03/01/2017
[] কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের মেয়াদ শেষ
[] হতাশায় ১৪ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী
[] মার্চের মধ্যে নতুন প্রকল্পের ওপি পাস হবে
হামিম উল কবির ::০৩ জানুয়ারি ২০১৭ইং
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সৃষ্ট কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬’র ডিসেম্বরে। অনিশ্চিত এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ। মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক দিকে বেতন-ভাতা বন্ধের উপক্রম, অন্য দিকে চাকরির অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)।
জানা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, চাকরি জাতীয়করণ না হওয়াসহ বিভিন্ন অনিশ্চয়তা ও প্রতিবন্ধকতায় ইতোমধ্যে অনেকে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। আরো অনেকে ছাড়ার পথে। হতাশায় মৃত্যুবরণের ঘটনাও আছে।
আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৮ সালে ছয় হাজার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সরকার পরিবর্তন হলে ২০০১ সালে প্রকল্পটির কর্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প পুনরায় চালু করে।
২০১১ সালে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার হিসেবে ১৩ হাজার ৫০০ জনবল নিয়োগ দিয়ে চাকরি জাতীয়করণের আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু আজো প্রকল্প রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
সূত্র জানায়, ২০১২ সাল থেকে সিএইচসিপিদের চাকরি জাতীয়করণের আলোচনা শুরু হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সালমা ছিদ্দিকা মাহাতাব, একই বছর ২৯ জুলাই প্রকল্প পরিচালক ডা. মাখদুমা নার্গিস এবং ১৯ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরের তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো: শাহনেওয়াজ সিভিল সার্জনদের চিঠির মাধ্যমে চাকরি জাতীয়করণের বিষয়টি জানান।
২০১৪ সালে ১৪ এপ্রিল তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ডা. মাখদুমা নার্গিস দেশের সব সিভিল সার্জনদের সিএইচসিপিদের জন্য চাকরির বই খুলতে চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘রিভাইটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সব কর্মরত সিএইচসিপিদের চাকরি বই খুলে তাদের যোগদানের তারিখ ও নৈমিত্তিক ছুটি ব্যতীত সর্বপ্রকার ছুটি মঞ্জুরির আদেশ অনুযায়ী চাকরি বইতে লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ করা হলো।
সিএইচসিপিরা জানান, আইএমডির মূল্যায়ন প্রতিবেদন-২০১৩ প্রকল্প অফিস হতে বলা হয়েছিল ২০১৫ সালের জুলাইয়ে চাকরি জাতীয়করণ করা হবে। এমনকি চাকরি রাজস্বকরণ হবে বলে সারা দেশের সিএইচসিপিদের নামে সার্ভিস বুক ও এসিআর ফরম খোলা হয়। তারপর এই প্রক্রিয়া থমকে যায়। ফলে অনেকই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা কামাল হোসেন সরকার বলেন, সিএইচসিপি পদে কর্মরতদের নিয়োগ বিধিতে কোনো ছুটি নেই। কেউ অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনায় পড়লে তাদের বেতন কাটা হয়। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও প্রকল্প চলবে নাকি বন্ধ হয়ে যাবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যাচ্ছে না।
সিএইচসিপি দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মো: সুমন মাতবর বলেন, চাকরি জাতীয়করণ ও রাজস্বকরণের আশায় এ চাকরিতে থেকে অনেকের সরকারি চাকরির বয়স শেষ। আবার অনেকের শেষের পথে। এ অবস্থায় ১৪ হাজার সিএইচসিপি আজ হতাশায় নিমজ্জিত। এ থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ প্রসঙ্গে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের পরিচালক ডা. মমতাজুল হক বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্প চলমান থাকবে। আগামী মার্চের মধ্যে নতুন প্রকল্পের ওপি (অপারেশনাল প্লান) পাস হবে। তারপর আগের মতোই চলতে থাকবে এ প্রকল্প।
সিএইচসিপিদের বেতন বন্ধ প্রসঙ্গে ডা. মমতাজ বলেন, বেতন সাময়িক বন্ধ থাকলেও এটা ঠিক হয়ে যাবে। এ সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে থেকে বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সারা দেশের সিএইচসিপিদের তিন মাসের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হবে।
এ প্রকল্প রাজস্ব খাতে যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ফাইল সেক্টর প্রোগ্রামে যাবে। তারপর এটি একনেকে পাস হলে রাজস্ব খাতে যাওয়ার কার্যক্রম অনেকটাই অগ্রসর হবে।