10/03/2025
**এমএস (Multiple Sclerosis - MS)** হলো একটি **অটোইমিউন** রোগ, যেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) নিজের স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) আক্রমণ করে। এটি স্নায়ুতন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ, যার ফলে স্নায়ু কোষের আশেপাশের **মাইলিন শীট** (Myelin Sheath) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাইলিন শীট স্নায়ু কোষগুলিকে সুরক্ষা দেয় এবং স্নায়ুর সিগন্যাল দ্রুত প্রেরণ করতে সহায়তা করে। যখন মাইলিন শীট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন স্নায়ু সিগন্যাল ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়।
# # # এমএস (Multiple Sclerosis) এর প্রধান কারণ:
এমএসের কারণ সঠিকভাবে জানা যায়নি, তবে এটি সাধারণত **জেনেটিক** এবং **পরিবেশগত** কারণের সংমিশ্রণে ঘটে:
1. **জেনেটিক**: যদি পরিবারের মধ্যে এমএসের ইতিহাস থাকে, তবে অন্যদের মধ্যে এটি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
2. **পরিবেশগত**: ভিটামিন ডি এর অভাব, ইনফেকশন (বিশেষত ভাইরাস) বা অন্যান্য পরিবেশগত কারণে এমএস হতে পারে।
# # # এমএসের প্রকার:
এমএসের বিভিন্ন প্রকার থাকতে পারে, যেগুলি রোগের প্রকৃতি এবং উপসর্গের সময়কাল অনুযায়ী বিভক্ত হয়:
1. **রিল্যাপসিং-রেমিটিং এমএস (RRMS)**: এটি সবচেয়ে সাধারণ প্রকার, যেখানে রোগী কিছু সময় ভাল থাকে (রেমিশন) এবং কিছু সময়ে অবস্থা খারাপ (রিল্যাপস) হয়।
2. **প্রোগ্রেসিভ এমএস (Primary Progressive MS - PPMS)**: এখানে ধীরে ধীরে রোগের লক্ষণ এবং শারীরিক অক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে এতে রিল্যাপস বা রেমিশন ঘটে না।
3. **সেকেন্ডারি প্রোগ্রেসিভ এমএস (SPMS)**: এটি প্রথমে রিল্যাপসিং-রেমিটিং প্রকারে শুরু হয়, পরে ধীরে ধীরে প্রগ্রেসিভ হয়ে ওঠে।
4. **প্রোগ্রেসিভ-রিল্যাপসিং এমএস (PRMS)**: এই প্রকারে রোগের অগ্রগতি ঘটে, তবে মাঝে মাঝে রিল্যাপসও হতে পারে।
# # # এমএসের উপসর্গ:
এমএসের উপসর্গ বিভিন্ন মানুষের মধ্যে আলাদা হতে পারে এবং তা রোগের প্রকারের উপর নির্ভর করে। তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ রয়েছে:
1. **পেশী দুর্বলতা** (Muscle weakness)
2. **অতিরিক্ত ক্লান্তি** (Fatigue)
3. **স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগের সমস্যা** (Cognitive problems)
4. **দৃষ্টিশক্তি সমস্যা** (Vision problems), যেমন চোখের ঝাপসা দেখা
5. **শরীরের বিভিন্ন অংশে অবশ বা চিমটি অনুভূতি** (Numbness or tingling)
6. **হাঁটার সমস্যা** (Walking difficulties)
7. **ব্যালেন্স এবং সমন্বয়ের সমস্যা** (Balance and coordination problems)
8. **মাথাব্যথা এবং মুড পরিবর্তন** (Headaches and mood changes)
9. **ব্লাডারের সমস্যা** (Urinary problems)
# # # এমএসের চিকিৎসা:
এমএসের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই, তবে চিকিৎসা রোগের লক্ষণ কমাতে এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সহায়তা করতে পারে। চিকিৎসার পদ্ধতি সাধারণত দুটি প্রধান দিক অনুসরণ করে:
1. **রিল্যাপসের চিকিৎসা**:
- যখন রোগের অবস্থা খারাপ হয় (রিল্যাপস), তখন স্টেরয়েড (প্রেডনিসোলোন) বা অন্যান্য ইমিউন সিস্টেমকে দমনকারী ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যাতে প্রদাহ কমে এবং দ্রুত রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়।
2. **দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা**:
- **ডিজিজ মডিফাইং থেরাপি (Disease-Modifying Therapy - DMT)**: এমএসের অগ্রগতি ধীর করতে ও রিল্যাপসের সংখ্যা কমাতে কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইনফিউশন থেরাপি বা ইনজেকশন থেরাপি।
- **পালিয়েটিভ থেরাপি**: শারীরিক লক্ষণ ও কষ্ট কমাতে বিভিন্ন ধরনের ফিজিক্যাল থেরাপি, স্প্যাস্টিকিটি (muscle stiffness) কমানোর জন্য মেডিকেশন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
# # # এমএসের জীবনধারা:
এমএসের রোগীদের জন্য কিছু জীবনধারার পরামর্শ থাকতে পারে:
1. **সুস্থ খাদ্যাভ্যাস**: পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ার মাধ্যমে শারীরিক শক্তি বজায় রাখা।
2. **ব্যায়াম**: নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা ফিজিক্যাল থেরাপি শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
3. **মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন**: এমএসের রোগীদের মাঝে মানসিক চাপ বা হতাশা হতে পারে, তাই মানসিক সুস্থতার জন্য মেডিটেশন, ইয়োগা বা কাউন্সেলিং প্রয়োজন হতে পারে।
4. **ভিটামিন ডি**: কিছু গবেষণা suggests করেছে যে, ভিটামিন ডি এর অভাব এমএসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই সঠিক মাত্রায় ভিটামিন ডি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এমএস একটি জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগ হতে পারে, তবে চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপন অনুসরণ করলে রোগী তার জীবনের মান উন্নত করতে পারে।