31/03/2026
ডায়াবেটিসকে আমরা এখনও অনেকেই “বংশগত রোগ” বলে দায় এড়িয়ে যাই।
কিন্তু বিশেষ করে টাইপ–২ ডায়াবেটিস আসলে একটি প্রগ্রেসিভ মেটাবলিক ডিসঅর্ডার।
প্রথমে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার—
তা হলো, সব ডায়াবেটিস এক নয়।
🔹 টাইপ–১ ডায়াবেটিস → অটোইমিউন কন্ডিশন
🔹 টাইপ–২ ডায়াবেটিস → ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও মেটাবলিক ডিসফাংশনের ফল
এখন প্রশ্ন হলো— ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হয় কেন?
যখন আমরা প্রতিনিয়ত হাই গ্লাইসেমিক কার্ব, অতিরিক্ত ক্যালোরি, কম ফাইবার, কম প্রোটিন এবং সেডেন্টারি লাইফস্টাইল মেইনটেইন করি, তখন রক্তে বারবার গ্লুকোজ ও ইনসুলিন বাড়তে থাকে।
এই চক্র বছরের পর বছর চলতে থাকে।
ক্রনিক হাই ইনসুলিন অবস্থায় কোষগুলো ধীরে ধীরে ইনসুলিনের প্রতি কম সাড়া দেয়।
ভিসেরাল ফ্যাট বাড়ে, লো-গ্রেড ইনফ্ল্যামেশন তৈরি হয়, লিভারে ফ্যাট জমতে শুরু করে। ⚠️
এই পুরো প্রক্রিয়াই হলো মেটাবলিক ডিসরাপশন।
এই অবস্থায় প্রথমে ব্লাড সুগার নরমাল থাকতে পারে,
কিন্তু ভিতরে ভিতরে সমস্যা শুরু হয়ে যায়।
তারপর শরীর একে একে সিগন্যাল দেয়—
🔸 পেটের মেদ
🔸 খাওয়ার পর তন্দ্রা
🔸 বারবার ক্ষুধা
🔸 এনার্জি ক্র্যাশ
🔸 ফ্যাটি লিভার
🔸 হাই ফাস্টিং ইনসুলিন
এগুলোই প্রিডায়াবেটিসের আগাম সতর্কবার্তা।
অনেকে বলেন, “আমার পরিবারে আছে, তাই হবেই।”
হ্যাঁ— পরিবারে ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
কিন্তু এর মানে এই নয় যে আপনার ডায়াবেটিস হবেই।
জেনেটিক কিছু ফ্যাক্টর রিস্ক হিসেবে কাজ করে,
তবে লাইফস্টাইলই শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণ করে। 🧬
আমি ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে দেখি—
যখন রোগীরা ৫–১০% ওজন কমান, ভিসেরাল ফ্যাট কমান, রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং শুরু করেন,
প্রোটিন-ফাইবার সমৃদ্ধ ব্যালান্সড মিল অনুসরণ করেন এবং ঘুম ঠিক করেন—
তখন ইনসুলিন সেনসিটিভিটি অনেকটাই উন্নত হয়। 💪
আর্লি স্টেজ টাইপ–২ ডায়াবেটিস ও প্রিডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রেই রেমিশনে নেওয়া সম্ভব,
বিশেষ করে যদি প্যানক্রিয়াসের বিটা-সেল রিজার্ভ এখনও কার্যকর থাকে।
ডায়াবেটিস শুধু “সুগার বাড়া” না—
এটি আপনার মেটাবলিক হেলথের দীর্ঘদিনের অবনতি।
তাই শুধু সুগার কমানোর ওষুধ নয়,
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ঠিক করাই এক্ষেত্রে আসল কাজ। ✅
----------
Tanzin Tababy
Nutritionist and Diet Consultant
Trained in Clinical Nutrition and Dietetics