13/11/2025
👶বাচ্চাদের কাশি
সাধারণ সর্দি-কাশি হলে অনেক সময় মা-বাবা শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান বা শিশুর যাতে নিউমোনিয়া না হয় সেজন্য ডাক্তারও অ্যান্টিবায়োটিক বা ইনজেকশন লিখে দেন। নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন এটা সত্য; কিন্তু অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সাধারণ সর্দি, কাশি, জ্বরের চিকিৎসা বাড়িতেই করা সম্ভব। কারণ সব কাশিই নিউমোনিয়া নয়। সাধারণত শিশুরা সর্দি, কাশি, হাঁচি, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এদের প্রায়ই নাক বন্ধ থাকে। দুধ খাওয়ার বা ঘুমানোর সময় নাকে-বুকে শব্দ হয়। মা-বাবা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন, সোনামণির কি কোনো বড় রোগ হলো?
👉এসব লক্ষণ দেখা দিলে, শিশুর কোনো গুরুতর সমস্যা বা নিউমোনিয়া হয়েছে ভেবে ঘাবড়ে যাবেন না। শিশুদের কিন্তু নিউমোনিয়ার চেয়ে ব্রঙ্কিওলাইটিস নামক ভাইরাসজনিত রোগই বেশি হয়। এটি আজকাল খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় চিকিৎসকরাও এতে ভুল করেন। মনে রাখতে হবে, ব্রঙ্কিওলাইটিস সাধারণত দুই বছরের কম বয়সী শিশুর হয়।
👹 রেসপিরেটরি সিনথেটিয়াল ভাইরাসের কারণে এ রোগ হয়।
🖐️ তবে পাঁচ বছরের নিচের বাচ্চারাও এতে আক্রান্ত হতে পারে। সামান্য জ্বর, হাঁচি- কাশি, সর্দি, নাক বন্ধ উপসর্গ দিয়ে এ রোগ শুরু হয়। এর দু'একদিন পর দেখা যায় এই শিশুদের শ্বাসকষ্ট, বুকের মধ্যে শোঁ শোঁ আওয়াজ এবং কাশি হয়। এ লক্ষণ দেখা দিলেই বোঝা যাবে শিশু ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত হয়েছে।
এ রোগে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। তিন দিন থেকে বাচ্চা ভালো হতে শুরু করে, যদিও শ্বাসকষ্ট থাকে। পাঁচ-সাত দিনে তারা ভালো হয়ে যায়। এই রোগের চিকিৎসা বাড়িতেই সম্ভব।
🫱বাড়িতে কী করবেন :
১.শিশুকে বারবার বুকের দুধ দিন।
২.ফলমূলসহ পরিবারের সব খাবার শিশুকে খেতে দিন। অনেকের ধারণা সর্দি-কাশি থাকলে কলা, কমলা বা অন্যান্য ফল শিশুকে দেওয়া যাবে না। এ ধারণা ভুল।
৩.শিশুকে প্রতিদিন গোসল করান। শীতে একদিন পর পর কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করাবেন।
৪.শিশু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এমন কাপড় পরান।
৫.নাক বন্ধ থাকলে নাক পরিষ্কার করে দিন। লবণ পানি বা বাজারে নরসল ড্রপ পাওয়া যায়। এই ড্রপ দিনে ৪ থেকে ৫ বার নাকে দিতে পারেন।
৬.জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল দিন (জ্বর ১০০-এর ওপরে হলে)। কী মাত্রায় খাওয়াবেন তা ওষুধের প্যাকেটে লেখা থাকে।
৭.কাশি থাকলে সামান্য গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে খেতে দিন। তুলসি পাতা, আদার রস ও মধু কাশি কমায়।
👍👍কাশি বেশি হলে, কাশির সঙ্গে শব্দ হলে বা কাশির জন্য শিশু ঘুমাতে না পারলে ওষুধ প্রয়োজন।
✍️প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
👇কখন হাসপাতালে নিতে হবে:
১.শিশু দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নিলে
২.পাঁজরের নিচের অংশ ভেতরের দিকে দেবে গেলে
৩.শ্বাসকষ্ট হলে
৪.শ্বাসকষ্টের জন্য খেতে না পারলে
৫.খিচুনি হলে বা বমি করলে
৬.শিশু নিস্তেজ হয়ে গেলে।