও উদ্বেগ কমায়।
(American Psychological Association, 2019)

৫। হাড় ও পেশি মজবুত করে – হাঁটা একটি weight-bearing exercise, যা হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায় এবং অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।
(National Institute of Arthritis and Musculoskeletal and Skin Diseases, 2020)

৬। ঘুমের মান উন্নত করে – নিয়মিত সকালের হাঁটা ঘুমের মান ভালো করে এবং অনিদ্রা কমাতে সাহায্য করে।
(Sleep Health Journal, 2019)

৭। দীর্ঘায়ুতে সহায়ক – গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাঁটেন এমন মানুষদের মৃত্যুঝুঁকি তুলনায় ২০–৩০% কম।
(British Journal of Sports Medicine, 2018)

অতএব, স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ব্যয়বহুল কিছু নয়, দরকার কেবল কয়েক কদম হাঁটার অভ্যাস। প্রতিদিন হাঁটা শুরু করুন—আজকের ছোট পদক্ষেপই হতে পারে আগামী দিনের বড় সুরক্ষা।





Address

Fulbaria

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nutritionist Zohora Setara posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Nutritionist Zohora Setara:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category