01/02/2024
অতিপ্রতিক্রিয়া:(Allergy)
অতিপ্রতিক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে জ্বর, খাদ্যে অতিপ্রতিক্রিয়া, অতিপ্রতিক্রিয়াজনিত ত্বকপ্রদাহ (এটপিক ডার্মাটাইটিস), অতিপ্রতিক্রিয়াজনিত হাঁপানি ও বিষম অতিপ্রতিক্রিয়া (অ্যানাফাইল্যাক্সিস)। লক্ষণগুলো হলো চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি, রাইনোরিয়া বা নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া, শ্বাসকষ্ট অথবা ফুলে যাওয়া। খাবার সহ্য না হওয়া ও খাদ্য বিষক্রিয়া দুটি আলাদা বিষয়।
এলার্জি এর উপসর্গ :
ধূলা থেকে এলার্জি:
★ সর্দি বা বন্ধ নাক হাঁচি।
★ চোখ লাল হয়ে জল পড়া এবং চুলকানি/কাশি, বুকে ঘড়ঘড় আওয়াজ, দম বন্ধ বোধ
হওয়া।
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস:
★ সর্দি বা বন্ধ নাক।
★চোখে এবং ত্বকে চুলকানি,হাঁচি।
★ক্লান্তি এবং নাক বন্ধ থাকার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত জনিত দুর্বলতা।
ত্বকের এলার্জি:
★ত্বকের এলার্জির রগগুলি হল লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি এবং ফুলে যাওয়া। কিছু ক্ষুদ্র পার্থক্য রয়েছে যা ত্বকের অবস্থার নির্ণয়ে সহায়তা করতে পারে।
• একজিমা এবং কন্টাক্ট ডারমাটাইটিস:
যাদের একজিমা আছে তাদের ত্বক প্রায়ই শুষ্ক হয়। চুলকানি হয় এবং ত্বক শক্ত হয়ে যায়। কারুর ক্ষেত্রে চুলকাতে গেলে শক্ত ত্বক ফেটে গিয়ে রস বেরোতে থাকে। এতে বোঝা যায় যে সংক্রমণ হয়েছে। বাচ্চাদের মুখে, শরীরের জোড়গুলিতে বা কানের পিছনে একজিমা হতে পারে। বড়দের ক্ষেত্রে এই গুলি ছাড়াও হাত এবং পায়ে হতে পারে। কন্টাক্ট ডারমাটাইটিসের ক্ষেত্রে এই রকমের উপসর্গ দেখা দিতে পারে যে জায়গা এলার্জেন বা ধাতুর সংস্পর্শে এসেছে।
• ছুলি:
ছুলি হলে ত্বক লাল হয়ে ফুলে যায়। কিছু জায়গা লাল হয়ে বিভিন্ন আয়তনে উঁচু হয়ে যায় এবং শরীরের যে কোন জায়গায় হতে পারে। এই রোগের একটি অবস্থার নাম হল এনজিয়োডিমা, যেখানে ত্বকের নিচের স্তরগুলিও প্রভাবিত হয়।
খাদ্যের এলার্জি:
খাদ্যের এলার্জি'র উপসর্গ খাওয়ার ঠিক পরে অথবা কয়েক ঘণ্টা পরে হতে পারে। এর উপসর্গগুলি হল ত্বক লাল হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে চুলকানি, বন্ধ নাক, বমির ভাব, বমি করা, সংকোচন এবং উদরাময়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে খাদ্যের এলার্জি থেকে আর একটি গুরুতর রোগ হতে পারে, যার নাম এনাফাইল্যাক্সিস যার উপসর্গগুলি হল:
• দম বন্ধ লাগা।
• জিভ, গলা এবং ঠোঁট ফুলে যাওয়া।
কীট-পতঙ্গ এবং পোষ্য থেকে এলার্জি:
পোষ্য থেকে এলার্জির উপসর্গগুলি ধূলা থেকে এলার্জির মতন। পোষা জন্তুর সংস্পর্শে এলে এদের দেখা পাওয়া যায়। কীট-পতঙ্গ থেকে যে এলার্জিগুলি হয়, সেগুলির উপসর্গ হল:
মুখ মণ্ডল, ঠোঁট, গলা এবং জিহ্বা ফুলে যায়।
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
• যেখান কীট-পতঙ্গ কামড়ায় বা হুল ফোটায় সেখানে চুলকানি, ছুলি এবং অবশেষ ছোট ফোসকা পড়ে যার ভিতরে পুঁজের মতন বস্তু থাকে।
বমি করার ইচ্ছে, বা বমি করা।
পেটে সংকোচন হওয়া।
এলার্জি এর চিকিৎসা :
এলার্জির চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ইতিহাস, উপসর্গগুলি কতটা গুরুতর এবং এলার্জির পরীক্ষার ফলাফলের উপরে। চিকিৎসার ধাপগুলি হল:
এলার্জেনগুলিকে এড়ানো:
এলার্জি এড়ানোর সব চেয়ে উত্তম পন্থা হচ্ছে যে বস্তু থেকে এলার্জি হয় সেগুলিকে যত দূর সম্ভব এড়িয়ে চলা। এতে ওষুধ-পত্র কম লাগে এবং উৎস সরানোর প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত ভাবে "জল নেতি" করে নাক পরিষ্কার রাখলে বাতাসে বয়ে আনা এলার্জানগুলিকে এড়িয়ে চলতে পারবেন।
ওষুধ-পত্র:
এলার্জিতে ফুলে যাওয়া কমাতে এলার্জি- বিরোধী ওষুধগুলি, যেমন এন্টিহিস্টামাইনস'এর সাথে ডিকনজেস করে। হিস্টামাইন নামক রাসায়াণকার্ট এলার্জির সময় শরীরে নিঃসৃত হয়। এন্টিহিস্টামাইনস এই নিঃসরণকে ব্যাহত করে এবং নাক থেকে জল পড়া এবং বন্ধ নাক থেকে মুক্তি দেয়।
• ইমিউনোথেরাপি:
কোনও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয়। এই ধরণের রোগীদের এলার্জি হয় ফুলের পরাগ থেকে, পোষ্য থেকে, কীট-পতঙ্গ এবং হাঁপানি থেকে। এই চিকিৎসা রোগীকে এলার্জেনগুলির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সহ্য করার মত ক্ষমতা যোগায়; ফলে উপসর্গগুলি কম থাকে। খাদ্য থেকে যে এলার্জিগুলি হয়, ইমিউনোথেরাপি এখনও তাদের প্রতিরোধ করতে পারে না। তবে, এর কার্যক্ষমতা যাচাই করার জন্য অনেক গবেষণা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
জীবনধারার নিয়ন্ত্রণ:
সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এলার্জিকে এড়ানোই সঠিক উপায়। ডাক্তারবাবুর সাথে নিয়মিত পরামর্শ করে চললে এলার্জির ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এলার্জেনগুলিকে এড়িয়ে চললে উৎস কমে গিয়ে এলার্জি কম হবে।
তথ্য সূত্র :উইকিপিডিয়া ও myupchar.