14/04/2026
==========>সতর্কতা=================>
অপসংস্কৃতির আগ্রাসনে ইসলামি তাহজিব: ইবাদতগাহ ও আমাদের দায়বদ্ধতা
সংস্কৃতি হলো একটি জাতির আত্মপরিচয়। কিন্তু সেই পরিচয় যখন বিজাতীয় অনুকরণ আর ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী উপাদানে মিশে যায়, তখন তা আর নিজস্ব থাকে না; বরং একটি জাতির আদর্শিক সংকট তৈরি করে। বর্তমানে নববর্ষ উদযাপনের নামে যে ধরনের কার্যক্রম দেখা যায়, তার অনেক কিছুই ইসলামি সংস্কৃতির মূল চেতনার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
ইসলামি সংস্কৃতি ও নববর্ষের সংঘাত
ইসলামি সংস্কৃতির ভিত্তি হলো তাকওয়া (খোদাভীতি) এবং তাওহীদ (একত্ববাদ)। ইসলামে উৎসব মানেই অশ্লীলতা বা উচ্ছৃঙ্খলতা নয়, বরং তা ইবাদত ও কৃতজ্ঞতার অংশ। কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
"তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-শুনে সত্য গোপন করো না।" (সূরা বাকারা: ৪২)
যখন নববর্ষের নামে এমন সব প্রতীক বা আচার ব্যবহার করা হয় যা শিরক বা পৌত্তলিকতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তখন তা ইসলামের বিশুদ্ধ আকিদাকে কলুষিত করে। কল্যাণ বা অকল্যাণ কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে—এই বিশ্বাসই ইসলামের মূল ভিত্তি।
ইবাদতখানা বনাম ফটোশুট: আদব ও আকিদার প্রশ্ন
বর্তমানে একটি নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—নববর্ষের বিশেষ পোশাক পরে মসজিদের আঙিনায় গিয়ে ছবি তোলা বা মডেলিং স্টাইলে পোজ দেওয়া। কিন্তু আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, মসজিদ বিনোদনের জায়গা নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর ঘর। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:
"আর মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।" (সূরা আল-জিন: ১৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন,
"যে ব্যক্তি অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।" (আবু দাউদ)।
যখন আমরা নির্দিষ্ট কোনো উৎসবের পোশাক পরে কেবল ছবি তোলার উদ্দেশ্যে মসজিদে যাই, তখন সেখানে ইবাদতের চেয়ে প্রদর্শনেচ্ছা (রিয়া) বেশি কাজ করে। মসজিদকে কেবল 'ব্যাকগ্রাউন্ড' বা 'শুটিং স্পট' হিসেবে ব্যবহার করা মসজিদের পবিত্রতা ও আদবের পরিপন্থী।
আমাদের শিক্ষা ও করণীয়
নববর্ষ বা যেকোনো উৎসব আমাদের জন্য আত্মবিশ্লেষণের সময় হওয়া উচিত। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:
*সঠিক জ্ঞানার্জন: কোনটি দেশীয় সংস্কৃতি আর কোনটি ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী, তার পার্থক্য বুঝতে শেখা। ইসলামি সংস্কৃতির সৌন্দর্য সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করা।
স্থান ও সময়ের মর্যাদা: উৎসবের আনন্দ করার সময় পবিত্র স্থানের গাম্ভীর্য বজায় রাখা। মসজিদকে যেন আমরা কেবল লৌকিকতার ফ্রেম বানিয়ে না ফেলি।
বিকল্প উপস্থাপনা: সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো। ইসলামি নাশিদ, সাহিত্য এবং ইতিহাসের চর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা।
পারিবারিক শিক্ষা: পরিবার থেকেই সন্তানদের শেখাতে হবে যে, আনন্দ করার অর্থ স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়া নয়।
সতর্কতা
আমাদের মনে রাখতে হবে, বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে অন্তরের তাকওয়াই আল্লাহর কাছে বেশি মূল্যবান। উৎসবের জোয়ারে ভেসে গিয়ে যেন আমরা ইসলামের মৌলিক আদব ও ইমানি চেতনা হারিয়ে না ফেলি। বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাবে যেন আমাদের ইমান নষ্ট না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রতিটি মুসলিমের ঈমানি দায়িত্ব।