19/08/2021
রীটকারিরা হোমিওপ্যাথি নয়। হোমিওপ্যাথি ডা. পদবি বিষয়ে আদালত ও মিডিয়াকে বিভ্রান্ত করেছে।
===================================
মতামত কলাম :
ভারতের কলকাতায় ভারত সরকারের অনুমোদন বিহীন “দি গ্লোবাল ওপেন রিসার্চ ইউনিভার্সিটি অফ ইন্দো অ্যালোপ্যাথি এন্ড কমপ্লিমেন্টারী মেডিসিন অধিভুক্ত যা বাংলাদেশে কথিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরা, ঢাকা হতে বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার লোক MBBS (AM) ডিগ্রি নেন। MBBS (AM) এরা এলোপ্যাথি। কথিত একটি ইউনিভার্সিটি , উত্তরা, ঢাকা তাদের বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিগ্রি সরকারি স্বীকৃতি/অনুমোদন নেই বা বাংলাদেশ ও ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সে প্রতিষ্ঠান এবং ডিগ্রির অনুমোদন নেই বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতেও প্রতিষ্ঠান ও ডিগ্রির অনুমোদন নেই, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এর আইন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কোন আইন দ্বারা কথিত সে প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রিত নয় ও পরিচালিত হয়না এবং তাদের সে প্রতিষ্ঠান/ডিগ্রির কোন স্বীকৃতি নেই। প্রতিষ্ঠানের এমবিবিএস (এএম) [অল্টারনেটিভ মেডিসিন (এএম)] সনদধারীর লোকদের বাংলাদেশে কথিত একটি এলোপ্যাথি মেডিকেল এসোসিয়েশন আছে। এ সংগঠন আবার জয়েন্ট স্টক কোম্পানী থেকে নিবন্ধন নেয়া। তারা বাংলাদেশ বা ভারত সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ডিগ্রি নেননি নন। ফলে তারা সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসক নন। বাংলাদেশ ও ভারতে সরকার স্বীকৃত "এমবিবিএস (এএম)" এএম (অল্টারনেটিভ মেডিসিন) নামে কোন ডিগ্রি বা কোর্স অনুমোদন নেই।
বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যথাযথভাবে অনুমোদন বিহীন বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনুমোদন বিহীন এমবিবিএস (এএম) পাসকৃত ৯৬ জন তারা এলোপ্যাথ। তাদের সার্টিফিকেট বৈধতা, ডা. পদবি লেখা প্রভৃতি বিষয়ে রিট করে। তাদের রীট পিটিশন নং ৫৩৫/২০১৯ করে। রীট শুনানি ০৫/০১/২০২০, রীটের রুল খারিজ করে রায়ের তারিখ ১৯/১১/২০২০, সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইডে রীটের রুল খারিজ করে আলোচনা, পর্যালোচনা করে ৪টি পরামর্শ সহ ৭৩ পাতায় পূর্ণাঙ্গ রায় ১৪/০৮/২০২১ প্রকাশিত হয়েছে।।
অল্টারনেটিভ মেডিকেল সিস্টেম (বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি) নিয়ে হাইকোর্টে একটি রায়ের পটভূমি ও কতিপয় ইলেকট্রনিক/প্রিন্ট মিডিয়ায় হোমিওপ্যাথি এবং আয়ুর্বেদিক-ইউনানি নিয়ে উদ্ভট সংবাদ প্রচার :
===================================
১। রীট পিটিশনারদের পরিচয় :
ন্যাশনাল মেডিকেল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর ৯৬ জন সদস্য যারা এমবিবিএস (এএম) অল্টারনেটিভ মেডিসিন (এএম) ডিগ্রীধারী, যারা ঢাকা উত্তরার কথিত একটি ইউনিভার্সিটি হতে ডিগ্ৰী প্রাপ্ত।
২। রীটের পিটিশনের পটভূমি :
এমবিবিএস (এএম) যারা অল্টারনেটিভ মেডিসিনে এমবিবিএস ডিগ্রীধারী বলে দাবীদার, ২০১৩ সালে যাদের বাংলাদেশে অল্টারনেটিভ মেডিসিন প্র্যাক্টিস করতে পারবে তবে তারা ডাক্তার নহে বলে রায় দেওয়া হয়েছিল ২৪০০/২০১২ নং রীট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। পরবর্তীতে তাদের বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক বোর্ড এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড হতে মতামত/অনাপত্তিপত্র প্রদান করায় এবং পূর্বের রায়ে সন্তোষ্ট না হওয়ায় ৯৬ জন সদস্য হাইকোর্টে রীট পিটিশন ৫৩৫/২০১৯ দায়ের করেন।
৩। রীট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট কারণ দর্শানোসহ রুল জারি করেন। উক্ত পিটিশনে তাদের দাবী ছিল :
(ক) কেন এমবিবিএস (এএম) ডিগ্রীধারীরা নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবে না।
(খ) কেন তাদের চিকিৎসা করতে দেওয়া হবে না।
(গ) কেন তাদের জন্য আলাদা রেগুলেটরী বডি/ নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করে দেওয়া হবে না।
আদালত এই রুল ডিসচার্জ করে বেশ কিছু ফাইনডিংস ও অবজারভেশন দিয়ে গত ১৪/০৮/২০২১ ইং তারিখে হাইকোর্ট ওয়েব সাইটে চুড়ান্ত রায় প্রকাশ করে।
৪। MBBS (AM) দের মূল রায় :
আবেদন খারিজ করা হলো অর্থাৎ এমবিবিএস (এএম) সনদধারীরা নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না।
৫। মূল কারণ :
ন্যাশনাল মেডিকেল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর ৯৬ জন সদস্য যারা এমবিবিএস (এএম) অল্টারনেটিভ মেডিসিন (এএম) ডিগ্রীধারী, যারা ঢাকা উত্তরার কথিত একটি ইউনিভার্সিটি হতে ডিগ্ৰী প্রাপ্ত। তাদের ডিগ্রি সরকার স্বীকৃত নয়, তবে তারা চিকিৎসা পেশা চালিয়ে যেতে পারবে।
এই রায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর অধিনে সরকার স্বীকৃত সরকারি ও বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক এবং আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ হতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোর্সসমূহ BHMS (Bachelor of Homoeopathic Medicine and Surgery), BAMS (Bachelor of Ayurvedic Medicine and Surgery), BUMS (Bachelor of Unani Medicine and Surgery), DHMS (Diploma in Homoeopathic Medicine and Surgery), DAMS (Diploma in Ayurvedic Medicine and Surgery), DUMS (Diploma in Unani Medicine and Surgery) সনদধারীদের সাথে কোন সম্পর্ক নাই।
এমবিবিএস (এএম) সনদধারীরা তারা হলো এলোপ্যাথ। নিজেদের বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসক দাবী করেন। তারা নাকি এলোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক, হার্বাল বিষয়গুলো পড়ালেখা করেছেন। তাদের এই বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসক দাবীর প্রেক্ষিতে আদালত বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির প্রশংসা করেন এবং গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত পর্যালোচনা করেন (কিন্তু এগুলো মূল রায় নয়) এবং কতগুলো পরামর্শ দেন (এগুলোও রায় নয়)।
৬। ৭১ পাতার রায়ের পর্যালোচনা (এগুলো মূল রায় নয়) :
(ক) ২০১৪ সালে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের এএমসি প্রকল্প পরিচালক ডা. গৌরমনি সিনহা দেয়া সার্কুলারটি আইন সিদ্ধ হয়নি।
(খ) ডা. পদবী ব্যবহারের ব্যাপারে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের রেজিস্ট্রার ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম এর দেয়া সার্কুলারটি আইন সিদ্ধ হয়নি, বিএমডিসি এ্যাক্ট ২০১০ অনুযায়ী।
(গ) বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকদের ৪ টি পদবী ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে (কিন্তু এগুলো রায় বা আদেশ নয়, এটা আদালতের প্রাসঙ্গিক মন্তব্য)
৮। MBBS (AM) দের রায়ে পরামর্শ (এগুলো মূল রায় বা আদেশ নয়) :
(১) বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকদের জন্য আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন ।
(২) আলাদা মন্ত্রণালয় অর্থাৎ ভারতের আয়ুশ এর মতো বাংলাদেশে আলাদা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা।
(৩) এলোপ্যাথিক ও অল্টারনেটিভ (বিকল্প চিকিৎসা) সবাইকে পেশেন্ট সেন্টার্ড কেয়ার এর নীতিমালা অনুসরণ ।
(৪) আলমা-আটা ও কাজাখাস্তান সম্মেলন এর নীতিমালা বাস্তবায়ন অর্থাৎ সর্বোপরি চিকিৎসা বাস্ততবায়ন। অর্থাৎ সকল চিকিৎসা মিলে সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণ।
৯। রায়ের মূল আদেশ :
এমবিবিএস ( এএম) ডিগ্রি ধারীগণ নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু তাদের চিকিৎসার জন্য নীতিমালা প্রনয়ণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
১০। হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদিক-ইউনানী :
আয়ুর্বেদিক প্রসঙ্গ ক্রমে আলোচনায় এসেছে কিন্তু ষড়যন্ত্র কারীরা ও কিছু মিডিয়া পুরোটা হোমিওপ্যাথি এবং ইউনানী-আয়ুর্বেদিক সিস্টেমের উপর চাপিয়েছে, যা আদালতের মূল রায় নয়।
অপরদিকে বাংলাদেশে এলোপ্যাথিক চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবার সরাসরি সমালোচনা করেছেন আদালত এবং বিকল্প চিকিৎসা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
BHMS, BAMS, BUMS, DHMS, DAMS, DUMS ডিগ্ৰীপ্রাপ্ত হোমিওপ্যাথি, ইউনানী-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকগণ হতাশ হবেন না। কারণ বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন অনুযায়ী হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি সিস্টেম চলে না। হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য আলাদা আইন আছে। বর্তমানে হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য আলাদা আইন ও কাউন্সিল গঠন প্রক্রিয়াধীন। আইনগত ভাবে এসবের সমাধান হবে।
ভারত এর সরকারি অনুমোদন বিহীন প্রতিষ্ঠান থেকে কথিত অল্টারনেটিভ সিস্টেম অব মেডিসিনের সরকারি অনুমোদন বিহীন এমবিবিএস (এএম) ডিগ্রি অর্জনকারী এরা এলোপ্যাথি ও তারা ৯৬ জনের স্বীকৃতির দাবিতে দায়েরকৃত বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন ৫৩৫/২০১৯ এর রুলটি আলোচনা এবং পর্যালোচনা উল্লেখ করে আদালত কতিপয় পরামর্শ প্রদান পূর্বক রায়ে রুলটি খারিজ করেছে। সার্বিক পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞ আদালত সরকারের প্রতি যে কয়টি ডিরেকশন/পরামর্শ প্রদান করেছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, জনগণের সাংবিধানিক ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারের করণীয় নির্ধারণে নৈতিক তাগিদ।
সরকারের যথাযথভাবে অনুমোদন বিহীন বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিবিএস (এএম) পাসকৃত ৯৬ জন তাদের সার্টিফিকেট বৈধতা, ডা. পদবি লেখা প্রভৃতি বিষয়ে রিট পিটিশন নং ৫৩৫/২০১৯ করে। রিট শুনানি ০৫/০১/২০২০, রায়ের তারিখ ১৯/১১/২০২০, সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইডে রায় প্রকাশ ১৪/০৮/২০২১।
রিটকারী সরকারি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান ও কোর্সে এমবিবিএস (এএম) ডিগ্রি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) দ্বন্দ্ব :
===================================
(ক) কেন রিটকারি এমবিবিএস (এএম) ডিগ্রীধারীরা নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবে না।
(খ) কেন রিটকারি এমবিবিএস (এএম) তাদের চিকিৎসা করতে দেওয়া হবে না।
(গ) কেন রিটকারি এমবিবিএস (এএম) তাদের জন্য আলাদা রেগুলেটরী বডি/ নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করে দেওয়া হবে না।
আর বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) মত রিটকারি এমবিবিএস (এএম) বাংলাদেশ বা ভারতের সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), সরকারি মেডিক্যাল কাউন্সিল হতে যথাযথভাবে সরকার স্বীকৃত কোন বিশ্ববিদ্যালয়রের বৈধ প্রতিষ্ঠান নয় ও বৈধ কোর্স বা বৈধ ডিগ্রি নয়। সর্বশেষ আইন বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন ২০১০ অনুযায়ী রিটকারিগণ ডা. পদবি লিখতে পারবেননা ও চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশনও পেতে পারেনা।
সরকারি অনুমোদন বিহীন প্রতিষ্ঠান হতে অনুমোদন বিহীন এমবিবিএস (এএম) ডিগ্রিধারী রীটকারিদের রীটে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদিক-ইউনানি :
===================================
রীটকারী ৯৬ জন সরকারি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান ও কোর্সে অনুমোদন বিহীন এমবিবিএস (এএম) ডিগ্রিধারী হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ৫৩৫/২০১৯ দাখিল করে। তারা কেউ সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি মেডিক্যাল কলেজে পড়াশুনা করেননি এবং তাদের সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ডিগ্রি নেই। সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশনও তাদের নেই।
রীটকারিরা রীট পিটিশনে চেয়েছেন (ক) কেন রিটকারি এমবিবিএস (এএম) ডিগ্রীধারীরা নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবে না।
(খ) কেন রীটকারি এমবিবিএস (এএম) তাদের চিকিৎসা করতে দেওয়া হবে না।
(গ) কেন রীটকারি এমবিবিএস (এএম) তাদের জন্য আলাদা রেগুলেটরী বডি/নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করে দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশের হাইকোর্টে তাদের রীটে রুল খারিজ হলেও রীটে হাইকোর্টের আলোচনা ও পর্যালোচনা রায়ে বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিরা ক্ষতিগ্রস্ত। হোমিওপ্যাথি ডা. পদবি নিয়ে মিডিয়াতে বিভ্রান্তকর প্রচারণা কাম্য নয়। রীটকারিগণ হোমিওপ্যাথি নয়। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর অধিনে সরকার স্বীকৃত সরকারি ও বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক/আয়ুর্বেদিক/ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ হতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত শুধুমাত্র ৩টি ডিপ্লোমা ও ৩টি ব্যাচেলর কোর্স রয়েছে। নিম্নে সরকার স্বীকৃত ও সরকার অনুমোদিত মোট ৬টি কোর্স সমূহ নাম দেওয়া হলো (১) DHMS (Diploma in Homoeopathic Medicine and Surgery), (২) DAMS (Diploma in Ayurvedic Medicine and Surgery), (৩) DUMS (Diploma in Unani Medicine and Surgery) (৪) BHMS (Bachelor of Homoeopathic Medicine and Surgery), (৫).BAMS (Bachelor of Ayurvedic Medicine and Surgery), (৬) BUMS (Bachelor of Unani Medicine and Surgery) এগুলো কোর্স রীটকারীগণ করেনি ও এগুলো বৈধ কোর্সের সনদধারী নয়। উল্লেখিত সরকারি এসকল কোর্সের সঙ্গে রিটকারিদের কোন সম্পর্ক নেই। রীটকারীগণ ডাক্তার পদবি লেখার জন্য কৌশলে অতিগোপনে হোমিওপ্যাথি, আযুর্বেদিক ও ইউনানি পাসকৃত ও সরকারি কর্তৃপক্ষদের তথ্য এবং নথি অতিগোপনে সংগ্রহ করে তাদের কাজ হাসিলের জন্য তাদের হাইকোর্টের রিট কপিতে তাদের নিজেদেরমতো করে সংযুক্ত ব্যবহার করে রায় নিতে হাইকোর্টে জমা দেয়।
আদালত আলোচনা ও পর্যালোচনা এক জায়গায় উল্লেখ করে হোমিওপ্যাথিরা ডা. পদবি লিখতে পারবেনা। চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসা শিক্ষা কোর্স, যোগ্যতা, পেশায় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকদের চিকিৎসা পেশায় বিকল্প ৪টি পদবি উল্রেখ করেছে। বিকল্পধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পেশাধারীরা নামের পূর্বে (১) Integrated Physician (২) Complementary Physician (৩) Integrated Medicine Practitioner এবং (৪) Complementary Medicine Practitioner পদবী ব্যবহার করতে পারেন। তা উল্লেখ করেছে।
হাইকোর্টে সে রীটে কতিপয় ৯৬ জন রিটকারিরা সরকারের যথাযথভাবে অনুমোদন বিহীন বিশ্ববিদ্যালয় হতে সরকারি স্বীকৃত বিহীন এমবিবিএস (এএম) ডিগ্রি পাসকৃত ও সার্টিফিকেট প্রাপ্তরা রীট করেছিল আদালতকে বিভ্রান্ত করে তাদের সার্টিফিকেট বৈধতা, ডা. পদবি লেখা, আইন প্রণয়ন এবং নির্দেশনা চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে রীটে বিবাদি হিসাবে (ক) চেয়ারম্যান/রেজিস্ট্রার বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ঢাকা (খ) পরিচালক হোমিও ও দেশজ বিভাগ, স্বাস্থ্য অথিদপ্তর, ঢাকা, (গ) লাইন ডিরেক্টর, এএমসি (অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা, (ঘ) চেয়ারম্যান/রেজিস্ট্রার, বাংলাদেশ আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি বোর্ড, ঢাকা। এদের সকল কে রীটে অন্তর্ভুক্ত করার দরকার ছিল, কিন্তু রিটকারিরা কি কৌশলে বা কি কারণে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেনি। ফলে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রধানদের কোন তথ্য রীটে উপস্থাপন করেনি এবং হাইকোর্টে রীটে রীটকারিরা বাদ ফেলেছে। আদালত রিটে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রধানদের নাম বিবাদি বা পক্ষ করেনি। ফলে তাদের প্রতি আদালত রুল ইস্যু করেনি ও গুরুত্বপূর্ণ তাদের নিকট হতে এফিডেবিট এর মাধ্যমে আইনগত মতামত, আইনগত ব্যাখ্যা, আইনগত বিভিন্ন নথি/ডকুমেন্টস কপি গ্রহণ হতে আদালত বঞ্চিত হয়েছে এবং আদালতকে তা জানার বাহিরে রেখেছিল। এগুলো সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ, অধিকার, মর্যাদা সহ অন্যান্য বিষয়ে ক্ষতিসাধিত হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ে দেশ বিদেশের গবেষণা তথ্য, এলোপ্যাথি ও ডেন্টাল আইন বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০" ( ২০১০ সনের ৬১ নং আইন), এলোপ্যাথি ও ডেন্টালদের বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল এর চিঠি সংযুক্ত হয়েছে,এলোপ্যাথি ও ডেন্টালদের বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০" ( ২০১০ সনের ৬১ নং আইন) আইনের উপরই রায় হয়েছে। সম্ভবত বুঝিয়েছে Bangladesh Homoeopathic Practitioner's Ordinance, 1983 (Ordi.No.XLI of 1983) পুরাতন অধ্যাদেশ। যেহেতু তারপর বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০" ( ২০১০ সনের ৬১ নং আইন) হয়েছে আর এটাই সবকিছু! কিন্তু এটা যে শুধুমাত্র এলোপ্যাথি ও ডেন্টালদের আইন। সেটা বুঝানোর জন্য সরকারি হোমিওপ্যাথি কর্তৃপক্ষ , সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি কর্তৃপক্ষকে সবকিছুর জানার এবং মোকাবেলা করার বাহিরে রেখেছিল রীটকারিরা সহ কোন একটি অদৃশ্য মহল। বাংলাদেশের সরকার, জনগণ, হোমিওপ্যাথরা অবগত ১৯৬৫ সালের পূর্ব পাকিস্থান Unani, Ayurvedic and Homoeopathic Practitioners Act 1965 (Pakistan), তারপর Bangladesh Homoeopathic Practitioner's Ordinance, 1983 (Ordi.No.XLI of 1983), "১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারীকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন ২০১৩” প্রজ্ঞাপন ১৯৯৮ এর সংশোধিত গেজেট আইন নম্বর ২০৭, Ministry of Health and Family Welfare, Goverment of Bangladesh সহ অন্যান্য আইনের অধিনে এদেশের হোমিওপ্যাথগণ বাংলাদেশ সরকার হতে চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র, চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রাপ্ত হওয়া, ডা. পদবি লেখার অধিকার অর্জন করেছেন। কারণ এদেশে ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ হতে হোমিওপ্যাথি পাসকৃত আইন অনুযায়ী রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথগণ ডা. পদবি লিখে আসছেন। হোমিওপ্যাথদের সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি জড়িত।
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা সহ বিশ্বের সকল দেশেই নিজ নিজ দেশের সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান ও সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি কোর্সে পাসকৃত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকগণ আইন মোতাবেক ডা. পদবি লিখে আসছে। তা সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি পাসকৃতদের অধিকার৷
নিষ্পত্তিকৃত রীট ৫৩৫/২০১৯ এর প্রার্থীগণ কেউ বাংলাদেশ সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর সরকারি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের অনুমোদিত BHMS/DHMS কোর্স সম্পন্ন করেননি। রীটকারি কতিপয় ব্যক্তিগণ ভারতের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ভারতীয় এক টিউশন প্রোভাইডারের অধীনে) MBBS (AM) (alternative medicine) ডিগ্রি গ্রহণ করেছেন। তারা এলোপ্যাথ। ভারতের বর্তমান আইনে সে বিশ্ববিদ্যালয় ভুয়া ও তাদের এমবিবিএস (এএম) ডিগ্রিও ভুয়া। আর এরাই তাদের সনদের স্বীকৃতি ও নামের পূর্বে ডাক্তার পদবির জন্য বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিপক্ষ করে ১৭/০১/২০১৯ তারিখে মহামান্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন যা এখন নিষ্পত্তি হয়েছে।
দুঃখজনক যে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) হতে সরকারি অনুমোদন বিহীন বিশ্ববিদ্যালয় হতে সরকারি অনুমোদন বিহীন এমবিবিএস (এএম) কৃতরা ডা. পদবি লেখার জন্য রিটকারী অকালকুষ্মাণ্ডরা যে সকল আইন, বিধান, কাগজপত্র সংযুক্ত হিসাবে রিটে অতিগোপনে দাখিল করেছেন সেসবের প্রকৃত সম্পৃক্ত/সংশ্লিষ্ট (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর সরকারি হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি কর্তৃপক্ষ) দেরকে রিটের সংযুক্ত পক্ষ হিসাবে রিটকারি বা আদালত গ্রহণ করেননি। রিটকারী অপরিচিত সংগঠন ও সংগঠনভূক্ত ৯৬ জন সরকারের বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড বা বাংলাদেশ আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি বোর্ড বা সরকার অনুমোদিত চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে শিক্ষা ও ডিগ্রি এবং সনদপত্র গ্রহণ করেননি তথা হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসা পেশার সরকারি চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশনও তাদের নেই। অথচ রায়ে জনপ্রিয় হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি বিষয়ক সরকার স্বীকৃত চিকিৎসা ও শিক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলো? ফলে রায়ে সরকার স্বীকৃত চিকিৎসা ব্যবস্থার যথাযথ মর্যাদা বিবেচিত হওয়ার সুযোগ লাভে বঞ্চিত হয়েছে।
রিট বিষয়ে যদি সরকারি হোমিওপ্যাথি বোর্ড অবগত হতে পারতো তাহলে অন্ততপক্ষে সরকারি হোমিওপ্যাথিক বোর্ড অঘটন আশঙ্কায় স্বেচ্ছায় পক্ষভুক্ত হয়ে রিট আবেদনটি যথাযথ নিয়মে ও যথাযথ তথ্য উপাত্ত দিয়ে দায়ের করা হয়নি বলে হাইকোর্টে/আদালতের নিকট খারিজ দাবি করতে পারতো। সে সুযোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও সরকার স্বীকৃত বাংলাদেশের ডিএইচএমএস/বিএইচএমএস পাস হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকগণ পায়নি।
বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ প্রভাব এবং আদালতের পর্যালোচনা রায় :
===================================
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এর "বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০" ( ২০১০ সনের ৬১ নং আইন ) যেটা এলোপ্যাথি ও ডেন্টাল চিকিৎসকদের আইন। আইনবিদরা মনে করছেন এটার ভিত্তিতে রায় দিয়েছেন। ["বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০" এর ধারা : ২৯। (১) এই আইনের অধীন নিবন্ধনকৃত কোন মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এমন কোন নাম, পদবী, বিবরণ বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করিবেন না যাহার ফলে তাহার কোন অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে মর্মে কেহ মনে করিতে পারে, যদি না উহা কোন স্বীকৃত মেডিকেল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা বা স্বীকৃত ডেন্টাল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা হইয়া থাকে। ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রী প্রাপ্তগণ ব্যতিত অন্য কেহ তাহাদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করিতে পারিবেনা।] রায়ে এ আইনের ব্যাখ্যা ব্যবহার হয়েছে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদেরকে তাদের নামের পূর্বে পদবী হিসেবে ডাক্তার (Dr.) ব্যবহারের অনুমতি দেওয়াও বেআইনি। রায়ে আরও বলেছে, বিকল্পধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পেশাধারীরা নামের পূর্বে (১) Integrated Physician (২) Complementary Physician (৩) Integrated Medicine Practitioner এবং (৪) Complementary Medicine Practitioner পদবী ব্যবহার করতে পারেন। পাশের দেশ ভারতেও বিকল্প ধারার চিকিৎসকেরা (Dr.) লিখতে পারে না।
"বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০" ( ২০১০ সনের ৬১ নং আইন ) যেটা শুধুমাত্র এলোপ্যাথি ও ডেন্টাল চিকিৎসকদের আইন।
লিংক :
http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1065.html
বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান" ও "বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান" অনুুযায়ী "ডা." ও "হোমিওপ্যাথি" শব্দের আভিধানিক অর্থ :
=====================================
ডাক্তার (ডা.)
ইউরোপীয় পদ্ধতির চিকিৎসক; চিকিৎসক।
চিকিৎসাকারী, ডাক্তার, বৈদ্য, ভিষক।
Doctor; Physician.
হোমিওপ্যাথি
ডা. স্যামূয়েল হ্যানিম্যান (১৭৫৫-১৮৪৩) প্রবর্তিত রোগ সৃষ্টিকর বস্তুর সূক্ষ্মাংশ প্রয়োগে এরুপ রোগের চিকিৎসা প্রণালী; সদৃশ-বিধান।
Homoeopathy.
উল্লেখ্যঃ Western Medicine (অ্যালোপ্যাথি) ও হোমিওপ্যাথি পদ্ধতি প্রথম ইউরোপ মহাদেশে চিকিৎসা বিস্তার ও প্রসার এবং চিকিৎসা বিধান/পাঠ্যপুস্তক, প্রযুক্তি/কলাকৌশল প্রভৃতি প্রয়োগ চলতে থাকে। ফলে সেখানকার চিকিৎসকগণ নামের সঙ্গে "ডা." লিখত ও লিখে আসছে। কালক্রমে তা বিশ্বব্যাপি বিস্তৃতি লাভ করে...]।
ভারত ও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি কোর্সকৃত চিকিৎসকগণ আইনগতভাবে ডা. পদবি ব্যবহার :
====================================
১। ভারত সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি কোর্সে পাসকৃত চিকিৎসকগণ ডা. পদবী ব্যবহার করে আসছে।
[References : (1) Department of Health and Family Welfare, Ministry of Health and Family Welfare, Goverment of India.
(2) Maharashtra Council of Homoeopathy, Mumbai. "Mumbai Homoeopathic Practitioners Act, 1959 (Mumbai XII of 1960)", Mumbai, India.
(3) Council of Homoeopathic Medicine, West Bengal, India. "West Bengal Homoeopathic system of medicine Act. 1963 (West Bengal Act. ###III of 1963)", Govt. of West Bengal, India. https://www.chmwb.org/about.php ]
২। পাকিস্তান সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি কোর্সে পাসকৃত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকগণ ডা. পদবী ব্যবহার করে আসছে।
[References : Section 24, 'Unani, Ayurvedic and Homoeopathic Practitioners Act 1965, Pakistan", National Council for Homoeopathy, Government of Pakistan.]
৩। শ্রীলংকা সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি কোর্সে পাসকৃত চিকিৎসকগণ ডা. পদবী ব্যবহার করে আসছে।
[References : Homoeopathic Council, "The Homoeopathy Act No 7 of 1970." Government of Sri Lanka.]
৪। বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃত ডিএইচএমএস ও বিএইচএমএস হোমিওপ্যাথি কোর্সে পাসকৃত
চিকিৎসকগণ ডা. পদবী ব্যবহার করে আসছে।
[References : "Unani, Ayurvedic and Homoeopathic Practitioners Act 1965 Pakistan", তারপর "Bangladesh Homoeopathic Practitioner's Ordinance, 1983 (Ordi.No.XLI of 1983)", "১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারীকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন ২০১৩”, প্রজ্ঞাপন ১৯৯৮ এর সংশোধিত গেজেট আইন নম্বর ২০৭, Ministry of Health and Family Welfare, Goverment of Bangladesh, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষার জন্য সরকারি আলাদা আলাদা আইন ও সরকার স্বীকৃত কোর্স বা ডিগ্রি এবং সরকারি আলাদা চিকিৎসক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ রয়েছে।
বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথরা মনে করে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এএমসির জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন পাস, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিল গঠন, কাউন্সিল হতে ডিএইচএমএস ও বিএইচএমএস পাসকৃত চিকিৎসকদের চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র ও রেজিস্টার্ড নম্বর প্রদান হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি এবং হাইকোর্টের পর্যালোচনা রায় বিশ্লেষণ :
=====================================
১। পর্যালোচনা রায়টি কিন্ত MBBS alternative system of medicine এর বিপক্ষে। হোমিও, ইউনানি বা আয়ুর্বেদিক কোন ডিগ্রির বিরুদ্ধে নয়। (যা প্রকাশিত রীটের রুল খারিজসহ আলোচনা ও পর্যালোচনা রায়ের ৩নং ও ৪নং পাতা)
২। ওয়েস্ট বেংগল মেডিকেল এসোসিয়েশন, ভারতের বর্ননা মাফিক বিষয়টি MBBS (AM) । আয়ুর্বেদিক, ইউনানি বা হোমিওপ্যাথির জন্য নয়। (যা প্রকাশিত রীটের রুল খারিজসহ আলোচনা ও পর্যালোচনা রায়ের ৬নং ও ৭নং পাতা)
৩। WHO তাদের চিঠিতে আয়ুর্বেদি, ইউনানি বা হোমিওপ্যাথির জন্য বাংলাদেশের ১৯৮৩ অর্ডিনেন্স Bangladesh Unani and Ayurvedic Practitioners Ordinance, 1983, Bangladesh Homoeopathic Practitioner's Ordinance, 1983 (Ordi.No.XLI of 1983) ফলো করতে বলেছে। আয়ুর্বেদি, ইউনানি বা হোমিওপ্যাথির জন্য। (যা প্রকাশিত রীটের রুল খারিজসহ আলোচনা ও পর্যালোচনা রায়ের ৭নং ও ৮নং পাতা)
৪। BMDC র চিঠিতেও ভুয়া MBBS (AM) ডিগ্রি এর কথাই এসেছে। আয়ুর্বেদি, ইউনানি বা হোমিওপ্যাথি নয়। (যা প্রকাশিত রীটের রুল খারিজসহ আলোচনা ও পর্যালোচনা রায়ের ৪নং ও ৫নং পাতা)
৫। তাদের MBBS (AM) ডিগ্রি কোনো ইউনিভার্সিটির নয় সেই কথাই বলা হয়েছে। হোমিওপ্যাথি, ইউনানি বা আয়ুর্বেদির কোর্স গুলো ইউনিভার্সিটি বা সরকার দ্বারা অনুমতি প্রাপ্ত। (যা প্রকাশিত রীটের রুল খারিজসহ আলোচনা ও পর্যালোচনা রায়ের ৬নং ও ১১নং পাতা)
৬। ডা. পদবি লিখতে পারে না তারা যারা MBBS (AM) করা। (যা প্রকাশিত রীটের রুল খারিজসহ আলোচনা ও পর্যালোচনা রায়ের ৬৯নং পাতা)
৭। আদালত ৪টি পরামর্শ প্রদান করেছে। ৪ নং হলো যাদের সার্টিফিকেটের কোন অনুমোদন নেই তাদের জন্য, কিন্ত হোমিওপ্যাথি, ইউনানি বা আয়ুর্বেদিক তো সরকারের অনুমোদন আছে। (যা প্রকাশিত রীটের রুল খারিজসহ আলোচনা ও পর্যালোচনা রায়ের ৭১নং পাতা)
Bangladesh Homoeopathic Practitioner's Ordinance, 1983 পূর্ণরায় কার্যকর করতে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় সংসদে পাস ২০১৩ সনের ৭নং আইন :
===================================
বাংলাদেশে সামরিক সরকার কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী ও সপ্তম সংশোধনী তা বাতিল করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায় অনুযায়ী দুটি সামরিক সরকারের শাসনামল অবৈধ হয়ে যায়। ১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর সময়ের মধ্যে জারি করা সব অধ্যাদেশও অবৈধ। ওই দুই সামরিক শাসনামলে ১৭২টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। সিভিল আপীল নং ৪৮/২০১১ এ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১নং আইন) এর ধারা ৩ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে ১৯ অনু্চ্ছেদ বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত সময়ের মধ্যে জারীকৃত উক্ত অধ্যাদেশ সমূহ কার্যকারিতা হারিয়েছে জানা যায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। "১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারীকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর করণ (বিশেষ বিধান) আইন,২০১৩" (২০১৩ সনের ৭ নং আইন ) ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় সংসদে পাস করে। [পাসকৃত আইনের তালিকায় ২৮ নম্বরে : "Bangladesh Homoeopathic Practitioner's Ordinance, 1983 (Ordi.No.XLI of 1983)" রয়েছে]
তা সামরিক সরকারকে বৈধতা নয় বা সামরিক সরকারের অধ্যাদেশকে বৈধতা নয়। দ্রত আইন বাংলায় প্রণয়ন করে পাস করা সময় সাপেক্ষ এজন্য দরকারি কার্যাদি চালাতে সে গুলোর মধ্যে হতে ৮১টি অধ্যাদেশ কে কার্যকরকরণ করতে আইন পাস করলেও শুধুমাত্র সেসব প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ/আইন গুলো বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রায় অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন করে সম্পূর্ণ বাংলায় লিখে বা প্রণয়ন করে সংযোজন-বিযোজন সহ উল্থাপন করে জাতীয় সংসদ হতে পাস করে কার্যকর করতে হবে।
সংবাদপত্র হতে জানা যায় দুটি সামরিক শাসনামলে জারি করা যে অধ্যাদেশ গুলো এখনও আইনে পরিণত হয়নি, সেগুলোকে আইনে পরিণত করছে সরকার। অনেক সময় অতিক্রম হলেও "বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন (প্রস্তাবিত)" মন্ত্রী পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে ও এখনও জাতীয় সংসদে পাস হয়নি। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ হতে বার বার সংশোধনের নামে কখনও বোর্ড কখনও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকা নতুন পূর্ণাঙ্গ আইন "বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন (প্রস্তাবিত)" দ্রুত পাস করা ও সে আইন অনুযায়ী "বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিল" গঠন করা। সময় এসেছে দ্রুত বোর্ড কর্তৃপক্ষ সঠিক পদক্ষেপ নেবার এবং সময় এসেছে চিকিৎসা পদ্ধতিকে এগিয়ে নেবার। তা না হলে বোর্ডকে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের নিকট কঠোর জবাবদিহিতা করতে হতে পারে।
জাতীয় সংসদে পাসকৃত আইনের নাম :
“১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারীকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন,২০১৩”
( ২০১৩ সনের ৭ নং আইন ) [২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩]
ডাউনলোড লিংক :
http://www.clcbd.org/document/996.html
[আইনের তালিকায় ২৮ নম্বরে : "Bangladesh Homoeopathic Practitioner's Ordinance, 1983 (Ordi.No.XLI of 1983)" রয়েছে]
জাতীয় সংসদে পাসকৃত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি DHMS, BHMS পাসকৃতরা "চিকিৎসক (ডা.)" :
===================================
জাতীয় সংসদে পাসকৃত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সরকার অনুমোদিত হোমিওপ্যাথি ডিএইচএমএস ও বিএইচএমএস "চিকিৎসক (ডা.)"। গেজেট পাতা নং ১৫০১৭। সংজ্ঞা ২। (১২)।
মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস, অপব্যবহার ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুর্নবাসন কল্পে বিধান প্রণয়নের জন্য প্রণীত আইন জাতীয় সংসদে পাসকৃত :
"মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮" (২০১৮ সনের ৬৩ নং আইন)
সংজ্ঞা : ২। (১২) ‘চিকিৎসক’ অর্থ বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, 2010 (2010 সনের 61 নং আইন) এর ধারা 2 এর দফা (16) এবং (18) এ সংজ্ঞায়িত যথাক্রমে স্বীকৃত ডেন্টাল চিকিৎসক ও স্বীকৃত মেডিক্যাল চিকিৎসক; এবং Bangladesh Homeopathe Practitioners Ordinance, 1983 (Ordinance XLI of 1983) অনুসারে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অথবা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হইতে হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রিধারী ব্যক্তি এবং Bangladesh Veterinary Practitioner Ordinance, 1982 (### of 1982) এর section 2(g) তে সংজ্ঞায়িত Registered Veterinary Practitioner;
"মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮" (২০১৮ সনের ৬৩ নং আইন)। গেজেট পাতা নং ১৫০১৭।
লিংক :
জাতীয় সংসদে পাসকৃত "মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮" (২০১৮ সনের ৬৩ নং আইন)।
http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1276.html
আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের করণীয় :
===================================
১। হাইকোর্টের রীট পিটিশন নম্বর ৫৩৫/২০১৯ দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগ হতে যে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে রিটের কপি তুলতে হবে। (সংগ্রহ করতে ১ দিনেই পাওয়া যায়)
২। হাইকোর্টের রীট পিটিশনের রুল খারিজকৃত পর্যালোচনা ও পরামর্শ রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হোমিওপ্যাথি বোর্ডের আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। (সংগ্রহ করতে ১/২ দিনেই পাওয়া যায়)
৩। মাননীয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আপীল বিভাগে আপীলে বাদি পক্ষের হাইকোর্টে রীটে রীটকারিরা ভারত হতে ভুয়া এমবিবিএস পাসকৃত ও সার্টিফিকেট প্রাপ্তরা রীট করেছিল আদালতকে বিভ্রান্ত করে ডা. পদবি লেখা ও আইন প্রণয়ন এবং নির্দেশনা চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে রীটে বিবাদি হিসাবে (ক) চেয়ারম্যান/রেজিস্ট্রার বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড, ঢাকা (খ) পরিচালক হোমিও ও দেশজ বিভাগ, স্বাস্থ্য অথিদপ্তর, ঢাকা, (গ) লাইন ডিরেক্টর, এএমসি (অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা, (ঘ) চেয়ারম্যান/রেজিস্ট্রার, বাংলাদেশ আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি বোর্ড, ঢাকা। এদের সকল কে অন্তর্ভুক্ত করার দরকার ছিল কিন্তু রীটকারিরা কি কৌশলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেনি। ফলে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রধানদের তথ্য রীটে বাদ পড়েছে। আদালত তাদের প্রতি রুল ইস্যু করেনি ও গুরুত্বপূর্ণ তাদের নিকট হতে এফিডেবিট এর মাধ্যমে আইনগত মতামত, আইনগত ব্যাখ্যা, আইনগত বিভিন্ন নথি/ডকুমেন্টস কপি হতে আদালত বঞ্চিত হয়েছে এবং আদালতকে তা জানতে বাহিরে রেখেছিল। রায়ে এগুলো সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ