21/01/2026
“হার্টবিট নেই – পর্ব ২ : ফ্রিকোয়েন্সি”
রিদওয়ান রিপোর্ট জমা দেওয়ার তিন দিনের মাথায়
ঢাকায় মারা যায় আরও ১৭ জন।
এবার শুধু রাস্তা না—
একজন মারা যায় মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে,
একজন লিফটে,
আর একজন—
নিজের বাসায়, ঘুমের মধ্যে।
১
নতুন তথ্য আসে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে।
হার্ট থেমে গেছে ঠিকই,
কিন্তু ব্রেন ডেথ হয়নি।
মস্তিষ্কের স্টেমে
অদ্ভুত এক ধরনের ইলেকট্রিক বার্ন প্যাটার্ন—
যা বজ্রপাত, শক বা ডিফিব্রিলেশনেও হয় না।
এক নিউরোলজিস্ট ফিসফিস করে বলে,
“এটা মনে হচ্ছে… কেউ বাইরে থেকে কমান্ড পাঠিয়েছে।”
২
রিদওয়ান এবার শুধু মোবাইল নয়,
শহরের ম্যাপ খুলে বসে।
সব মৃত্যুর সময় মিলিয়ে দেখা যায়—
প্রতিবারই ঢাকা শহরের উপর দিয়ে
একটি নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট পাস করেছে।
কোন স্যাটেলাইট?
কোনো দেশের তালিকায় নেই।
৩
সে খোঁজ পায় একটি পুরনো গবেষণার—
১৯৮৭ সালের, সোভিয়েত আমলের।
নাম ছিল
Project Resonance Heart।
থিওরি ছিল ভয়ংকর—
“মানুষের হার্টবিটের নিজস্ব একটি ফ্রিকোয়েন্সি আছে।
যদি বাইরে থেকে সেই একই ফ্রিকোয়েন্সিতে
খুব কম শক্তির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস পাঠানো হয়,
হৃদপিণ্ড নিজেই থেমে যেতে পারে।”
তখন প্রজেক্ট বন্ধ করা হয়েছিল।
কারণ বলা হয়েছিল—
‘মানবদেহ অ্যান্টেনা নয়।’
৪
কিন্তু এখন মানুষ সবসময় অ্যান্টেনা হয়ে আছে।
মোবাইল, স্মার্টওয়াচ,
৫জি টাওয়ার, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ—
সব মিলিয়ে
মানুষ নিজেই এক লাইভ রিসিভার।
রিদওয়ানের মাথায় একটা প্রশ্ন আসে—
👉 তাহলে সবাই কেন মারা যাচ্ছে না?
৫
উত্তরটা আসে এক ভয়ংকর জায়গা থেকে।
একটি ফাঁস হওয়া ডেটা ফাইলে দেখা যায়—
টার্গেট করা হচ্ছে শুধু তাদের,
যাদের হার্ট রেট বেশি
যাদের লাইফস্টাইল “এক্টিভ”
যাদের বয়স ১৮–৪০
যাদের শরীরে মেটালিক ট্রেস বেশি
(জিম সাপ্লিমেন্ট, পানির বোতল, ওষুধ)
এটা কোনো গণহত্যা না।
এটা সিলেকশন।
৬
রিদওয়ান বুঝে যায়—
এটা কোনো দেশের একার কাজ না।
কারণ প্রতিটি মৃত্যুর সময়
পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়
একই ধরনের “হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক” রিপোর্ট হচ্ছে।
ইন্ডিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়া।
ব্রাজিল।
ভাষা আলাদা,
কিন্তু ECG একই।
শেষ দৃশ্য
রিদওয়ান রাতে বাসায় ফিরে
মোবাইল অফ করে, ওয়াইফাই কেটে দেয়।
তবু তার স্মার্টওয়াচ হঠাৎ ভাইব্রেট করে।
স্ক্রিনে শুধু এক লাইন—
“You cannot disconnect from yourself.”
তার হার্ট মনিটরে
একটি নতুন ওয়েভ দেখা যায়।
এটা কোনো হার্টবিট না।
এটা রিসিভিং সিগন্যাল।