18/04/2026
আঙুল সামান্য কেটে গেলে আমরা কেন প্রথমেই সেটা অবচেতনভাবে মুখে পুরে দিই, কখনো ভেবে দেখেছেন কি? ছোটবেলায় বড়দের কাছে শুনে অভ্যস্ত ছিলেন হয়তো যে লালা লাগালে ক্ষত সেরে যায়। তখন একে নিছক গ্রাম্য ধারণা বা কুসংস্কার মনে হলেও, আধুনিক বিজ্ঞান বলছে এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক চমৎকার জৈবিক রহস্য। আমাদের শরীরের ভেতরেই প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে এক প্রাকৃতিক ‘ওষুধের দোকান’।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের লালায় ‘হিস্টাটিন’ (Histatin) নামক এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিনটি কেবল হজমে সাহায্য করে না, বরং এটি শরীরের ক্ষতের ওপর প্রলেপ হিসেবে কাজ করে নতুন কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, এই প্রোটিনটি ত্বকের কোষগুলোকে দ্রুত ক্ষতের দিকে টেনে আনে, ফলে ক্ষতস্থান অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে দ্রুত ভরাট হয়ে যায়।
কেবল দ্রুত সারিয়ে তোলাই নয়, লালার রয়েছে শক্তিশালী ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল’ বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ, এটি প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, শরীরের বাইরের কোনো অংশের তুলনায় মুখের ভেতরের ক্ষত কত দ্রুত শুকিয়ে যায়? এর প্রধান কারণ হলো লালার এই বিশেষ গুণ। এটি ক্ষতস্থানকে আর্দ্র রাখে এবং ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
তবে এই তথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও আছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়ার ক্ষেত্রে এই প্রাকৃতিক নিরাময় প্রক্রিয়া দারুণ কাজ করলেও, বাইরের ধুলোবালি মাখা গভীর ক্ষত বা পশুর কামড়ের ক্ষেত্রে লালা ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ লালায় উপকারি প্রোটিনের পাশাপাশি এমন কিছু ব্যাকটেরিয়াও থাকে যা রক্তপ্রবাহে মিশলে বিপত্তি ঘটতে পারে। তাই প্রকৃতির এই দানকে বুঝতে হবে সঠিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।
বিবর্তনের ধারায় মানুষ এবং প্রাণিকুল নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই চমৎকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি পেয়েছে। আপনার কি মনে হয়, আধুনিক চিকিৎসার যুগেও প্রকৃতির এই সহজ সমাধানগুলো আমাদের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।
Sources:
• FASEB Journal / Federation of American Societies for Experimental Biology (2008)
• University of Amsterdam / National Center for Biotechnology Information (NCBI)