01/03/2026
চিকিৎসা সেবা এমন একটি দায়িত্ব, যা তিলে তিলে মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও সুনাম দিয়ে গড়ে ওঠে কিন্তু সামান্য একটি জটিলতাই মুহূর্তের মধ্যে সেই সুনামকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে পারে।
গত ১ মার্চ রাত ৩:৪০ মিনিটে এক প্রসূতি মা হঠাৎ আমাদের ক্লিনিকে আসেন।সাথে রুগির বয়স্ক মা ছাড়া কোন শক্তপোক্ত পুরুষ বা মহিলা নাই। পূর্বে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হলেও নানা কারণে তা করা হয়নি। আগমনের পরপরই আমাদের দায়িত্বশীল সিস্টারা পরীক্ষা করে দেখেন শিশুর মাথা চলে এসেছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্লাসেন্টা (ফুল) না আসায় হঠাৎ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, যা একটি জীবন সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছিলো।
তাৎক্ষণিকভাবে কর্মরত চিকিৎসক ডা. সিয়াম শেখ রোগীর অবস্থা বিবেচনায় যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করেন। রোগীর পাশে তখন কোনো স্বজন উপস্থিত না থাকলেও আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন সিস্টার রোগীর সাথে যান এবং পরবর্তীতে একতা মেডিকেল সার্ভিসের চিকিৎসক, স্টাফ ও পরিচালকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রক্তের ব্যবস্থা করা হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে রোগী এখন আশঙ্কামুক্ত এবং সুস্থতার পথে।
এই ঘটনাটি আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় চিকিৎসা সেবা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি আমানত। প্রতি মাসে ১২–১৪টি সফল স্বাভাবিক ডেলিভারি মানুষের কাছে হয়তো খবর হয় না, কিন্তু একটি জটিলতাই মুহূর্তে সবকিছুকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারতো।রুগী আমাদের কোন আত্তীয় বা কাছের কোন ব্যাক্তিছিলো না।শুধুমাত্র মানবিক কারনে রুগীর পাশে দাঁড়ানো।এত কিছুর পরেও যদি রুগীকে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে হতো কেউ উপকারের কথা স্বরন না রেখে সোজা প্রতিষ্ঠানের দিকে আংগুল তুলতো।
আমাদের বিনীত অনুরোধ, সচেতন হোন,গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। সচেতনতা ও সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্তই মা ও নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
একতা মেডিকেল সার্ভিস সবসময় মানুষের পাশে ছিল, আছে, এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে।