Not Doctors Assistant But Seeking Our True Identity

Not Doctors Assistant But Seeking Our True Identity Hello! We are D.M.F Graduates Associate Clinicians. Working in the Health Departments as a S.A.C.M.O

31/03/2026

“ষড়যন্ত্রের ১৬ বছর হোক শেষ—এবারই হোক অধিকারের বাংলাদেশ!”

✊SACMO নিয়োগ বিধিমালা-২০২৬ বাস্তবায়ন হতেই হবে।

চিকিৎসা কর্মকর্তা, উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা বা যে কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অবিচ্ছ...
31/03/2026

চিকিৎসা কর্মকর্তা, উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা বা যে কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য দায়িত্ব।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৪টায় বাগেরহাট মংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে DMF ডিগ্রিধারী "উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার" জনাব অনুপম মজুমসারকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হয়েছে।

আমরা দাবি করি:

• ঘটনার সুষ্ঠু ও তৎপর তদন্ত হোক।

• দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

• স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করা হোক।

এ ধরনের হামলা শুধু এক ব্যক্তির নয়, পুরো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর আঘাত। তাই দ্রুত এবং শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়া অত্যাবশ্যক।

30/03/2026

ভিয়েতনামের জেলা হাসপাতালগুলোর (District Hospitals) চিকিৎসা ব্যবস্থায় মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করেন এক বিশেষ শ্রেণির চিকিৎসক, যাঁদের “Upgraded Doctors” বলা যায়।

তাঁরা সাধারণত ২–৩ বছরের সেকেন্ডারি মেডিকেল ট্রেনিং কোর্স বা Assistant Doctor প্রশিক্ষণ শেষে কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ইন-সার্ভিস ভিত্তিতে প্রায় ৪ বছরব্যাপী অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও অন্তত ১২ মাসের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ধাপে ধাপে দক্ষতা অর্জন করেন।

মানে হলো, কমিউনিটি হেলথ স্টেশন (CHS) বা গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যাঁদের “ফুল কোয়ালিফাইড ডাক্তার” বলা হয়, তাঁদেরও একটি বড় অংশ এমবিবিএস ডিগ্রিধারী নন। এই পর্যায়ে আসার প্রধান দুটি পথ রয়েছে: প্রথমত, টুইনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে সহকারী ডাক্তার থেকে ধাপে ধাপে উন্নীত হওয়া; দ্বিতীয়ত, তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতামূলক ডাইরেক্ট এন্ট্রি প্রোগ্রামের মাধ্যমে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হওয়া। এই ধরনের মিশ্র প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতার কাঠামো শুধু ডাক্তারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নার্স, ফারমাসিস্ট সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাতেও বিভিন্ন মাত্রায় দেখা যায়।

অথচ বাংলাদেশের স্বীকৃত মেডিকেল ডিপ্লোমাধারী আজ এমবিবিএস দের প্রতিহিংসার শিকার । এই প্রতিহিংসার দেয়ালটি এতটাই উঁচু যে সরকারি নীতি-নির্ধারণের আলো এসে পড়ে দেয়ালের এপারে; যাঁরা ওপারে থেকে যান, তাঁরা থাকেন ‘স্বীকৃতির বাইরে’।
—এই ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকেরা—পদ-পদবি, বেতন কাঠামো, প্রশিক্ষণোত্তর সুযোগ, ক্যারিয়ার উন্নয়নের পথ—প্রায় সব ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার।

30/03/2026

ভিয়েতনামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আজ সারা বিশ্বের কাছে একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
ভিয়েতনামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বা Primary Health Care (PHC) মডেলকে গত কয়েক দশকে বিভিন্ন গবেষণাপত্র এবং রিপোর্টে "Global Success Story" হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), বিশ্ব ব্যাংক এবং দি ল্যানসেট-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো একমত যে, ভিয়েতনামের গ্রামীণ স্বাস্থ্য কাঠামো শুধু কম খরচে চালানো সম্ভব নয়, বরং এর প্রভাবও অসাধারণ।

এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের বিশাল কমিউন হেলথ স্টেশন (CHS) নেটওয়ার্ক। দেশজুড়ে ১১,০০০-এরও বেশি এমন ক্লিনিক ছড়িয়ে আছে, প্রতিটি কমিউনে একটি করে।

একটি কেন্দ্র সাধারণত ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব পালন করে। আর সেখানে ৫-৬ জন প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী—অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাক্তার, নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট—মিলে এক অনন্য দল হিসেবে কাজ করেন।

বর্তমানে ভিয়েতনামের লক্ষ্য আরও উচ্চাকাঙ্খী। তারা চায় এই কমিউন ক্লিনিকগুলোকেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য, ন্যায্য এবং কার্যকর ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো জটিল অসংক্রামক রোগ (NCDs) এখন কমিউন স্তরেই চিহ্নিত করা ও চিকিৎসা শুরু করা হচ্ছে, যা ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (UHC)-এর লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এই শক্ত ভিত্তির কারণেই সাধারণ রোগের বেশিরভাগ চিকিৎসা এখন স্থানীয় পর্যায়েই সম্পন্ন হয়, ফলে বড় হাসপাতালগুলো অপ্রয়োজনীয় রোগীর চাপ থেকে মুক্তি পায়। পাশাপাশি টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণেও অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে দেশটি।

১৯৭০-১৯৮০-এর দশক বা
​যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ভিয়েতনাম সরকার বুঝতে পারে যে, শুধু স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে মানসম্মত চিকিৎসা সম্ভব নয়। তখন তারা Y sĩ (Assistant Doctor) ক্যাডার তৈরি করে এবং তাদের গ্রাম পর্যায়ে নিয়োগ দিতে শুরু করে।

১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ভিয়েতনাম সরকার "National Benchmarks for Commune Health" প্রবর্তন করে। তখন থেকে প্রতিটি স্টেশনে অন্তত একজন করে Assistant Doctor, Nurse এবং Midwife থাকা বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ, টিম-ভিত্তিক চিন্তাটা এই সময়েই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

ভিয়েতনামের স্বাস্থ্যসেবায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ২০০৯ সালের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্কারের মাধ্যমে। তখন তারা নিশ্চিত করে যে,​জনসংখ্যা অনুযায়ী স্টাফ রেশিও: ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ মানুষের জন্য গড়ে ৫-৬ জন স্টাফ থাকতে হবে।
ওষুধের অপব্যবহার রোধে ক্লিনিকে অন-সাইট ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টও নিশ্চিত করা শুরু হয়।

এই সফল ব্যবস্থার অন্যতম নীরব নায়করা হলেন ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাক্তার’ বা ‘Y sĩ’। ১৯৬০-এর দশক থেকে প্রায় ৬০-৬৫ বছর ধরে তারাই গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মেরুদণ্ড হয়ে কাজ করে আসছেন। তাদের প্রশিক্ষণের ধরণও সময়ের সঙ্গে বদলেছে—বর্তমানে এটি কাঠামোবদ্ধ তিন বছরের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ। আর আগ্রহী ও মেধাবী অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাক্তাররা অতিরিক্ত চার বছর প্রশিক্ষণ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ এমবিবিএস ডাক্তার হওয়ার সুযোগও পান। সম্প্রতি ২০২৫ সাল থেকে সরকার তাদের প্রশিক্ষণের মান আরও বাড়াতে সংস্কার চালাচ্ছে, এবং এখন অনেক মেডিকেল কলেজ ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান Assistant Doctor (Y sĩ) দের জন্য তিন বছরের কলেজ (cao đẳng) বা চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় (đại học) পাথওয়ে খুলে দিয়েছে, যা এই পেশাকে আরও সম্মানজনক ও কাঠামোবদ্ধ করে তুলছে।

শুধু কাঠামো নয়, একটু ভাবুন—একটি প্রত্যন্ত গ্রামে, যেখানে একজন প্রশিক্ষিত অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাক্তারই হয়ে ওঠেন প্রথম ভরসা। তাঁর হাত ধরেই শুরু হয় চিকিৎসা, টিকাদান থেকে শুরু করে জটিল রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ। ভিয়েতনাম আসলে দেখিয়ে দিয়েছে, স্মার্ট সিস্টেম সব সময় বড় বড় স্থাপনার নাম নয়, বরং সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় রেখে তাদের পাশে দাঁড়ানোর নাম।

29/03/2026

বিজ্ঞানের ভাষায়, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড (Standard of Care) প্রয়োজন। শুধুমাত্র ৩ মাসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী (CHCP) বা নন-মেডিকেল ব্যাক্তি দিয়ে একটি ক্লিনিক চালানো আর প্রকৃত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।

29/03/2026

“কমিউনিটি ক্লিনিক” নাম থাকলেই তা নিরাপদ primary care হয় না;
বিজ্ঞানের ভাষায়, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড (Standard of Care) প্রয়োজন। শুধুমাত্র একজন ৩ মাসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী (CHCP) দিয়ে একটি ক্লিনিক চালানো আর প্রকৃত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।
safe primary care-এর জন্য registered clinical staff, nurse, এবং pharmacist দরকার, CHCP-কে outreach/record/support staff-এ রাখা উচিত, clinician-এর বিকল্প বানানো নয়।”

চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রটোকল অনুযায়ী, CHCP-কে একজন Clinician-এর বিকল্প বা Clinical substitute হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কমিউনিটি ক্লিনিককে শুধু CHCP-নির্ভর রেখে জনগণকে ‘সেবা পৌঁছে গেছে’ এমন ধারণা প্রচার করা আসলে এক ধরনের প্রতারণা।

America, China ও Viet Nam-এর Grassroots models পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা সফল হয়েছে কারণ তারা প্রাথমিক স্তরেই দক্ষ এবং স্বীকৃত পেশাদারদের পদায়ন করেছে।

তাই কমিউনিটি ক্লিনিকে অন্তত একজন BMDC-recognized medical/diploma clinician, একজন diploma nurse এবং একজন diploma pharmacist থাকা উচিত; CHCP থাকবে community mobilizer ও service coordinator হিসেবে, clinical substitute হিসেবে নয়।”

কার কাছ থেকে কি শিখবো আমরা?প্রায় প্রায় প্রতিটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গণও এখন এন্টিবায়োটিক/স্টেরয়েড দিচ্ছেন প্রায় ৯৯% প্রেস্ক্...
29/03/2026

কার কাছ থেকে কি শিখবো আমরা?
প্রায় প্রায় প্রতিটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গণও এখন এন্টিবায়োটিক/স্টেরয়েড দিচ্ছেন প্রায় ৯৯% প্রেস্ক্রিবশনে ।

১. শুরুতে কথা: ডিএমএফ চিকিৎসকরা আসলে কে?ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) একটি স্বীকৃত মেডিকেল ডিপ্লোমা কোয়ালিফিকে...
26/03/2026

১. শুরুতে কথা: ডিএমএফ চিকিৎসকরা আসলে কে?

ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) একটি স্বীকৃত মেডিকেল ডিপ্লোমা কোয়ালিফিকেশন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমঅ্যান্ডডিসি) এই ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন দেয়। নিবন্ধন পাওয়ার অর্থ হলো—তারা আইনত রোগী দেখতে পারে, প্রয়োজনমতো ওষুধ লিখতে পারে (নির্ধারিত সীমার মধ্যে) এবং চিকিৎসা দিতে পারে। অর্থাৎ তাদের কাজ অনেকটাই ডাক্তারী করা।

কিন্তু সমস্যা হলো, এখন তাদের যে নামে ডাকা হয়, সেটা যেন টেকনিশিয়ানের মতো। আর এই অস্পষ্ট পরিচয়ের কারণেই তারা প্রায়ই ভুয়া চিকিৎসক (কোয়াক) বলে অপমানিত হন। অথচ তাদের কাছে বিএমঅ্যান্ডডিসির বৈধ নিবন্ধন আছে, যা কোয়াক ডাক্তারদের থাকে না।

তাই তাদের পেশাগত পরিচয়ও এমন হওয়া উচিত, যা তাদের আসল কাজের প্রতিফলন করে।

২. নিবন্ধন মানেই ডাক্তার শ্রেণির অন্তর্ভুক্তি—না হলে নিবন্ধনের মানে কী?

বিএমঅ্যান্ডডিসি নিবন্ধন দেওয়ার অর্থ হলো—এই ব্যক্তি চিকিৎসা পেশার একজন বৈধ সদস্য।

—If being a BM&DC‑registered “practitioner” does not qualify one as a doctor tier—though at a lower or primary level—then what is the purpose of such registration?

সহজ ভাষায়: যাকে আপনি “প্র্যাকটিশনার” বলে নিবন্ধন দিচ্ছেন, সে যদি ডাক্তার না হয়, তাহলে সে কী? আর যদি ডাক্তার হয়, তবে তার উপাধি যেন তা স্পষ্ট করে।

৩. কেন “সহকারী চিকিৎসক” বা সমমর্যাদার পদবী?

আইনশাস্ত্রে একটি বিশেষ্য (Noun) যখন একটি বিশেষণ (Adjective) বা অন্য কোনো শব্দের সাথে যুক্ত হয় (যেমন: Diploma Doctor, Assistant Doctor), তখন তা মূল শব্দের একক অর্থকে রূপান্তরিত করে একটি নতুন “Legal Identity” তৈরি করে।

আইনশাস্ত্রে বা ভাষাতত্ত্বে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি যে—
➡️ একটি মূল শব্দের আগে যখন কোনো Qualifier (বিশেষক/Adjective) যুক্ত হয়, তখন তা একটি নতুন অর্থ এবং স্বতন্ত্র পরিচয় (Distinct Identity) তৈরি করে।

ধরে নিলাম ‘ডা.’ (ডাক্তার) হলো পূর্ণাঙ্গ এমবিবিএস/বিডিএস চিকিৎসকদের জন্য সংরক্ষিত মূল উপাধি।

এর আগে ‘সহকারী’ বা ‘ডিপ্লোমা’ যুক্ত করলে যে যৌগিক উপাধি (Compound Title) তৈরি হয়, তা মূল ‘ডা.’-এর ছায়া নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র আইনি সত্তা—যা আইনের ভাষ্যে ‘প্রতিষ্ঠিত নীতি’ (Settled Principle)।

এখানে “সহকারী চিকিৎসক” (Assistant Doctor) বা "ডিপ্লোমা ডা:" অনুরূপ কোনো মর্যাদাসম্পন্ন উপাধী বেশ কয়েকটি কারণে কার্যকর সমাধান হতে পারে। নিচে বিষয়গুলো খুলে বলা হলো—

ক. আইনি দিক থেকে ঠিক আছে

২০১০ সালের “বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইনে”- বিভিন্ন স্তরের মেডিকেল শিক্ষা ও নিবন্ধনের কথা বলা আছে। ২০২৬ সালের মার্চে হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছেন যাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ডিএমএফদের পরিচয় সংকট সমাধান করতে। আর ধারা ২৯-এ নিবন্ধিত ব্যক্তিদের কিছু শর্তে চিকিৎসা করার অনুমতি রয়েছে। “সহকারী/ডিপ্লোমা চিকিৎসক” নামটি এই আইনি কাঠামোর মধ্যেই পড়ে।

‘সহকারী ডা.’ বা ‘ডিপ্লোমা ডা.’ লেখা
মানে হলো—
ব্যক্তি নিজেকে মূল বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে দাবি না করে বরং সচেতনভাবে স্বীকার করে নিচ্ছেন যে তিনি একজন নিম্নস্তর বা ডিপ্লোমা পর্যায়ের চিকিৎসাসেবাদাতা।

খ. ইতিহাসের সঙ্গেও মিলে যায়

১৯৮০ সালের “বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স”-এ ডিএমএফ ডিগ্রিধারীদের স্বীকৃত চিকিৎসক বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকেই তারা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তাই আজ নতুন করে কোনো অজানা ব্যবস্থা চালু হচ্ছে না—বরং পুরনো স্বীকৃতিকেই বর্তমান সময়ের উপযোগী একটি পদবির মাধ্যমে সুস্পষ্ট করা হচ্ছে।

গ. বাস্তব কাজের সঙ্গে নামের মিল

একজন ডিএমএফ চিকিৎসক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, প্রাইভেট ক্লিনিকে বা কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগী দেখেন। তিনি রোগী নির্ণয় করেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দেন, প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। “সহকারী চিকিৎসক” নামটি এই কাজের সাথে মানানসই। এটি বোঝায়—তিনি একজন ডাক্তার, তবে জটিল ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এমবিবিএস/বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেবেন। এটি ডাক্তারের মধ্যে একটি স্তর, টেকনিশিয়ানের কোনো নাম নয়।

ঘ. রোগীর জন্য সুবিধা

বর্তমানে রোগী বিভ্রান্ত হন। অনেক রোগী মনে করেন ডিএমএফধারীরা আসলে ডাক্তার কিনা। “সহকারী চিকিৎসক” নাম শুনলে রোগী সহজেই বুঝতে পারবেন—ইনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন ডাক্তার, তবে এমবিবিএস/বিশেষায়িত নন; স্বাস্থ্যসেবার প্রথম ধাপে আছেন। এতে রোগীর আস্থা বাড়ে, ভুয়া চিকিৎসকের হাতে পড়ার আশঙ্কা কমে।

ঙ. আন্তর্জাতিক উদাহরণ আছে

ভিয়েতনাম/চীনে দীর্ঘদিন ধরে “অ্যাসিস্ট্যান্ট ডক্টর” (助理医师) নামে একটি স্তর রয়েছে। তারাও বিএমঅ্যান্ডডিসির মতো কাউন্সিলের নিবন্ধন পান, রোগী দেখতে পারেন এবং নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে চিকিৎসা দেন। এই ব্যবস্থা সফলভাবে চীনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটতে পারে।

চ. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: পরিচয় রক্ষা ও কোয়াক থেকে পৃথক করা

বর্তমানে ডিএমএফ চিকিৎসকদের “টেকনিশিয়ান”, “প্যারামেডিক” বা অস্পষ্ট নামে ডাকা হয়। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ তাদেরকে ভুয়া ডাক্তার (কোয়াক) বলে গালি দেয়। অথচ কোয়াক ডাক্তারদের বিএমঅ্যান্ডডিসির নিবন্ধন থাকে না, তারা অবৈধভাবে চিকিৎসা করে।
“সহকারী/ডিপ্লোমা চিকিৎসক” নাম দিলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে—তিনি নিবন্ধিত একজন ডাক্তার, শুধু উচ্চতর ডিগ্রি নেই। এতে ডিএমএফ চিকিৎসকরা আর কোয়াকদের সাথে মিশে যাবেন না। তাদের বৈধ অবস্থান সবার সামনে স্পষ্ট হবে।

৪. সরকারের করণীয় আর সময়সীমা

হাইকোর্ট ডিএমএফ চিকিৎসকদের পরিচয় সংকট সমাধানে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এজন্য ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন।

এর মানে, সরকারের কাছে এখন একটি নির্দিষ্ট সময় আছে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেওয়ার। “সহকারী চিকিৎসক” বা সমমর্যাদাপূর্ণ পদবী একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর পথ। এই সময়ের মধ্যে সরকার যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে, তাহলে—

· হাইকোর্টের নির্দেশনা পালন হবে,
· ডিএমএফ চিকিৎসকদের বহুদিনের পরিচয় সংকটের সমাধান হবে,
· প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কর্মী সংকট কিছুটা হলেও কমবে, কারণ এই চিকিৎসকরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন,
· আর সবচেয়ে বড় কথা, ভুয়া ডাক্তার আর বৈধ ডিএমএফ চিকিৎসকের মধ্যে একটি পরিষ্কার বিভাজন তৈরি হবে, যা রোগীদের জন্যও নিরাপদ।

৫. শেষ কথা

ডিএমএফ চিকিৎসকরা দেশের স্বাস্থ্যসেবার একটি বড় অংশ জুড়ে আছেন। বিএমঅ্যান্ডডিসির নিবন্ধন থাকার পরেও তাদের নামকরণে অবহেলা করা হচ্ছে। তাঁরা চান না একটি টেকনিশিয়ানের মতো নাম তাঁদের পরিচয় মুছে ফেলুক। তাঁরা চান একটি মর্যাদাসম্পন্ন পদবী—যা বুঝিয়ে দেবে, তাঁরা নিম্নস্তরের হলেও বৈধ ডাক্তার, কোয়াক নন।

“সহকারী ডা:” কিংবা "ডিপ্লোমা ডা:" প্রিফিক্স আইনি, ঐতিহাসিক, বাস্তবসম্মত, রোগী-বান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের। এটি কোয়াক ডাক্তারদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার সুযোগ দূর করে। সরকারের উচিত দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করা এবং স্বাস্থ্যখাতে একটি স্থায়ী সমস্যার সমাধান দেওয়া।

23/03/2026

যেসব এমবিবিএস মেডিকেল অফিসার (MO) ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজ পরিবার নিয়ে ছুটি উপভোগ করেছেন এবং হাসপাতালের দায়িত্ব নির্দ্বিধায় ডিএমএফ ডিগ্রিধারী উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (SACMO) সহকর্মীদের হাতে অর্পণ করেছেন, তারা নিশ্চয়ই প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেন—দেশের প্রাইমারী স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখতে ডিএমএফদের ভূমিকা কতটা বাস্তব ও অপরিহার্য।

তাই আশা করি, সেই সহকর্মীদের নিয়ে কোনো অবমূল্যায়নমূলক বা অযৌক্তিক মন্তব্য তাঁরা করবেন না। কারণ দায়িত্বের কঠিন সময়ে যাদের ওপর ভরসা করা হয়, পরে তাদের অস্বীকার করা মানে নিজের সিদ্ধান্ত ও বিবেককেই প্রশ্নবিদ্ধ করা।

আমরা এই পেশায় এসেছি মানুষের সেবা দিতে—অপমান সহ্য করতে নয়। ঈদের দিন, উৎসবের দিন, পরিবার থেকে দূরে থেকে যারা হাসপাতালের বেডসাইডে দায়িত্ব পালন করে, তাদের উদ্দেশ্যে “তোমরা আসলে কী” ধরনের মন্তব্য কেবল অজ্ঞতা নয়, এটি শ্রম ও ত্যাগের প্রতি প্রকাশ্য অসম্মান।

একটি স্বীকৃত ও সুনির্দিষ্ট পেশাগত উপাধি তাই বিলাসিতা নয়—এটি প্রয়োজনীয়তা। কারণ পরিচয় অস্পষ্ট থাকলে অবমূল্যায়ন জন্ম নেয়, আর পরিচয় আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হলে অসম্মানের সুযোগ সংকুচিত হয়।

উপাধি শুধু সম্মানের বিষয় নয়, এটি আইনি সুরক্ষার বিষয়। যখন কোনো জনপ্রতিনিধি বা কর্মকর্তা একজন ডিএমএফকে তুচ্ছ করেন, তখন তিনি ব্যক্তিকে নয়, বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে অনির্ধারিত পেশাগত পরিচয়ের দুর্বলতাকেই ব্যবহার করেন।

২০২৬ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএমএফদের Prefix নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি নয়, বরং একটি ন্যায্য দায়িত্ব—যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই পেশার মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না পায়।

21/03/2026

এই ঈদে, যখন অনেকেই পরিবারের সাথে আনন্দে সময় কাটাচ্ছেন, তখন দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নীরবে দায়িত্ব পালন করছেন একদল নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যকর্মী। চিকিৎসা সেবার সম্মুখসারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন "উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার"- (SACMO)রা।

জরুরি মুহূর্তে রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এই ডিএমএফ ডিগ্রিধারী চিকিৎসকেরাই—যারা প্রান্তিক মানুষের জন্য বাস্তব ভরসা।

বাস্তবতা হলো, আজ অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেই এই SACMOদের উপর ভরসা করেই অন্যান্য অনেক এমবিবিএস ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ ঈদের ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

হয়তো ছুটি শেষে আবার সেই পরিচিত বিতর্ক শুরু হবে—কে চিকিৎসা দিতে পারবে, কে পারবে না।
কিন্তু মাঠের বাস্তবতা প্রতিদিনই প্রমাণ করে—সংকটের সময় মানুষ যার কাছে সেবা পায়, তার প্রতিই আস্থা রাখে।

সব ধরনের মতভেদ ও বিতর্ককে আজকের দিনের জন্য পাশে রেখে—
মানুষের সেবাই হোক আমাদের সবার প্রধান পরিচয়।

🌙 সবাইকে জানাই আন্তরিক ঈদ মোবারক।
সবার ঈদ হোক শান্তি, সুস্থতা ও মানবতার ঈদ।

20/03/2026

একটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যদি মোট চিকিৎসক থাকে—

কনসালটেন্ট (গাইনি, মেডিসিন, কার্ডিওলজি, অ্যানেস্থেশিওলজি) — ৪ জন

মেডিকেল অফিসার (MO) — ১ জন

ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার (EMO) — ১ জন

সহকারী সার্জন — ৬ জন

সহকারী ডেন্টাল সার্জন — ১ জন

মোট = ১২ জন এমবিবিএস চিকিৎসক

এই বিপুল জনবল থাকা সত্ত্বেও যখন পবিত্র ঈদুল ফিতর বা জাতীয় ছুটির সময়ে ইনডোর ও জরুরি বিভাগের সম্পূর্ণ দায়িত্ব একজন এসএসিএমও (SACMO)-এর ওপর অর্পণ করা হয়, তখন প্রশ্ন জাগে—এই বিশাল চিকিৎসক বহরের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা তবে কোথায়?

এই ১২ এমবিবিএস চিকিৎসক নিজেদের স্বার্থে ঠিকই বলেন

“অভিজ্ঞ SACMO আছে, ও সব পারে”—এই যুক্তি বাস্তবতার চেয়ে বেশি একটি ঝুঁকিপূর্ণ আত্মপ্রবঞ্চনা।

দীর্ঘদিনের এই চর্চার ফলেই আজ অনেক SACMO আমরা কেনো মনে করতে পারবো না যে—“উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আমরাই চালাই।”
এই ধারণার পেছনে প্রশাসনিক নীরবতা ও অসম দায়িত্ব বণ্টনের বড় ভূমিকা রয়েছে—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

জরুরি বিভাগের দায়িত্ব বণ্টনে যদি ন্যায্যতা না থাকে,
তাহলে ভবিষ্যতে নেতৃত্বের অবস্থানে (UHFPO, CS, DG) ন্যায্যতা প্রত্যাশা করাটাও কঠিন হয়ে পড়ে।

আর যদি বাস্তবতাই হয় যে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে ইনডোর ও জরুরি বিভাগ চালানো সম্ভব,
তাহলে ১২ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট ও সহকারী সার্জনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে।

আমরা দায়িত্ব এড়িয়ে চলি না—তার প্রমাণ আমরা বহুবার দিয়েছি।
কোভিড-১৯ এর মতো জাতীয় দুর্যোগেও আমরা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছি।

আমার নিজ অভিজ্ঞতায়, একসময় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র একজন সহকারী সার্জন ছিলো—
তবুও আমরা আউটডোর, ইনডোর ও জরুরি বিভাগ চালু রেখেছিলাম।

কিন্তু সেটি ছিল সংকটকালীন বাস্তবতা,
এটিকে স্থায়ী ব্যবস্থাপনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

যদি ১২ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট ও সহকারী সার্জন থাকার পরেও সিস্টেম চালাতে স্যাকমোদেরই প্রয়োজন হয়, তবে নীতিগতভাবে আমাদের অবস্থান কেন স্পষ্ট করা হচ্ছে না?

দীর্ঘদিনের এই শোষণমূলক প্রথা আর বিমাতা সুলভ আচরণ এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
৫০ বছর ধরে যে দায়িত্ব আমরা বহন করে আসছি, সেটির একটি সৎ, ন্যায্য ও আইনি স্বীকৃতি থাকাটা স্বাভাবিক দাবি। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের নামের পূর্বে একটি যথাযথ উপাধি (Prefix) নির্ধারণ করা এখন আর অনুরোধ নয়, বরং আমাদের অধিকার।

এমবিবিএস চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ এখন বিসিএস-এর মাধ্যমে উপজেলার দিকে আসতেছেন—এটা ইতিবাচক।। আগে যেখানে ডিএমএফ-রা গ্রামের এক...
19/03/2026

এমবিবিএস চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ এখন বিসিএস-এর মাধ্যমে উপজেলার দিকে আসতেছেন—এটা ইতিবাচক।। আগে যেখানে ডিএমএফ-রা গ্রামের একমাত্র ভরসা ছিল, দিন-রাত, ঝড়-বৃষ্টি, সীমিত সুযোগ—সবকিছুর মধ্যেও তারা চিকিৎসা দিয়ে গেছে।
আজ যখন এমবিবিএস চিকিৎসকেরা সেই একই এলাকায় কাজ করতে আসছেন, তখন সমস্যা চিকিৎসা নয়—
সমস্যা হচ্ছে প্রভাব (Practice influence)।

তারা যখন উপজেলা-ইউনিয়নে যাচ্ছে, তখন সেখানে ডিএমএফ-দের যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি (Practice influence) রয়েছে, সেটা তারা সহ্য করতে পারছে না। তারা আইনি মারপ্যাঁচ ব্যবহার করে সেই "রাজত্ব" ছিনিয়ে নিতে চাচ্ছে।

কারন, তারা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে একটি 'জিরো-সাম গেম' মনে করেন। অর্থাৎ, অন্য কেউ (DMF) যদি সামান্যতম প্রেসক্রিপশন করার অধিকার পায়, তবে তাদের মনে হয় তাদের নিজেদের গুরুত্ব বা "মার্কেট শেয়ার" কমে যাচ্ছে।

তারা চান না এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়া অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষিত প্র্যাকটিশনার তৈরি হোক। এজন্যই তারা নার্সদের মেনে নেন (কারণ নার্সরা তাদের আজ্ঞাবহ), কিন্তু ডিএমএফ-দের বাধা দেন (—কারণ তারা তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে রোগী দেখার সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রাখেন।)

আসলে মূল সংকটটি অন্য জায়গায়—একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেমের অভাব। অনেক এমবিবিএস চিকিৎসকের মনে প্রশ্ন জাগে:
“আমি ৫ বছর পড়াশোনা করে যা করছি, সে ৪ বছর পড়ে কেন একই ধরনের কাজ করবে?”

​কিন্তু তারা এটা বুঝতে পারছে না যে, উন্নত বিশ্বে Assistant Doctor, Physician Associate বা Clinical Officer-রা গ্রাজুয়েট ডাক্তারদের প্রতিযোগী নয়, বরং সহযোদ্ধা। এমবিবিএস চিকিৎসকরা নিজেদের 'সুপারম্যান' হিসেবে দেখতে চান যারা একাই সব করবে, অথচ একটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেবল MBBS ডাক্তার দিয়ে চলে না।

তারা ভাবছে mbbs সংখ্যা বাড়লেই ডিএমএফ-দের প্রয়োজনীয়তা শেষ, অথচ তারা জানে না যে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের এই দেশে সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডিএমএফ-দের মতো 'মিড-লেভেল প্র্যাকটিশনার' এখনো অপরিহার্য।

​অন্যদিকে, বিএমডিসি-র নাকের ডগায় নার্সিং কাউন্সিলের অধীনে মাত্র ২ বছরের কোর্স করেই যখন অনেকে প্রেসক্রিপশন করছে, তখন বিএমডিসি-র এই রহস্যজনক পলিসি হিপোক্রাসি এবং মেরুদণ্ডহীন নীরবতা কেন? অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার 'পবিত্র' আইন কি তবে কেবল স্বার্থসিদ্ধির প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে 'উপোষ' থাকে? বাস্তবতা অত্যন্ত নগ্ন—২ বছরের এই স্বল্পমেয়াদী কোর্সধারীরা এমবিবিএস চিকিৎসকদের পেশাগত আধিপত্যে কোনো ভাগ বসাতে পারবে না বলেই সেখানে আইনের প্রয়োগ এতোটা শিথিল ও পঙ্গু। মূলত, জনস্বাস্থ্য নয়, বরং নিজেদের 'পেশাগত রাজত্ব' টিকিয়ে রাখতেই বিএমডিসি এই সিলেক্টিভ আইনি নাটক মঞ্চস্থ করছে।

অবাক করার বিষয় হলো, অনেক সময় সিভিল সার্জন অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই টাকার বিনিময়ে 'পল্লি চিকিৎসক' হওয়ার সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিচ্ছে।

​বিপরীতে, ডিএমএফ চিকিৎসকরা চার বছরব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং কয়েক দশকের ঐতিহাসিক উপস্থিতি নিয়ে একটি সুসংগঠিত পেশাগত গোষ্ঠী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন। ফলে, তারা একটি “সমান্তরাল সক্ষমতা” তৈরি করতে পারেন—এবং ঠিক এই সম্ভাবনাই কিছু মহলে এই 'প্রতিযোগিতার ভীতি' থেকেই তারা ডিএমএফ-দের "সিলেক্টিভ টার্গেট" করছে

যারা DMF-দের (যাঁরা ৪ বছর পড়াশোনা করেছেন) আইনি অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁরা কিন্তু এই বিশাল কোয়াক বাহিনীর প্র্যাকটিস নিয়ে তেমন একটা সোচ্চার হন না। কারণ কোয়াকরা তাঁদের পেশার জন্য 'থ্রেট' বা প্রতিযোগী নয়, বরং দালালি বা রোগী পাঠানোর উৎস হিসেবে কাজ করে।

এমবিবিএস চিকিৎসকদের বুঝতে হবে—৪ বছরের প্রশিক্ষিত ডিএমএফ-রা আপনাদের প্রতিযোগী নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের সহযোদ্ধা। ১৫ লাখ অশিক্ষিত 'কোয়াক' বা হাতুড়েকে সার্টিফিকেট দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মরণফাঁদে পরিণত করা বন্ধ করুন। এর বদলে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানসম্পন্ন ডিএমএফ-দের সরকারিভাবে কাজে লাগানোই হবে একমাত্র বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত। প্রয়োজন শেষে অভিজ্ঞ সৈনিকদের 'ডিব্বা' বানিয়ে ছুঁড়ে ফেলার এই নীতিহীন সংস্কৃতি এবার বন্ধ হওয়া জরুরি।

Address

Kushtia

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Not Doctors Assistant But Seeking Our True Identity posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram