Dr. Sukumar Sur Roy

Dr. Sukumar Sur Roy I'm a general physician, practicing at ibne sina Prime Diagnostic Centre, ullapara, Sirajganj.

I want to disseminate medical general knowledge to common people thereby update their health consciousness...

সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে বন্ধু প্রফেসর মনীন্দ্র নাথ রায়ের সঙ্গে।
01/04/2026

সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে বন্ধু প্রফেসর মনীন্দ্র নাথ রায়ের সঙ্গে।

সতর্কীকরণ ঃহাম রোগের ভয়ানক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সচেতন থাকুন, আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখুন। বাংলাদেশে বর্তমানে হাম রোগ...
30/03/2026

সতর্কীকরণ ঃ

হাম রোগের ভয়ানক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
সচেতন থাকুন, আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখুন।

বাংলাদেশে বর্তমানে হাম রোগের ভয়ানক প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে।
সরকার বাহাদুর জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন কেনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

এবছর জানুয়ারি মাসের চার তারিখে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম একটি শিশুর হাম রোগ সনাক্ত করা হয়।
এরপরেই দ্রুত সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে।
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, পাবনা, নাটোর,চট্টগ্রাম, যশোর জেলা সমুহে সর্বাধিক রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে।
জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এই তিন মাসে ৪৪ জন শিশু মারা গেছে ( সরকারি হিসাবে) ।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ।

এটি একটি ভাইরাস জনীত রোগ । নাম মিজেলস ভাইরাস ৷
একজন আক্রান্ত হলে তার মাধ্যমে ১৭ / ১৮ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে। ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

শিশুরাই প্রধানত বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তবে সব বয়সেই হতে পারে।

হাম রোগের প্রধান লক্ষ্মণ সমূহ ঃ

১। উচ্চমাত্রার জ্বর।
২। সর্দি, হাঁচি, কাশি
৩। চোখ লাল হয়ে যায় ও পানি ঝরে।
৪। শরীরে লালচে র‍্যাশ।

হামের জটিলতা ঃ

১। নিউমোনিয়া,
২। ডায়ারিয়া,
২। এনকেফালাইটিস।

নিউমোনিয়া হল শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ।

করণীয় ও সতর্কতা ঃ

১। শিশুকে যথা সময়ে নিকটবর্তী টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে হামের টিকা ( MR vaccine) দিতে হবে।
বাংলাদেশে শিশুদের নয় মাস বয়সে এবং ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ হামের টিকা রুটিনলি দেওয়া হয়।

মনে রাখতে হবে হামের স্পেসিফিক এন্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই তাই প্রতিরোধই প্রধান উপায়।

২। হামের লক্ষন দেখা দিলে নিকটবর্তী হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকের স্বরনাপন্ন হতে হবে।

৩। শিশুদের প্রচুর বুকের দুধ এবং বয়স ভেদে তরল বাড়তি খাবার দিতে হবে। পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে।

৩। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল দেওয়া যাবে।

এটি ভাইরাস ঘটিত রোগ তাই এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই। তবে সেকেন্ডারি ইনফেকশন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মত এন্টিবায়োটিক দিতে হবে।

৪। জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

কীভাবে ছড়ায় ঃ হাম হাঁচি কাশি ও ক্লোজ কনট্যাক্ট এর মাধ্যমে ছড়ায়।

তাই প্রতিরোধের জন্য যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বাড়িতে কেউ হাম আক্রান্ত হলে তাকে আলাদা রাখতে পারলে ভাল। যথাযথ নিয়মে হাত ধুতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাঁচি-কাশি দিতে হবে। একজনের ব্যবহার্য জিনিসপত্র অন্য কেউ ব্যবহার করবে না।

সচেতন থাকুন, আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখুন।

ডাঃ সুকুমার সুর রায়।

28/03/2026
★★★" ডিজিটাল ঈদ " ★★★___________________________ ১৫ বছর আগের এক ঈদুল ফিতরের কথা। হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলাম। অবশ্য চাকুরি জ...
23/03/2026

★★★" ডিজিটাল ঈদ " ★★★
___________________________

১৫ বছর আগের এক ঈদুল ফিতরের কথা।
হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলাম। অবশ্য চাকুরি জীবনের সব ঈদেই হাসপাতালে জরুরি ডিউটিতে থাকা ছিলো একদম কমন ফেনোমেনা।
যাইহোক, বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালের পাশের বাড়ির অত্যন্ত অতিথি পরায়ন পান্না ভাই ফোন দিয়ে বললেন - দাদা আপনাদের তো খাওয়ার ব্যবস্থা নাই, আমার বাসায় এসে দুপুরে দুটি ডাল ভাত খেয়ে যাবেন। আমি বললাম, না ভাই, হাসপাতালের সুইপার গুরুচরন রোগীর খাবারের সাথে আমাদের ডিউটিরত ৪ জনের জন্যও পোলাও মাংস রান্না করবে তাই খাবারের কোন সমস্যা নাই। তাছাড়া হাসপাতাল অরক্ষিত রেখে দাওয়াত খেতে যাওয়া কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
একটা বিষয় প্রনিধান যোগ্য রোগি ও রোগীর লোকজনের মানসিকতা এইরকম যে তারা মনে করে ডাক্তার কখনো অসুস্থ হতে পারে না। একবার জ্বর নিয়ে বাথরুমে মাথায় জল ঢালা হচ্ছিলো এইসময় রোগী এলো।
"ডাক্তার অসুস্থ, একটু অপেক্ষা করেন " এই কথা বলায় রোগীর লোকজনেরা বলে উঠলো - " ডাক্তারের কখনো অসুখ হয়! এইটা কোন কথা বললেন! ডাক দেন ওনাকে । "
একবার ক্লান্ত হয়ে অনেক রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সেই সময় রাত ৩ টায় রোগী এলো।
গুরুচরন বলেছিলো - স্যার, কেবলই ঘুমিয়েছে, বিছানার চাদর বিছিয়ে দিচ্ছি, রোগিকে শোয়ায়ে দেন, তারপর স্যারকে ডেকে তুলি।
এর জবাবে রোগির লোক বললো - এইডা কোন কথা হইলো? আমার রুগি মইর‍্যা যায়! আর ডাক্তার আরাম কইর‍্যা ঘুমাইতেছে!, আগে ডাক্তাররে ডাইক্যা তোলেন।

আবার খাবার কথা বললে কিঞ্চিৎ ছাড় পাওয়া যায়। যেমন যদি বলা হয় - ডাক্তার সাহেব খাচ্ছে, একটু বসেন।
তখন রোগীর লোকজনেরা একটু ধৈর্য ধারণ করে বসে থাকে।
এতো সব কথা বলার পরে পান্না ভাই বললেন যে, ঠিক আছে, খেতে বসার কথা বলে এসেই খেয়ে যাইয়েন।

আমার বন্ধু ডাক্তার মোহাম্মদ আলির মামি,( রুনু ভাইয়ের মা) দুপুরে ফোন দিলেন।
- ভাগ্নে কোথায়? "ল
' মামি, আমিতো হাসপাতালে।
তাতো জানিই ঈদের দিনে হাসপাতালে ডিউটি করো। এখন আসার দরকার নাই, রাতের বেলায় মামির বাড়ি আইস্যা দুইডা ডাল ভাত খাইয়া যাইয়ো। আমার বাড়িতে কিন্তু গরুর গোশতো ওঠে না ভাগ্নে, কাজেই কোন চিন্তা কইরো না।
আমি বললাম - কি যে বলেন মামি, গরুর মাংস থাকলেও কোন সমস্যা নাই, আমিতো খাবো ডাল ভাত।

রাহেলা মেডিকেলের দুলাল ভাই ফোন দিয়ে বললো - দাদা, রাতে খাসির মাংস পোলাওয়ের আয়োজন আছে ; মা আপনাকে অবশ্যই আসতে বলেছে।
ফোন কাটতে কাটতেই দুলাল ভাইয়ের বন্ধু সাজ্জাদ ফোন দিয়ে বললো - দাদা, আপনার জন্য আলাদা মুরগির ঝাল মাংসের ব্যবস্থা আছে অবশ্যই আসা লাগবে।
তাদের দুইজনকেই বললাম - ভাই, রাতে আমার মামি মানে রুনু ভাইয়ের মাকে কথা দিয়েছি। সেখানে ডাল ভাত খেতে হবে। তবে আপনাদের দুইজনের বাসাতেই যাবো। একজনের বাসায় একটুকরো খাসির মাংস আরেকজনের বাসায় একটুকরো ঝাল মুরগির মাংস খেয়ে দ্রুতই হাসপাতালে ফিরে আসতে হবে। বুঝতেই পারছেন ঈদের রাতে হাসপাতালে যে রোগিরা আসে তারা সাধারণত খুবই জরুরি রোগী হয়!

পনেরো বছরের ব্যবধানে ঈদ ও সামাজিক ব্যবস্থা কি অনেক খানি পরিবর্তন হয়ে গেছে?

আজ ঈদুল ফিতরের দিন প্রায় পার হয়ে গেলো। একজন মানুষও ফোন করে খোঁজ খবর নিলো না। কেউ শুভেচছাও জানালো না। ডাল ভাত, পোলাও, খাসির মাংস, ঝাল মুরগির মাংস খাওয়ার দাওয়াত এখনো পাওয়া গেলো না!

অবশ্য পআঁচ বছর হলো করোনা মহামারি আমাদের সব কিছু ওলট পালট করে দিয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থাকে একদম আমুল পালটে দিয়েছে।
যেখানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিরাচরিত ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় না করে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে; ঐতিহ্যবাহী কোলাকুলি নাই,হ্যান্ড শেক নাই, এবাড়ি ওবাড়ি যাওয়া নাই! আর আমি কিনা নির্লজ্জের মতো দাওয়াত খেতে চাইছি!?
ছি! ছি! ছি!
না, এতো ছি! ছিই! বা করছি কেন?
করোনা তো বছর পাঁচেকের ব্যাপার। এর আগে থেকেই তো কেমন যেন একটা সামাজিক ছাড়া ছাড়া ভাবের সূচনা হয়েছে!
নাকি বছর কয়েক আগে আমার চাকরি থেকে অবসর নেওয়া হয়ে গেছে, বৃদ্ধ হয়ে গেছি ; সংসারে এবং সমাজে অপাংতেয় হয়ে গেছি! মূল্যহীন হয়ে গেছি, এই কারনে শুধু আমার ব্যাক্তিগত ক্ষেত্রে এমনটি ঘটছে?
নাকি সমাজের ভিতরেই ধীর গতিতে একটা পরিবর্তন হয়ে চলেছে?

ঈদের দুই দিন আগে থেকে শুরু হয়ে আজ ঈদের দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে!
চারিদিক থেকে সমানে শুভেচ্ছা জানিয়ে মেসেজ আসছে। সেই মেসেজগুলি টেক্সট মেসেজ নয়। ৯০% ইমুজি মেসেজ!!
হাতের ছোঁয়ায় লেখার কোন প্রশ্ন নাই। একটু ফোন করে স্বকন্ঠে দুইটি কথা বলার ফুরসত তাদের নাই। যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানি গুলির বানিজ্যিক ভাবে তৈরি করা প্রানহীন অর্থহীন বিকৃত ছবি ও লেখার মেসেজ সমানে গুঁতোগুঁতি করে পাঠানো হচ্ছে এর থেকে তার টাইমলাইনে, তার থেকে ওর টাইমলাইনে!
তার মধ্যে আবার রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা বড় নেতা থেকে পাতি নেতার ছবি উপর থেকে নীচে পর্যন্ত সাঁটিয়ে দিয়ে নানান ভঙ্গীমার ফ্রেমে সমানে পাঠিয়ে দিচ্ছে সামান্য শুভেচ্ছা জানিয়ে। বিভিন্ন কোম্পানির লোকেরা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোকেরা একই কাজ করছে সমানে গুঁতোগুঁতি করে।
এমন ব্যাপক গুঁতোগুঁতি চলছে যে, নেটওয়ার্ক ফেইল মারার উপক্রম হয়েছে!
তাহলে কী আমাদের সেই রুনু ভাইয়ের মায়েরা হারিয়ে যাচ্ছে!
তা হলে কি দ্রুত গতিতে উত্থান হচ্ছে প্রানহীন, দরদহীন, সামাজিক দায়বদ্ধতাহীন, এক নিষ্ঠুর কাল্পনিক ডিজিটাল সমাজ?
সেই ভবিষ্যত সমাজের শুরু দেখতে পাচ্ছি এই 'ডিজিটাল ঈদ ' উদযাপনের মধ্য দিয়ে!
তবে তাই হোক! এই ডিজিটাল ঈদে সাবাইকে জানাই - " ডিজিটাল ঈদ মুবারক। । "

-- ডাঃ সুকুমার সুর রায়।।

( বিঃ দ্রঃ ঃ এই লেখা পড়ার পর কেউ আবার আমাকে ' মাটন পোলাও ' এর দাওয়াত দিয়ে বসবেন না। কারন হার্টের কারনে সেগুলি খাওয়াও নিষেধ হয়ে গেছে।)।।।

" ঈদের ডিউটি "।   সরকারি চাকরিতে ঢোকার পর, ১৯৮৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত , 'স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের' বদান্যতায়ই হোক অথবা...
21/03/2026

" ঈদের ডিউটি "।

সরকারি চাকরিতে ঢোকার পর, ১৯৮৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত , 'স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের' বদান্যতায়ই হোক অথবা বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারভুক্ত হওয়ার
আজন্ম পাপেই হোক, একই পদে (মেডিকেল অফিসার হিসাবে)দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত উপজেলা হাসপাতালে কর্মরত থাকতে হয়েছে একটানা সুদীর্ঘ ২৬ বছর।
এই ২৬ বছরে, ৫২ যোগ ১, মোট ৫৩ টি ঈদের দিন হাসপাতালে ডিউটি করতে হয়েছে।

ডিউটি মানে ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালে ঢুকে,ঈদের পরের দিন সকাল ১০টা নাগাদ ছাড়া পাওয়া, অর্থাৎ মোটামুটি ৪০ ঘন্টা একটানা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডিউটি রুমে অবস্থান করতে হত।
ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে টিফিন ক্যারিয়ারে রাতের খাবার নিয়ে হাইবারনেশনে চলে যেতাম।
এজন্য কোন আক্ষেপ ছিল না, দুঃখবোধ ও ছিলনা, কর্তৃপক্ষের কোন চাপও ছিলনা, নিজ দায়িত্বে, সানন্দ চিত্তে, এই ৪০ ঘন্টার একটানা ডিউটি নিজের কাঁধে নিয়ে নিতাম। কারন আমি ছিলাম বরাবরের মতই একমাত্র নন মুসলিম মেডিকেল অফিসার। তাই কলিগরা যখন ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়া, শশুড় বাড়ি যাওয়া, বিয়ের দাওয়াতে যাওয়া ইত্যাদি বহুবিধ যাওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়তেন, তখন ত্রাণকর্তার মত আবির্ভূত হয়ে, তাদেরকে ছুটি দিয়ে দিতাম।
একজন হিন্দু নার্স, একজন হিন্দু পরিচ্ছন্নতা কর্মী আর স্বয়ং আমি, এই ৩ জন মিলে ৪০ ঘন্টার জন্য হাসপাতালের পুরা দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিতাম, আর কাওকেই প্রয়োজন হত না।

ডিউটি রুমে আয়োজন একেবারে মন্দ থাকতো না। ঘুমানোর মত বেড, বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার, রংগীন টেলিভিশন, কয়েকদিনের পেপার- পত্রিকা, উপন্যাস সবই হাতের কাছে থাকতো।
সিস্টার তার ডিউটি রুমে থাকতেন, ওয়ার্ডবয় অথবা পরিচ্ছন্নতা কর্মীরও ঘুমানোর ব্যবস্থা হত।

সমস্যা হত পরদিন থেকে খাবার দাবারের, খাবার দাবারের দোকান, রেঁস্তরা সব বন্ধ থাকতো।
মাঝে মাঝে আশে পাশের বাড়ি থেকে দাওয়াত পাওয়া যেত, কিন্তু সেটা ছিল অনিয়মিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ, কারন দাওয়াত খেতে গেলে দুর্গ অরক্ষিত থাকতো, আর কোন অঘটন ঘটলে এই সময়টুকুর মধ্যেই ঘটে যেতে পারতো, তাই ও পথে না গিয়ে নিজেরাই, মানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী কর্তৃক রান্নার আয়োজন চলতো। বলতে দ্বিধা নাই, এই খাবারটা ছিল সরকারি খাবারের অংশ, অর্থাৎ,ডায়েট কন্ট্রাক্টর কর্তৃক সরবরাহকৃত।
অনেকে বলতে পারেন এটাতো অনৈতিক! , হ্যা, এইটুকু অনৈতিক কাজ মনের বিরুদ্ধে হলেও মেনে নিতে হত।

বেশিরভাগ সময় তেমন কাজ থাকতো না, আবার কোন কোন সময় একের পর এক মুমূর্ষু রোগী আসতে থাকতো। ঈদের সময় রোগী আসা মানে আমরা মানসিক ভাবেই প্রস্তুত থাকতাম অতীব জরুরি রোগীর জন্য, আর তা সর্বোতভাবে মোকাবেলার প্রস্তুতি আমাদের থাকতো।
কোন কোন রাত ক্রমাগত খারাপ রোগী চলে আসতে থাকতো, প্রচণ্ড শ্বাস কষ্ট নিয়ে আসতো কেউ, এক দংগল লোক হুরমুর করে ঢুকে পরতো দেখা যেত সাথে স্ট্রোকের রোগী, ডেলিভারি ব্যাথ্যায় কাতরাতে কাতরাতে আসতো অসহায় মা, ছোট বাচ্চা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়া নিয়ে চলে আসতো। খারাপ লাগতো যখন ঈদের দিনেও মারামারি করে মারাত্মক জখম নিয়ে আসতো আর মারামারির রেশ ধরে আমাদের উপরেও ঝাড়ি মারার চেষ্টা করতো, সেই সংগে চিকিৎসা শুরুর আগেই জখমী সার্টিফিকেট এর জন্য পিড়াপিড়ি শুরু করতো।কোন কোন সময় একসাথে অনেক জন রোগী, রোড ট্রাফিক এক্সিডেন্ট এর কারনে বিভিন্ন রকমের জখম নিয়ে চলে আসতো।
একসাথে ম্যানেজ করতে গিয়ে কিছুটা হিমশিম খেতে হত।
আরো খারাপ লাগতো যখন উৎসবের দিনে, স্বামী - স্ত্রী সামান্য ঝগড়া, বা শশুড় - শাশুড়ির সামান্য গঞ্জনা সইতে না পেরে- নববধূ, কৃষকের ঘরের অতি পরিচিত কীটনাশক পান করে চলে আসতো জরুরি বিভাগে।
অতি কষ্টকর 'স্টমাক ওয়াশ ' ও অন্যান্য চিকিৎসা দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হত, বেঁচে গেলে খুবই ভাল লাগতো, কিন্তু মারা গেলে মরে যাওয়ার শোকের সাথে যুক্ত হত আইনগত ঝুট ঝামেলা, থানাতে জানাতে হত,
থানা থেকে লোক না আসা পর্যন্ত আমাদেরকেই চোখে চোখে রাখতে হত নববধূর লাশ।
একজন মুমূর্ষু রোগীকে এম্বুলেন্সএ সদরে পাঠানোর পরপরই যদি আরো একজনকে পাঠানোর প্রয়োজন হত, তখন বিড়ম্বনায় পরতে হত।
এই সব মোকাবিলা করতে করতে কখনো কখনো রাত পার হয়ে যেত, আমাদের খাওয়াই হত না।
এর উপরে যদি স্থানীয় প্রভাবশালী কেউ বা তার আত্মীয়স্বজন কেউ, তথাকথিত জরুরি রোগী দেখাতে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পিড়াপিড়ি করতো তখন মেজাজ ধরে রাখা, শান্ত থাকা, সত্যিই কষ্টকর হয়ে যেত।
এতদসত্বেও আমরা মনে হয় সানন্দে কাজ করে যেতাম এবং ভাল লাগতো, মনে হত আমরা একটা ছোট্ট দল,স্বাভাবিক সময়ে নয়, যুদ্ধকালীন সময়ে -
সার্বক্ষণিক যুদ্ধে নিয়োজিত আছি এবং সে যুদ্ধে
আমাদের হেরে গেলে চলবে না!।

এত সবের মধ্যেও গুরুচরন দাষ, পোলাও - মাংশ রান্না করে ফেলতো কোন এক ফাঁকে, আমরা খেয়েও নিতাম পালাক্রমে। কাজ কমে গেলে, টিভিতে ঈদের অনুষ্ঠান ও দেখা হত ফাকে ফাকে।
ভাল লাগতো যখন দেখতাম অসুস্থ্য বাচ্চা দ্রুত সুস্থ্য হয়ে যাওয়ার পর মুহুর্তেই, বাবা মা পোটলা পাটলি নিয়ে একটা অনেক বড় ধন্যবাদ জানিয়ে, দ্রুত বাড়ির দিকে ছুটে যেত ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে।
শ্বাসকষ্টের রোগীটি একটু আরাম পেতেই তাকে ঘিরে থাকা আপনজনেরা উশখুশ করতো বাড়ি যাওয়ার জন্য, তাদেরকে বলতাম ' তোমাদের বাবার সকল দায়িত্ব আমরা নিলাম, তোমরা নিশ্চিন্তে গিয়ে ঈদ কর, '
তাদের মুখে হাসি দেখা যেত, দল বেধে ঈদের জামাত ধরতে চলে যেত, লম্বা একটা ধন্যবাদ জানাতে ভুলতোনা।
বিষ খাওয়া রোগীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে, থানায় খবর দিতে হবে,লাশ নিয়ে টানা হেচড়া হবে, পোষ্ট মর্টেম হবে, টাটকা খবরের নেশায় দুই একজন সাংবাদিক ফোনও দিতে শুরু করেছে, তার পর ও অসহায় দরিদ্র পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে, রিস্ক নিয়ে বলে দিয়েছি, "লাশ বাড়ি নিয়ে যাও, বাড়িতেই মারা গিয়েছে, এখানে আনা হয়নি, রেজিস্টারএও নাম লেখা হয়নি, স্থানীয় চেয়ারম্যান কে বলে লাশ দাফনের ব্যবস্থা কর গিয়ে"। তখন ভীত সন্ত্রস্ত আতংকিত মুখগুলোর মধ্যে কিঞ্চিৎ ভরসা দেখে ভাল লাগতো।

ইদানীং দেখা যাচ্ছে, আমাদের তরুন চিকিৎসকেরা ঈদের ডিউটি নিয়ে অনেকেই উষ্মা প্রকাশ করছেন।
তাদের উদেশ্যে আমার কিঞ্চিৎ বয়ান আছে, ২৬ বছরের ঈদ ডিউটির সময় আমি লক্ষ্য করেছি, এই ছুটির সময় শুধু আমরা চিকিৎসকরাই দায়িত্ব পালন করি না, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড কর্মী, বিদ্যুৎ কর্মী, টেলিফোন কর্মীসহ আরো অনেকেই জরুরি দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
ইদানীং আরো একটি বিষয় চিকিৎসকদের ক্ষোভের কারন হয়েছে, তা হল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি পত্র, যাতে বলা হয়েছে - " ঈদের পরদিন সীমিত আকারে হাসপাতাল আউটডোর খোলা রাখতে হবে "।
এটা খুব যুক্তিযুক্ত বলে ব্যাক্তিগত ভাবে আমি মনে করি না। একজন চিকিৎসক যে কিনা ঈদের ছুটিতে খুলনা গিয়েছেন, তার পক্ষে কীভাবে ঈদের পরদিন কর্মস্থল বগুড়াতে উপস্থিত হয়ে সীমিত আকারের আউটডোর সেবা প্রদান সম্ভব তা বোধগম্য নয়।
আমার ২৬ বছরের ঈদ ডিউটির অভিজ্ঞতায় বলতে পারি ২ জন নিবেদিত চিকিৎসা কর্মকর্তা, আর কয়েকজন সাপোর্ট স্টাফ মিলে ঈদের ৩ দিনের ছুটির সময় খুব ভাল ভাবে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ইনডোর সার্ভিস দেওয়া সম্ভব, এমনকি জেলা হাসপাতালেও।
বিষয়টি নীতি নির্ধারণকারী কর্তৃপক্ষের সুবিবেচনার দাবী রাখে।
এই ঈদের দিনেও সব পর্যায়ের হাসপাতালে একজন না একজন চিকিৎসক আপনার যে কোন স্বাস্থ্যগত বিপদ মোকাবিলার নিমিত্তে নিয়োজিত আছেন।

আপনার ঈদ উদযাপন সুখকর ও আনন্দদায়ক হোক।
ভাল থাকুন, সুস্থ্য থাকুন, -- ঈদ ( ইদ) মোবারক।

ডাঃ সুকুমার সুর রায়।

একজন চিকিৎসক হিসেবে মাতৃদুগ্ধ সম্পর্কে ভালই জানি। কিন্তু তুষার মুখার্জি নামের একজন ভদ্রলোকের পোস্ট পড়ে বিস্মিত হয়েছি। ত...
20/03/2026

একজন চিকিৎসক হিসেবে মাতৃদুগ্ধ সম্পর্কে ভালই জানি। কিন্তু তুষার মুখার্জি নামের একজন ভদ্রলোকের পোস্ট পড়ে বিস্মিত হয়েছি। তাই সবার জ্ঞাতার্থে কপি পেস্ট করেছি।
ডাঃ সুকুমার সুর রায়।

প্রথমেই বলে রাখি এই লেখার উৎস আমার ফেসবুক বন্ধু শিব কর- এর পোস্ট করা একটি ইংরেজি লেখা। সেই লেখা আমি আমার প্রোফাইলে শেয়ার পোস্ট করেছি । বেশ কয়েকজন পড়েছেন। তবে সাধারণত শেয়ার করা পোস্ট আমার বন্ধু মহলে বেশি লোকের চোখে পড়বে না। আর অনেকে ইংরেজিতে পড়ে ঠিক আরাম পাবেন না তাই বাংলায় লিখছি।

না শুধু সেই কারণেই লিখছি না আসলে বিষয়টা আমার মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ করে বুঝতে পারলাম এতকাল নিজেদের নিয়ে নিজেদের বড় হওয়া নিয়ে যা জানতাম যেভাবে জানতাম ভাবতাম তার বেশিরভাগটাই হয়তো ভুল ছিল।

মায়ের বুকের দুধ পান করে বড় হয়েছি আমরা এবং বিগত লক্ষ লক্ষ বচ্ছর ধরে আমাদের প্রতিটি পূর্বপুরুষ। তারা সবাই বেঁচে থেকেছে মায়ের বুকের দুধ খেয়ে।

জন্মের পরমুহূর্ত থেকে আমাদের প্রাণ ধারণ ও বৃদ্ধি কেবলমাত্র মায়ের দুধ। এটুকু না থাকলে না পেলে আমরা কেউ থাকতাম না। কেউ না। কোন স্তন্যপায়ী প্রাণী না। পৃথিবীতে সম্ভবত উন্নত জীবনের, উন্নত বুদ্ধিমত্তার বিকাশই হত না। যদি না জন্মের পরের এই মাতৃ দুগ্ধটুকু আমরা পেতাম।

অথচ এ নিয়ে কোন গবেষণা হয়নি এতকাল। সহজলভ্য বলে আমরা উন্নাসিক থেকে গেছি। হ্যাঁ, ইদানিং বলা হচ্ছে মায়ের দুধ না পেলে শিশুর বৃদ্ধি ঠিক হয় না, বা তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয়। কিন্তু সেগুলো বলা হচ্ছে মূলত কিনে ভরা ফর্মুলা দুধের সাথে তুলনা করে।

তবে আজকাল মায়ের দুধ শিশুকে দিতে হবে তার সুযোগ সুবিধা বা অনেক সাধারণ এলাকাতেও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ার সুবিধা করে দেওয়ার একটা সদর্থক চেষ্টা শুরু হয়েছে।

কিন্তু এই লেখা পড়ার পরে আমার মত আপনারা সকলেই স্বীকার করবেন ওই সব চেষ্টাই হয়তো সমুদ্রে বারিবিন্দু সম।
আসুন সত্যটা জেনে নিই।

২০০৮ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বিবর্তনীয় নৃ-বিজ্ঞানী কেটি হিন্ডে রেসাস ম্যাকক বানরদের বুকের দুধ নিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় এমন কিছু তথ্য পাচ্ছিলেন যা নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল।

তিনি দেখলেন বাচ্চাটি ছেলে না মেয়ে তার উপরে নির্ভর করে মায়ের বুকের দুধের গুণগতমানের পরিবর্তন হচ্ছে। পুরুষ বাচ্চাদের জন্য মায়ের দুধ থাকছে ফ্যাট আর প্রোটিনে ভরপুর অথচ মেয়ে বাচ্চার বেলা সেই দুধ অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। এমন তো হবার কথা নয়। মায়ের বুকের দুধ সন্তানের লিঙ্গ ভেদে বদলাবে কেমন করে?

কেটি হিন্ডে তার সহকর্মীদের সাথে তথ্যগুলো নিয়ে আলোচনা করলেন । সবাই বললেন: আরে তাই কখনো হয়? তুমি তথ্য সংগ্রহে ভুল করেছো। আবার কয়েকজন বললেন তোমার স্ট্যাটিসটিকাল অংকে তালগোল পাকিয়েছে। আবার অনেকে বললেন ওসব কিছু না সব কাকতালীয় ব্যাপার।

অথচ কেটি হিন্ডে তো জানেন তিনি বারবার প্রতিটি তথ্য যাচাই করে দেখেছেন। তিনি নিশ্চিত তাঁর তথ্য সংগ্রহে কোথাও ভুল হয়নি।

কেটি হিন্ডে হাল ছাড়লেন না। তিনি মানুষের মাতৃদুগ্ধের নমুনা সংগ্রহে লেগে পড়লেন। ২৫০ জন মায়ের ৭০০ দুধের নমুনা নিয়ে তিনি বিষয়টির গভীরে ডুব দিলেন।

এবং তিনি বুঝলেন প্রথম থেকেই তিনি ঠিক পথেই ছিলেন। তিনি কোন ভুল করেননি।

অল্প বয়সী মায়েদের প্রথম পুরুষ সন্তানের জন্য মায়ের বুক থেকে যে দুধ নিঃসরণ হয় তাতে কম ক্যালরি আর বেশি কর্টিজল থাকে। বেশি করে কর্টিজল থাকা মায়ের দুধ খেয়ে বাচ্চারা বেড়ে ওঠে ভিন্নভাবে। তারা দ্রুত বাড়ে। তারা সতর্ক হয়। এবং তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাসা বাঁধে ।

মায়ের দুধ কেবল শিশুর শরীর গড়ছে না তার ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও গড়ে তুলছে। মায়ের দুধ শিশুকে তার পৃথিবীর আগাম তথ্যাবলী দিয়ে দিচ্ছে রাসায়নিক পদ্ধতিতে। তাকে প্রস্তুত রাখার জন্য।

কেটি হিন্ডে আরো এমন সব তথ্য পেলেন যা আমাদের এতকালের অনেক ধারণাই প্রায় গোল পাকিয়ে দেবার মত অবস্থা।

শিশু যখন মায়ের দুধ খাচ্ছে তখন তার মুখের লালা মায়ের স্তনে লেগে যায়। সেই লালার আনুবীক্ষণিক পরিমাণ অংশ মায়ের স্তনের কোষে প্রবেশ করে মাকে দেয় শিশু রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা সম্বন্ধে জ্ঞান। বুঝতে সাহায্য করে শিশুর কোন অসুখ হতে যাচ্ছে কিনা। অনেকটা যেন মা তার শিশুর ডায়াগোনিস্টিক রিপোর্ট পড়ে নিলেন রাসায়নিক পদ্ধতিতে।

এবং তারপরে ঘটে এক চমকপ্রদ ঘটনা।
মায়ের শ্বেত কণিকার সংখ্যা বাড়তে শুরু করে এবং শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ রোগ প্রতিষেধক ও হাজির হয়ে যায়।
সেই রোগটি মায়ের কখনো হয়ে থাকুক না থাকুক কিছু যায় আসে না।
শিশুর লালা থেকে অসুখের খবর পেয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এসব ঘটে যায়। মায়ের দুধ তখন শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধে বদলে গেছে।
আবার শিশু সুস্থ হয়ে গেলে সেই লালা থেকে খবর পেয়ে মায়ের দুধ আগের মত স্বাভাবিক হয়ে যায়।

মায়ের দুধ শুধু পুষ্টিকর না প্রয়োজনে তা নিজে থেকে প্রতিষেধক হয়ে গেল।

মায়ের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুকে রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক পাঠ শেখায় এইভাবে।

মায়ের দুধ দিনে একাধিকবার তার চরিত্র বদলায়।

সকালের দুধে থাকে বেশি কর্টিজল, শিশুকে জাগিয়ে তুলতে ও সতর্ক করে রাখতে এর দরকার।
সন্ধ্যার দুধে থাকে মেলাটোনিন যা শিশুকে ঘুম পাড়ানোর জন্য দরকার।

দিনের প্রথমবারের দুধ আর শেষ বারের দুধেও তফাৎ আছে।
দিনের প্রথমবারের দুধ শিশুর শরীরের জলের ঘাটতি মেটানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকে। আর শেষবারের দুধে থাকে বেশি পরিমাণ ক্যালরি। যা শিশুকে বলে যথেষ্ট হয়ে গেছে আর খেতে হবে না

মা আর শিশুর মধ্যে এই রাসায়নিক বার্তালাপ হলো এক জীববিদ্যার পাঠ যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিবর্তনের পথ ধরে চলে আসছে।
অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞান তেমন গুরুত্ব দিয়ে এদিকে তাকায়নি এতকাল।

সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।  - ডাঃ সুকুমার সুর রায়।
20/03/2026

সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
ঈদ মোবারক। - ডাঃ সুকুমার সুর রায়।

৬৫ বছর বা তার বেশি বেঁচে আছেন,‌ এমন মানুষ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশ। অর্থাৎ ১৯৫৯ সন বা তার আগে যাঁরা জন্মেছিল...
18/03/2026

৬৫ বছর বা তার বেশি বেঁচে আছেন,‌ এমন মানুষ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশ। অর্থাৎ ১৯৫৯ সন বা তার আগে যাঁরা জন্মেছিলেন, তাঁদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই মৃত্যুবরণ করেছেন।

কলেজ ডিগ্রী অর্জন করতে পারেন মাত্র ৬.৭ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ মানবজাতির ১৫ জনের মধ্যে মাত্র একজনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের‌ সুযোগ হয়।

৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ৯৫ শতাংশ অন্তত একটি দীর্ঘস্থায়ী অসুখে ভুগছেন, ৮০ শতাংশ ভুগছেন এরকম দুই বা ততোধিক অসুখে।

আপনার বয়স যদি ৬৫ হয়, আপনার যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকে, যদি না ভোগেন কোন দীর্ঘস্থায়ী অসুখে, নিশ্চিত থাকুন আপনি আসলে অত্যন্ত প্রিভিলেজড একটি গ্রুপের সদস্য। মানবজাতির এক শতাংশও আপনার অবস্থানে পৌঁছুতে পারেনি! বিষয়টি যদিও আপেক্ষিক।

আজ থেকে আমিও সেই প্রাধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণীর একজন।
শোকর আলহামদুলিল্লাহ্।

সূত্র : আমার সহকর্মী জনাব মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন এর ওয়াল থেকে

ভ্রমণ কাহিনী _ কাশ্মীরের পথে              ( পর্ব --৫।) স্লেজ গাড়িতে চেপে নীচের দিকে খাড়া বরফের পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে!মনে হচ...
18/03/2026

ভ্রমণ কাহিনী _ কাশ্মীরের পথে
( পর্ব --৫।)
স্লেজ গাড়িতে চেপে নীচের দিকে খাড়া বরফের পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে!
মনে হচ্ছে আমাদের দেশের বালকেরা যেমন কাঠের তক্তা দিয়ে বানানো তিন চাকার গাড়িতে চেপে বাড়ির গড়ানে খেলা করে তেমনি এক অসম খেলায় আমরা মেতে উঠেছি। চালকেরা দলবেঁধে কাশ্মীরি ভাষায় সম্ভবত ' মারো টান, হেঁইয়ো- হেঁইয়ো' - করতে করতে স্লেজ টেনে নিয়ে যাচ্ছেন!
বেশি খাড়া পথে অনেক সময় চালকেরা তাল সামলাতে পারছেন না, হুড়মুড় করে বরফের উপরে আছড়ে পড়তে হচ্ছে। আমরাও তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আনন্দ উত্তেজনা ও কৌতুক করতে করতে বরফের পথে খাড়া নীচের দিকে অনির্দিষ্টভাবে চলছিতো চলছিই। তবে এই চালকদের কষ্ট ও নিষ্ঠা দেখে বার বার মনে হচ্ছে আমাদের দেশের ছোট ছোট ডিঙি নৌকার মাঝির কথা! সামান্য কিছু টাকার জন্য এনারা অমানুষিক
পরিশ্রম করছেন।

এনারা অবশ্যই কিছু বখশিশের দাবিদার।
কিন্তু আমাদের টাউট গাইড জামশিদ যাকিছু বিল পাবেন তার খুব সামান্য অংশই এই পরিশ্রমী স্লেজ চালকেরা পাবেন বলে মনে হচ্ছে।
আর ওনারা যে বার বার আমাদের জিজ্ঞেস করছেন আমরা হ্যাপি কিনা? তার কারন হলো আমরা হ্যাপি হলেই ওনাদের বখশিশের পরিমানটা একটু বাড়তে পারে।

এই ভাবে চলতে চলতে কত সময় পার হয়ে গেছে আনন্দ ও উত্তেজনায় তা বলা মুশকিল। মাঝখানে এক জায়গায় যাত্রাবিরতি দেওয়া হলো। সেখানে বরফের মধ্যে দাঁড়ানো বড় বড় পাইন গাছের নীচে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন আমাদের ফটোসেশান চললো। অবশেষে আমরা একটা জায়গায় পৌছালাম যেখানে আমাদের গাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে! তার পাশ দিয়েই একটি ছোট্ট নালার মতো! যেখান দিয়ে বরফ গলা জল ঝির ঝির করে বয়ে চলেছে।
হাঁফ ছেড়ে বাঁচা গেলো!
স্লেজ থেকে নেমে হাত পা ছাড়িয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম। এরপর আমরা আরো কিছু স্পটে গেলাম। সব জায়গা একইরকম বরফে ঢাকা। গাইড জামশিদ বলতে লাগলেন "এই জায়গাগুলিই আগামি মে / জুন মাসে সবুজ শ্যামলিমায় ভরে উঠবে, বরফের কোন চিহ্ন থাকবে না। বরফ থাকবে আরো উঁচুতে পর্বত চূড়ায়।"
জিজ্ঞেস করলাম কেবল কারে চেপে আমরা যে কাংডৌরি গিয়েছিলাম সেখানে কি মে/ জুন মাসে বরফ থাকবে না?
জামশিদ বললেন - " কাংডৌরি ফেজ-১ য়ে সাধারণত বরফ থাকেনা, কিন্তু ফেজ- ২ তখনো বরফাচ্ছাদিত থাকে, তার অদুরেই বরফ ঢাকা সাদা চূড়া সারা বছর সব সময় বরফ ঢাকাই থাকে।

সন্ধ্যার আগ দিয়ে আমরা পৌছে গেলাম গুলমার্গের ছোট্ট মার্কেটে। সেখানে রয়েছে কয়েকটি কাপড় চোপড়ের দোকান, রেস্তরাঁ, ফটোস্টুডিও, ফোনফ্যাক্সের দোকান।
দেখলাম দুইএকজন আর্মীর লোকেরা গাড়ি নিয়ে এসেছে প্রয়োজনীয় কাজে। জায়গাটা একটু ফাঁকা।
রাস্তা এবং রাস্তার চারপাশ বরফে ঢাকা, দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলিও বরফে ঢাকা, পাইনগাছগুলি দাঁড়িয়ে আছে গায়ে বরফের চাদর জড়িয়ে শীতে জবুথুবু হয়ে।আমাদের যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো ফটো স্টুডিওতে গাইড জামশিদের ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলি পেন্ড্রাইভে নিয়ে নেওয়া।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো। সারাদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। জামশিদ বললেন ঝকঝকে রোদ থাকলে আরো সাদা ঝলমলে প্রকৃতি দেখা যেতো। চারিদিকে ধুসর ঠান্ডা নেমে এলো।
আমরা ফিরে গেলাম হোটেলে।
'রয়েল পার্ক হোটেল ' গুলমার্গের একটি ভালো হোটেল। হোটেলের রিসেপশনিস্টরা বার বার দেওয়ালে ঝুলানো তাদের নিজেদের সাথে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের ছবি দেখিয়ে বলতে লাগলো- " বিল ক্লিন্টনও এই হোটেলে উঠেছিলেন।! "
এটা অবশ্যই তাদের জন্য গর্বের। শুধু বিল ক্লিনটন নয় যে সমস্ত বিখ্যাত ব্যাক্তিবর্গ তাদের হোটেলে এসেছিলেন, তাদের অনেকের ছবি দেওয়াল জুড়ে টাংগানো রয়েছে ।
হোটেল রুমে ঢুকে বেশ আরাম বোধ হলো। রুম হিটারের কারনে বেশ উষ্ণতা ছড়িয়ে আছে ।
রাতের ডিনারের ব্যবস্থা ছিল হোটেলের ডাইনিং হলে ।
তাই আর বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন ছিলো না। রুম হিটারের উষ্ণতায় বসে বসে আমরা অনেকক্ষণ ধরে ডিনারের সাথে সাথে গল্প গুজব চালিয়ে যেতে লাগলাম।

সারা দিনের ক্লান্তিতে তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

হঠাৎ ঠান্ডায় ঘুম ভেঙ্গে গেল।
ঘড়িতে দেখি সকাল সাড়ে ছয়টা।
বিদ্যুৎ নেই, রুম হিটারও বন্ধ হয়ে আছে। মোবাইল ফোনে দেখলাম বিদ্যুৎ নেইতো ওয়াই ফাই নেটওয়ার্কও নেই।
কাঁচের জানালার ভারী পর্দা সরিয়ে দেখলাম ঝুর ঝুর করে সাদা বরফ ঝরেই চলেছে! তার মাঝেই অদুরে সামনের রাস্তা দিয়ে একের পর এক আর্মির গাড়ি চলছে! একটা, দুইটা, তিনটা... এভাবে বিরাট এক আর্মি কনভয়। আমদের রুমগুলি এয়ারটাইট হওয়ার কারনে গাড়িগুলির কোন শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না, নিঃশব্দে এগিয়ে যাচ্ছে।
আমার মনে হল বিদ্যুৎ, নেটওয়ার্ক, সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে আর্মি কী নিকটবর্তী কোথাও কোন অপারেশন শেষ করে ফিরে যাচ্ছে!?

সকাল সাতটায় বিদ্যুৎ এলো।
এরপরে হোটেলের লোকদের কাছে জানা গেলো জায়গাটি পাকিস্তান বর্ডার সংলগ্ন।
প্রায় প্রায়ই মিলিটারিদের নানারকম কর্মকাণ্ড চলে থাকে।
(--- চলবে ---)
--- সুকুমার সুর রায়।

বাংলাদেশের ডাক্তার ও লজ্জা।। ২০০৭ সালের মার্চ মাসে আমাদের এক জোড়া ডাক্তারের বদলির অর্ডার হল সিরাজগঞ্জ জেলার দুর্গম চরের ...
17/03/2026

বাংলাদেশের ডাক্তার ও লজ্জা।।

২০০৭ সালের মার্চ মাসে আমাদের এক জোড়া ডাক্তারের বদলির অর্ডার হল সিরাজগঞ্জ জেলার দুর্গম চরের চৌহালি উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পলেক্সে। এই জোড়ায় ছিলাম আমি এবং আনসার ভাই। জোড় বাঁধার কারণ হল আমরা দুইজন একটি প্রকল্পের আওতায় ছয় মাসের ট্রেনিং নিয়েছিলাম যাতে দুর্গম এলাকায় সিজারিয়ান অপারেশনের সক্ষমতার মাধ্যমে মা ও নবজাতকের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।
তখন সবে শুরু হয়েছে ফখরুদ্দীন মঈনুদ্দিনের আর্মি ব্যাকড সরকারের কার্যক্রম।
টু শব্দটি না করে দুইজনকে যোগদান করতে হল।

এইবার অফিস করার পালা। আমাদের দুইজনের বাড়ি পাশাপাশি। আমাদের বাড়ি থেকে কর্মস্থলের দুরত্ব ১১৫ কিলোমিটার। আমরা হাসপাতালের কোয়ার্টারে অবস্থান করতাম। বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করে বাড়ি আসতাম আর শনিবার ভোরে আবার কর্মস্থলে ফিরে যেতাম। বাড়ি থেকে বের হয়ে যমুনা ব্রিজ পাড়ি দিয়ে টাঙ্গাইল যেতে হবে, তারপরে এলাসিন ঘাট। ফেরিতে ধলেশ্বরী নদী পাড়ি দিয়ে, নাগরপুর উপজেলা পার হয়ে আমাদের কর্মস্থল চৌহালি উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পলেক্সে পৌঁছাতে হবে।
কোনই সমস্যা ছিল না। আমার একটি 'হিরো স্প্লেন্ডার' মোটর সাইকেল ছিল। পেছনে আনসার ভাইকে তুলে,দুই টিফিন ক্যারিয়ার ভর্তি খাবার দাবার নিয়ে শনিবার ঠিক ভোর সাড়ে পাঁচটায় আমরা বেরিয়ে পড়তাম। যমুনা ব্রিজ পার হয়ে এলেঙ্গা ছিল আমাদের ফাস্ট স্টপেজ। সেখানে সকালের নাস্তা সেরে আবার একটানে টাঙ্গাইল শহর পার হয়ে এলাসিন ঘাট৷ তারপর তৃতীয় আরেক টানে পৌঁছে যেতাম আমাদের হাসপাতালে। তখন বেলা পৌনে আটটা। খাবার দাবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিয়ে আমরা ঠিক কাঁটায় কাঁটায় সকাল আটটায় অফিসে বসে যেতাম।
কেন এত কষ্ট করে এতো সকাল সকাল অফিসে উপস্থিত হওয়া? এর পেছনের রহস্য কী?

সেইটাই বলছি।
তখন "আর্মি মেডিক্যাল কোর" কর্তৃক সকল সিভিল হাসপাতালে বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পলেক্স এবং জেলা সদর হাসপাতালে অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল। অপারেশনের নাম ছিল " অপারেশন আলোর সন্ধানে"। অভিযান বলতে ডাক্তারেরা সময়মত অফিসে উপস্থিত হচ্ছে কিনা এবং অফিস চলাকালীন উপস্থিত থাকছে কিনা এই বিষয়টি তাদের দেখার বিষয় ছিল। এই জন্য তারা ক্যান্টনমেন্ট থেকে সময় ক্যালকুলেশন করে বের হত যাতে যে হাসপাতালে তারা অভিযানে যাবে সেই হাসপাতালে যেন ঠিক সকাল আটটার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়।
তাদের অভিযান পরিচালনা কালে ডাক্তার ও হাসপাতালের কর্মীরা হেনস্থা হলে সাধারণ মানুষ তা দারুণ ভাবে উপভোগ করতো।
এইরকম একদিন সকাল ঠিক সাড়ে আটটায় বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে একজন মেজরের নেতৃত্বে একদল সৈনিক আমাদের হাসপাতালে এসে হাজির হলেন। তামাশা দেখার জন্য উৎসুক জনতার ভিড় হল। কিন্তু তারা হতাশ হল। কারণ মেজর সাহেব ও তার দল আমাদের উপরে কোন হম্বিতম্বি করলেন না। আমাদের ১০০% উপস্থিতি ছিল। উপরন্তু আমরা হাসপাতালের সমস্যাসমূহ যেভাবে উপস্থাপন করেছি তা দেখে মেজর সাহেবরা স্তম্ভিত হয়ে গেছেন।

এই কাহিনি বিবৃত করার উদ্দেশ্য আছে।
মাস খানেক হল নতুন সরকার গঠিত হয়েছে।
নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নতুন মহাপরিচালক, নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পরিচালক প্রশাসন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহোদয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঝটিকা অভিযানে নেমেছেন। তিনি তা আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু তারপরেও ডাক্তারদের উপস্থিতি ঠিকঠাক পাওয়া যাচ্ছে না।
সর্বশেষ গত ১৫ /০৩/২০২৬ তারিখে মন্ত্রী মহোদয় মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পলেক্সে আকস্মিক ভিজিট করেছেন।
সেখানে তিনি সকাল নয়টার সময়েও ইউএইচএফপিও সহ পাঁচজন ডাক্তারকে অনুপস্থিত পেয়েছেন।
ডাক্তারদেরকে সাধারণ মানুষ একদম পছন্দ করে না৷
অন্য কোন ডিপার্ট্মেন্টের লোকেরা যেমন আইনজীবী, পুলিশ, প্রশাসন কেউনা। রাজনীতিবিদেরা পছন্দ করে না। সরকারের এমপি মন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রীও ডাক্তারদের প্রতি নাখোশ।
এর কারণ কী? ডাক্তাররা কি তা জানে না? জানলে তা সংশোধনের চেষ্টা কোথায়?
যে দেশে ফাস্টলেডি ডাক্তার, বিরোধীদলীয় নেতা একজন ডাক্তার, একগাদা এমপি নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন যারা ডাক্তার, সেই দেশের ডাক্তারগণের প্রতি মানুষের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই কেন? এখনও মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার জন্য পাগল কেন? এমপি মন্ত্রীরা কিছু হলেই এয়ার এম্বুল্যান্স নিয়ে সিংগাপুর যাওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত কেন?
অপছন্দ ও আস্থাহীনতার পেছনে অন্য যত কারণই থাকুক না কেন আপাতদৃষ্টিতে সময়মত অফিসে ( হাসপাতালে) উপস্থিত না থাকাটায় বড় কারণ। মন্ত্রী মহোদয়ও তাই বলছেন। তা একমাস হয়ে গেল ডাক্তারগণ সময়মত অফিসে উপস্থিত হতে পারছেন না কেন?
নাকি ডাক্তারদের মত ঘ্যাচড়া পেশাজীবি আর দ্বিতীয়টি নেই? এই কথা শুধু বাংলাদেশের ডাক্তারের জন্য প্রযোজ্য ?
এই লজ্জা কোথায় রাখি??

ডাঃ সুকুমার সুর রায়।

সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, এনাদের নাম উচ্চারিত হলেই গ্রীস দেশের নাম উচ্চারণ করতে হয়। কিন্তু আমরা ভুলেই গেছি যে আমাদের ...
16/03/2026

সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, এনাদের নাম উচ্চারিত হলেই গ্রীস দেশের নাম উচ্চারণ করতে হয়।
কিন্তু আমরা ভুলেই গেছি যে আমাদের বরিশালের পলি মাটিতেও জন্ম নিয়েছিলেন সক্রেটিসের মত একজন মহান জ্ঞানী মানুষ। নাম ছিল তার আরজ আলী মাতুব্বর। সক্রেটিস যেমন প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে কোন বিষয়ের বহিরাবরনকে খুলে ফেলে জ্ঞানকে উম্মুক্ত করার চেষ্টা করতেন, তেমনি স্বশিক্ষিত আরজ আলী মাতুব্বরও মনে করতেন যে জ্ঞানার্জনের পথে প্রশ্ন করাই হল প্রধান অস্ত্র।
গতকাল ১৫ মার্চ ছিল এই বাঙালি দার্শনিকের মৃত্যু দিবস। ১৯৮৫ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।

আমাদের বাংলাদেশের মাটিতেও জন্মেছিলেন স্টিফেন হকিংয়ের মত একজন অসাধারণ বিজ্ঞানী যার নাম ছিল জামাল নজরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন ...
16/03/2026

আমাদের বাংলাদেশের মাটিতেও জন্মেছিলেন স্টিফেন হকিংয়ের মত একজন অসাধারণ বিজ্ঞানী যার নাম ছিল জামাল নজরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন স্টিফেন হকিংয়ের বন্ধু এবং তাঁর মতই তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানী, বিশ্বতত্ববিদ এবং গণিতবিদ। তাঁর লেখা বই "আল্টিমেট ফেইট অফ দ্য ইউনিভার্স " পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য বই হিসেবে পড়ানো হয়।
আমাদের মড়ার দেশে চোর চোট্টাদের ভিড়ে তার নাম খুব কমই উচ্চারিত হয়। ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ তারিখে তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন।
বাংলাদেশী এই বাঙালি ভদ্রলোককে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি।

Address

Thana Mor, Ullapara
Sirajganj
6760

Opening Hours

Monday 09:00 - 14:00
17:00 - 20:00
Tuesday 09:00 - 14:00
17:00 - 20:00
Wednesday 09:00 - 14:00
17:00 - 20:00
Thursday 09:00 - 14:00
Friday 09:00 - 14:00
Sunday 09:00 - 14:00

Telephone

+8801711301759

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Sukumar Sur Roy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category