02/04/2026
আজ আপনাদের আরেকটি রোগীর গল্প বলি।
রোগীর নাম রোকশানা। এখন সে প্রায় সাত সপ্তাহের গর্ভবতী।
ওর স্বামী বিদেশে থাকেন। স্বামী আসার প্রায় ছয় মাস আগে আমার একটি ভিডিও দেখে আমার কাছে আসে। ভিডিওতে আমি বলেছিলাম—যাদের স্বামী বিদেশে থাকেন এবং অল্প সময়ের জন্য দেশে আসেন, তারা যেন আগে থেকেই চিকিৎসা ও প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন।
রোকশানা তখন পিরিয়ড ছিল অনিয়মিত এবং তার ওজন ছিল প্রায় ৮০ কেজি। অর্থাৎ সে ছিল একজন টিপিক্যাল PCOS রোগী।
আমি তাকে বলেছিলাম—
ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ২০ কেজির মতো ওজন কমানোর চেষ্টা করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী তাকে লাইফস্টাইল ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান দিয়েছিলাম।
রোকশানা খুব মন দিয়ে সেই পরামর্শগুলো অনুসরণ করেছে।
ছয় মাসে সে প্রায় ১৪ কেজি ওজন কমাতে পেরেছে।
আমি তাকে বলেছিলাম চকোলেট, খেজুরসহ অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কম খেতে। মজার বিষয় হলো—তার স্বামীও বিষয়টি এত গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছেন যে বিদেশ থেকে এসব খাবার খুবই কম নিয়ে এসেছেন। যেটুকু এনেছেন, তার মধ্যে কিছু আমার জন্যও রেখে দিয়েছেন।
প্রায় দুই মাস আগে তারা আমার কাছে এসেছিলেন অনেকগুলো চকোলেট নিয়ে। কারণ তখন তার স্বামী দেশে এসেছেন।
এরপর যা হওয়ার তাই হয়েছে—
ওজন কমেছে, লাইফস্টাইল পরিবর্তন হয়েছে, পিরিয়ড নিয়মিত হয়েছে এবং রেগুলার ওভুলেশন শুরু হয়েছে।
স্বামী দেশে আসার কিছুদিনের মধ্যেই রোগ্যসালা কনসিভ করেছে।
আজ সে আমার কাছে এসেছে এই সুখবর নিয়ে—সে এখন গর্ভবতী।
আমি মজা করে বললাম—
“আবার কি আমাকে চকোলেট খাওয়াতে আসবেন?”
এই গল্পটি বলার কারণ একটাই—
আপনারা যদি ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলেন, লাইফস্টাইল পরিবর্তন করেন, তাহলে অনেক সময় খুব সহজেই আপনার কাঙ্ক্ষিত সুখবরটি পাওয়া সম্ভব।
রোকশানার জন্য অনেক শুভেচ্ছা ও দোয়া।
আপনাদের সবার জন্যও রইলো শুভকামনা।
ধন্যবাদ।