22/01/2026
যে দু‘আ ফেরত দেওয়া হয় না তার বৈশিষ্ট্য। আর যদি এ সকল বৈশিষ্ট্যগুলো কোনো ব্যক্তি তার দু‘আয় একত্রিত করে, তবে তা অবশ্যই (১০০%) কবুল করা হবে।
শাইখুল ইসলাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
“যখন কোনো দু‘আয় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো একত্রিত হয়, তবে এই দু‘আ প্রায় কখনোই ফেরত দেওয়া হয় না। বিশেষ করে, যদি তা এমন কোনো দু‘আর সাথে মিলে যায়, যা কবুল হওয়ার ব্যাপারে নবী (ﷺ) সুসংবাদ দিয়েছেন অথবা যার মধ্যে ‘ইসমে আ‘যম’ (আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নামসমূহ) রয়েছে:
১. অন্তরের উপস্থিতি এবং প্রার্থনার বিষয়ে পূর্ণ মনোযোগ।
২. দু‘আটি কবুলের ছয়টি বিশেষ সময়ের কোনো একটিতে করা হয়। সময়গুলো হলো:
* রাতের শেষ তৃতীয়াংশ।
* আযানের সময়।
* আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়।
* ফরয নামাজসমূহের শেষ অংশে বা সালাম ফিরানোর পূর্বে।
* জুমু‘আর দিন ইমাম মিম্বরে বসা থেকে শুরু করে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়।
* এবং জুমু‘আর দিন আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শেষ মুহূর্তটি।
৩. দু‘আর সময় অন্তরে বিনয় ও নম্রতা থাকে এবং রবের সামনে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দেওয়া হয়, আকুতি ও কোমলতা প্রকাশ পায়।
৪. দু‘আকারী কিবলামুখী হয়।
৫. সে পবিত্র অবস্থায় থাকে।
৬. সে আল্লাহর পানে দুই হাত তুলে দু‘আ করে।
৭. সে আল্লাহর হামদ (প্রশংসা) ও গুণকীর্তন দ্বারা দু‘আ শুরু করে।
৮. এরপর সে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের (ﷺ) ওপর দরূদ পাঠ করে।
৯. অতঃপর সে তার প্রয়োজনের কথা বলার আগে তওবা ও ইস্তিগফার করে নেয়।
১০. এরপর সে আল্লাহর সমীপে প্রবেশ করে এবং বারবার মিনতি সহকারে নিজের বিষয়টি পেশ করে, বিনয়ের সাথে আল্লাহর নৈকট্য চায় এবং আগ্রহ ও ভয় নিয়ে দু‘আ করে।
১১. সে তাঁর নাম, গুণাবলী ও তাওহীদের উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করে।
১২. এবং দু‘আর আগে সে কিছু সদাকাহ করে।”
[আদ-দা-উ ওয়াদ-দাওয়া’, পৃষ্ঠা নং ১৬-১৭।]
অনুবাদক:
ফাহাদ ইবনু ইব্রাহীম ইবনি আহমাদ
©