20/12/2025
ইসলামী জীবনব্যবস্থার রাজনৈতিক বিধান হলো খিলাফত বা ইমারতে ইসলামি,যা শূরা (পরামর্শ)-ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা।এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা হয় পারস্পরিক পরামর্শ, ঐকমত্য,ইনসাফ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে। এখানে মতামত,পরামর্শ কিংবা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তারা,যারা জ্ঞান,তাকওয়া ও যোগ্যতায় উত্তীর্ণ।
ইসলাম স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে—
“যারা জানে এবং যারা জানে না,তারা কি সমান?”
অতএব ইসলামী জীবনব্যবস্থায় যোগ্যতা ও জ্ঞানকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়; অযোগ্যতা বা অজ্ঞতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইসলাম সমর্থন করে না।
খিলাফত বা ইমারতে ইসলামি গঠনের দুটি সুস্পষ্ট ধারা
১. যেখানে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত নয়:
সে ক্ষেত্রে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি ও কর্মনীতি হলো—
মানুষের চিন্তা-চেতনাকে পরিশুদ্ধ করা, সংঘবদ্ধভাবে দাওয়াত ও জিহাদ (সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম) পরিচালনা করা এবং নববী কর্মনীতির অনুসরণে ধাপে ধাপে ব্যক্তি,পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হওয়া।এর উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট আদর্শ রয়েছে রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর জীবনীতে।
২. যেখানে খিলাফত বা ইমারাতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত:
সেখানে নেতৃত্ব নির্বাচন,রাষ্ট্র পরিচালনা ও ক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় খুলাফায়ে রাশেদিন—আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর জীবনীতে। তাঁদের শাসনামল ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার বাস্তব ও পূর্ণাঙ্গ নমুনা।
☝️গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা❗:
বিধর্মী বা স্বধর্মী দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের প্রণীত মতবাদ বা মতাদর্শের সঙ্গে ইসলামকে মিলিয়ে বা তার আলোকে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা ইসলামের মৌলিক রাজনৈতিক দর্শনকে অবমূল্যায়ন ও বিকৃত করে।এর মাধ্যমে ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অপূর্ণ বা অকার্যকর প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়—যা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসলাম কোনো খণ্ডিত মতবাদ নয়;
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ (Complete) জীবনব্যবস্থা—আকিদা,ইবাদত,আখলাক, সমাজ,শিক্ষা,অর্থনীতি ও রাষ্ট্র—সব ক্ষেত্রেই যার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
অতএব,ইসলামকে ইসলামের মতো করেই জানুন,এবং ইসলামের মতো করেই মানুন।
🖋️মুহতারাম আব্দুস সবুর চৌধুরী (হাফিযাহুল্লাহ)