27/04/2026
১০০% সৎ হতে হবে
আনোয়ারুল হোসেন।
কিছু না কিছু দান করার প্রবৃত্তি সকল মানুষের মধ্যেই আছে। যতক্ষণ আমরা এই সংসারে আছি, ততক্ষণ আমাদের কর্মকরতেই হবে। অনন্য ভক্তিসহকারে যিনি স্রষ্টার সেবাই নিজের জীবন সমর্পণ করেছেন তিনি যথার্থ সন্ন্যাসী। এই ধরণের মানুষ নিজেকে স্রষ্টার নিত্যদাস বলে মনে করেন। তাই তিনি যেকাজই করেন,কেবল স্রষ্টার সন্তুষ্টি বিধানের জন্যেই করেন। কোনো মানুষ মহাদানী হতে পারে কিন্তু সেও তার নিজের সন্তানদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত। স্রষ্টা এবং মানুষে শাশ্বত প্রভা রয়েছে। মানুষ যখন স্রষ্টার সেবাই উন্মুখ হয় তখন সে সোনার মত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। শুদ্ধ অন্তঃকরণ বিশিষ্ট মানুষকে বলা হয় স্রষ্টা ভক্ত। অর্থাৎ অসৎ কর্মে লিপ্ত মানুষেরা কখনোই স্রষ্টার ভক্ত হতে পারেনা। যে স্রষ্টার ভক্ত নয়, তার কোনো সদগুণ নেই। নিরন্তন স্রষ্টা চিন্তা করার প্রভাবে তার স্বভাব নির্মল হয়। ভক্তিযোগে সকলেরই সমান অধিকার এতে কোনো জাতিকুল ইত্যাদির ভেদাভেদ নেই। পৃথিবীতে মানুষের বিভিন্ন স্তর আছে, কিন্তু অন্তিম পরিণামে এই জগৎ কারও জন্যেই সুখদায়ক নয়। কোনো স্বাভাবিক ভদ্রলোকের থাকবার উপযুক্ত জায়গা এটা নয়। স্রষ্টা ভাবনার অমৃতই হচ্ছে এই দূষিত পৃথিবীর বন্ধন থেকে মুক্তিলাভ করার একমাত্র উপায়। হৃদয়ে সুদৃঢ বিশ্বাসসহকারে স্রষ্টার কৃপার মুখাপেক্ষী হওয়ায় উত্তম। স্রষ্টার কথা যতই শ্রবণ করা যায়।,স্রষ্টার প্রতিভক্তি ততই সুদৃঢ় হয়। সর্বদাই সাধুসঙ্গে স্রষ্টার কথা শ্রবণ করা উচিত, তার ফলে ভক্তি প্রবল হয়। যারা আত্মজ্ঞান লাভের প্রয়াসী, তাঁরা সাধারণ মানুষ নন। আত্মজ্ঞানবিহীন কোটি কোটি সাধারণ মানুষের থেকে তাঁরা শ্রেষ্ঠ। আত্মতত্ত্বজ্ঞান লাভের প্রয়াসী দুএকজন করতে পারেন স্রষ্টাকে
স্রষ্টা সৃষ্টির পূর্বেও ছিলেন এবং তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে ভিন্ন। ক্ষমাশীল পরম দয়ালু স্রষ্টাকে জানতে হলে সব রকমের পাপময় কর্মফল থেকে মক্ত হতে হবে। স্রষ্টার নির্দেশ অনুসারে যিনি কর্তব্যকর্ম করেন, তিনি হচ্ছেন যথার্থ। পৃথিবীর সকল মানুষের স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য ও শুভবোধের উদয় হোক-এই শুভ কামনা আমার।
সকাল ৮টা ৫০ মিনিট বাংলাদেশের সময় এখন।