17/06/2022
আজকের এই পোষ্টটি প্রথম থেকে শেষ অবধি মনোযোগ সহকারে পড়বেন --
আপনি স্বল্প শিক্ষিত
গবাদিপশু লালন পালন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা কম
পরিবারের সদস্যদের সাপোর্ট কম
খুব বেশি অর্থ মুনাফা নেই,
কিন্তু খামার করার প্রবল ইচ্ছা আপনার মাঝে
কোন ম্যাটার নয়, কোন হতাশা নয়,
নিচের চূড়ান্ত গাইড লাইন গুলো শুধুমাত্র আপনার জন্যই,,
আমার মতো মধ্যবিত্ত গ্রামের অনেক গরীব দুখী পরিবার আছে
যাহারা 2 -- 3 টি দেশী গাভী 1 -- 2 টি দেশি ষাঁড়গরু
দু চারটে দেশি ছা # গ # ল পালন করে থাকেন
সাংসারিক বাড়তি আয়ের জন্য
দুধ খাওয়ার জন্য
পালন করেন,
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় গাভী হিটে আসলে বেশিরভাগ লোক দেশী ষাঁড়গরু দিয়েই প্রজনন করে থাকেন,
অনেকেই দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে কাজের ফাঁকে ইউটিউবের মন মাতানো ভিডিও দেখে আর ফেসবুকের কিছু শর্টকাট পোস্ট কমেন্ট পড়ে খামার করার জন্য উতলা হয়ে যান,
সারা জীবনের অতি কষ্টের জমানো টাকা দিয়ে
বাড়িতে এসে হাজার হাজার লাখ লাখ টাকা খরচ করে অত্যাধনিক শেড তৈরি করেন,
ছুটে যায় সেই অনলাইনে দেখা খামারী নামক ব্যবসায়ির কাছে,
গাভীকে মশুরের ডাউল বেটে খাইয়ে
ডাবল ডোজ ক্যালসিয়াম আর দুধ উৎপাদনের পাউডার ট্যাবলেট গাভীকে খাওয়াইয়ে
দুধের পরিমাণ দোহণ করে দেখিয়ে দেয় মাশাআল্লাহ
ভিডিওতে যা দেখিয়েছিলেন তার চেয়েও দেড় লিটার বেশি,
বাড়িতে আনার পরেরদিন প্রথম দোহনেই 5 লিটার দুধ কম, সাতদিন অতিবাহিত হতে না হতেই
20/22 লিটারের গাভি দুধ পাচ্ছেন যথারিতী 8/10 লিটার
এমন অসৎ ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলুন,
সঠিক পরিকল্পনা কর্মপ্রন্থা অবলম্বন করুন,
সেই সকল ভাইদের উদ্দেশ্যে বলছি,,
আপনি নতুন উদ্যোক্তা আপনার ভিতরে আবেগ কাজ করবে সবচেয়ে বেশি,
তারাহুরা করবেন না,
প্রাথমিক পর্যায়ে আপনার জন্য ছোট ছোট শাহিয়াল ফ্রিজিয়ান ষাঁড়বাছুর পালন করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে,
অল্প টা কা ইনভেস্ট করে কম সময়ে অল্প পরিশ্রমে
তুলুনামূলক বেশি লাভ করা যায়
তবে অবশ্যই গরু কে না র সময় আপনাকে আগে জিততে হবে,
তানাহলে ছয়মাস এক বছর গরু পাগল করেও
লাভের মুখ দেখা আপনার জন্য অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে,
ছোট ছোট ষাঁড়বাছুর গুলো অল্প টাকাতেই স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে নিবেন,
ছোট খাটো নিরাপদ ঘর তৈরি করুন, থাকার জায়গায় নিচে বেশি করে লোকাল বালু দিয়ে বালুর উপরে শুধুমাত্র ইট দিবেন
তবে পিছনের দিকটা কিছুটা ঢালু রাখবেন,
প্রথমে মাত্র 3--6 মাসের প্রকল্প হাতে নিবেন,
ষাঁড় গুলো সংগ্রহ করে বাড়িতে আনবার 5/7 দিন পর
কৃমিনাশক ট্যাবলেট রেনাডেক্স ভেট কিংবা এন্টিওয়ার্ম ভেট নির্দেশনা অনুযায়ী দিয়ে কৃমি মুক্ত করণ করে পরেরদিন থেকে
সিরাপ
লিভার টনিক হেপাফিট ভেট, হেপারেন ভেট 5-6 দিন খাওয়ানোর পর থেকে
ওজিংক ভেট অথবা জিং কেয়ার। ফ্যাটি ডি এস অথবা রুমিফ্যাট ট্যাবলেট দিবেন নির্দেশনা অনুযায়ী 10--15 দিন,
দানাদার খাদ্য তালিকায় সরিষার খৈল চিটাগুড় ধানের কুঁড়া ভুট্টা ভাঙ্গা ভাতের মাড় অল্প করে খেশারির ভুসি গমের ভুসি অয়োডিন যুক্ত লবণ
রাখতে পারেন,
যতটা সম্ভব কাঁচা ঘাসের সু ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন,
তবে একদমই কাঁচা ঘাসের সু ব্যবস্থা না থাকলে
সিজিনের সময় খড় গম ভুট্টা খেশারি সংগ্রহ করে রেখে দিবেন,
পরবর্তীতে
নিজেই মিলে নিয়ে দানাদার খাদ্য তৈরি করে গরুকে খাওয়াবেন,
এই ছোট ছোট ষাঁড় গুলো বিক্রয় করার একমাস পূর্বে পূণরায় পাউডার গ্রোথ ফর্মূলা, এ্যাজিংক ভেট এবং ফসক্যাল ডিবি ট্যাবলেট দিবেন অনুমোদিত মাত্রায় 10--15 দিন,
এই ষাঁড় গুলোর খাদ্য খরচ কম হবে
পক্ষান্তরে
ষাঁড় গুলো ইনশাআল্লাহ যথেষ্ট মোটাতাজা হয়ে যাবে,
এই ষাঁড় গুলো বিক্রয় করে দেশি সাইজে বড় এক দুই বিয়ানের গাভী সংগ্রহ করবেন,
এই দেশি গাভিগুলো দুই আড়াই থেকে সাড়েতিন বা
পাঁচ লিটার দুধ দেয়, এমন গাভী,
অথবা কোনো নিন্মমানের ক্রসের গাভী,
এই গাভী গুলো হিটে আসলে অভিজ্ঞ এআই কর্মীর সহায়তায় ১০০% ফ্রিজিয়ান বা জার্সি শাহিয়াল সিমেন দিবেন,
এসব ফ্রিজিয়ান জার্সি ষাড়ের মায়ের দুধের রের্কড থাকবে 20--35 লিটার,
শাহিয়ালের 12--18 লিটার,
1 --2 বিয়ানের দেশী গাভীকে ১০০% সিমেন দিলে 4০% বাচ্ছা আসবে,
তাহলে দেশী গাভী থেকে 4০% ফ্রিজিয়ান জার্সি বকনা যদি তৈরী হবে
এই বকনা গুলি পর্যায়ক্রমে গাভী হলে
দেখা যায়
প্রতিটির দুধ হওয়ার কথা 10--15 লিটার + -
শাহিয়ালের 6--10 লিটার দুধ + -
হয়তোবা কিছুটা কমও হলেও মন্দ কি,
এই দেশি গাভী থেকেই আগে পেতেন 2/3/5 লিটার দুধ,
আর যদি ষাঁড় বাছুর হয়
তাহলে মন্দ কি ।
হাটে বাজারের ক্রেতাদের সবচেয়ে প্রথম চাহিদা সম্পন্ন ষাঁড় হবে এই ষাঁড় বাছুর গুলো,
খামার প্রকল্প টিকিয়ে রাখতে ও সাংসার জীবন সুখিময় করে গড়ে তুলতে
শুধুমাত্র গরু ছা গ ল পালনের উপর ডিপেন্ড করবেন না,
সাইড ইনকাম হিসাবে সবজি চাষ ও মাছ চাষ করতে পারেন,
সিজিনের সময় কিছু ধান পাট সরিষা ভুট্টা রসুন সংগ্রহ করে রেখে দিয়ে
দুই আড়াই মাস পর বি ক্র য় করে গরু ছাগল পালনের থেকেও তিনগুণ বেশি লাভবান হতে পারেন,,
মনে রাখবেন দূরচিন্তা ও অন্যকে দোষারোপ করে কেবলমাত্র আপনার মাঝে হতাশাই বাড়বে,
সময় ও এনার্জি দুটোই নষ্ট হবে,
জীবনের কোনো অমূল পরিবর্তন আনতে পারবেন না,,
সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, রিস্ক নিয়ে
ঝুঁকি নিয়ে ইনভেস্ট করতে হবে,
নিজের মাঝে আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে,
কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে,
তবেই জীবনের মূল লক্ষে নিজেকে নোঙ্গড় করতে পারবেন,