07/01/2023
#থ্যালাসেমিয়া
অজ্ঞতাই অভিশাপ, তাই নিজে পড়ুন, অন্যকে জানান।
কে বাহক (carrier/minor/trait), কে রোগী (major)?
🔴থ্যালাসেমিয়া বাহকেরা রোগী নন, সম্পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তিও নন। বাহকেরা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন, তবে তারা থ্যালাসেমিয়ার ত্রুটিপূর্ণ জীন শরীরে বহন করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাহকের কোনও লক্ষণও প্রকাশ পায় না। তাদের রক্ত গ্রহণ করতে হয় না। কিন্তু স্বামী স্ত্রী ২ জনই বাহক হলে তাদের সন্তান থ্যালাসেমিয়া রোগী হয়ে জন্ম নিতে পারে। একারণে বিয়ের আগে রক্তের হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফরেসিস পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরী। কেবলমাত্র এই পরীক্ষাতেই জানা যায় যে কেউ থ্যালাসেমিয়া বাহক কিনা।।
কার সাথে কার বিয়ে হলে থেলাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কত???
🔴দুই জন থ্যালাসেমিয়ার বাহক যদি বিয়ে করে তাহলে প্রত্যেক প্রেগ্ন্যান্সিতে তাদের অনাগত সন্তান থ্যালাসেমিয়া রোগী হওয়ার সম্ভাবনা ২৫%, বাহক হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% এবং সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা ২৫%। অর্থাৎ তাদের যেকোনো বাচ্চাই থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত পারে, যেকোনো বাচ্চাই বাহক হতে পারে আবার যেকোনো বাচ্চাই সুস্থও হতে পারে। একারণে যেভাবেই হোক বাহকের সাথে বাহকের বিয়ে বন্ধ করতে হবে (বা বিয়ে হয়ে গেলেও প্রেগ্ন্যাসির সময়ে গর্ভস্থ ভ্রূণ পরীক্ষা করতে হবে)। অন্তত বিয়ের আগে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফরেসিস পরীক্ষার মাধ্যমে বাহক চিহ্নিত করতে হবে।
🔴একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক এবং একজন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ (যে বাহক নয়) যদি বিয়ে করে তাহলে প্রত্যেক প্রেগ্ন্যান্সিতে তাদের অনাগত সন্তান ৫০% সম্ভাবনা থাকে বাহক হওয়ার এবং ৫০% সম্ভাবনা থাকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার। তাদের সন্তান কখনও থ্যালাসেমিয়া রোগী হবে না কিন্তু যেকোনো বাচ্চাই বাহক হতে পারে আবার সুস্থও হতে পারে। সন্তানকে বিয়ে দেওয়ার পূর্বে পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।
🔴একজন বাহক এবং একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর বিয়ে হলে প্রত্যেক প্রেগ্ন্যান্সিতে তাদের অনাগত সন্তানের রোগী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৫০% এবং বাহক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৫০%। সুস্থ বাচ্চা হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নাই। তাই থ্যালাসেমিয়া রোগীর বিয়ের পূর্বে পার্টনারের হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফরেসিস পরীক্ষা করিয়ে দেখতে হবে সে বাহক কিনা।
🔴একজন সুস্থ মানুষ এবং একজন থ্যালাসেমিয়া রোগী বিয়ে করলে তাদের অনাগত সন্তানদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া রোগী হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নাই। শুধু বাহক হওয়া সম্ভাবনা ১০০%, অর্থাৎ সব বাচ্চাই বাহক হবে। তাই এভাবে থ্যালাসেমিয়া রোগীরা অন্য সবার মতই বিয়ে করতে পারবে এবং সন্তান নিতে পারবে।
🔴দুই জন থ্যালাসেমিয়া রোগী বিয়ে করলে তাদের অনাগত সন্তান অবশ্যই অবশ্যই রোগী হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সুস্থ সন্তান জন্ম নিবেনা। তাই কোনও থ্যালাসেমিয়া রোগী কখনও অন্য একজন রোগীকে বিয়ে করবেন না।
🔴দুই জন সুস্থ মানুষ (অর্থাৎ যারা বাহক নয় তারা) যদি বিয়ে করে তাহলে তাদের অনাগত সন্তানদের মধ্যে বাহক এবং রোগী হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নাই। অর্থাৎ সন্তান সম্পূর্ণ সুস্থ হবে।
বিয়ের আগে ছেলে মেয়ে উভয়েরই রক্তে👇
হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস(HbE) পরীক্ষা জরুরী।
আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথাঃ
👉যেহেতু বাহকের কোনও লক্ষণ প্রকাশ পায় না তাই প্রত্যেকেরই অন্তত বিয়ের পূর্বে হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস টেস্ট করানো উচিত। সুস্থ বোধ করলেও আসলে হয়তো আপনি বাহক।
👉আত্মীয়দের মধ্যে কেউ থ্যালাসেমিয়া রোগী বা বাহক থাকলে আপনার বাহক হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে, তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনিও HbE টেস্ট করে নিন।
👉রক্তস্বল্পতা থাকলে অন্য টেস্টের সাথে হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস টেস্ট করাতে হবে।
👉যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন সে যদি থ্যালসেমিয়া বাহক বা রোগী হয় তবে আপনার অবশ্যই অবশ্যই বিয়ের পূর্বে হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস টেস্ট করতে হবে।
🚫স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রূপ মিল হওয়ার সাথে থ্যালাসেমিয়া হওয়ার কোনও সম্পর্ক নাই।
🚫সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, সেটার সাথে থ্যালাসেমিয়া হওয়ার বা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নাই।
🚫থ্যালাসেমিয়া ছোঁয়াচে নয়। এটি জিনবাহিত, জন্মগত।
(নিচের ছবি দেখলে আশা করি সবকিছু স্পষ্ট হবে)
জনসচেতনতায়ঃ
রক্তের সন্ধানে সিরাজগঞ্জ (R.S.S)
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন