10/04/2025
📌 কেন প্রেগন্যান্সি কনফার্ম হওয়ার পর শুরুতেই আল্ট্রাসনোগ্রাম করা অত্যন্ত জরুরি?
গত ২ মাসে একাধিক মায়ের আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখে কিছু অত্যন্ত দুঃখজনক কেস দেখতে হচ্ছে।তাদের কাউন্সেলিং করা সত্যিই কষ্টসাধ্য—যতই বোঝানো হোক, তারা শুধু চোখের জল ফেলেন।
একটি বাস্তব চিত্র চিন্তা করুন—
একজন মা ৪-৫ বা ৬ মাসে প্রথম আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে এসে শুনলেন,
শিশুর হাত-পা-হার্টবিট সব ঠিক আছে, বাচ্চাটি নড়াচড়া করছে।
কিন্তু... মাথার খুলির উপর অংশই গঠিত হয়নি, ব্রেইনই নেই!
সে মা তখন অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকেন, আর চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু…
#তাদের_প্রশ্ন_থাকে:
কেন এমনটা হলো?
আমি কি কোনো পাপ করেছি?
আমার ওপর আল্লাহ নারাজ?
এখন কী হবে?
এর কোনো চিকিৎসা আছে?
#চলুন_বিষয়টা_জানিঃ
এই সমস্যাটির নাম Anencephaly।
এটি একটি জন্মগত সমস্যা—Neural Tube Defect—এর একটি রূপ।
গর্ভধারণের ৪-৫ সপ্তাহের (মাত্র ২৮-৩২ দিন!) মধ্যে শরীরের নিউরাল টিউব তৈরি হয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
যদি এই টিউব ঠিকভাবে বন্ধ না হয়, তখন শিশুর ব্রেইন ও স্ক্যাল্প ঠিকমতো তৈরি হয় না।
#কারণসমূহঃ
মা বা বাবার জেনেটিক সমস্যা
গর্ভাবস্থার শুরুতে ফলিক এসিডের ঘাটতি
কিছু সাইকিয়াট্রিক ওষুধ
ব্যথানাশক বা ওপিয়ড জাতীয় ওষুধ
#ডায়াগনোসিস_কীভাবে_হয়?
১২-১৪ সপ্তাহের মধ্যে একটি আল্ট্রাসনোগ্রামই যথেষ্ট।
এছাড়াও পরীক্ষা করা যায়:
Serum Alpha-Fetoprotein (increased)
MRI
Amniocentesis
#চিকিৎসা_আছে_কি?
না, দুঃখজনকভাবে Anencephaly-এর কোনো চিকিৎসা নেই।
#প্রতিরোধযোগ্য_কি?
হ্যাঁ! প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।
গর্ভধারণের আগে ও পরে ফলিক অ্যাসিড নিয়মিত খেতে হবে (প্রতিদিন ৪০০-৮০০ মাইক্রোগ্রাম)।
প্রথম ২ মাস অপ্রয়োজনীয় ব্যথানাশক বা সাইকিয়াট্রিক ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে।
িশুর_ভবিষ্যৎ_কী?
অনেক সময় শিশুটি গর্ভেই নষ্ট হয়ে যায় বা মারা যায়।
জন্মের পর কিছুক্ষণের মধ্যেই (ঘণ্টা, দিন বা সপ্তাহ) মারা যায়।
যারা বেঁচে থাকে, তারা অন্ধ, বধির এবং অচেতন অবস্থায় থাকে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ বছরের মধ্যে ১০০% এই শিশুরা মারা যায়।
োস্ট_কেন_দিলাম?
সচেতনতা তৈরির জন্য।
অনেকের এখনো ধারণা—
“আগে তো মানুষ ডাক্তার দেখাত না।”
“আমার কোনো সমস্যা নেই, কেন যাবো ডাক্তার?”
“ওষুধ খেতে পারি না, বমি হয়।”
“৬ বা ৮ মাসে আল্ট্রা করবো।”
এইসব চিন্তাভাবনার পরিবর্তন আনতেই এই পোস্ট।
প্রথম ৩ মাসের চেকআপ, ফলিক অ্যাসিড আর একটি টাইমলি আল্ট্রাসনোগ্রাম
একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে। একটি মায়ের কান্না থামাতে পারে।
---
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সচেতনতা, জ্ঞান ও সহানুভূতির আলোয় আলোকিত করুন।
আপনার একটি শেয়ার অন্য কাউকে এই দুঃখজনক পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে পারে।
বি দ্রঃ ডাক্তারের চেম্বারে এমনও মা আসে যারা কোন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা কিচ্ছু করেনি, কোন ওষুধও খায় না, এমনকি নিজের রক্তের গ্রুপটাও জানে না। ছেলে না মেয়ে সেটা জানার জন্য একটা আল্টা করে ।