24/12/2025
গল্প-২
তানভীর সবসময় ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসত।
শিক্ষকরা তাকে শান্ত ছেলেদের দলে না ধরে—
"মনোযোগহীন, দুর্বল ছাত্র" — এই তালিকাতেই রাখতেন।
বন্ধুরা মজা করে বলত—
“শেষ বেঞ্চের ছেলেরা জীবনে কিছু করতে পারে না।”
তানভীর হাসত, কিছু বলত না।
কারণ সে জানত—চুপ থাকা মানে হার মানা নয়।
ওর মা সেলাইয়ের কাজ করতেন।
রাতে দেরি পর্যন্ত কাজ করার সময়ও তানভীরের মাথায় হাত রেখে বলতেন—
“বাবা, তুমি একদিন সবার কথা বদলে দেবে।”
সেই কথা তার বুকের ভেতর শক্তির মতো জমে থাকত।
তানভীর পড়াশোনায় তেমন ভালো না হলেও
তার ছিল একটা আলাদা ভালো লাগা — কম্পিউটার।
বন্ধুরা যখন ঘুরতে যেত,
তানভীর তখন পুরনো কম্পিউটার দোকানে গিয়ে বসে থাকত।
দোকানদার কাকা বলতেন—
“শিখতে চাইলে বসে দেখ —
এই জিনিস টাকা দিয়ে শেখা যায়, আর মন দিয়ে শেখা যায়।”
তানভীর মন দিয়ে শিখত।
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস…
সে কারও সামনে বড়াই করত না —
কিন্তু নিজের ভুলগুলো ঠিক করতে করতে একসময়
সে পুরো সফটওয়্যার বানানো শিখে গেল।
একদিন স্কুলে আইটি প্রতিযোগিতা হলো।
সবাই ভাবল, প্রথম হবে ফার্স্ট বেঞ্চের ছাত্ররা।
কিন্তু ফল বের হওয়ার পর হলঘর চুপ—
প্রথম হলো সেই তানভীর,
যাকে সবাই শেষ বেঞ্চের ছেলে বলত।
শিক্ষক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন—
“তুমি এটা করলে কীভাবে?”
তানভীর ধীরে বলে—
“স্যার, আমি শুধু প্রমাণ করেছি—
শেষ বেঞ্চ মানে শেষ নয়…
শুধু শুরুটা অন্য জায়গা থেকে।”
সেদিন থেকে আর কেউ তানভীরকে ছোট করে দেখেনি।